জাপানে বসবাসরত বিভিন্ন পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমন্বয়ে গঠিত হলো ২১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সেন্টার, জাপান। যমুনা টিভির জাপান প্রতিনিধি আহাম্মেদ নাঈমকে সভাপতি করে ২১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেন ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুল ইসলাম শিবলী।
কমিটির সহসভাপতি হিসেবে রয়েছেন রাজীব মাহমুদ, আব্দুল ওয়াদুদ সিদ্দিকী এবং বেগম তানিয়া। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. নাজিম উদ্দিন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তামান্না সুলতানাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সাংগঠনিক সম্পাদক অজয় কুমার মৈত্র, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, নীলাঞ্জনা দত্ত ছুটি ও দাস তপন চন্দ্র। শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক নেয়ামতউল্লাহ এবং অন্যরা।
নজরুল সেন্টার জাপানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে থাকছেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী। এছাড়া উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন ড. শেখ আলিমুজ্জামান, তফসির আহমেদ তুহিন, সাংবাদিক কাজী ইনসানুল হক, আমানো সাব্বিরসহ অন্যরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সৌদি আরব থেকে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে ফেরার পথে এক প্রবাসী শ্রমিক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। নিখোঁজ ওই প্রবাসীর নাম রফিকুল ইসলাম (৪০)। তিনি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার সিধুলী ইউনিয়ন–এর মদনগোপাল এলাকার মৃত লাল মাহমুদ মন্ডলের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে প্রায় পাঁচ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান রফিকুল ইসলাম। সেখানে আল কাছিম শহরে একটি গ্যারেজে কাজ করতেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করতে কোম্পানি থেকে ছুটি নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায় আল কাছিম বিমানবন্দর থেকে Air Arabia–এর একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানটি দুপুরের দিকে শারজাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তাজনিত কারণে দুবাই থেকে বাংলাদেশগামী পরবর্তী ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। ওইদিন বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে রফিকুল ইসলামের যোগাযোগ ছিল। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং ইমো, ফেসবুক ও মেসেঞ্জারসহ সব যোগাযোগমাধ্যম অফলাইন দেখাচ্ছে। এদিকে বাতিল হওয়া ওই ফ্লাইটটি গত ৪ মার্চ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলেও রফিকুল ইসলাম দেশে ফেরেননি। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে পরিবার। রফিকুল ইসলামের স্ত্রী মর্জিনা বেগম বলেন, “২৮ ফেব্রুয়ারি সেহরির সময় আমার স্বামীর সঙ্গে শেষ কথা হয়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই। আট দিন ধরে তিনি নিখোঁজ। তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন—আমরা কিছুই জানি না। আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর কাছে আকুল আবেদন করছি, যেন আমার স্বামীকে খুঁজে বের করার ব্যবস্থা করা হয়।” রফিকুল ইসলামের বড় মেয়ে রাফিয়া ইসলাম বলেন, “বাবার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি। আমরা সবাই একসঙ্গে ঈদ করার অপেক্ষায় ছিলাম। সবার কাছে অনুরোধ, আমার বাবার খোঁজ পেতে আমাদের সহায়তা করুন।” প্রবাসীর স্বজন ফরহাদ হাসান বলেন, রফিকুল ইসলাম একটি গ্যারেজে কাজ করতেন এবং এর আগেও একবার দেশে ছুটিতে এসেছিলেন। এবার পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপনের জন্য দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও গত আট দিন ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সুমন চৌধুরী, মাদারগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), বলেন, “আমাদের একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিখোঁজ হয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।”
ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। পালাউ প্রজাতন্ত্রের পতাকাবাহী ‘স্কাইলাইট’ নামের ওই ট্যাংকারে হামলায় দুই ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। নিহত ওই দুই ভারতীয় হলেন ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন আশীষ কুমার ও ক্রু সদস্য দলীপ সিং। আশীষ কুমারের বাড়ি ভারতের বিহার রাজ্যে এবং দলীপ সিংয়ের বাড়ি রাজস্থানে। সরকারি তথ্যের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, হামলার পর আগুনে পুড়ে তাঁদের মৃত্যু হয়। পরে ক্যাপ্টেন আশীষ কুমারের দগ্ধ দেহাবশেষ তাঁর কেবিন থেকে উদ্ধার করা হয়। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, হামলার সময় দলীপ সিং জাহাজের সামনের অংশে ক্যাপ্টেনের সঙ্গেই অবস্থান করছিলেন। ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার (এমএসসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করা তেলবাহী ট্যাংকারটি মুসান্দাম গভর্নরেটের খাসাব বন্দর থেকে পাঁচ নটিক্যাল মাইল উত্তরে হামলার শিকার হয়। ওই ট্যাংকারে মোট ২০ জন ক্রু সদস্য ছিলেন, যাঁদের মধ্যে ১৫ জন ভারতীয় এবং ৫ জন ইরানি নাগরিক। নিহত দুজন ছাড়া বাকি সব ক্রুকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ট্যাংকারটিতে ঠিক কী ধরনের হামলা চালানো হয়েছিল, সে বিষয়ে এমএসসি বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি। প্রতিবেদনে এর আগে ওমানের দুকম বন্দর এলাকায় আরেকটি ড্রোন হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির কাছে এমন হামলার ঘটনায় ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতে গভীর আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা। চলমান সংঘাত দুশ্চিন্তায় ফেলেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবারগুলোকেও। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। এছাড়াও টানা হামলা, আকাশসীমা বন্ধ এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে ইরানে থাকা বহু বাংলাদেশির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে স্বজনদের। এনিয়ে পরিবারে বাড়ছে দুশ্চিন্তা। ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, কথা বলতে পারছেন না। দুবাইপ্রবাসী রনি হোসেন বলেন, ‘এখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও খবর দেখলেই ভয় লাগে। কখন যে আবার হামলা করে এর নিশ্চয়তা নেই। পরিবার থেকে বারবার ফোন আসে। আমরা বাইরে কাজ করি ঠিকই, কিন্তু মনে সব সময় একটা দুশ্চিন্তা থাকে।’ হবিগঞ্জের সুন্দর আলীর ছেলে লুৎফুর রহমান প্রায় ছয় বছর ধরে তেহরানে বসবাস করেন। সুন্দর আলী বলেন, আগে প্রতিদিন না হলেও একদিন পরপর কথা হতো। এখন এক সপ্তাহ ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। ফোন বন্ধ, ইন্টারনেটও পাওয়া যাচ্ছে না। খবর দেখলেই বুক কেঁপে ওঠে। ফাতেহা বেগমের ছেলে রুমান মিয়া ইরানে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। সর্বশেষ ভিডিও কলে কথা হয়েছে যুদ্ধ শুরুর আগের দিন। পরে এক ভয়েস মেসেজ দিয়ে জানিয়েছিল ইরানের একটি স্কুলে বোমা হামলা হয়েছে। এরপর থেকে কোন যোগাযোগ নেই। এনিয়ে তিনি উৎকন্ঠায় আছেন। বিভিন্ন সূত্র মতে- ইরানে বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ হাজারের মতো বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কর্মরত আছেন। তবে সরকারি নিবন্ধিত সংখ্যাটি এর চেয়ে কম। উপসাগরীয় দেশগুলোতেও আতঙ্ক: সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। আকাশসীমা আংশিক বন্ধ ও ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাতায়াতেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।. প্রবাসীরা জানিয়েছেন, সরাসরি যুদ্ধ না হলেও বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় কর্মক্ষেত্র ও বাসস্থানে চাপা ভীতি কাজ করছে। অনেকেই জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফিরতে চাইছেন, কিন্তু বিমান চলাচল সীমিত থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। দুই বাংলাদেশি নিহত: সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং সাতজন আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে নিহত হন মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা এলাকার ছবর আলীর ছেলে সালেহ আহমেদ এবং বাহরাইনে নিহত হয়েছেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদ তারেক। গত শনিবার আরব আমিরাতের আজমানে সন্ধ্যায় সালেহ আহমেদ ইফতার শেষে জরুরি খাদ্য-পানীয় সরবরাহের কাজে বের হন। তখন হঠাৎ আকাশে আগুনের মতো উজ্জ্বল একটি বস্তু দেখা যায়। মুহূর্তেই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। গুরুতর আহত অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে মৃত ঘোষণা করা হয়। সোমবার রাতে বাহরাইনে মোহাম্মদ তারেক একটি ড্রাইডক শিপইয়ার্ডে ডিউটির সময় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি জাহাজের ওপর পড়লে তিনি মারা যান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত ছয় মিলিয়নেরও বেশি বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রবাসীরা সতর্ক থাকেন এবং স্থানীয় সরকারের নির্দেশনা মেনে চলেন। বাংলাদেশ দূতাবাস সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালু হলে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও কুয়েতে ড্রোন হামলায় আহত চারজন বাংলাদেশি হলেন- নবীনগরের আমিনুল ইসলাম (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), সাথিয়ার রাবিউল ইসলাম (পাবনা), বেগমগঞ্জের মাসুদুর রহমান (নোয়াখালি) ও চাঁদিনার দুলাল মিয়া (কুমিল্লা)। তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। কুয়েত দূতাবাস নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, এবং দূত নিজেও হাসপাতালে সাক্ষাৎ করেছেন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, বহু পরিবার দিনরাত ফোনের অপেক্ষায় আছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা চলছে।