বিদায়ী অর্থবছরের প্রকৃত রাজস্ব আদায়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরে দেওয়া হয়েছে, তা অর্জনে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তার ভাষ্য, “রাজস্ব আদায় ইনশাআল্লাহ ভালো হবে। এনবিআরের সবাই চাঙ্গা। ইনশাল্লাহ রাজস্বের যে টার্গেট আমরা দিয়েছি সেটা পূরণ হবে।”
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন চেম্বারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অর্থমন্ত্রী।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে ৬ লাখ কোটি ৪ হাজার কোটি টাকা।
বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকৃত আদায়ের পরিসংখ্যান মেলেনি এখনও। এটি ৪ লাখ কোটি টাকার আশেপাশে থাকতে পারে আগেই এনবিআর তথ্য দিয়েছে।
সৌদি চেম্বারের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “দেশে যেভাবে আমরা কাজ করতেছি সেটা হল, সৌদি আরবে এখন ওখানে যারা আছে, যারা অদক্ষ, তাদেরকে দক্ষ করার জন্য একটা প্রক্রিয়া তারা নিয়েছেন। ওটা ওনারা কাজ করছেন।
“এছাড়া সৌদির সাথে রিয়াদের সাথে যে ব্যবসার জন্য ওনারা কাজ করছেন, সেখানে আমরা, আর্থিক সহায়তায় আমরা কি করতে পারি (সেসব আলোচনা হয়েছে)।”
আমির খসরু বলেন, “আর আমি একটা কথা বারবার বলছি, ফাইনান্সিং আর্কিটেকচার কিন্তু পরিবর্তন হয়ে গেছে সরকারের। এজন্য ভিন্নভাবে অর্থায়নের জন্য আমরা সব জায়গায় দেখছি। সৌদির সাথে কি সুযোগ আছে সেটাও দেখছি।”
এ সময় টেক্সটাইল মিল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সঙ্গে আলোচনা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “তাদের দাবি- এগুলো আসলে অনেকদিন এসেছে। অনেকদিনের। কিছু সমস্যার সমাধান হয়েছে। আর বাকি সমস্যা ওনারা বলবেন আমরা দেখবো।
“আমরা তো আপনার চাই আমাদের ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে দাঁড় করাতে। অর্থনীতি দাঁড়াতে হলে... ইন্ডাস্ট্রি ভালো না করলে আমাদের অর্থনীতি দাঁড়াবে না। সুতরাং এটার উপর নির্ভর করছে আমাদের আগামী দিনের প্রবৃদ্ধি কী রকম হবে, কর্মসংস্থান কি হবে।”
এজন্য শিল্পের যে সুবিধা-অসুবিধা আছে এগুলো তো আলোচনা করতে হবে, এ কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, “তো আমরা অব্যাহতভাবে ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা, তাদের কোথায় সমস্যা আছে, কী সমস্যা আছে, কীভাবে সমাধান দেওয়া যায়, সেগুলো আলোচনা করছি।
“আমি ইতোমধ্যে অনেক নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেছি। এরপরও যদি কোন সমস্যা থাকে এগুলো আলোচনা হচ্ছে। এগুলো অনবরত সমাধান হচ্ছে এবং হতে থাকবে।”
অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বসায়ী প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের সময় অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং এনবিআরের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকা এবং কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় কারখানা ছয় মাসের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ফুয়াং ফুডস লিমিটেড। কোম্পানিটি জানিয়েছে, গত ২২ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় কারখানা লে-অফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্যাসের সঠিক বা প্রয়োজনীয় চাপ না পাওয়া এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ আগস্ট ২০২৬ থেকে ছয় মাসের জন্য কোম্পানিটির কারখানা লে-অফ থাকবে। অর্থাৎ নির্ধারিত এই সময়জুড়ে কারখানার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ নিশ্চিত না হওয়া এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিই কারখানা লে-অফের মূল কারণ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ব্যাংক খাত থেকে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। একই সময়ে পরিশোধ করেছে প্রায় ৪৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ফলে মাসটিতে ব্যাংক খাতে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘মানি মার্কেট ডিনামিকস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। মুদ্রাবাজার, সুদের হার ও তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি মাসে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে সরকারি ট্রেজারি বিলের চারটি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলামের মাধ্যমে ৪৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয় সরকার। আগের মাসের তুলনায় এ ঋণ ৬ হাজার কোটি টাকা বা ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ৩৯ হাজার কোটি টাকার ট্রেজারি বিল পরিশোধ করা হয়। ফলে বিলের মাধ্যমে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়ায় ৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে জুলাইয়ে দুই থেকে ২০ বছরমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের তিনটি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। একই সময়ে পরিশোধ করা হয় ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ফলে বন্ডে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহারও বেড়েছে। ৫ জুলাই ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ইল্ড ছিল ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ২৬ জুলাই তা বেড়ে ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশে ওঠে। এ মেয়াদের বিলের মাধ্যমে জুলাইয়ে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। ১৮২ দিন মেয়াদি বিলের ইল্ড মাসের শুরুতে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ থাকলেও শেষে বেড়ে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশে দাঁড়ায়। ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলের ইল্ড জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে ১০ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশে ওঠে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিত হারে না বাড়ায় সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়ছে। ঋণ নিয়ে ঋণ পরিশোধের এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সরকারের সুদ ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বেসরকারি খাতও চাপে পড়বে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, সরকারের চাহিদা অনুযায়ী ট্রেজারি বিল-বন্ডের মাধ্যমে ঋণের জোগান দেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব। এ ঋণ কিভাবে পরিশোধ হবে, তা সরকারকেই ভাবতে হবে। রাজস্ব আদায় প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়ছে বলেও তিনি জানান। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়। শেষ পর্যন্ত সংশোধিত লক্ষ্যের চেয়েও বেশি ঋণ নেয় সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৪ শতাংশের বেশি। বিপরীতে একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন। সাবেক অর্থসচিব ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, সরকারের আয়ের সক্ষমতার তুলনায় ব্যয় অনেক বেশি। এ কারণে ঘোষিত লক্ষ্যের চেয়েও বেশি ঋণ নিতে হচ্ছে। ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহার বেশি থাকায় সরকারের ঋণ ব্যয়ও বাড়ছে। ব্যয় কমিয়ে আয় বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। এদিকে অর্থ বিভাগের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণ স্থিতি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে। ২০২৮-২৯ অর্থবছর শেষে তা বেড়ে ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ ১৮ লাখ ৮০ হাজার কোটি এবং বৈদেশিক ঋণ ১৪ লাখ ৯৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা হতে পারে। ঋণের সঙ্গে বাড়ছে সুদ ব্যয়ও। চলতি অর্থবছরে সুদ পরিশোধে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। দুই বছর পর এ ব্যয় বেড়ে ১ লাখ ৬২ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় দাঁড়ানোর প্রক্ষেপণ রয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম চীন থেকে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে পৌঁছানোর সম্ভাবনাময় বাণিজ্যপথ হতে পারে আলোচনাধীন কুনমিং–চট্টগ্রাম করিডোর। এটি বাস্তবায়িত হলে চীনের ইউনান প্রদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ, শিল্প স্থাপন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এই সম্ভাবনা সামনে রেখেই ইউনানের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। ‘কানেক্ট টু দ্য সাউথ, প্রসপার থ্রু ওপেন-কোঅপারেশন’ প্রতিপাদ্যে কুনমিংয়ের দ্য জেনারেল অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনান এন্টারপ্রেনার্স-এ আয়োজিত ‘ওভারসিজ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ট্রেড এনভায়রনমেন্ট প্রোমোশন ইভেন্ট’-এ বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন। অনুষ্ঠানে কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমান ‘বাংলাদেশ অ্যাজ অ্যান ইনভেস্টমেন্ট ডেস্টিনেশন’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক শ্রমশক্তি, শিল্পভূমি, জ্বালানি সুবিধা, শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনের মধ্যে সংযোগকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করছে। বিশেষ করে কুনমিং–চট্টগ্রাম করিডোরের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই বাণিজ্যপথ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সঙ্গে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সরাসরি সংযোগ আরও কার্যকর হতে পারে। এতে ইউনানভিত্তিক শিল্প ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও আঞ্চলিক বাজারের সুবিধা কাজে লাগাতে পারবে। রিদওয়ানুর রহমান আরও জানান, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শতভাগ মালিকানার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকৃত মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুবিধাও দেওয়া হয়। চীনসহ ৩৪টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি রয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি তুলনামূলক স্থিতিশীল কাঠামো তৈরি করেছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ওয়ান স্টপ সার্ভিস, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, হাই-টেক পার্ক এবং চার বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্ভাবনাময় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) প্রকল্পের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তৈরি পোশাক, ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, বৈদ্যুতিক যানবাহন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবার কথা উল্লেখ করা হয়। সৌরবিদ্যুৎ, জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ খাতেও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের বিশেষ সুযোগ রয়েছে বলে জানান রিদওয়ানুর রহমান। অনুষ্ঠান শেষে ইউনানের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে কনস্যুলেটের বাণিজ্যিক উইংয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জানিয়েছে, ইউনানের পাশাপাশি সিচুয়ান, চংচিং, গুইঝো ও গুয়াংশির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করছে তারা।