আবহাওয়া

টানা তিন বছর মারাত্মক গরম ছিল, কারণ কী

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

২০২৫ সাল ছিল বিশ্ব ইতিহাসে তৃতীয় উষ্ণতম বছর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কপেরনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (থ্রিসিএস) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট হাইলাইটস ২০২৫’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের গড় তাপমাত্রা ছিল ২০২৪ সালের তুলনায় মাত্র দশমিক ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। ২০২৪ সাল ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উষ্ণ বছর। এর আগে ২০২৩ সালও ছিল প্রায় একই রকম উষ্ণ। প্রথমবারের মতো টানা তিন বছর ২০২৩ থেকে ২০২৫ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্প-পূর্ব সময়ের (১৮৫০–১৯০০) তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়েছে।

 

প্রতিদিনই বাড়ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা

প্রতিবেদনের একটি চার্টে দেখা যায়, ১৯৪০ সাল থেকে প্রতিদিনের গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এল নিনো ও লা নিনার মতো প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো তাপমাত্রায় সাময়িক প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধিকে দায়ী করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৫ সাল ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ লা নিনা বছর। সাধারণত লা নিনা তাপমাত্রা কমায়, কিন্তু এবার তা হয়নি।

 

বিশ্বের বেশির ভাগ অঞ্চলেই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি

২০২৫ সালের বৈশ্বিক মানচিত্রে দেখা গেছে, পৃথিবীর অধিকাংশ এলাকায় তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চল এবং পশ্চিম রাশিয়ায় তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

 

আসছে মাথা ঘুরানো গরম, ভয়ংকর কিছু বাস্তবতা

ভয়াবহ সংকটে সমুদ্রের বরফ

আর্কটিক অঞ্চলে মার্চ মাসে বরফের পরিমাণ ছিল স্যাটেলাইট রেকর্ডের ৪৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সেপ্টেম্বর মাসে বরফের পরিমাণ ছিল ১৩তম সর্বনিম্ন। অ্যান্টার্কটিকায় ফেব্রুয়ারিতে বরফের পরিমাণ ছিল চতুর্থ সর্বনিম্ন এবং সেপ্টেম্বরে তৃতীয় সর্বনিম্ন।

ফেব্রুয়ারি মাসে আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিক দুই মেরুর বরফ মিলিয়ে বৈশ্বিক সমুদ্রবরফের পরিমাণ ছিল ইতিহাসের সর্বনিম্ন।

 

আসছে মাথা ঘুরানো গরম, ভয়ংকর কিছু বাস্তবতা

সমুদ্রের পানিও অস্বাভাবিক উষ্ণ

এল নিনো না থাকলেও ২০২৫ সালে মেরু অঞ্চল বাদে বিশ্বের সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি। প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে কিছুটা কম তাপমাত্রা দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে সমুদ্র উষ্ণ ছিল।

 

সারা বছরই ১ ডিগ্রির বেশি উষ্ণ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রতিটি দিনই শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় অন্তত ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ ছিল। এর মধ্যে ১৫১ দিন তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছাড়িয়েছে।

 

আসছে মাথা ঘুরানো গরম, ভয়ংকর কিছু বাস্তবতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ সালের মতো চরম না হলেও ২০২৫ সালও বৈশ্বিক উষ্ণতার আশঙ্কা ও বাস্তবতা দেখিয়ে দিয়েছে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সাল বিশ্ব ইতিহাসের চারটি উষ্ণতম বছরের একটি হতে পারে। ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আবহাওয়া

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
টানা তিন বছর মারাত্মক গরম ছিল, কারণ কী

২০২৫ সাল ছিল বিশ্ব ইতিহাসে তৃতীয় উষ্ণতম বছর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কপেরনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (থ্রিসিএস) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট হাইলাইটস ২০২৫’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের গড় তাপমাত্রা ছিল ২০২৪ সালের তুলনায় মাত্র দশমিক ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। ২০২৪ সাল ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উষ্ণ বছর। এর আগে ২০২৩ সালও ছিল প্রায় একই রকম উষ্ণ। প্রথমবারের মতো টানা তিন বছর ২০২৩ থেকে ২০২৫ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্প-পূর্ব সময়ের (১৮৫০–১৯০০) তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়েছে।   প্রতিদিনই বাড়ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রতিবেদনের একটি চার্টে দেখা যায়, ১৯৪০ সাল থেকে প্রতিদিনের গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এল নিনো ও লা নিনার মতো প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো তাপমাত্রায় সাময়িক প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধিকে দায়ী করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৫ সাল ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ লা নিনা বছর। সাধারণত লা নিনা তাপমাত্রা কমায়, কিন্তু এবার তা হয়নি।   বিশ্বের বেশির ভাগ অঞ্চলেই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ২০২৫ সালের বৈশ্বিক মানচিত্রে দেখা গেছে, পৃথিবীর অধিকাংশ এলাকায় তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চল এবং পশ্চিম রাশিয়ায় তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।   আসছে মাথা ঘুরানো গরম, ভয়ংকর কিছু বাস্তবতা ভয়াবহ সংকটে সমুদ্রের বরফ আর্কটিক অঞ্চলে মার্চ মাসে বরফের পরিমাণ ছিল স্যাটেলাইট রেকর্ডের ৪৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সেপ্টেম্বর মাসে বরফের পরিমাণ ছিল ১৩তম সর্বনিম্ন। অ্যান্টার্কটিকায় ফেব্রুয়ারিতে বরফের পরিমাণ ছিল চতুর্থ সর্বনিম্ন এবং সেপ্টেম্বরে তৃতীয় সর্বনিম্ন। ফেব্রুয়ারি মাসে আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিক দুই মেরুর বরফ মিলিয়ে বৈশ্বিক সমুদ্রবরফের পরিমাণ ছিল ইতিহাসের সর্বনিম্ন।   আসছে মাথা ঘুরানো গরম, ভয়ংকর কিছু বাস্তবতা সমুদ্রের পানিও অস্বাভাবিক উষ্ণ এল নিনো না থাকলেও ২০২৫ সালে মেরু অঞ্চল বাদে বিশ্বের সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি। প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে কিছুটা কম তাপমাত্রা দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে সমুদ্র উষ্ণ ছিল।   সারা বছরই ১ ডিগ্রির বেশি উষ্ণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রতিটি দিনই শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় অন্তত ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ ছিল। এর মধ্যে ১৫১ দিন তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছাড়িয়েছে।   আসছে মাথা ঘুরানো গরম, ভয়ংকর কিছু বাস্তবতা বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ সালের মতো চরম না হলেও ২০২৫ সালও বৈশ্বিক উষ্ণতার আশঙ্কা ও বাস্তবতা দেখিয়ে দিয়েছে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সাল বিশ্ব ইতিহাসের চারটি উষ্ণতম বছরের একটি হতে পারে। ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকার শীত নিয়ে নতুন তথ্য দিল আবহাওয়া অফিস

ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাসের অন্যতম গরমের বছর হতে যাচ্ছে ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

আজ ঢাকার আবহাওয়া কেমন থাকবে

জলবায়ু পরিবর্তনে উত্তরাঞ্চলে অস্বাভাবিক আবহাওয়া

চলমান শীত মৌসুমে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া মানুষ অস্বাভাবিক আবহাওয়ার মুখোমুখি হচ্ছে। সকালে তাপমাত্রা হঠাৎ করে অনেক কমে যাচ্ছে, আবার দুপুরে তা বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে এবং উজানে একতরফাভাবে নদীর পানি প্রত্যাহারের কারণে আবহাওয়ার ধরনের দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে; এর চূড়ান্ত পরিণতি এখনো অজানা। স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৮ (খাদ্যনিরাপত্তা) প্রাপ্ত বিশিষ্ট কৃষিবিদ ড. এম এ মাজিদ এ প্রসঙ্গে বাসসকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমান আবহাওয়ার ধারা অদ্ভুত ও অনিশ্চিত আচরণ করছে, যা কৃষিসহ সব খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বছরের পর বছর ধরে দিন ও রাতের গড় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। এতে জলবায়ুর ধরনে এক ধরনের অস্বাভাবিকতা তৈরি হচ্ছে এবং শীতে তীব্র শীত বা গ্রীষ্মে প্রচণ্ড তাপের সৃষ্টি হচ্ছে। উজানে আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদীগুলো থেকে অব্যাহত ও একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাচ্ছে এবং কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, পাঁচ-ছয় দশক আগের মতো যদি প্রধান নদী ও উপনদীগুলোতে সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন পানি প্রবাহ থাকত এবং অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর কমে না যেত, তাহলে আবহাওয়ার পরিস্থিতি ভিন্ন ও আরও অনুকূল হতে পারত। ‘পরিবর্তিত জলবায়ুতে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে আমাদের বিজ্ঞানী ও গবেষকদের বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা-সহিষ্ণু ফসল উদ্ভাবনে বাধ্য হতে হয়েছে। কিন্তু এখন মানুষের টিকে থাকার জন্য শীত ও তাপ-সহিষ্ণু ফসল উদ্ভাবনের সময় এসেছে,’ তিনি বলেন। পরিবেশবিদ ও ‘রিভারাইন পিপল’-এর পরিচালক এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিন্ন নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহারের কারণে উত্তরাঞ্চল এক অদ্ভুত জলবায়ু পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, যমুনা, করতোয়া, আত্রাই, যমুনেশ্বরী, পুনর্ভবা এবং আরও বহু নদী জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে উজানে দশকের পর দশক ধরে একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে শুকিয়ে যাচ্ছে এবং নদীর তলদেশ পলিতে ভরে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে তিস্তা নদী শুকিয়ে গেছে, যা উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা, পাশাপাশি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে।’ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পিএইচডি ফেলো পরিবেশবিদ মো. মামুনুর রশিদ বাসসকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, পরিবর্তিত জলবায়ু ইতোমধ্যে কৃষি, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ, আবহাওয়া, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর, জনস্বাস্থ্য ও বসবাসের ক্ষেত্রে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাত, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, তীব্র শীত ও তাপ, সমুদ্র ও ভূ-পৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধি, পানি দূষণ, পানি ও মাটির লবণাক্ততা, জলজ ব্যবস্থার অবক্ষয়, নদীতে পলি জমা, নদী শুকিয়ে যাওয়া ও ভাঙন ঘটছে,’ তিনি বলেন। গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নর্থ বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ সামসুজ্জামান অস্বাভাবিক হারে নদীর তলদেশে পলি জমে অকাল বন্যা ও ভাঙন সৃষ্টি এবং আবাদযোগ্য জমি কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উত্তরাঞ্চলসহ সারা দেশে বিভিন্ন ফসল চাষ মৌসুমের ধরন ইতোমধ্যে বদলে গেছে, যা কৃষি খাতে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। ‘সামগ্রিক জলবায়ু ধরনে ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে মৌসুমি বৃষ্টিপাত, বন্যা, শুষ্ক মৌসুম, বীজ ও চারা বপন বা রোপণের সময় এবং ফসল কাটার সময় মারাত্মকভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে,’ তিনি যোগ করেন। স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তরাঞ্চলে ভোর থেকে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এ সময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। তবে দুপুরে সূর্যের দেখা মিললে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়ে ২২ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার উপ-হিমালয়ীয় উত্তরাঞ্চলে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। রংপুর আবহাওয়া অফিসের সূত্র অনুযায়ী, শনিবার অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ থেকে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৫ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ১৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

হিমালয়ের হিমেল হাওয়ায় পঞ্চগড়ে তীব্র শীত, বিপর্যস্ত জনজীবন

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকায় শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

ছবি : সংগৃহীত

শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে দুঃসংবাদ

ছবি : সংগৃহীত
ঢাকায় আজকের আবহাওয়া কেমন

ঢাকার আকাশ আজ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।   বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়, ঢাকার আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। এ সময় দক্ষিণ অথবা দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। এদিকে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮১ শতাংশ। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।   সারা দেশের জন্য দেওয়া সর্বশেষ ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। চলমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। পাশাপাশি রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৪, ২০২৬ 0
কুয়াশায় ঢেকে গেছে চারপাশ। ছবি : সংগৃহীত

তেঁতুলিয়ায় ৮.৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা, মৃদু শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকায় শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

ছবি : সংগৃহীত

শৈত্যপ্রবাহ দীর্ঘায়িত হওয়ার পূর্বাভাস

0 Comments