যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার কয়েক মাস পরও ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মূল্যায়নে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রমাণ পায়নি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। বরং সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশের অবস্থান সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বৃহস্পতিবার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো আইএইএর গোপনীয় ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর এটিই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সংস্থাটির প্রথম পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন।
প্রতিবেদনে আইএইএ আবারও তেহরানের কাছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের অবস্থান সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছে। সংস্থাটির মতে, গত বছরের সামরিক হামলায় ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে নিম্ন ও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের অবস্থান যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে দুর্বল করা ছিল সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে এর আগে একাধিকবার দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে আইএইএর সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, হামলার পরও সংস্থাটির আগের পর্যবেক্ষণের তুলনায় ইরানের পরমাণু সক্ষমতায় নাটকীয় কোনো পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগেও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের বিষয় হয়ে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন চায়, ইরান সম্পূর্ণভাবে এই মজুদ ত্যাগ করুক। তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় একটি প্রাথমিক সমঝোতার দিকে এগোনোর চেষ্টা চলছে, যেখানে পরমাণু ইস্যুর কিছু জটিল বিষয় পরবর্তী পর্যায়ের জন্য রেখে দেওয়া হতে পারে।
আগামী সপ্তাহে আইএইএর ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট বোর্ড অব গভর্নরসের বৈঠকের আগে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি অনুযায়ী ইরানকে তার তদারকি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আইএইএর মহাপরিচালক তেহরানকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কোনো পরিস্থিতিতেই একতরফাভাবে এসব বাধ্যবাধকতার বাস্তবায়ন স্থগিত করা যাবে না।
আইএইএ জানিয়েছে, গত জুনে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পরমাণু স্থাপনাগুলোতে সংস্থার পরিদর্শকরা এখনও ফিরে যেতে পারেননি। ফলে সেখানে সংরক্ষিত পরমাণু উপাদানের প্রকৃত অবস্থা এবং অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বিশেষ করে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে অস্ত্রমানের, অর্থাৎ প্রায় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামে উন্নীত করতে তুলনামূলকভাবে অল্প প্রযুক্তিগত ধাপ প্রয়োজন হয়। সে কারণে এই ধরনের উপাদানের অবস্থান সম্পর্কে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আইএইএ সতর্ক করে বলেছে, প্রায় এক বছর ধরে পূর্বঘোষিত ইউরেনিয়াম মজুদের ওপর নিয়মিত যাচাই ও পর্যবেক্ষণ চালানো সম্ভব না হওয়ায় পরমাণু অস্ত্র বিস্তারসংক্রান্ত গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তদারকি বন্ধ থাকলে সংশ্লিষ্ট উপাদানের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারাবাহিক তথ্য হারিয়ে যায় এবং পরমাণু উপাদানের ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
সংস্থাটির ভাষ্য, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে পূর্বে ঘোষিত পরমাণু উপাদান সম্পর্কিত তথ্য ও তদারকির যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করা প্রয়োজন। অন্যথায় আন্তর্জাতিক পরমাণু তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইএইএর সর্বশেষ প্রতিবেদন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সামরিক হামলার পরও ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তথ্যসূত্র : রয়টার্স
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন বৈঠকের কোনো প্রয়োজন দেখছি না। শুক্রবার (৫ জুন) সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন জেলেনস্কির সাম্প্রতিক খোলা চিঠির প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন। চিঠিতে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মুখোমুখি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পুতিন বলেন, তিনি বহুবার যোগাযোগের জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন, তবে এখন এমন বৈঠকের বিশেষ কোনো অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না। তার মতে, প্রকাশ্যে চিঠি লেখার এই পদ্ধতি আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। রুশ প্রেসিডেন্ট আরও ইঙ্গিত দেন, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে কার্যকর সমঝোতা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ফলপ্রসূ হবে না। তিনি বলেন, টেকসই চুক্তির ভিত্তি আগে প্রস্তুত হওয়া প্রয়োজন। এর আগে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে জেলেনস্কি পুতিনকে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানান। তিনি যুদ্ধ বন্ধে একটি নির্দিষ্ট তারিখে বৈঠকের প্রস্তাব দেন এবং আলোচনা চলাকালে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির কথাও উল্লেখ করেন। চিঠিতে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন আমাদের দুজনের সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান চায়। একইসঙ্গে তিনি যুদ্ধবন্দি বিনিময় ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের মতো বিষয়েও আলোচনা করার প্রস্তাব দেন। তবে পুতিন তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তিনি কেবল তখনই জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, যখন একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি প্রস্তুত হবে এবং সেটি স্বাক্ষরের পর্যায়ে পৌঁছাবে। একই অনুষ্ঠানে পুতিন দাবি করেন, রুশ বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতি ধরে রেখেছে এবং সামনের সারির প্রায় পুরো অংশজুড়েই তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধ বন্ধে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। সূত্র : আল জাজিরা
ইসরায়েলিদের নতুন আগ্রাসন ও এর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করলেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের কমান্ডার।মেহর সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসমাইল কা'আনি, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের কমান্ডার, বাব আল-মান্দেব ও ইসরায়েলিদের নতুন আগ্রাসন প্রসঙ্গে এক বার্তায় লিখেছেন: “যুক্তরাষ্ট্রের নির্লজ্জ সমর্থনের ছায়ায় লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলিদের আগ্রাসন প্রতিরোধ অক্ষের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে। এর ফলে উভয় ফ্রন্টে সমর্থন জোরদার হবে, অন্যান্য ফ্রন্ট সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালী-এর নৌ-যান চলাচলের পরিস্থিতিকে হরমুজ প্রণালী-এর পরিস্থিতির সঙ্গে সমতুল্য করা হবে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন: “ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থা জেনে রাখুক, দক্ষিণ লেবানন ও গাজায় একযোগে সংঘটিত অপরাধ তাদেরকে হিজবুল্লাহ-এর অভিযানের ঘূর্ণাবর্তে এবং ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের পুনরায় উত্থিত ঝড়ের মধ্যে আটকে ফেলবে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি
নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতাবার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। শাহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তানকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছিল অন্যতম। তিনি স্মরণ করে বলেন, পাকিস্তানের স্বাধীনতার সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান জাতির জনক মুহাম্মদ আলি জিন্নাহকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে উপকৃত হয়েছে, যার মধ্যে টার্বেলা ড্যাম নির্মাণ অন্যতম। প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি পাকিস্তানি যুর্ক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে রপ্তানি আরও বাড়াতে আগ্রহী। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করেছে। গত বছরের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে শাহবাজ শরিফ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ছিল। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখা এবং প্রাণহানি রোধে তার ভূমিকার জন্য তিনি ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তথ্যসূত্র: সামা টিভি