১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করতে নতুন আইন অনুমোদন করেছে ফ্রান্সের পার্লামেন্ট। এর ফলে ইউরোপে এ ধরনের আইন পাস করা প্রথম দেশ হলো ফ্রান্স।
নতুন আইনের আওতায় আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু ফেসবুক, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।
বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে—এমন উদ্বেগের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিল ফ্রান্স। সরকার মনে করছে, কম বয়সীদের অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কমাতে কঠোর আইন প্রয়োজন। মঙ্গলবার ফ্রান্সের পার্লামেন্টের দুই কক্ষ—সিনেট ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি—নতুন আইনটি অনুমোদন করে।
আইনটি কার্যকর হলে ১৫ বছরের কম বয়সীরা নতুন করে কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। শুধু নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা বন্ধ করাই নয়, বর্তমানে ১৫ বছরের কম বয়সীদের যেসব অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেগুলোও বন্ধ করতে হবে। এ কাজের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত চার মাস সময় দেওয়া হবে। নতুন আইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
এজন্য ফ্রান্সের গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে, ১৫ বছরের কম বয়সীরা নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারে।
ফ্রান্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক জুনিয়রমন্ত্রী অ্যান লে হেনাফ সিনেটে বলেন, এই আইনের মাধ্যমে ডিজিটাল প্রাপ্তবয়স্কতা নির্ধারণে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ফ্রান্স। এর আগে বিশ্বের প্রথম এ ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা চালু করে অস্ট্রেলিয়া। সেখানে গত ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সেই পথেই এবার হাঁটছে ফ্রান্স।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ চান, আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই নতুন আইন পুরোপুরি কার্যকর হোক। শিশু-কিশোরদের মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি কমাতে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। গত এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্দেশে ম্যাখোঁ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে অনেক শিশু-কিশোর এমন একটি পরিবেশে বেড়ে উঠছে, যেখানে তাদের মনোযোগ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম কেড়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন ডিজিটাল পরিবেশ শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। ম্যাখোঁ আরো বলেন, শিশু-কিশোরদের ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। তাদের বই পড়া, শেখা এবং ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এজন্যই ১৫ বছর বয়সের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই ধরনের সবার জন্য একই নিয়মে নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার জন্য বয়সসীমা, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগে থেকেই রয়েছে। এরপরও সরকার যদি নতুন আইন কার্যকর করে, তাহলে তা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান। এদিকে ইউরোপীয় কমিশনও শিশু ও কিশোরদের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। ফ্রান্সের নতুন আইন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সে বিষয়েও কমিশন পর্যালোচনা করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এ দাবি করেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির। এক বিবৃতিতে সারি বলেন, কিং খালিদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। বিমানঘাঁটির উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গার, রাডার, রানওয়ে, গোলাবারুদের গুদামসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলায় ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন হুতিদের এই মুখপাত্র। তবে এসব দাবির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি। হুতিরা বলেছে, ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। গত পাঁচ দিনে ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে সৌদির এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ৩০০টির বেশি হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। এদিকে খামিস মুশাইত গভর্নরেটে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছিল। পরে তারা জানায়, বিপদ কেটে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলা এবং ঘটনাস্থলে ভিড় করে ছবি বা ভিডিও ধারণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে হুতিরা। ভবিষ্যতে হামলা হলে তা আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ হবে বলেও সতর্ক করেছে গোষ্ঠীটি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে এই হামলার দাবি করা হলো। সৌদি আরব ইয়েমেনে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে বিমান হামলা জোরদার করেছে। এর জবাবে হুতিরা সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। গত সপ্তাহে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান লক্ষ্য করে হুতিদের হামলায় ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এসব হামলায় সৌদির কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় আগুন লাগা ও সাময়িকভাবে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে হুতিরা। এরপর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে গোষ্ঠীটির সংঘাত চলছে। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
ব্রিকসের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে পাঁচটি নতুন উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। রোববার সকালে ‘ব্রিকস সহযোগিতার ভিত্তি সুদৃঢ় করা, গ্লোবাল সাউথের শক্তি বাড়ানো’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেন শি। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি উন্নয়ন, নিরাপত্তা, জলবায়ু ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। শি জিনপিং বলেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে হবে। সার্বভৌম সমতা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির মতো মৌলিক নীতিগুলো মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণ করা উচিত নয়। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগে সমর্থন এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার প্রক্রিয়া সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। মানুষকেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শি জাতিসংঘের ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি ঐতিহ্যগত ও অপ্রচলিত—দুই ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য দ্রুত একটি বৈশ্বিক শাসন কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শি। যে পাঁচ উদ্যোগের প্রস্তাব: এআই সহযোগিতা: ব্রিকস সদস্যদের জন্য একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ওপেন-সোর্স জোন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন শি। বৃহৎ ভাষা মডেল উন্নয়ন ও ব্যবহারে সহযোগিতা, এআই বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আয়োজন এবং একটি উন্মুক্ত এআই পরিবেশ তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল: ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা জানান চীনের প্রেসিডেন্ট। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা: একটি স্মার্ট পোর্টাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নীতিগত সমন্বয় বাড়ানো এবং উন্মুক্ত উন্নয়নের নতুন কেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছর চীনে ব্রিকস দেশগুলোর সেবা বাণিজ্য ফোরাম আয়োজনের কথাও জানান শি। ডিজিটাল শিল্প: ব্রিকস দেশগুলোর জন্য একটি ডিজিটাল শিল্প ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি। এর মাধ্যমে ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় ও শিল্প খাতগুলোর মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। দক্ষতা ও স্মার্ট উৎপাদন: ব্রিকস দেশগুলোকে স্মার্ট কারখানা গড়ে তুলতে সহায়তা এবং অভিন্ন মানদণ্ড ও নিয়মকাঠামো তৈরির আগ্রহ প্রকাশ করেন শি। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর জন্য একটি প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ জোট গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি। শি জিনপিং আরও বলেন, চলতি বছর চীনের ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের সূচনা হয়েছে। তার ভাষায়, এই পরিকল্পনা কেবল চীনের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়; বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে উন্মুক্ত সহযোগিতার সুযোগও এতে রাখা হয়েছে। সূত্র: সিএমজি
ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে অবস্থান করছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তার এবারের সফরে ব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজটি শুধু ভিভিআইপি পরিবহন নয়, বরং প্রয়োজনের সময় আকাশ থেকেই যোগাযোগ ও কমান্ড পরিচালনার সক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিশেষ বিমান। এয়ার চায়নার পরিচালিত পরিবর্তিত বোয়িং ৭৪৭-৮ ইন্টারকন্টিনেন্টাল উড়োজাহাজটি শি জিনপিংয়ের প্রধান রাষ্ট্রীয় পরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এটিকে তার জন্য একটি ভ্রাম্যমাণ ‘উড়ন্ত কমান্ড সেন্টার’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি মূলত বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। ২০১৪ সালের শেষ দিকে এটি এয়ার চায়নার বাণিজ্যিক বহরে যুক্ত হয়। ২০১৫ সালের মে মাসে বাণিজ্যিক সেবা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর কয়েক মাস ধরে এতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। যুক্ত করা হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভিভিআইপি অভ্যন্তরীণ কাঠামো। ২০১৬ সালের শরতে বিমানটি চীনের প্রধান রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। এর আগে চীনের শীর্ষ নেতারা বোয়িং ৭৪৭-৪০০ মডেলের বাণিজ্যিক বিমান ব্যবহার করতেন। কোনো বিদেশ সফরের প্রায় ২০ দিন আগে এসব বিমানে অস্থায়ীভাবে বিশেষ ভিভিআইপি কেবিন স্থাপন করা হতো। সফর শেষে সেই পরিবর্তন সরিয়ে বিমানগুলোকে আবার বাণিজ্যিক কাজে ফিরিয়ে দেওয়া হতো। এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আলাদা বিমান বহর পরিচালনার খরচ কমানোর পাশাপাশি চীনের বিদ্যমান বিমান পরিবহন অবকাঠামো ব্যবহার করা সম্ভব হতো। কী আছে শি জিনপিংয়ের বিমানে? শি জিনপিংয়ের বর্তমান রাষ্ট্রীয় বিমানের দৈর্ঘ্য ৭৬ দশমিক ৪ মিটার। এর সর্বোচ্চ উড্ডয়ন ওজন প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার কেজি। চারটি জেনারেল ইলেকট্রিক জিইএনএক্স-২বি৬৭ টার্বোফ্যান ইঞ্জিনের মাধ্যমে বিমানটি পরিচালিত হয়। বিমানটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৯৮২ কিলোমিটার এবং জ্বালানি পুনরায় না নিয়ে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। তবে উড়োজাহাজটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক এর যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এতে স্যাটেলাইটনির্ভর সামরিক মানের এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে শি জিনপিং বিদেশে অবস্থান করেও চীনের সরকারি ও সামরিক কমান্ড সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন। এতে উন্নত হুমকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে পাল্টা ব্যবস্থা থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ও যোগাযোগ সরঞ্জামকে শক্তিশালী তড়িৎচুম্বকীয় আঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে ইএমপি শিল্ডিং ব্যবস্থাও রয়েছে বলে দাবি করা হয়। ইএমপি বা তড়িৎচুম্বকীয় পালস হলো অত্যন্ত শক্তিশালী তড়িৎচুম্বকীয় শক্তির আকস্মিক নির্গমন, যা বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের কার্যক্রম ব্যাহত বা অচল করে দিতে পারে। ইএমপি শিল্ডিংয়ে বিশেষ উপাদান, প্রতিবন্ধকতা ও ফিল্টার ব্যবহার করে এ ধরনের শক্তির প্রভাব কমানোর চেষ্টা করা হয়। কারা ব্যবহার করেন এই বিমান? চীনের এই বিশেষ রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজটি মূলত প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং স্টেট কাউন্সিলের প্রিমিয়ারের আন্তর্জাতিক সফরের জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা সাধারণত ভাড়া করা বিমানে বিদেশ সফর করেন। এসব বিমানও সাধারণত এয়ার চায়নার বাণিজ্যিক বহরের অংশ। রাষ্ট্রীয় সফর ছাড়া সেগুলো নিয়মিত বাণিজ্যিক রুটে পরিচালিত হয়। এতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিমান ব্যবহারের নমনীয়তা বজায় রাখার পাশাপাশি বিদ্যমান বিমানসম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়। বিশেষ বিমান ঘিরে পুরোনো বিতর্ক চীনের প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান নিয়ে অতীতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবর্তিত একটি বিশেষ প্রেসিডেন্ট বিমান চীনের কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল। ব্যবহারের আগে ওই বিমানে ২৭টি গোপন শ্রবণযন্ত্র বা আড়িপাতার ডিভাইস পাওয়া গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়। তবে ওই ঘটনার বিষয়ে চীনা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি। ফলে ঘটনাটি এখনো একটি বিতর্কিত দাবি হিসেবেই বিবেচিত হয়। সূত্র: এনডিটিভি