বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই জেলায় বাড়তে শুরু করেছে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। জেলার পাহাড়ি ও দুর্গম উপজেলা-কে এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসের প্রথম ২০ দিনে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অন্তত ১৭ জন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯ জন শনাক্ত হয়েছেন দীঘিনালায়।
এ ছাড়া খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় একজন, মাটিরাঙ্গায় তিনজন, রামগড়ে দুজন, মহালছড়িতে একজন এবং লক্ষ্মীছড়িতে একজন আক্রান্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত জেলায় মোট ৪২ জন ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু দীঘিনালাতেই আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন, যা মোট রোগীর অর্ধেকের বেশি। এ কারণে উপজেলাটিকে ম্যালেরিয়ার ‘হটস্পট’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে জেলায় ৭৫ জন ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছিল। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩৯। এছাড়া ২০২৩, ২০২২, ২০২১ ও ২০২০ সালে যথাক্রমে ৩৩, ৯, ৫ ও ১০ জন রোগী শনাক্ত হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টি, বনাঞ্চলঘেরা পরিবেশ এবং জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার দ্রুত হওয়ায় ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় সচেতনতার অভাব ও দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
, জেলা সার্ভেইলেন্স মেডিকেল অফিসার, বলেন—ম্যালেরিয়ার কিছু ধরন অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই জ্বর হলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি মশার কামড় এড়াতে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে।
তিনি পাহাড়ি এলাকায় কর্মরত ব্যক্তিদের ফুলহাতা জামা ও লম্বা প্যান্ট পরারও পরামর্শ দেন।
খাগড়াছড়ির ডেপুটি সিভিল সার্জন জানান, বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে সচেতনতামূলক প্রচারণা, রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তার মতে, দ্রুত রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে ম্যালেরিয়াজনিত মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে তাদের টিকাদানের আওতায় আনতে আবারও বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিকে পূর্ণাঙ্গভাবে নতুন করে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, আগের টিকাদান কর্মসূচিতে নানা কারণে কিছু শিশু টিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। অনেক অভিভাবক পরবর্তী সময়ে বিষয়টি জানতে পারেননি। কেউ কর্মব্যস্ততার কারণে সন্তানকে টিকাকেন্দ্রে আনতে পারেননি, আবার কেউ কেউ জানান, টিকাদানের সময় শিশু স্কুলে থাকায় তাদের টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এভাবে কিছু শিশু টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার। তবে শেষ পর্যন্ত ১ কোটি ৮৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও শতভাগ কভারেজ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি নতুন করে আরও শিশু এই বয়সসীমার মধ্যে এসেছে। ফলে টিকাদানে কিছুটা ঘাটতি থেকে গেছে এবং বাদ পড়া শিশুদের মধ্যে হাম সংক্রমণের ঘটনা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাদ পড়া শিশুদের জন্য ইতোমধ্যে মপ-আপ ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে। মূল ক্যাম্পেইন ২০ মে শেষ হওয়ার পরের দিন থেকেই এই কার্যক্রম শুরু করা হয়। সিলেটেও লক্ষ্যমাত্রার বাইরে ৩ হাজারের বেশি শিশুকে নতুন করে টিকা দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে আরও বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সিলেটের ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক পরিস্থিতির কারণে টিকাদান কার্যক্রমে কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার কথা জানান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বান্দরবানেও এক পর্যায়ে টিকা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল। পরে দ্রুত সেখানে টিকা পাঠানো হয় এবং লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। সিলেটের হাওর এলাকার শিশুদের টিকাদানের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, শুক্রবার সিলেটের সব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে দুটি বৈঠক করবেন তিনি। আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় মূল ক্যাম্পেইনের আগে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। অবৈধ চিকিৎসা বন্ধে অভিযান: গ্রামাঞ্চলে অবৈধ চিকিৎসা ও অনুমোদনহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলায় সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে অবৈধ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সিলগালা করা হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় লেবার রুম নেই, সেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে ভুয়া সনদধারী ব্যক্তি, অবৈধ চিকিৎসক ও অননুমোদিত টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচার করানো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এসব কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এ জন্য অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। হাসপাতাল পরিদর্শনে চিকিৎসকদের উপস্থিতি: হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত এক মাসে তিনি ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। যেসব হাসপাতালে তিনি গেছেন, সেখানে প্রায় সব জায়গাতেই চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। শুধু চিকিৎসকদের সঙ্গে নয়, রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাসপাতাল পরিদর্শন শুরুর পর চিকিৎসকদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে রোগীরা জানিয়েছেন। হাসপাতালের খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রেও উন্নতি হয়েছে বলে রোগীদের কাছ থেকে মতামত পেয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো হাসপাতালে সমস্যা চিহ্নিত হলে আগামী সাত দিনের মধ্যে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। হাসপাতালের ড্রেনেজ, খাবারের মান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভুল-ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।
আমাদের দৈনন্দিন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। তবে ‘প্রতিদিন অন্তত আট গ্লাস পানি পান করতে হবে’— এই বহুল প্রচলিত নিয়মটি আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু আসলেই কি সবার জন্য পানির চাহিদা একই? চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যবিষয়ক জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘হেলথলাইন’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন মানুষের প্রতিদিন ঠিক কতটুকু পানি পান করা উচিত তা মূলত তার ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। আমেরিকার স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট অফ মেডিসিন’-এর একটি গবেষণার ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা জানান, পানির এই প্রয়োজনীয়তা মূলত বয়স, লিঙ্গ, দৈনন্দিন শারীরিক পরিশ্রম এবং বিশেষ কিছু স্বাস্থ্যগত বা পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক, আমাদের শরীরে পানির প্রয়োজনীয়তা কতটুকু এবং নারী-পুরুষের কার দৈনিক কতটা পানি পান করা উচিত। কার কতটুকু তরল বা পানি প্রয়োজন? ইনস্টিটিউট অব মেডিসিন-এর সুপারিশকৃত পর্যাপ্ত গ্রহণের মাত্রা (Adequate Intake বা AI) অনুযায়ী বয়স ও লিঙ্গভেদে তরল গ্রহণের দৈনিক হিসাব নিচে দেওয়া হলো— ১. প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষ (১৯ বছর বা তার বেশি) পুরুষ: একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক সামগ্রিকভাবে প্রায় ৩.৭ লিটার (বা ১৩১ আউন্স) তরল গ্রহণ করা প্রয়োজন। এর মধ্যে খাবার বা পানীয় বাদে অন্তত ১৩ কাপ (বা ১০৪ আউন্স) পানি সরাসরি তরল পানীয় থেকে আসতে হবে। নারী: একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর দৈনিক সামগ্রিকভাবে প্রায় ২.৭ লিটার (বা ৯৫ আউন্স) তরল প্রয়োজন। যার মধ্যে অন্তত ৯ কাপ (বা ৭২ আউন্স) পানি সরাসরি তরল পানীয় থেকে আসতে হবে। উল্লেখ্য, আমাদের দৈনিক মোট তরল চাহিদার একটি বড় অংশ কিন্তু আমরা যে খাবার খাই (যেমন ফলমূল ও শাকসবজি), তা থেকেও আমাদের শরীর পেয়ে থাকে। ২. অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদায়ী মায়েদের বিশেষ চাহিদা গর্ভধারণ বা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ে শরীরে তরলের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। তাই অন্তঃসত্ত্বা নারীর দৈনিক অন্তত ৮০ আউন্স বা ১০ কাপ পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আর স্তন্যদায়ী মায়ের জন্য দৈনিক প্রায় ১০৪ আউন্স বা ১৩ কাপ পানি পান করা প্রয়োজন। ৩. শিশু ও কিশোর-কিশোরী শিশুদের পানির চাহিদা তাদের বয়সের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়— ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশু: দৈনিক ৪০ আউন্স বা ৫ কাপ পানি। ৯ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশু: দৈনিক ৫৬ থেকে ৬৪ আউন্স বা ৭ থেকে ৮ কাপ পানি। ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী: দৈনিক ৬৪ থেকে ৮৮ আউন্স বা ৮ থেকে ১১ কাপ পানি। কখন পানির পরিমাণ বাড়াতে হবে? আপনার স্বাভাবিক দৈনন্দিন চাহিদার বাইরেও বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে পানির পরিমাণ বাড়াতে হতে পারে— ব্যায়াম বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম: আপনি যদি নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তবে আমেরিকান কাউন্সিল অন এক্সারসাইজ (এসিই)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যায়াম শুরু করার ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে ১৭ থেকে ২০ আউন্স এবং ব্যায়ামের ঠিক আগে ও পরে আরও ৮ আউন্স পানি পান করা উচিত। যদি ব্যায়াম এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে, তবে তরল গ্রহণের পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। উষ্ণ আবহাওয়া ও উচ্চতা: অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া কিংবা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮,২০০ ফুটের বেশি উঁচুতে অবস্থান করলে শরীরে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। অসুস্থতা: আপনার যদি জ্বর, বমি বা ডায়রিয়া হয়, তবে শরীর দ্রুত পানি হারায়। এই সময়ে শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি এবং প্রয়োজনে ইলেকট্রোলাইইট সমৃদ্ধ খাবার স্যালাইন বা পানীয় পান করা উচিত। কেন পানি পান করা এত জরুরি? আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-এর মতে, শরীরের প্রতিটি অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সচল রাখতে পানি অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করে। পানি পানের মূল উপকারিতাগুলো হলো: শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে বজায় রাখা। হাড়ের জয়েন্ট বা সংযোগস্থলগুলোকে পিচ্ছিল ও সুরক্ষিত রাখা। মেরুদণ্ড এবং অন্যান্য সংবেদনশীল টিস্যুকে সুরক্ষা দেওয়া। প্রস্রাব, ঘাম ও মলত্যাগের মাধ্যমে শরীর থেকে বর্জ্য দূর করা। এছাড়াও, ২০১৮ সালের একটি গবেষণার দীর্ঘ পর্যালোচনা অনুযায়ী, পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের বৃহত্তম অঙ্গ অর্থাৎ ত্বক সুস্থ, সতেজ এবং আর্দ্র থাকে। কম বা বেশি পানি পানের ঝুঁকি সীমার চেয়ে কম কিংবা বেশি উভয় প্রকার পানি পানই শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে— পানিশূন্যতা: শরীর যখন গ্রহণের চেয়ে বেশি পানি বা তরল হারায়, তখন ডিহাইড্রেশন ঘটে। এর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মুখ ও জিব শুকিয়ে যাওয়া, চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়া (শিশুদের ক্ষেত্রে), অল্প বা গাড়ো প্রস্রাব হওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বিভ্রান্তি এবং মেজাজের পরিবর্তন। তীব্র ডিহাইড্রেশনের ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে শিরায় স্যালাইন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। হাইপোনাট্রেমিয়া: খুব দ্রুত অতিরিক্ত পানি পান করলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত হ্রাস পেতে পারে, যা হাইপোনাট্রেমিয়া বা ‘ওয়াটার ইনটক্সিকেশন’ নামে পরিচিত। এর ফলে মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, ক্লান্তি, বমি ভাব, পেশির টান এবং গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি বা কোমা হতে পারে। সাধারণত শিশু, ছোট গড়নের মানুষ এবং ম্যারাথন দৌড়বিদদের মতো অ্যাথলেট যারা দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রমের পর দ্রুত অতিরিক্ত পানি পান করেন, তাদের এই ঝুঁকি বেশি থাকে। সহজেই হাইড্রেটেড থাকার কিছু টিপস ব্যস্ততার মাঝেও নিজেকে হাইড্রেটেড রাখতে এই সহজ অভ্যাসগুলো গড়ে তুলতে পারেন— ১. পানিযুক্ত খাবার গ্রহণ: তরমুজ, পালংশাক, শসা, সবুজ ক্যাপসিকাম, ব্লুবেরি, ফুলকপি, মুলা ও সেলারির মতো পানি সমৃদ্ধ ফল ও সবজি বেশি পরিমাণে খাদ্যতালিকায় রাখুন। ২. বোতল সঙ্গে রাখুন: জিমে, অফিসে বা ভ্রমণের সময় সবসময় নিজের সঙ্গে পানির বোতল রাখার অভ্যাস করুন। ৩. তরল বা পানীয়ের বৈচিত্র্য: শুধু সাধারণ পানিই নয়; চিনি ছাড়া দুধ, চা বা ব্রথ (ঝোল) থেকেও শরীরে পানির চাহিদা পূরণ হতে পারে। তবে অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত সোডা, জুস বা অ্যালকোহল জাতীয় চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন। ৪. পানিতে ভিন্ন স্বাদ যোগ করুন: সাধারণ পানির একঘেয়েমি দূর করতে পানিতে কিছুটা তাজা লেবু বা কমলার রস চিপে নিতে পারেন।
আজকের ডিজিটাল যুগে ঘুমানোর আগে আমাদের সবারই কম-বেশি একটি সাধারণ অভ্যাস গড়ে উঠেছে—স্মার্টফোনের স্ক্রল বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুবে থাকা। কিন্তু আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক জনপ্রিয় পোর্টাল ‘ভেরিওয়েল মাইন্ড’ -এ প্রকাশিত একটি বাস্তবধর্মী পরীক্ষা এই চিরচেনা অভ্যাসকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। পোর্টালটির লেখক সিয়ান ফার্গুসন নিজের ওপর টানা ৭ দিন ঘুমানোর আগে ৩০ মিনিট বই পড়ার একটি চমৎকার পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। সেই পরীক্ষার প্রাপ্ত ফল এবং ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতামত আমাদের দেখায় যে, আপাতদৃষ্টিতে সামান্য এই অভ্যাসটি আমাদের শরীরে এবং ঘুমের গুণগত মান উন্নত করতে কতটা জাদুকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। পরীক্ষার নিয়মাবলী: নিজের সাথে একটি প্রশান্তির চুক্তি বই পড়ার অভ্যাস আমাদের ঘুমের ওপর ঠিক কেমন প্রভাব ফেলে, তা সূক্ষ্মভাবে বোঝার জন্য লেখক কিছু সাধারণ নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলেছিলেন— ঘুমানোর আগে ৩০ মিনিট পড়া: প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে ঠিক ৩০ মিনিট বই পড়া। স্ক্রিন ও স্ক্রলিং সম্পূর্ণ বন্ধ: পড়া শুরু করার পর কোনো ধরনের মোবাইল স্ক্রিন বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং না করা। কেবল কাগজের বই: কোনো ই-রিডার বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার না করে কেবল সাধারণ ফিজিক্যাল বা কাগজের বই পড়া। রুটিনের বাকি অংশ অপরিবর্তিত: ঘুমের আগের অন্যান্য স্বাভাবিক অভ্যাসে কোনো বদল না আনা। আসক্তি কাটিয়ে ওঠার রোমাঞ্চকর দিনগুলো প্রথম ও দ্বিতীয় দিন (প্রলোভনের সাথে লড়াই): পরীক্ষার প্রথম রাতে নিজের ফোন থেকে দূরে সরে বিছানায় যাওয়া লেখকের জন্য বেশ কঠিন ছিল। শুরুতেই তিনি মনোযোগ স্থির করতে পারছিলেন না এবং বারবার সময়ের দিকে তাকাচ্ছিলেন, কারণ আমাদের মন দীর্ঘদিনের যান্ত্রিক স্ক্রলিংয়ের গতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে দ্বিতীয় দিনেই এই অস্বস্তি কাটতে শুরু করে। ইনস্টাগ্রামের রঙিন দুনিয়ার মোহ কাটিয়ে শান্তভাবে বইয়ের পাতায় মনোযোগ দেওয়াকে তার অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক মনে হতে থাকে। রাতে আলো নেভানোর পর অস্থিরভাবে বিছানায় ছটফট করার প্রবণতাও অনেক কমে যায়। তৃতীয় ও চতুর্থ দিন (প্রতীক্ষার মধুর মুহূর্ত): এই সময়ের মধ্যে ঘুমানোর আগের এই ৩০ মিনিট সময়টি লেখকের কাছে সারাদিনের সবচেয়ে আনন্দময় এবং শান্তিময় এক টুকরো সময় হয়ে ওঠে [৭]। ঘুমের আগের উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা অনেক কমে যায় এবং সোশ্যাল মিডিয়া বা কোনো মেসেজ দেখার তাগিদও দূর হয়ে যায়। পঞ্চম দিন (বইপ্রেমী সত্তার পুনর্জাগরণ): পঞ্চম রাতে লেখক আলমারি থেকে ডোনা টার্টের 'দ্য লিটল ফ্রেন্ড' উপন্যাসটি বেছে নেন। যদিও সেদিন রাতে তার ঘুম খুব একটা ভালো হয়নি এবং সকালে উঠার পর কিছুটা ক্লান্ত বোধ করছিলেন, তবুও নিজের দীর্ঘদিনের বই পড়ার চমৎকার অভ্যাসটি ফিরে পাওয়ায় মনের ভেতর এক ধরণের অনন্য আত্মতৃপ্তি অনুভব করেন। ষষ্ঠ ও সপ্তম দিন (প্রশান্তির পরম আবেশ): সপ্তাহের শেষে সিয়ান ফার্গুসন ঘুমানোর আগের সময়টিকে আরও আরামদায়ক করে তোলেন—হাতে পেসেন্ট পেপারমিন্ট চা, ঘরের হিউমিডিফায়ার চালু এবং হাতে প্রিয় বই। যদিও এই অভ্যাসটি তার চিরকালীন অনিদ্রার সমস্যাটি জাদুর মতো উধাও করে দেয়নি, তবে ঘুমের আগের সময়টিতে তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি শান্ত এবং দুশ্চিন্তামুক্ত অনুভব করেন। সব মিলিয়ে তার ঘুমের সামগ্রিক গুণগত মান অনেক উন্নত হয়। বই পড়লে আমাদের শরীরে ও মস্তিষ্কে আসলে কী ঘটে? ঘুমানোর আগে বই পড়া কেবল একটি প্রাচীন ঐতিহ্য নয়, বরং এটি একটি বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত ‘স্লিপ হাইজিন’ বা ঘুমের স্বাস্থ্যকর চর্চা। মস্তিষ্কের শান্ত ভাব ও কোলাহল ফিল্টার সিয়াটলের বিখ্যাত দন্তচিকিৎসক ও ঘুম বিশেষজ্ঞ ডক্টর স্টিফেন কারস্টেনসেন বলেন, ‘ঘুম আমাদের স্বাভাবিক দৈনিক চক্রের এমন একটি অংশ যা শান্ত হওয়া প্রয়োজন। তাই বই পড়ার মতো শান্ত কোনো কাজ আমাদের শরীরের প্রাকৃতিক পুনর্জাগরণ প্রক্রিয়ার সাথে চমৎকারভাবে খাপ খায়।’ তিনি জানান, আমাদের মস্তিষ্ক সারাদিন নানা তথ্য ও কোলাহলে ব্যস্ত থাকে; বই পড়ার মতো শান্ত ও একক মনোযোগের কাজ সেই কোলাহলকে ফিল্টার করে মস্তিষ্কের ঘুম কেন্দ্রকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে। চোখ ও স্নায়ুর আরাম ন্যাশনাল স্লিপ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলর অ্যান্ড্রু কোলস্কি ব্যাখ্যা করেন, ‘বইয়ের পাতা ওল্টানো এবং চোখের সাহায্যে শব্দগুলো অনুসরণ করা আমাদের মস্তিষ্কে একটি অত্যন্ত আরামদায়ক সংবেদনশীল ইনপুট তৈরি করে, যা আমাদের মনকে শান্ত করে গভীর ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে।’ অর্থাৎ, এটি আমাদের মস্তিষ্ককে ‘গো-গো-গো’ (অনবরত ছুটতে থাকা) মোড থেকে শান্ত অবস্থায় নিয়ে যায়। স্মার্টফোনের ক্ষতিকর প্রভাব ও মেলাটোনিন ডিভাইস কেন ঘুমের চিরশত্রু, তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে ডক্টর কারস্টেনসেন বলেন, ডিভাইস থেকে নির্গত উজ্জ্বল আলো আমাদের মস্তিষ্কে মেলাটোনিন (ঘুমের হরমোন) তৈরিতে তীব্র বাধা দেয়। এছাড়া ফোনে খবর বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করলে স্নায়বিক উদ্বেগ তৈরি হয়, যা আমাদের সিম্প্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমকে সক্রিয় রেখে ঘুম দূরে তাড়িয়ে দেয়।