অবৈধ প্রবাসীদের জন্য লিগ্যালাইজেশন প্রোগ্রামের আওতায় বৈধ হওয়ার সুযোগ চালু রাখা হয়েছে। এ সুযোগ আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বার্তায় জানানো হয়, চলমান এই কর্মসূচির মাধ্যমে অনিয়মিত বা কাগজপত্রবিহীন প্রবাসীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান বৈধ করতে পারবেন।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া লিগ্যালাইজেশন প্রোগ্রামটি আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করলে সংশ্লিষ্ট প্রবাসীরা আইনগত ঝুঁকি এড়িয়ে বৈধভাবে মালদ্বীপে অবস্থানের সুযোগ পাবেন।
হাইকমিশন আরও জানায়, এই সুযোগ কাজে লাগাতে আগ্রহী প্রবাসীদের নির্ধারিত নিয়ম ও শর্ত মেনে দ্রুত আবেদন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রমের পর অবৈধ অবস্থানের ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতা বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। বৈধ হতে হলে ৮টি শর্ত মানতে হবে।
শর্তগুলো হলো-
১) আনডকুমেন্টেড কর্মী, যার বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নেই।
২) আনডকুমেন্টেড কর্মী, যিনি কোনো অপরাধের কারণে ব্ল্যাকলিস্টেড নন।
৩) আনডকুমেন্টেড কর্মী, যিনি বর্তমানে মালদ্বীপে অবস্থানরত।
৪) যে কোম্পানি বা নিয়োগকর্তার অধীনে পূর্বে আপনার ওয়ার্ক পারমিট ছিল, সেখানে বৈধ হওয়ার সুযোগ নেই।
৫) এই সুবিধার আওতায় একবারই বৈধ হওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে।
৬) ৩১ ডিসেম্বরের পূর্বে যারা মিসিং রিপোর্ট হয়েছেন, তারা বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন।
৭) বর্তমান নিয়োগকর্তা বা কোম্পানিকে এক্সপ্যাট সিস্টেমের মাধ্যমে আপনাকে বৈধ করার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন দাখিল করতে হবে। নিয়োগকর্তাদের জন্য শিগগিরই এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে একটি ইউজার গাইডলাইন প্রকাশ করা হবে।
৮) আনডকুমেন্টেড কর্মী যারা অপারেশন কুরাঙ্গীর আওতায় বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করেছেন এবং বর্তমানে কোনো নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি নেই, তারা কাজের মাধ্যমে বৈধ হওয়ার জন্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড টেকনোলজি মিনিস্ট্রির https://forms.office.com/r/b4CP5SLIAK ফরম পূরণ করতে পারবেন। মন্ত্রণালয় পরবর্তীতে বিভিন্ন নিয়োগকর্তা বা কোম্পানির কাছে, যাদের লোকবল প্রয়োজন, জব ম্যাচিং বা কাজের জন্য আবেদনকারীর তথ্য সরবরাহ করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মালয়েশিয়ার পাহাং প্রদেশের রোম্পিন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এতে ওই দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিনে। সর্বশেষ নিহত শ্রমিকের নাম মোহাম্মদ আসকার (৪১)। রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে জোহর রাজ্যের সেগামাত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোহাম্মদ আসকার মারা যান বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এর আগে একই দুর্ঘটনায় শনিবার ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মো. কাদের (৩৪) ও মো. ডালিম (৩০)। নিহত তিনজনই জোহর রাজ্যের সেগামাত এলাকায় বসবাস করতেন এবং একটি পাম বাগানে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রোম্পিন জেলা পুলিশ সুপার শরিফ শাই শরিফ মন্দোই জানান, শনিবার দুপুর আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটে জালান সেলাঞ্চার–রেডং সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চারজন বাংলাদেশি শ্রমিক মালিকের একটি ডাইহাটসু লরিতে করে পাম বাগানের কীটনাশক বহন করছিলেন। পথে একটি গাড়িকে ওভারটেক করার সময় লরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায়। পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার সময় লরিটি চালাচ্ছিলেন ৪৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নাগরিক। দুর্ঘটনায় তিনি অক্ষত থাকলেও তাকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে তাকে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, চালকের অসতর্কতা ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করার কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনের ৪১(১) ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার পুলিশ।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ২০২৫ সালে বড় ভরসা ছিল প্রবাস আয়। তবে এই অর্জনের আড়ালে স্পষ্ট হয়ে উঠছে জনশক্তি রপ্তানির এক ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতা। দেশের মোট অভিবাসী কর্মীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই গেছেন সৌদি আরবে। নতুন শ্রমবাজার না বাড়ায় এক দেশনির্ভর এই কাঠামো রেমিট্যান্স ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে গেছেন মোট ১১ লাখ ৩১ হাজার ১৪৪ জন কর্মী। এর মধ্যে সাত লাখ ৫৪ হাজার ৬৫৪ জন গেছেন সৌদি আরবে, যা মোট অভিবাসীর প্রায় ৬৭ শতাংশ। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কাতার। দেশটিতে গেছেন এক লাখ সাত হাজার ৬০০ জন কর্মী, যা মোট অভিবাসনের ১০ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সিঙ্গাপুরে গেছেন ৭০ হাজার ১৮২ জন (৬ শতাংশ)। কুয়েতে গেছেন ৪২ হাজার ৭৩৫ জন এবং মালদ্বীপে গেছেন ৪০ হাজার ১৫৯ জন কর্মী, যা মোট অভিবাসনের প্রায় ৪ শতাংশ করে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেছেন ১৩ হাজার ৭৫২ জন, জর্দানে ১২ হাজার ৩০১ জন, কম্বোডিয়ায় ১২ হাজার ২৫১ জন, ইতালিতে ৯ হাজার ৩৬৫ জন এবং কিরগিজস্তানে গেছেন ছয় হাজার ৬৫০ জন কর্মী। ১৪১ দেশে গেলেও বাজার সীমিত : রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মীরা ১৪১টি দেশে অভিবাসন করেছেন। তবে এর ৯০ শতাংশই গেছেন মাত্র পাঁচটি দেশে। ১৪টি দেশে গেছেন মোট অভিবাসীর ৮ শতাংশ। বিপরীতে ১২৩টি দেশে গেছেন মাত্র ২ শতাংশ কর্মী। রামরু বলছে, ১৩টি দেশে একজন করে কর্মী গেছেন এবং ৩৪টি দেশে গেছেন ২ থেকে ১০ জন করে। যেসব দেশে ১০০ জনের কম অভিবাসী কর্মী যান, সেসব দেশকে কার্যকর শ্রমবাজার হিসেবে বিবেচনা করা কঠিন। ফ্রি ভিসা ও কর্মসংকট : সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সৌদি আরবে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের বড় অংশই যান ফ্রি ভিসায়। এসব কর্মীকে নিজেই কাজ জোগাড় করতে হয়। কিন্তু অতিরিক্ত কর্মী যাওয়ায় দেশটিতে কাজের সুযোগ ক্রমেই কমছে। ফ্রি ভিসায় যাওয়া অনেক কর্মী প্রত্যাশিত কাজ পাচ্ছেন না। এমনকি চুক্তিভিত্তিক কর্মীরাও অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ছাড়া সৌদি আরবে বর্তমানে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ থেকে মূলত অদক্ষ ও স্বল্প দক্ষ কর্মী পাঠানো হয়। ফলে পাকিস্তান ও ভারতের শ্রমিকদের প্রতি দেশটির ঝোঁক বাড়ছে। মালয়েশিয়ার বাজারও অনিশ্চিত : দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়া। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালে বাজারটি খুললে ওই বছর যান ৫০ হাজার ৯০ জন। ২০২৩ সালে গেছেন তিন লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ জন। ২০২৪ সালে যান ৯৩ হাজার ৬৩২ জন। তবে ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ায় গেছেন মাত্র তিন হাজার ৬৬ জন। সূত্র জানায়, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট এবং সেখানে কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে ২০২৪ সালের জুনে আবারও কার্যত বন্ধ হয়ে যায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দক্ষতাসংকট ও তাকামল পরীক্ষা : সৌদি আরবগামী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তাকামল পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২০২৪ সালে ৫২টি পেশায় এই পরীক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা সনদ প্রয়োজন হলেও ২০২৫ সালে তা বাড়িয়ে ৭২টি পেশায় করা হয়েছে। বর্তমানে ২৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত কেন্দ্র, প্রশিক্ষক ও জনবল না থাকায় সব জেলায় কার্যকরভাবে এই পরীক্ষা বিকেন্দ্রীকরণ সম্ভব হয়নি। এতে অভিবাসন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি দালালচক্র পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার নামে কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। নারী অভিবাসন কমছে : ২০২৫ সালে বিদেশে গেছেন ৬২ হাজার ৩১৭ জন নারী কর্মী, যা মোট অভিবাসনের ৫.৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬১ হাজার ১৫৮। যদিও এক বছরে সংখ্যা সামান্য বেড়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতায় নারী অভিবাসন কমছে। ২০১৬ সালে মোট শ্রম অভিবাসনের ১৬ শতাংশই ছিল নারী। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর এক লাখের বেশি নারী কর্মী বিদেশে গেছেন। ২০২২ সালে নারী অভিবাসন ছিল এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৬৬ জন। কিন্তু ২০২৫ সালে তা ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৪০.০৯ শতাংশ কমেছে। রেমিট্যান্সে সৌদি আরব শীর্ষে : ২০২৫ সালে বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের মধ্যে সর্বাধিক এসেছে সৌদি আরব থেকে—১৫.৫২ শতাংশ। এরপর রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (১২.৫৮ শতাংশ), যুক্তরাজ্য (১২.৩০ শতাংশ), যুক্তরাষ্ট্র (১১.০৩ শতাংশ), মালয়েশিয়া (১০.০৩ শতাংশ), ওমান (৫.৭৭ শতাংশ), ইতালি (৫.৭৬ শতাংশ), কুয়েত (৫.১৬ শতাংশ), কাতার (৪.২৮ শতাংশ) ও সিঙ্গাপুর (৩.৭৬ শতাংশ)। রামরুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য এখনো বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস হলেও যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশের অবদান ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অদক্ষ শ্রমের ফাঁদে বাংলাদেশ : বিএমইটি অভিবাসী কর্মীদের চার শ্রেণিতে ভাগ করে—পেশাজীবী, দক্ষ, আধাদক্ষ ও স্বল্পদক্ষ। বাস্তবে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে মূলত আধাদক্ষ ও স্বল্পদক্ষ শ্রমবাজারে। রামরুর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পেশাজীবী কর্মীর হার ছিল ৩-৪ শতাংশ, দক্ষ কর্মী ২০ থেকে ২২ শতাংশ এবং বাকি ৭০ থেকে ৭৪ শতাংশ ছিলেন স্বল্পদক্ষ বা অদক্ষ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণের মান, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাব, বাজেটসংকট, জনবল ঘাটতি এবং রিক্রুটিং এজেন্সির অনাগ্রহের কারণে দক্ষ শ্রমিক তৈরি হচ্ছে না। উদ্বেগের বার্তা : রামরুর নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের এক দেশকেন্দ্রিক শ্রমবাজার দীর্ঘদিনের সমস্যা। যখন এসব দেশে অতিরিক্ত কর্মী যান, তখনই বাজার বন্ধ হয়ে যায়—মালয়েশিয়া এবং ইউএই তার উদাহরণ। নতুন বাজার খোঁজার দায়িত্ব মূলত বেসরকারি খাতের, তবে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। কিন্তু সরকার, বায়রা কিংবা রিক্রুটিং এজেন্সি—কাউকেই কার্যকর ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে না।’ বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমবাজার মূলত সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের বাজার ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। সৌদি আরবই এখন ভরসা। সেখানে সমস্যা হলে আমরা বড় বিপদে পড়ব।’
ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচন ২০২৬-এ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলা মিরর নিউজ ও ঢাকা পোস্টের যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি, সাবেক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন লন্ডন বিচিত্রার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও ব্রিজ বাংলা ২৪-এর সাব-এডিটর আব্দুল বাছির। রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে পূর্ব লন্ডনের একটি হলরুমে অনুষ্ঠিত ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির বর্তমান সভাপতি, জগন্নাথপুর টাইমসের সম্পাদক, অধ্যাপক সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি, ইকরা বাংলা টিভির উপস্থাপক মিজানুর রহমান মীরুর পরিচালনায় এজিএম ২০২৫ সম্পন্ন হয়। পরে ৩ জন নির্বাচন কমিশনার– সাবেক স্পিকার আহবার হোসেন, সাংবাদিক মোসলেহ উদ্দিন ও সাবেক স্পিকার খালিস উদ্দিন আহমেদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ইউকেবিআরইউ সদস্যদের উপস্থিতিতে নির্বাচন ২০২৬-এর ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ভোটগ্রহণ শেষে সদস্যদের উপস্থিতিতে ভোট গণনা করে বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। ২০১৭ সালের ৫ জুলাই ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ইসি কমিটি গঠনে নির্বাচন হলো। ইসি কমিটি ২০২৬ নির্বাচনে বিজয়ীরা হলেন— বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলা মিরর নিউজ ও ঢাকা পোস্টের যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি, সাবেক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান। জেনারেল সেক্রেটারি— লন্ডন বিচিত্রার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও ব্রিজ বাংলা ২৪-এর সাব-এডিটর আব্দুল বাছির। সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বিজয়ী হন— বাংলা গার্ডিয়ানের কন্ট্রিবিউটিং রিপোর্টার এস কে এম আশরাফুল হুদা (প্রাপ্ত ভোট ৪৯)। ভাইস প্রেসিডেন্ট ২ জন নির্বাচিত হন— ভাটির কণ্ঠের সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ বার্তার রিপোর্টার ইমদাদুল খানম (প্রাপ্ত ভোট ৩০)। বিশ্ববাংলা নিউজ ২৪-এর চেয়ার সাহেদা রহমান (প্রাপ্ত ভোট ২৬)। অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জন নির্বাচিত হন। তারা হলেন– এনআরবি ইউকে চ্যানেলের এডিটর ও হবিগঞ্জ এক্সপ্রেসের সম্পাদক এ রহমান অলি (প্রাপ্ত ভোট ৫৪) এবং রেড টাইমসের আসমা মতিন (প্রাপ্ত ৩৯)। অর্গানাইজিং অ্যান্ড ট্রেনিং সেক্রেটারি প্রার্থী ছিলেন ২ জন। বিজয়ী হয়েছেন– বাংলা ভিউয়ের রিপোর্টার জান্নাতুল ফেরদৌস ডলি (তার প্রাপ্ত ভোট ৩১)। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন– লন্ডন বাংলা পোস্টের সম্পাদক ও ভয়েস অব টাওয়ার হ্যামলেটসের রিপোর্টার মিসবাউল হক (তার প্রাপ্ত ভোট ২৪)। অন্যান্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যারা নির্বাচিত হয়েছেন— ট্রেজারার নির্বাচিত হয়েছেন জগন্নাথপুর টাইমস বার্তা সম্পাদক ও ইউকে বাংলা গার্ডিয়ানের নির্বাহী সম্পাদক মির্জা আবুল কাসেম। অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেজারার প্রার্থী ছিলেন ২ জন। একজন প্রার্থী নির্বাচনের আগেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। তাতে অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেজারার পদে অন্য প্রার্থী আনোয়ারুল হক শাহিন নির্বাচিত হন। অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় মিডিয়া অ্যান্ড আইটি সেক্রেটারি নির্বাচিত হন— ডায়াল সিলেটের সম্পাদক ও প্রকাশক সুহেল আহমদ। একইভাবে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও ফ্যাসিলিটিজ পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলা সংলাপের রিপোর্টার ইমরান তালুকদার। ইসি মেম্বার নির্বাচিত হন ৩ জন— সত্যবাণীর কন্ট্রিবিউটিং এডিটর ডক্টর আনসার আহমদ উল্লাহ, জে টাইমস টিভির অধ্যাপক মো. সাজিদুর রহমান ও ইকরা বাংলা টিভির উপস্থাপক মিজানুর রহমান মীরু। উল্লেখ্য, ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির ২০২৬ সালের ইসি কমিটির নির্বাচনে ১৫টি পদের বিপরীতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ২১ জন সদস্য। নির্বাচন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত সভাপতি মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান বলেন, প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় বিশ্বাসী সাংবাদিকদের ঐক্য, অপ-সাংবাদিকতা প্রতিরোধ ও প্রকৃত সাংবাদিকদের নিয়ে সবার প্রচেষ্টায় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রেরণের লক্ষ্যে গ্রেট ব্রিটেনে সুন্দর, শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে সাধ্যমতো অগ্রণী ভূমিকা পালন করব।