বিনোদন

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা সানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন অভিনেতা শিবা সানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন অভিনেতা জয় চৌধুরী।

 

শনিবার (৪ জুলাই) ভোর পৌনে ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট শেষে সন্ধ্যায় ব্যালট বাক্স সিলগালা করে গণনা শুরু করে নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ সময় ধরে ভোট গণনা শেষে শনিবার ভোরে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

 

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট গণনা শেষে ১৭টি ব্যালট বাতিল ঘোষণা করা হয় বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।

 

ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে শিবা সানু পেয়েছেন ২৪৩ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইট ডিরেক্টর ও অভিনেতা আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে ২৩৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন জয় চৌধুরী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।

 

এছাড়া সহ-সভাপতি পদে ইলিয়াস কোবরা ২১৬ ভোট (নির্বাচিত), ডিএ তায়েব ২৬০ ভোট (নির্বাচিত), নূতন ২০৪ ভোট এবং রোজিনা পেয়েছেন ১৫২ ভোট। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ২৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সুব্রত, এই পদে রিনা খান পেয়েছেন ১৫০ ভোট।

সাংগঠিক সম্পাদক পদে চুন্নু পেয়েছেন ১৮২ ভোট এবং সনি রহমান ২৩৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

 

আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন পারভেজ চৌধুরী আবির, তিনি পেয়েছেন ২৭২ ভোট, এই পদে পপি পেয়েছেন ১৪৪ ভোট। দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে ২২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জ্যাকি আলমগীর , এই পদে রাসেল মিয়া পেয়েছেন ১৯৫ ভোট। সাংস্কৃতিক ও ক্রিয়া সম্পাদক পদে ইউসুফ খান ৭২ ভোট এবং মুশফিকুল জামিল পেয়েছেন ১১৮ ভোট, তবে এই পদে মারুফ আকিব ২২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

 

কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন কামরুজ্জামান কমল, তিনি পেয়েছেন ২২১ ভোট। একই পদে জাদু আজাদ পেয়েছেন ১৯৭ ভোট।

 

এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ১১ জন হলেন- আলী রাজ ,কাবিলা, কায়েস আরজু, জেসমিন, নাসরিন, ফরহাদ, শিপন মিত্র, রাকা, চিকন আলী, শিরিন শিলা এবং সুশান্ত। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিএফডিসিতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের মধ্যে ছিল মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একদিকে ছিলেন আরমান–মুক্তি পরিষদ, অন্যদিকে শিবা শানু–জয় চৌধুরী পরিষদ। নির্বাচনের আগে প্রচার-প্রচারণা, প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠান এবং ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে সরগরম ছিল চলচ্চিত্রাঙ্গন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

বিনোদন

আরও দেখুন
গোপাল ভাঁড় আর ভাত—কেন এই জুটি এত জনপ্রিয়?

  গরম ভাতের ধোঁয়া উঠছে প্লেটে। পাশে মাছের ঝোল, ডাল কিংবা ভর্তা। আর হাতে মোবাইল—স্ক্রিনে শুরু হয়েছে ‘গোপাল ভাঁড়’। একটি গল্প শেষ হতে না হতেই শুরু হয় আরেকটি। দেখতে দেখতে কখন যে ভাতের প্লেট খালি হয়ে যায়, টেরই পাওয়া যায় না। অনেকের কাছে তাই ভাত আর গোপাল ভাঁড় যেন একে অন্যের পরিপূরক।   বাঙালির খাবারের সঙ্গে গল্পের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। একসময় দুপুর কিংবা রাতের খাবারের টেবিলে গল্প, হাসি-ঠাট্টা আর আড্ডায় জমে উঠত সময়। এখন সেই জায়গা অনেকটাই দখল করেছে মোবাইলের পর্দা। আর সেখানে গোপাল ভাঁড়ের সহজ-সরল হাস্যরস, বুদ্ধিদীপ্ত কাণ্ডকারখানা ও ছোট ছোট গল্প হয়ে উঠেছে খাওয়ার সময়ের প্রিয় সঙ্গী।   কারও কাছে এটি নিছক বিনোদন, আবার কারও কাছে খাবারের সময়ের অভ্যাস। এমনই একজন নিয়ল। তিনি বলেন, ‘আমি এখনও গোপাল ভাঁড় না দেখে তিন বেলার খাবারই খেতে পারি না।’   শুধু অভ্যাস নয়, এর সঙ্গে মিশে আছে ছোটবেলার স্মৃতিও। টেলিভিশনের পর্দা কিংবা বইয়ের পাতায় দেখা গোপালের দুষ্টুমি, বুদ্ধি আর মজার কাণ্ড বড় হওয়ার পরও অনেককে টানে। তাই খেতে খেতে গোপালের গল্প দেখার আনন্দটাও যেন আলাদা।   বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী লাবিবার কথাতেও সেই টান। তিনি বলেন, ‘আমার বয়স যতই হোক, আমি কোনো দিন গোপাল ভাঁড় দেখা ছাড়ব না।’   শীত এলে ভাত আর গোপাল ভাঁড়ের এই কম্বিনেশনের মজাটা যেন আরও বেড়ে যায়। কম্বল মুড়ি দিয়ে গরম খাবারের সঙ্গে গোপালের গল্প—অনেকের কাছেই শীতের আরামের অন্যতম সঙ্গী। রাইসা বলেন, ‘কম্বল মুড়ি দিয়ে গোপাল ভাঁড়, তার সঙ্গে গরম ধোঁয়া ওঠা খাবার—আমার সবচেয়ে পছন্দের কম্বিনেশন।’   গোপাল ভাঁড়ের জনপ্রিয়তার পেছনে তার গল্প বলার ধরন বড় ভূমিকা রাখে। ছোট ছোট ঘটনা, সহজ সংলাপ, হাস্যরস আর শেষ মুহূর্তের চমক—সব মিলিয়ে গল্পগুলো সহজেই দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখে। একই গল্প একাধিকবার দেখলেও বিরক্তি কম হয়। বরং পরিচিত চরিত্র ও গল্প অনেকের কাছে হয়ে ওঠে স্বস্তিদায়ক ও আরামদায়ক বিনোদনের মাধ্যম। ফলে খাবারের সময় গোপাল ভাঁড় দেখাটা ধীরে ধীরে অনেকের দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হয়ে যায়।   অনেকের মতে, কোনো নির্দিষ্ট কাজের সঙ্গে একই ধরনের বিনোদন বারবার যুক্ত হলে সেটি ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হতে পারে। ফলে কারও কাছে খাবারের সময় গোপাল ভাঁড় দেখা ক্ষুধার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হলেও একসময় তা একটি ‘কমফোর্ট রুটিন’ হয়ে উঠতে পারে। অর্থাৎ খাবারের টেবিলে বসা আর গোপালের গল্প—দুটি বিষয় একসঙ্গে ঘটতে ঘটতে মস্তিষ্কের কাছে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারে।   তবে খাওয়ার সময় নিয়মিত স্ক্রিন দেখার কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। এতে খাবারের প্রতি মনোযোগ কমে যেতে পারে। এমনকি কতটা খাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়েও সচেতনতা কমে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তাই গোপালের গল্প যতই মজার হোক, খাবারের সময় পর্দায় চোখ রাখার পাশাপাশি নিজের খাওয়ার পরিমাণ ও অভ্যাসের দিকেও নজর রাখা জরুরি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৩, ২০২৬

দীর্ঘসময় খালি পেটে থাকার মারাত্মক ক্ষতি ও প্রতিকারের উপায়

ছবি: সংগৃহীত

‘শিকারি’ নিয়ে হাজির হচ্ছেন মৌ খান

ছবি: সংগৃহীত

‘আলা বোলেলো’য় রজনীকান্ত ঝড়

ছবি: সংগৃহীত
আকাশছোঁয়া স্পর্শ স্পর্শিয়ার

বিনোদন জগতের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া রীতিমতো নেটিজেনদের চোখ আটকে দিয়েছেন। রোদমাখা এক বিকালে নিজেকে ক্যামেরাবন্দি করেন। আর সেই মুহূর্তের ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে ফেলেন অভিনেত্রী। আর মুহূর্তেই সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। নেটিজেনদের মাঝে শুরু হয় গুঞ্জন।    শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকালে ফেসবুকে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করে নেটিজেনদের মাঝে হইচই ফেলেন তিনি।     সেখানে দেখা যায়, হলুদ রঙের ফুলের ছাপ দেওয়া একটি স্টাইলিশ স্লিভলেস পোশাকে অভিনেত্রী। খোলা চুলে রোদ গায়ে লাগানোর মুহূর্তের সঙ্গে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে যুক্ত করেছেন শন মেন্ডেস ও কামিলা কাবেলোর জনপ্রিয় গান ‘সেনোরিটা’। ছবি পোস্টের পর ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন— ‘শি অ্যান্ড দ্য সান’ (সে এবং সূর্য)। অর্থাৎ তিনি আর রোদ একই ফ্রেমে বন্দি।   দেশের বাইরে থেকে ফ্রেমবন্দি হয়েছেন সুন্দরী এ অভিনেত্রী। বেশ কিছু দিন ধরে আমেরিকায় আছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। অভিনেত্রীর পরিবার থাকে নিউইয়র্কে, সেই সুবাদেই যাওয়া-আসা। দেশে নানা কর্মব্যস্ততা থাকলেও পারিবারিক টানেই দূরদেশে ছুটে যান অভিনেত্রী।    এর আগে সেখানকার একটি আইম্যাক্স হলে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ দেখে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া। এরপর ঘুরেছেন নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরিতে। দেখেছেন মার্থা গ্রাহামের প্রদর্শনী। মূলত ভ্রমণ আর শিল্পের নানা দিক অনুভবের মধ্য দিয়েই কাটছে অভিনেত্রীর প্রবাসজীবন।   সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেনসহ ভক্ত-অনুরাগীদের মন্তব্যের ঘর ভরে ওঠে প্রাণ। ভক্তদের প্রায় সবাই স্পর্শিয়ার গ্ল্যামার ও সৌন্দর্যের প্রশংসা করেছেন। আবার কেউ কেউ তার লুক নিয়ে নানা মতামত দিয়েছেন।    উল্লেখ্য, অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া বর্তমানে কাজল আরেফিন অমির জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট সিজন ৫’-এ কাজ করছেন। এতে তার সঙ্গে অভিনয় করছেন তৌসিফ মাহবুব, জিয়াউল হক পলাশ, চাষী আলম, মারজুক রাসেল ও শামীম হাসান সরকারসহ আরও অনেকে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কারিনা কি ফের মা হচ্ছেন?

‘হলিউড ওয়াক অব ফেম’-এ গেলেন সাফা কবির

ছবি: সংগৃহীত

ওজন কমায় ট্রল, বিবাহবিচ্ছেদের গুঞ্জনেও ক্ষুব্ধ ইন্দ্রাণী হালদার

ছবি: সংগৃহীত
‘ডিপজলকেও ডাকা দরকার’, ‘ডলি জহুর আসামি হতে পারে’: সালমান শাহর মা

ছেলের হত্যার বিচার চেয়ে এবার সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী মুখ খুললেন খল অভিনেতা ডিপজল, ডলি জহুর ও চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান সভাপতি আরেক খল অভিনেতা শিবা শানুকে নিয়ে।   ১০ আগস্ট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক হন খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হক। তিনি সালমান শাহ হত্যার আসামি। শোনা যায়, তাঁকে ধরিয়ে দিতে সহায়তা করেন আরেক খল অভিনেতা ডিপজল।   ডিপজলের সঙ্গে নীলা চৌধুরীর কথা না হলেও তিনি বললেন, ‘ডিপজলকেও ডাকা দরকার।’ কেন ডাকা দরকার? এমন প্রশ্ন করলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই মামলায় ডিপজলকে সাক্ষীর জন্য ডাকা দরকার। কারণ, সে ফিল্মের মানুষ অনেক কিছু জানে বলেই তো ধরিয়ে দিয়েছে। সে (ডন) যে দেশ ছাড়ছে, সেটা তো সে জানত। অপরাধী মনে না করলে তো সে ধরিয়ে দিত না।’   এই সময় নীলা চৌধুরী আরও বলেন, ‘ইমনকে (সালমান শাহ) যখন হত্যা করা হয়, তখন তো ডিপজলরা নিয়মিত কাজ করছিলেন। সিনেমার অনেক ঘটনাই তো তাদের জানা ছিল। সে তো আগের পরের অনেক কিছুই জানতে পারে। যে কারণে ভালো–মন্দ যা–ই হোক সে কিছু জানতে পারে। আমার প্রশ্ন, যদি কিছু জেনে থাকে, তাহলে সেটা সাক্ষী হয়ে কথা বলুক। এটা তো মামলার জন্য সহায়তা করা হয়। যে কারণে আমি মনে করি তাকে সাক্ষী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করার দরকার।’ এ সময় ডিপজলকে ধন্যবাদও দেন নীলা চৌধুরী।   সালমান শাহর মা মনে করেন, এ মামলায় আরও অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়। যারা এই ঘটনা সম্পর্কে কাছ থেকে অনেক কিছু জানে। তিনি বলেন, ‘যেদিন ইমনকে হত্যা করা হয়, সেদিন ডলি জহুরও তো ঘটনা সম্পর্কে অনেক কিছু জানত। ওই দিন কী কী হয়েছিল, সেই সম্পর্কে বিভিন্ন সময় ডলি জহুর গণমাধ্যমে কথা বলেছে। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার। সামিরার সঙ্গে তার কতটা যোগাযোগ ছিল, বের করা দরকার। ডলি জহুর, বাদল খন্দকার—এরা অনেক কিছু জানে। তাদের সত্যটা প্রকাশ করা। প্রয়োজন মনে করলে এদের মধ্যেও কাউকে আমি আসামিও করতে পারি। ডলি জহুর আসামী হতে পারে। এদের অনেকেই সালমান শাহকে বিরক্ত করেছে।’   এ ছাড়া গত মাসে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন খল অভিনেতা ডন। ‘একজন হত্যা মামলার আসামি কীভাবে এফডিসিতে এসে ভোট দেয়। তাকে অনেকেই সহায়তা করছে। এদের ধরতে হবে,’ বলেন নীলা।   এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘শিবা শানুরা ডনকে বরণ করে নিয়েছিল। এখানে ডনকে প্রশ্রয় দিচ্ছে কারা? যেখানে ডনকে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া উচিত ছিল, সেখানে এফডিসির নির্বাচনে ডনকে বরণ করে নেওয়াটা বোঝায় এদের ছত্রচ্ছায়ায় ডন থাকত।’   এদিকে ডনকে গ্রেপ্তারের পর সালমান শাহর মামা কুমকুমকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন নীলা চৌধুরী। সালমান শাহর হত্যার বিচারের দাবিতে সালমান শাহর ভক্তরা এক হয়েছিলেন। সেখানে হুমকির কথা জানান কুমকুম।   নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আমার ভাইকে তো বহু দিন ধরে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সেটা এখন আবার বাড়ছে। অন্যদিকে সালমানের ভক্তদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সেগুলোর স্ক্রিনশট আমার কাছে আছে। এসব হুমকি দিয়ে কোনো কিছু থামানো যাবে না। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত এই হত্যার বিচার করতে হবে।’   এদিকে গত শনিবার সালমান শাহ ভক্ত ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে মানববন্ধন করা হয়েছে। ভক্তদের দাবি দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করা। এ দাবি আদায়ের জন্য ৬৪ জেলার ভক্তরা প্রেসক্লাবের সামনে এক হয়েছিলেন।   এই উদ্যোগের অন্যতম সমন্বয়ক সাজিদ কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের চাওয়া ডনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। তাহলে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে। এ ছাড়া হত্যা মামলার আসামি সামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তাকেসহ অন্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সাজা দিতে হবে। তা না হলে আমরা শিগগির দেশের ৬৪ জেলায় সালমান শাহ ভক্তরা আবার মানববন্ধন করব। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হতেই হবে।’   সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত বছর আদালতে হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল চরিত্রের অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শেষের পথে ‘গোলমাল ৫’-এর শুটিং, মুক্তির তারিখ এখনো অনিশ্চিত

পাকিস্তানের জনপ্রিয় দুই অভিনয়শিল্পী ফাহাদ মুস্তফা ও মাহিরা খান। ছবি: সংগৃহীত

মাহিরা-ফাহাদকে জাতীয় সম্মান দিতে আপত্তি পাকিস্তান সরকারের

ছবি: সংগৃহীত

মধুমিতা সিনেমা হলে শুরু হচ্ছে ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’, থাকছে ১৩ সিনেমা

0 Comments