জুলাই আন্দোলনকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি এবং শান্তা ফারজানা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ নামে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে শুক্রবার (৩ জুলাই) লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। পরে অভিযোগটি জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি সাইবার-সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগপত্রে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আনম আয়াস, তুহিন ফরাজী এবং কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মুহাম্মদ শাহ্ আলম বাদশা স্বাক্ষর করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে সম্প্রতি অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলন, এর স্মৃতিচিহ্ন এবং অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে শান্তা ফারজানার বিরুদ্ধে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ বা আঘাত করার একটি ভিডিও প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে মেহের আফরোজ শাওনের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনকে পরিকল্পিত বা সাজানো ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন এবং রাষ্ট্র ও আন্দোলন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মাহিয়া মাহির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তি, সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষকে কটাক্ষ ও হেয় করার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিবি দক্ষিণ সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ইউনিটের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, শাহবাগ থানা থেকে পাঠানো নথি এখনও তাদের কাছে পৌঁছায়নি। নথি হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলামও জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত রয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিক নথি পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগকারী সংগঠন তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আমির খান তার জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। আগামী ৫ জুলাই প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছেন তিনি। কিছুদিন আগেই গৌরীর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন আমির। এবার বিয়ের তারিখ চূড়ান্ত হতেই তার ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। তবে জানা গেছে, বলিউডের আর দশটা জমকালো বিয়ের মতো এই আয়োজনে কোনো বাহুল্যতা থাকছে না। কোনো বিলাসবহুল হোটেল বা বড় রিসোর্টের পরিবর্তে আমির নিজের বান্দ্রার বাসভবনে বিয়ের অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সম্পূর্ণ ঘরোয়া ও অত্যন্ত সাদামাদা পরিবেশে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। এই বিয়েতে আমন্ত্রিত অতিথির তালিকাও বেশ সংক্ষিপ্ত। দুই পরিবারের সদস্য, অল্প কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং বিশেষ কিছু মানুষ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তবে এই আনন্দঘন মুহূর্তের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো আমিরের পূর্বের সম্পর্কগুলোর প্রতি সম্মান। জানা গেছে, আমিরের সাবেক দুই স্ত্রী এবং সন্তানেরাও এই বিয়েতে অংশ নেবেন। ফলে এটি কেবল দুজনের বিয়ে নয়, বরং পরিবারগুলোর এক হওয়ার বিশেষ এক উৎসবে পরিণত হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমির তার এই সাদামাদা আয়োজনের ইচ্ছার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, যেকোনো বড় উদযাপনের চেয়ে পরিবারের সঙ্গে কাটানো আনন্দের মুহূর্তগুলোই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি সবার কাছে ভালোবাসা, শুভকামনা ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে এটি আমির খানের তৃতীয় বিয়ে। এর আগে দুবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও বিচ্ছেদ পরবর্তী সময়েও তিনি তার পূর্বের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অত্যন্ত সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন। অন্যদিকে, গৌরী স্প্র্যাটের এটি দ্বিতীয় বিয়ে এবং তার একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। আমিরের তিন সন্তানসহ মোট চার সন্তানই বাবার এই নতুন পথচলায় পাশে থেকে আনন্দ উদযাপনে শামিল হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে পুরো বলিউড পাড়ায় এখন এই বিয়ে নিয়ে জোর চর্চা চলছে। বিয়ের জাঁকজমক বাদ দিয়ে পরিবারের গুরুত্ব এবং আপনজনদের নিয়ে এমন সরল উদযাপন অনেকের কাছেই প্রশংসিত হচ্ছে।
বিশ্বসংগীতের পপসম্রাজ্ঞী টেইলর সুইফট এবং মার্কিন এনএফএল তারকা ট্রাভিস কেলসি অবশেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। নিউইয়র্কের বিখ্যাত ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে দুই তারকার বহুল প্রতীক্ষিত জমকালো উদযাপনের প্রস্তুতি চলার মাঝেই খবর এসেছে, তারা ইতিমধ্যে অত্যন্ত গোপনে আইনিভাবে বিয়ে সেরে নিয়েছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের ‘পেজ সিক্স’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৬ বছর বয়সী এই তারকাযুগল তাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ভালোবাসার মানুষদের নিয়ে গড়া একটি ‘ছোট দলের’ উপস্থিতিতে বিয়ের শপথ বিনিময় করেছেন। বিয়েটি ঠিক কবে বা কোথায় হয়েছে তা নিশ্চিত না করা হলেও জানা গেছে, সুইফটের ব্যক্তিগত জেট বিমানটি সম্প্রতি নাশভিলে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে এসেছে, যেখানে এই গায়িকা তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে বসবাস করতেন। যদিও টেইলর সুইফটের মুখপাত্রের পক্ষ থেকে এই খবরের তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা মেলেনি, তবে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনজুড়ে এখন সাজসাজ রব। আজ শুক্রবার এক হাজারেরও বেশি অতিথির উপস্থিতিতে বসবে মূল রাজকীয় আসর। এই মহা-আয়োজনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ভেন্যুর চারপাশে কড়া নিরাপত্তাবলয় তৈরি করেছে পুলিশ, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আশেপাশের বেশ কিছু রাস্তা ও পথচারী পারাপারের পথ। ইতিমধ্যেই কালো কাচে ঢাকা বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হতে দেখা গেছে অভিনেতা ব্র্যাডলি কুপার, লেনা ডানহাম, স্পোর্টসকাস্টার এরিন অ্যান্ড্রুজ এবং বিখ্যাত মিউজিক প্রডিউসার জ্যাক অ্যান্টনফের মতো একঝাঁক বিশ্বখ্যাত তারকাকে। এ ছাড়া সুইফটের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সেলেনা গোমেজ, এড শিরান, এমা স্টোন এবং গিগি হাদিদদের মতো তারকাদেরও এই বিয়েতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। আমেরিকার বিনোদন ইতিহাসের অন্যতম প্রতীক্ষিত এবং ‘আমেরিকার রাজকীয় বিয়ে’ হিসেবে আখ্যা পাওয়া এই বিয়েকে ঘিরে নিউইয়র্ক শহর এখন উৎসবে মাতোয়ারা। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস এবং চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের একটি ম্যাচের উত্তেজনার মাঝেই টেইলর সুইফটের বিয়ের আয়োজন শহরটিকে আরও জমজমাট করে তুলেছে। এদিকে এই মহোৎসবের অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় কেলসি এবং সুইফট দম্পতি যৌথভাবে ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছেন বলে গায়িকার প্রচার দল নিশ্চিত করেছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানী এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত গরমের সতর্কতা জারি করার পাশাপাশি এই তারকা জুটির ইনডোর বিয়ের উদাহরণ টেনে সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানান। গত বছরের আগস্টে বাগদানের পর থেকেই এই জুটির বিয়ে নিয়ে ভক্তদের মাঝে যে টানটান উন্মাদনা ছিল, এই গোপন বিয়ের খবরের মধ্য দিয়ে তা যেন পূর্ণতা পেল।
পাকিস্তানের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিমের ২০২০ সালে ‘দিল রুবা’ নাটকের মাধ্যমে অভিষেক ঘটে। এরপর ‘ক্যায়সি তেরি খুদগার্জি’, ‘ইশক মুর্শিদ’ ও ‘সানওয়াল ইয়ার পিয়া’র মতো জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ ‘হাম অ্যাওয়ার্ডস’-এর মনোনয়নও। এবার সেই অভিনেত্রীর বিয়ে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে। যদিও তারকাদের প্রেম, বিচ্ছেদ আর বিয়ের গুঞ্জন নতুন কোনো ঘটনা নয়। পাক অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিমের ক্ষেত্রেও বিশেষ কিছু নয়। তবে এ মুহূর্তে নেটদুনিয়ায় হইচই ফেলে দিয়েছেন অভিনেত্রী। যা রটেছে, তা রীতিমতো বিনোদনপ্রেমীদের মনে ঝড় তুলেছেন তিনি। হালের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাকি চুটিয়ে প্রেম করছেন এক বিতর্কিত ইউটিউবারের সঙ্গে। শুধু প্রেমই নয়, জল নাকি গড়িয়েছে বিয়ে পর্যন্ত। সামাজিক মাধ্যমে ভেসে বেড়ানো বেশ কিছু ভাইরাল পোস্টে এমনটাই দাবি নেটিজেনদের। এর আগে সহ-অভিনেতা বিলাল আব্বাস খানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে মেতে ছিলেন ভক্ত-অনুরাগীরা। ‘ইশক মুর্শিদ’ জুটির সেই রসায়নের চর্চা থিতু হতে না হতেই এবার যুক্ত হলো সম্পূর্ণ নতুন এক নাম। সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের জোর দাবি— পাকিস্তানের অন্যতম শীর্ষ ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও টিকটকার রজব ভাটের সঙ্গে ‘গোপন সম্পর্কে’ জড়িয়েছেন অভিনেত্রী। এমনকি তারা নাকি খুব শিগগির বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন। ইনস্টাগ্রামের কিছু ভাইরাল পোস্টের সূত্র ধরে এ খবর হু হু করে ছড়িয়ে পড়লেও ভক্ত-অনুরাগীদের একটি বড় অংশ একে শুধু ‘ভিত্তিহীন গুজব’ বলেই উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে এ গুঞ্জনের মাঝেই জলঘোলা করেছেন দুরেফিশানের ব্যক্তিগত মেকআপ আর্টিস্ট যশওয়া আনজুমের একটি মন্তব্য। এ মেকআপ আর্টিস্ট বলেন, এগুলো দেখার এবং শোনার আগে আমি কেন অন্ধ ও বধির হয়ে গেলাম না? আমি এটা সহ্য করতে পারছি না। এটি আমার শোনা সবচেয়ে বাজে খবর। আর এ মানুষকে বিয়ে করা? একেবারেই না। কোটি বছরেও নয়। মেকআপ আর্টিস্টের এমন মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে, নেটিজেনদের বড় একটি অংশের ধারণা— এ বিয়ের গুঞ্জন শুধু সামাজিক মাধ্যমে সস্তা প্রোপাগান্ডা ছাড়া আর কিছুই নয়। অবশ্য এ পুরো নাটকীয় বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত দুরেফিশান সেলিম বা রজব ভাট কেউ-ই প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।