ইরান জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের হামলাকে তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করবে। শুক্রবার এই মন্তব্য করেন ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তার আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী বহর ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর ঘোষণা আসে।
পরিচয় প্রকাশ না করে তিনি রয়টার্সকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বাড়ানো হয়তো সরাসরি যুদ্ধের উদ্দেশ্যে নয়, কিন্তু ইরান সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছে। এ কারণে দেশটি এখন উচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সীমিত বা ছোট পরিসরের হামলাও চালায়, ইরান সেটিকে পুরো যুদ্ধ হিসেবে দেখবে এবং কঠোর জবাব দেবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, একটি বড় মার্কিন রণতরী বহর ইরানের দিকে এগোচ্ছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেটি ব্যবহার করতে হবে না। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে বিক্ষোভকারীদের হত্যা ও পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করা নিয়ে সতর্ক করেন।
ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড লঙ্ঘন করে, তাহলে দেশটি অবশ্যই পাল্টা জবাব দেবে। তবে জবাবের ধরন কী হবে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হুমকির মুখে ইরানের হাতে থাকা সব সামর্থ্য ব্যবহার করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
এর আগে উত্তেজনা বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা ছিল প্রতিরক্ষামূলক। তবে গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার আগে বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে অব্যাহত হুমকির পর কিছুটা সুর নরম করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এমন সময়ে তিনি এ কথা বললেন, যখন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এদিকে যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসেও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অবস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। ইসরায়েলের বেনগুরিয়েন বিমানবন্দরে জ্বালানি ট্যাংকার ও রিফুয়েলিং উড়োজাহাজে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে মধ্য ইসরায়েলেও। এ ছাড়া ইরানের আকাশসীমায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানকে বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নিশানা করা হয়েছিল বলে স্বীকার করেছে তেল আবিব। চলমান যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে বারবার মিশ্র বার্তা দিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলারের কাছাকাছি গেলে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। যদিও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ‘সব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত’ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন ট্রাম্প। সম্প্রতি ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলায় চালায় ইরান। এতে আবার প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১১৫ ডলারের কাছে গিয়ে ঠেকে। এ অবস্থায় ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কোনো যুদ্ধবিরতি করতে চাই না। যখন আপনি আক্ষরিক অর্থেই প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছেন, তখন আপনি যুদ্ধবিরতি চাইবেন না।’ কিন্তু গভীর রাতে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। ইরানের সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের মহান সামরিক চেষ্টা গুটিয়ে নেওয়ার কথা আমরা বিবেচনা করছি।’ এমন এক সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ মন্তব্য করলেন, যখন ওই অঞ্চলে স্থল অভিযানে পারদর্শী আরও তিনটি মার্কিন উভচর জাহাজ এবং প্রায় আড়াই হাজার মেরিন সেনা পাঠানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইরানের খারগ দ্বীপ দখল বা অবরোধ করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর উদ্দেশ্য হলো তেহরানকে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে বাধ্য করা। এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার তীব্রতা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে’ বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মূল্যায়ন সভায় তিনি বলেন, ইসরায়েল রাষ্ট্র এবং এই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের ওপর থেকে প্রতিটি নিরাপত্তা হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত ‘ইরানি সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে যেতে, কমান্ডারদের নির্মূল করতে এবং তাদের কৌশলগত সক্ষমতা নস্যাৎ করতে ইসরায়েল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের সব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।’ ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন হুমকির মধ্যেই ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় দ্বিতীয়বারের মতো হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থাকে (আইএইএ) জানিয়েছে ইরান। এ ছাড়া পারস্য উপসাগরে বেসামরিক কার্গো জাহাজ এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম হরমোজগান প্রদেশের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলেছে, এ হামলায় ১৬টি ব্যক্তিমালিকানাধীন কার্গো জাহাজ ধ্বংস হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানের আট হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩০টি যুদ্ধজাহাজকে নিশানা করা হয়েছে। এদিকে এসব হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরান। এই প্রথম ভারত মহাসাগরে ডিয়েগো গার্সিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি নিশানা করে দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে দেশটি। ইরান থেকে এই দ্বীপের দূরত্ব প্রায় চার হাজার কিলোমিটার। অথচ ইরান এত দিন দাবি করে আসছে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটার। ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত। হামলার আশঙ্কায় বাহরাইনে সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে। কয়েক ডজন ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে সৌদি আরবও। ইরাকে মার্কিন ঘাঁটির লজিস্টিক সাপোর্ট কেন্দ্রে ড্রোন হামলা হয়েছে। এ ছাড়া ইরান-সমর্থিত লেবাননের হিজবুল্লাহ সশস্ত্র গোষ্ঠীর রকেট হামলায় ইসরায়েলে দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অব্যাহত হামলা এবং যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের নতুন চিন্তাভাবনার মধ্যেই নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জাপানের কিয়োডো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমাদের বার্তা হলো, এই যুদ্ধ আমাদের নয়। এটি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের অবস্থান হলো, আমরা কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করব না। কারণ, আমরা গত বছরের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চাই না। যুদ্ধ অবশ্যই সম্পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে বন্ধ হতে হবে। এই পরিস্থিতির আর পুনরাবৃত্তি হবে না বলে গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা থাকতে হবে।’ ইরানের পাশে আছে রাশিয়া: পুতিন এদিকে ইরানের নেতাদের নওরোজ বা ফারসি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেওয়া এক বার্তায় শনিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, একনিষ্ঠ বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে তেহরানের পাশে রয়েছে মস্কো। ক্রেমলিনের ভাষ্যমতে, ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের জনগণকে এই কঠোর পরীক্ষা সসম্মানে কাটিয়ে ওঠার শুভকামনা জানিয়েছেন। ক্রেমলিন জানায়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক গভীর অতল গহ্বরে ঠেলে দিয়েছে এবং একটি বড় ধরনের বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট তৈরি করেছে। পুতিন একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডকে ‘নৃশংস’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারত্বের চুক্তি রয়েছে। তবে এর প্রকাশিত নথিপত্রে কোনো ‘পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা’ নেই। এ ছাড়া রাশিয়া বারবার বলে আসছে, পারমাণবিক বোমা তৈরি করুক, তা চায় না ইরান। ইরানি তেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল জ্বালানি তেলের দামে ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট শুক্রবার জানান, ট্রাম্প প্রশাসন সমুদ্রে থাকা ইরানি তেল কেনার ওপর ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এ ঘোষণার পর ভারতসহ এশিয়ার অন্য দেশগুলো আবারও ইরানি তেল কেনার পরিকল্পনা করছে। ব্যবসায়ীরা এ তথ্য জানিয়েছেন। ভারতের তিনটি রিফাইনারি (তেল শোধনাগার) সূত্র জানিয়েছে, তারা ইরানি তেল কিনতে প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা ও পেমেন্ট পদ্ধতির মতো বিষয় নিয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে স্পষ্ট বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে। শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সমুদ্রের বিভিন্ন প্রান্তে জাহাজে প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল রয়েছে। অন্যদিকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি আসপেক্টস ১৯ মার্চ এই তেলের পরিমাণ ১৩-১৪ কোটি ব্যারেল বলে প্রাক্কলন করেছিল। মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ব্যর্থ হয়ে ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ বিভিন্ন বিকল্প দেখছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর মধ্যে স্থল অভিযান চালিয়ে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টিও তাঁর বিবেচনায় রয়েছে। তবে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন তিনি। এ নিয়ে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই বিরোধিতা রয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক নেভি সিল কর্মকর্তা ও উইসকনসিন থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান সদস্য ডেরিক ভ্যান ওরডেন সিএনএনকে বলেন, তিনি প্রশাসনকে বিশেষভাবে ইরানে স্থলসেনা না পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন। টেনেসি থেকে নির্বাচিত টিম বারচেটও একই সুরে বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের যত দ্রুত সম্ভব সরে আসার কৌশল (এক্সিট স্ট্র্যাটেজি) খুঁজে বের করা দরকার। আমি কোনোভাবেই সেখানে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েন চাই না।’ সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান ও আল–জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সমুদ্রপথে থাকা ইরানের তেল বিক্রির ওপর সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ওয়াশিংটন। এই সুযোগে ভারতের তেল শোধনাগারগুলো পুনরায় ইরানি তেল কেনার পরিকল্পনা করছে এবং এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। শনিবার ব্যবসায়ীরা এ তথ্য জানিয়েছেন। ভারতের তিনটি শোধনাগার সূত্র জানিয়েছে, তারা ইরানি তেল কিনতে আগ্রহী এবং এ বিষয়ে বর্তমানে সরকারের নির্দেশনা ও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পেমেন্ট শর্তাবলির মতো বিষয়গুলোতে স্বচ্ছতার অপেক্ষায় রয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর ভারত দ্রুত রুশ তেল সংরক্ষণ করেছিল। অন্যান্য বড় এশীয় আমদানিকারকদের তুলনায় ভারতের তেলের মজুত কম হওয়ায় দেশটি ত্বরিত এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্যমতে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে চীনের নিকটবর্তী সমুদ্র অঞ্চল পর্যন্ত প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল জাহাজে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট শুক্রবার জানান, ট্রাম্প প্রশাসন সমুদ্রে থাকা ইরানি তেল কেনার ওপর ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় জানিয়েছে, ২০ মার্চ বা এর আগে জাহাজে তোলা ইরানি তেল আগামী ১৯ এপ্রিলের মধ্যে খালাস করলে এই সুবিধার আওতায় পড়বে। ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এমন ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টস ১৯ মার্চ এক হিসেবে জানিয়েছে, সমুদ্রে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান উৎপাদন ক্ষতির ১৪ দিনেরও কম সময়ের সমান। এশিয়া তাদের অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৬০ শতাংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিতে এবং জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেও ইরানি তেল কেনার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই তেলের দাম কীভাবে পরিশোধ করা হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাছাড়া, এই তেলের একটি বড় অংশ পুরোনো ও অনিবন্ধিত 'শ্যাডো ফ্লিট' জাহাজে রয়েছে, যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক এক ব্যবসায়ী বলেন, 'ব্যাংকিং এবং প্রশাসনিক নিয়মকানুন ঠিক করতে কিছুটা সময় লাগে, তবে আমি মনে করি মানুষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি করার চেষ্টা করবে।' ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জেরে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর থেকে চীন ছিল ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা। গত বছর চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলো প্রতিদিন গড়ে ১৩ দশমিক ৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে। চীন ছাড়াও আগে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান এবং তুরস্ক ছিল ইরানি তেলের প্রধান আমদানিকারক।
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে নিজেদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের অস্ত্র রপ্তানির অনুমোদন স্থগিত করেছে সুইজারল্যান্ড। শুক্রবার সুইজারল্যান্ড সরকারের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে দেশটির সরকার বলেছে, 'ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত দেশগুলোতে যুদ্ধের সরঞ্জাম রপ্তানি এই সংঘাত চলাকালীন অনুমোদিত হবে না।' ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধের অস্ত্র রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়।' তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জানায়নি সুইজারল্যান্ড সরকার। এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হরমুজ প্রণালির অবরোধ সরাতে সাহায্য করার দিকে বেশি ঝুঁকছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, এর অর্থ এই নয় যে, জাহাজগুলো এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির অভিমুখে যাত্রা করবে। তবে যুক্তরাজ্য, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ছয়টি দেশ বলেছে, তারা হরমুজ প্রণালির অবরোধ সরাতে সহায়তার জন্য এক ধরনের মিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এই মিশনটি ঠিক কবে নাগাদ শুরু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডস বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সেখানে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি অথবা অন্তত সাময়িকভাবে সংঘাত নিরসন করতে হবে।