সারাদেশ

প্রকল্পের সাশ্রয়ী অর্থ ৪২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিলেন ইউএনও

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার নাকাই খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ করে অব্যয়িত ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৮২৮ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সঠিক পরিকল্পনা, ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে বরাদ্দের তুলনায় কম ব্যয়ে মানসম্মতভাবে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় এ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের নাকাই খাল পুনঃখননের জন্য সরকার মোট ২ কোটি ৬ লাখ ৩ হাজার ৮০ টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ১২ হাজার ২৫২ টাকা। অবশিষ্ট ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৮২৮ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

 

প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ৯২০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে খালে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা, কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে নারিকেল, জাম, আম ও নিমগাছসহ মোট ১ হাজার ৪৪০টি গাছ রোপণ করা হয়েছে।

 

চলতি বছরের ১২ মে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্প চলাকালে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত কাজের অগ্রগতি ও মান তদারকি করে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো সময়জুড়ে ব্যয়ের বিভিন্ন খাত এবং কাজের গুণগত মান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলে নির্ধারিত মান বজায় রেখেই তুলনামূলক কম ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়। প্রায় তিন মাসব্যাপী খননকাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহনসহ সব ধরনের বিল পরিশোধের পরও ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৮২৮ টাকা অব্যয়িত থাকে। বিধি অনুযায়ী ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।

 

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) একাধিক সদস্য জানান, সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ নিয়মিত প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি কাজের স্থান পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন, যাতে নির্ধারিত মান বজায় রেখে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যায়। তাঁর তদারকি ও পরামর্শে প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, পুনঃখননের ফলে খালটিতে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচসংকট দেখা দিত। খাল পুনঃখননের ফলে কৃষিকাজে সুবিধা বাড়বে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

এলাকাবাসীর দাবি, এই খাল দিয়ে অন্তত ২০টির বেশি বিলের পানি নিষ্কাশন হয়। আগে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক বিলে আমন ধান চাষ করা সম্ভব হতো না। খাল পুনঃখননের পর পানিপ্রবাহ বেড়েছে এবং জলাবদ্ধতা কমেছে। খালটি সচল থাকলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থলও পুনরুদ্ধার হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। তাই এ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার পর যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, তা বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অঙ্গীকার।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
সেলফি পরিবহণের বাসের রুট পারমিট বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ।
সেলফি পরিবহনের ৬৪টি রুট পারমিটের বিপরীতে চলছে ১৭০টি বাস

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেলফি পরিবহণ প্রাইভেট লি. নামের যাত্রীবাহী বাসের রুট পারমিট রয়েছে ৬৪টির। চলাচল করছে ১৭০টি বাস! বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) মানিকগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক মাহবুব কামাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।     রুট পারমিটের সংখ্যা ও পরিবহণের ব্যানারে চলাচলকারী বাসের সংখ্যার মধ্যে এই ব্যবধানের কারণ কী, অতিরিক্ত বাসগুলো কোন অনুমোদনের আওতায় চলছে এবং এসব বাসের পৃথক রুট পারমিট রয়েছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।     এরই মধ্যে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেলফি পরিবহণের বাসের রুট পারমিট বাতিলের দাবিতে ফের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা। সোমবার শিবালয় উপজেলার বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।       মানববন্ধনে খোন্দকার তুহিন হোসেন, অহিদুজ্জামান মাবুল, গোলাম রব্বানী, বাবুল হোসেন, মো. পীযূষ ফাইটার, চঞ্চল হোসেন, রাকিব হোসেন, সাকিব হোসেন, রমজান মিয়া, মির্জা আব্বাস, মামুন মিয়া বক্তব্য দেন।       বক্তারা সেলফি পরিবহণের বাস চলাচল নিয়ে তাদের অসন্তোষের কথা তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, বাসগুলো অতিরিক্ত গতিতে ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করে এবং প্রতিযোগিতামূলকভাবে ওভারটেকিং করে। এতে মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে। কয়েক জন চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং কেউ কেউ মাদক সেবন করে গাড়ি চালান বলেও অভিযোগ করেন তারা। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবহণটির রুট পারমিট বাতিলের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।       অভিযোগের বিষয়ে সেলফি পরিবহণের পাটুরিয়া ঘাট শাখার তত্ত্বাবধায়ক সুলতান মাহমুদ বলেন, তাদের পরিবহণের বাসের রুট পারমিট এবং চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। কারও ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ছাড়া বেপরোয়া গতিতে গাড়ি না চালাতে চালকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।        এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি অংশীজনদের সঙ্গে সভা করেছেন তিনি। দ্রুত আবারও সবাইকে নিয়ে সভা করে যাত্রী নিরাপত্তা ও সেবার মান নিয়ে পরিবহণটির কী কী অনিয়ম-অসঙ্গতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।     বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ঢাকা-বিভাগীয় অফিস ও বিআরটিএ ঢাকা জেলা অফিসের বরাত দিয়ে মানিকগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক মাহবুব কামাল যুগান্তরকে জানান, একদিনের সরেজমিন প্রতিবেদনে দেখা যায়, সেলফি পরিবহণ প্রাইভেট লি. ব্যানারে চলাচল করেছে ১৭০টি বাস। অথচ সরকারি তালিকায় সেলফি পরিবহণ প্রাইভেট লিঃ রুট পারমিট রয়েছে মাত্র ৬৪টির। 

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: হুড়োহুড়িতে শিশুসহ ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

নুসরাত জাহান রাফী

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর নুসরাত হত্যা মামলার আসামিদের মুক্তি

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড

ছবি: সংগৃহীত
প্রেমের সম্পর্কের পর হত্যা, ট্রলি ব্যাগে নারীর খণ্ডিত লাশ

গাজীপুরে মহাসড়কের পাশের খাল থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত ও খণ্ডিত নারীর পরিচয় শনাক্তের দাবি করেছে পিবিআই।   তদন্তকারী সংস্থাটি বলছে, প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের চাপ দেওয়ায় ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ কেটে দুই টুকরো করা হয়।   এ ঘটনায় নারীর ‘প্রেমিক’ তার মা ও এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা রোববার আদালতের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।   সোমবার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গাজীপুর জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার।   শুক্রবার বিকালে সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত হয়।   নিহত ডলি আক্তার (৩০) ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ডলি গাজীপুরের বানিয়ারচালা একটি কারখানায় কাজের পাশপাশি ওই এলাকায় ভাড়া থাকতেন।   পরিচয় শনাক্তের পর নিহতের বড় ভাই সোহেল বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন।   এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মো. মাসকুর আলমের ছেলে তৈরি পোশাক শ্রমিক মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বুড়াবুড়ি গ্রামের মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)। তাদেরকে গাজীপুর মহানগরের বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকার পৃথক ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জানায়, ডলি আক্তার জয়দেবপুর থানার বানিয়ারচালা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। একই কারখানায় চাকরির সুবাদে মিশন ইসলামের সঙ্গে তার পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।   ৮ সেপ্টেম্বর রাতে মিশনের বাসায় যান ডলি। মিশন, তার মা ও ডলি একসঙ্গে রাতের খাবার খান। পরে ডলি ও নিশাল আলাদা ঘরে থাকতে যান।   পিবিআই বলছে, বিয়ের সিদ্ধান্ত ও আগের বিভিন্ন বিরোধ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মিশন ডলিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে মিশন। হত্যার পর লাশ খাটের নিচে রেখে দেয়। পরদিন সকালে ঘর পরিষ্কার করতে এসে বানু আক্তার লাশ দেখতে পান।   লাশ গুম করতে বাজার থেকে স্যুটকেস কিনে আনেন মিশন। তবে পুরো দেহ স্যুটকেসে না ধরায় বটি ও ব্লেড দিয়ে লাশ কোমর থেকে দুই টুকরো করা হয়। খণ্ডিত এক অংশ স্যুটকেসে এবং অপর অংশ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা হয়। বাসা বদলের কথা বলে মিশন তার বন্ধু মিল্টনকে ডেকে আনেন।   পরে সুটকেস ও বস্তায় ভরা লাশ অটোরিকশায় করে ভবানীপুর ব্রিজে নিয়ে খালে ফেলে দেওয়া হয়।   লাশ উদ্ধারের পর পরই ঘটনার তদন্তে নামে পিআইবি। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে মিশনকে এবং পরে বাকি দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।   তাদের দেওয়া তথ্যমতে, অভিযানের সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি, ধারালো ব্লেড, স্কচটেপ এবং ভিকটিমের এনআইডি কার্ড ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশীদের ইজারার উদ্যোগের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির ৪ প্রার্থীর পরাজয়ের জন্য দলের নেতারাই দায়ী: আইনমন্ত্রী

মাদকের বিষয়ে কাউকে ছাড় নয়: মানিকগঞ্জের এমপি জিন্নাহ কবির

নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মুছা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুছা গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মুছাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।       পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবীনগর থানা-পুলিশের একটি দল ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের জাফরপুর গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় গ্রামের বাবুল মিয়ার চায়ের দোকান থেকে ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুছাকে গ্রেফতার করা হয়।         এদিকে আবু মুছাকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তার পরিবার। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বেশ কিছুদিন যাবৎ নবীনগরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। আবু মুছাকেও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।       নবীনগর থানার ওসি মোর্শেদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুছার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাজনৈতিক মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার সকালে আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে।’

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
বিজয়নগরে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ পাঁচ মাদক কারবারি গ্রেফতার।

বিজয়নগরে অটোরিকশাসহ পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৫

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, বন্ধ ট্রেন চলাচল

ছবি: সংগৃহীত

ভারত থেকে এলো সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ

0 Comments