জাতীয়

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ বাংলাদেশি সাংবাদিক নিহত

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে আগুন লেগে স্ত্রী ও সন্তানসহ কুষ্টিয়ার একজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ওই সাংবাদিক হলেন দেবাশীষ দত্ত। তিনি দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী আফসানা শারমীন ও ছেলে স্বর্ণশীষ দত্তও নিহত হয়েছেন।

 

বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাতে নিউমার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

 

কুষ্টিয়ায় দেবাশীষের পারিবারিক বন্ধু ও দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক তৌহিদী হাসান বলেন, গত ৩ আগস্ট চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে চেন্নাই যান দেবাশীষ। তাদের সাথে কুষ্টিয়ার আরও দুজন গিয়েছিলেন। সোমবার রাতে চেন্নাই থেকে এয়ারে কলকাতায় আসেন তারা।

 

সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া রাজারহাট এলাকায় এবং তার শ্বশুর আকরাম আলীর বাড়ি থানাপাড়া এলাকায়।

 

স্থানীয় ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্য মহীশূর জানান, নিহতদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশের নাগরিক এবং একজন ভারতীয়।

 

ভারতের পিটিআই ও এনডিটিভিসহ আরও বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, আগুনে প্রাণ হারানো আটজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং তারা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় গিয়েছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধ প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা জেলেনস্কির

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক তিক্ত বিরোধ প্রশমনের লক্ষ্যে মঙ্গলবার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ আলোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।   বৈঠকের পর দুই পক্ষই আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেছে।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর জেলেনস্কি ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিক ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার আগাম সতর্কতা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ আবার চালু করায় ওয়াশিংটনকে ধন্যবাদ জানান।   ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বুধবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার জন্য অসলো থেকে রাশিয়ায় যাওয়ার কথা রয়েছে উইটকফের।   সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে ট্রাম্পের চুক্তি ও রুশ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর জেলেনস্কিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের ক্ষুব্ধ মন্তব্য, আর এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।  এর মধ্যেই অসলোতে এই ইতিবাচক আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো।   অসলোতে সাংবাদিকদের জেলেনস্কি বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের কার্যক্রম আবার চালু হওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ। আমি আগাম সতর্কতার কথা বলছি, যা আমাদের জনগণ, শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক ও বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আসার সময় আমরা সতর্কবার্তা পেতে পারি।’   নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে ও ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের পাশে দাঁড়িয়ে জেলেনস্কি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।   বৈঠকে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী উইটকফ। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার অসুস্থতার কারণে দূর থেকে আলোচনায় অংশ নেন।   বৈঠক শেষে এএফপিকে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, জেলেনস্কি, উইটকফ ও কুশনারের মধ্যে আলোচনা ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক’ হয়েছে।   ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ইউক্রেন নতুন কিছু ধারণা ও প্রস্তাব সামনে এনেছে।’   ‘চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে’   আলোচনা ইতিবাচক হলেও ট্রাম্প ইউক্রেনের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছেন।    হোয়াইট হাউসে তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে জেলেনস্কিকে। শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা আরও জোরদার করছে।   গত সপ্তাহে জেলেনস্কিকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো ট্রাম্প ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে তাদের বহুল আলোচিত টেলিভিশন সম্প্রচারিত বাদানুবাদের প্রসঙ্গও তোলেন।    সে সময় তিনি যে শর্তগুলো প্রস্তাব করেছিলেন, জেলেনস্কি সেগুলো গ্রহণ না করায় তার সমালোচনা করেন।   চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্ক আবারও তলানিতে নামে। ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায়, তা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ট্রাম্প ওই চুক্তি করেন।   একই সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় ইউক্রেন ক্ষোভ প্রকাশ করে। কিয়েভের আশঙ্কা, ট্রাম্প আবারও পুতিনের দিকে ঝুঁকছেন।   এরপর দুই দেশের বিরোধ আরও তীব্র হয়। জেলেনস্কি ট্রাম্পের দুর্বলতার সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য আটকে রাখছে ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে বিলম্ব করছে।   যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ এবং রাশিয়ার দখল করা ভূখণ্ডে হামলা পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্যাটেলাইট ব্যবস্থা স্টারশিল্ডের গতিও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন।   স্টারশিল্ডের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক বলেছিলেন, এ ব্যবস্থার গতি কমানোর নির্দেশ কেবল হোয়াইট হাউস থেকেই আসতে পারে। তবে ট্রাম্প এমন নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।   অন্যদিকে, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সামরিক কাজে ব্যবহৃত স্টারলিংক ব্যবস্থার গতি কমানোর নির্দেশ আসলে মাস্কই দিয়েছিলেন।     অসলোতে বৈঠকের আগে ওয়াশিংটন, কিয়েভ ও পশ্চিমা দেশগুলোর রাজধানীতে উত্তেজনা কমাতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়।   মঙ্গলবার এর আগে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আলোচনা করেছেন বলে জানান।   সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরদের সঙ্গে আলাদা আলোচনায় জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, পেন্টাগন ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে বিলম্ব করছে। ইউরোপের দেশগুলো আগে থেকেই এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মূল্য পরিশোধ করেছে।    তার দাবি, চালানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।   ইউরোপের কয়েকটি দেশ নিজেদের মজুত থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ইউক্রেনকে দিতে প্রস্তুত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন এখনো পায়নি বলে জানান জেলেনস্কি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২১, ২০২৬

পানির খোঁজে কিউবার মানুষের কূপ খনন, নিত্যদিনের সংগ্রাম

ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান রূপপুর পারমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছেছে

দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটনের প্রাণচাঞ্চল্য, চাঙা স্থানীয় অর্থনীতি

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।   বুধবার সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা এবং বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকতে হবে।   তিনি বলেন, কখনো কখনো গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা হয়। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় ও আপসহীন থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকতে হবে। এই দেশ আমাদের সবার। সবাই মিলে দেশকে গড়তে হবে। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না।   বিজয়া দশমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আজকের এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে আপনাদের স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।   তিনি বলেন, বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে, তখন এখানে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। এ সম্প্রীতি আমাদের শক্তি, আমাদের অস্তিত্ব। যেকোনো মূল্যে তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।   তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক এবং হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে।   মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই আমাদের জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।   তিনি বলেন, এ উৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো—অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়।   সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে তিনি একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।   তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।   এ সময় রাষ্ট্রপতি জানান, সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   এর আগে রাষ্ট্রপতি দরবার হলে উপস্থিত হলে ‘হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’, ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’, ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং ‘মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি’র পক্ষ থেকে সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।   রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আসা সব দর্শনার্থী ও অতিথির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।   এ সময় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান

ছবি: সংগৃহীত

ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের ছাদে ৫ মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা

ছবি: সংগৃহীত

যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত
নির্দিষ্ট সময়ে বায়োমেট্রিক না দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে আবেদন

অনলাইনে এনআইডি বা ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করে দীর্ঘ দিন বায়োমেট্রিক না দেওয়া আবেদনকারীদের ঝুলন্ত আবেদন এবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য না দিলে সেই আবেদন আর বহাল থাকবে না।   সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের মাসিক সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সিদ্ধান্তের আলোকেই ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।   ইসি জানায়, নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ইসি সচিবালয়ের সিস্টেম ম্যানেজারকে লিখিত নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোনো নাগরিক নতুন ভোটার হওয়া বা কার্ড সংশোধনের আবেদন জানানোর পর যদি তিনি মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে গিয়ে বা নির্ধারিত বুথে সময়মতো বায়োমেট্রিক না দেন, তবে একটি নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরপরই আবেদনটি সার্ভার বা সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে অপ্রয়োজনীয় আবেদনের চাপ কমবে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন তথ্য না দিয়ে আবেদন ফেলে রাখার সুযোগও বন্ধ হবে।   এদিকে সার্ভার ও ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোতে জমে থাকা পুরোনো ও অপ্রয়োজনীয় নথিপত্র নিষ্পত্তির বিষয়েও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ইসি। ২০১২ সাল থেকে মাঠপর্যায়ের জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়সমূহে সংরক্ষিত স্ক্যানকৃত ও আপলোড করা ভোটার নিবন্ধন ফরম (ফরম-২) এবং কার্যালয়গুলোর গোডাউনে রাখা অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি দ্রুত সরিয়ে ফেলা ও নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই মাঠপর্যায়ের সমস্ত অফিসকে এসব নথিপত্র সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।   তবে পুরোনো সমস্ত ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না বলে জানিয়েছে কমিশন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখ পর্যন্ত নিবন্ধিত ও সংরক্ষিত ভোটার নিবন্ধন ফরম পূর্বের মতোই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোতে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে শুধু ২০১২ সালের পর থেকে স্ক্যান করে সার্ভারে সংরক্ষিত ফরমগুলোর কাগজই অপসারণ করা হবে।   সংরক্ষিত কাগজপত্র নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় পরিবেশগত সুরক্ষা ও তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার ওপরও জোর দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিবের তরফ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন বাতিলের জন্য নির্ধারিত ফরম ও নথিপত্র কোনোভাবেই খোলা বাজারে না বিক্রি করে তা সরাসরি কাগজের মণ্ড তৈরির কাজে ব্যবহার করা নিশ্চিত করা হয়। সিদ্ধান্তটি দ্রুত ও সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালককে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানো হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে, দুই পক্ষ এক হয়েছে’: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

পৃথক অভিযোগে সৌদির কারাগারে বন্দি ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নজরুল ও সুইটি

ছবি: সংগৃহীত

২৭ অক্টোবর টোকিওতে তারেক–তাকাইচির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

0 Comments