এবার বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যম থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য ভিন্ন প্রশ্নপত্র তৈরি করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, যা উচ্চশিক্ষায় বৈষম্যকে উসকে দেবে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা।
এ সিদ্ধান্তের ফলে ইংরেজি পাঠ্যক্রমের বাজার লাভবান হবে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।
আবার ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র হলে মাদ্রাসা বা কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কেন নয়, সেই প্রশ্নও উঠেছে।
গত ২ অগাস্ট ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের সূচি প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সেদিন সাধারণ ভর্তি কমিটির সভার সিদ্ধান্তের বরাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ইউনিটের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্রম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।”
আলাদা প্রশ্নপত্র করার সিদ্ধান্ত হলেও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের আবেদনের যোগ্যতা কী হবে কিংবা তাদের জন্য নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দ থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো নীতিমালা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা।
জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক আবদুল করিম বলেন, “এখন পর্যন্ত শুধু আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো মিটিং হয়নি; কোনো নীতিমালাও হয়নি; আস্তে আস্তে সব হবে।”
এখন পর্যন্ত কোনো নীতিমালা না হওয়ার কথা বলেছেন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য অধ্যাপক উপমা কবির।
বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তটা আমাদের জানিয়েছে। বুধবার হয়ত আমাদের মিটিং হতে পারে। সেখানে হয়ত আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।”
নীতিমালা তৈরির আগে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে প্রশ্ন উঠতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রশ্ন তো অবশ্যই উঠবে। তবে সেটার উত্তর নিশ্চয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে থাকবে।”
কোনো নীতিমালা ছাড়া নতুন এ সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, “আমরা (বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন) সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। এটার নীতিমালা প্রণয়ন করবে ভর্তি কমিটি। আর, আমাদের বর্তমান যে নীতিমালা আছে, এটাও সেভাবে হবে।"
দুটি প্রশ্নকে কীভাবে সমমান করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, " এটা ভর্তি পরীক্ষা কমিটি ঠিক করবে। তারা বৈষম্য যেন হয়, সেভাবে প্রশ্ন তৈরি করবেন নিশ্চয়। আর এ সিদ্ধান্ত বৈষম্য দূর করার জন্যই নেওয়া হয়েছে, বৈষম্য তৈরি করার জন্য নয়।”
একটা পরীক্ষা দুটি আলাদা প্রশ্নে হলে বৈষম্য সৃষ্টি হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি এখানে কোনো বৈষম্য হবে বলে মনে করি না।"
এক্ষেত্রে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য কেন আলাদা ভর্তি পরীক্ষা হবে না জানতে চাইলে এ অধ্যাপক বলেন, "এটা তো মিটিংয়ে আলোচনায় আসেনি। যদি সামনে আলোচনায় আসে, তখন সেটা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিষয়ে নতুন নিয়ম প্রণয়নের প্রধান ফোরাম হচ্ছে একাডেমিক কাউন্সিল। কিন্তু একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ছাড়াই ভর্তি কমিটির সাধারণ সভায় ২ আগস্ট এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেটাকে নিয়মের ব্যত্যয় হিসেবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক উপ-উপাচার্য বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হলে সেটা প্রথমে একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা হবে। সেখান থেকে সেটা পাস হলে তারপর ভর্তি কমিটির সভায় সেটার পদ্ধতি নিয়ে আলাপ করবে। একাডেমিক কমিটির সুপারিশ ছাড়া এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাইনুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র বডি হচ্ছে একাডেমিক কাউন্সিল। সেখানে আলোচনা ছাড়া কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এক্ষেত্রে সাধারণ ভর্তি কমিটি, যারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা ভালো বলতে পারবে।”
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য আবদুস সালাম বলেন, “গত ডিনস কমিটির মিটিংয়ে এ পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ আসে। পরে একাডেমিক কমিটি থেকে তা চূড়ান্ত হয়ে আসে।”
ডিনস কমিটি নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ মোতাবেক কোনো কমিটির কথা বলা নেই। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন যারা ডিনস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, কেউ নির্বাচিত নন। এ অবস্থায় তারা সুপারিশ করতে পারেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।
এ বিষয়ে অধ্যাপক আবদুস সালামের ব্যাখ্যা হলো, “ডিনস কমিটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছে। আমরা সে অনুযায়ী নিয়েছি।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া, পরীক্ষা ও শিক্ষার মান কেমন হবে— তা নিয়ন্ত্রণ, দেখভাল এবং এ বিষয়ে সিন্ডিকেটকে পরামর্শ দেওয়ার জন্যই একাডেমিক কাউন্সিল গঠিত হয়।
অধ্যাদেশের ৩য় খণ্ডের ২ নম্বর ধারায় সাধারণ ভর্তি কমিটির কাজের বিষয়ে বলা হয়েছে, ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করার একটা কমিটি, যা মূলত একাডেমিক কাউন্সিল দ্বারা গঠিত।
এক্ষেত্রে একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা ছাড়া এরকম নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কিনা জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য আবদুস সালাম বলেন, "এটা একাডেমিক কাউন্সিলে যাবে। সেখান থেকে পাস হয়ে আসবে।"
এক্ষেত্রে একাডেমিক কমিটিতে যাওয়ার আগে যে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেওয়া হয়েছে সেটা নিয়মের ব্যত্যয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "নিয়মের ব্যত্যয় হওয়ার আগে কিছু কিছু বিষয়, যেটা সময় ও অন্যান্য বিবেচনা করেও করা যেতে পারে, যা পরে একাডেমিক কাউন্সিলে সম্পূরক অনুমোদন নেওয়া যায়।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ১০ শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছে।
তাদের ভাষ্য, ভর্তি পরীক্ষায় নতুন করে কোনো নিয়ম সংযোজন বা বিয়োজন করতে হলে দুই থেকে তিন বছর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হয়; তারপর সেই নিয়ম বা নীতি যুক্ত করা যায়। নয়ত নতুন নিয়ম নানা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম তালুকদার বলেন, "এবার ভর্তি পরীক্ষায় ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের বিষয়ে আমাদের একাডেমিক কমিটিতে আলোচনা হয়েছিল। সেখানে আমরা আলাদা না করে ন্যাশনাল ও ইংরেজি মাধ্যমের পাঠ্যক্রমকে সমন্বয় করে পরীক্ষা নিতে বলেছি। তা না করলে বৈষম্য সৃষ্টি হতে পারে।
“একটা পরীক্ষা আলাদা প্রশ্নে নেওয়া হলে সেখানে সমান প্রতিযোগিতা ও প্রশ্নের মানকে সমমান করা সম্ভব হয় না। এটা আমাদের বিভাগের সর্বসম্মত সুপারিশ ছিল। তবে এ ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা একাডেমিক কাউন্সিল।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “একটি পরীক্ষা দুটি আলাদা প্রশ্নে নেওয়া হলে কেউ কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন। কারণ, একটা পরীক্ষার দুটি প্রশ্নপত্রে সবসময় বৈষম্যের আশঙ্কা থেকে যায়।”
এই অধ্যাপকের পরামর্শ হলো, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থী যা যা শেখে, তার ভিত্তি করে একটা ব্যাসিক প্রশ্নপত্র করতে পারে। সেটা হলে কেউ বঞ্চিত হবে না।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, “আমরা নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এখন পলিসির উপরেই নির্ভর করবে এ পরীক্ষা বৈষম্য সৃষ্টি করবে, নাকি সাম্য প্রতিষ্ঠা করবে।”
নতুন এ সিদ্ধান্ত শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে মনে করেন আবদুল্লাহ জামান, যিনি ইংরেজি মাধ্যমের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান— উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও গাইডেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ।
সম্প্রতি এক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, “আমি নিজেই দুটি আন্তর্জাতিক (ইংরেজি মাধ্যম) বিদ্যালয় পরিচালনা করি। বাস্তবতা হলো, ইংরেজি মাধ্যমের জন্য যদি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা সুবিধা সৃষ্টি করে, তাহলে ব্যক্তিগতভাবে সেটি আমার প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক হতে পারে। আরও বেশি অভিভাবক ইংরেজি মাধ্যমের দিকে ঝুঁকবেন, শিক্ষার্থী বাড়বে, বাজার সম্প্রসারণ হবে।
“কিন্তু দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি ব্যবসায়িক লাভের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে বড় বলে মনে করি। যে নীতি আমার প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক হলেও দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, সেই নীতিকে সমর্থন করা নৈতিকভাবে সঠিক নয়।”
তার মতে, এটি উচ্চশিক্ষায় একক একাডেমিক মানদণ্ড ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: পৃথক প্রশ্নপত্র জাতীয় শিক্ষার জন্য কী বার্তা দেবে’ শিরোনামের এ নিবন্ধে তিনি লেখেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা কোনো নির্দিষ্ট বোর্ডের পাঠ্যবই পরীক্ষা করে না। এটি প্রার্থীর বিশ্লেষণী ক্ষমতা, ধারণাগত দক্ষতা, ভাষাগত সক্ষমতা এবং উচ্চশিক্ষার উপযোগিতা যাচাই করে।
“সুতরাং প্রশ্ন হওয়া উচিত—‘কোন বোর্ডে পড়েছ?’ নয়; বরং ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা অর্জন করেছ কি না?’ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের মানদণ্ড এক হয়, তবে মূল্যায়নের মানদণ্ডও এক হওয়া উচিত।”
আবদুল্লাহ জামান মনে করেন, “আজ যদি ইংরেজি মাধ্যমের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র হয়, আগামীকাল মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডও একই দাবি করবে। তাদের যুক্তিও হবে,‘আমাদের পাঠ্যক্রম আলাদা।’ এরপর কারিগরি শিক্ষা বোর্ড একই দাবি তুলবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অবশ্যই সবাইকে সুযোগ দেয়া উচিত। তবে আলাদা প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে সেটা নিশ্চিত করবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসির শিক্ষার্থী তন্ময় আহমদ বলেন, “ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ অঞ্চলের প্রান্তিক ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় এখন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে। কিন্তু কাউকে এক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া বৈষম্য। “উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সব পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এক। ইংরেজি মাধ্যমের এমন কোনো শিক্ষার্থী নেই, যারা বাংলা মিডিয়ামের প্রশ্ন উত্তর দিতে পারবে না। এক্ষেত্রে তাদের যেহেতু ভাষাগত সমস্যা আছে, সেক্ষত্রে ইংরেজি ভাষায় প্রশ্নপত্র হতে পারে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ রাফী বলেন, "এক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবে পাঁচ হাজার, আরেকটায় দেড় লাখ। এখানে কীভাবে সমান প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হবে? বরং এটা হলে দেখা যাবে ইংরেজি মাধ্যম থেকে ভর্তি হবে এক হাজার; আর বাংলা মাধ্যম থেকে ৫০০। তাহলে বৈষম্য আরও উসকে দেওয়া হবে।"
উত্তরার এক এইচএসসি শিক্ষার্থীর মা সৈয়দা রেজাউন্নাহার শিফন বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের পাঠ্যক্রম থেকে লেখাপড়া করা শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ পাওয়া উচিত।
“তবে বর্তমানে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার, তাতে বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের বৈষম্যের শিকার হবেন বলে আমি মনে করি।”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
এবারের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় কেন ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি সেটি খতিয়ে দেখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরমধ্যে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দাখিল পরীক্ষায় যে ২২৬টি মাদরাসা থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি সেসব মাদরাসা প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। কালবেলা এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করে এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারাও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডগুলোও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ডেকে ফল বিপর্যয়ের কারণ জানার চেষ্টা করবে। কোনো প্রতিষ্ঠান সদুত্তর দিতে না পারলে এমপিও সুবিধা বাতিল হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। চলতি বছর দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় এবার ১৭৮টি বেড়েছে। গত বছর শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান ছিল ১৩৪টি। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৭টি, যা গতবার ছিল ৪৮টি। মাদরাসা বোর্ডে এবার শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান ২২৬টি। গতবার এ সংখ্যা ছিল ৮৬টি। এ ছাড়া গতবার কারিগরি বোর্ডে কোনো শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান ছিল না। এবার এ সংখ্যা বেড়ে ২৯টিতে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড থেকে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই এমপিওভুক্ত। তবে সেগুলোতে কাঙ্ক্ষিতসংখ্যক শিক্ষার্থী নেই। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ জনের কম শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। শতাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র ৫ থেকে ৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক স্কুল ও মাদরাসা গড়ে উঠেছে শুধু সরকারি অনুদান পাওয়ার আশায়। এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই, নিয়মিত ক্লাস হয় না। অনেক সময় অন্য স্কুলের ফেল করা ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের টাকা দিয়ে এনে নিজেদের পরীক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করানো হয়। পড়াশোনার দিকে শিক্ষকদের নজর না থাকায় শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এদিকে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় যে ২২৬টি মাদরাসা থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি, সেসব মাদরাসার প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় যেসব মাদরাসা থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি সে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানকে লিখিত বক্তব্যসহ বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. ফারুক আহম্মেদের দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। এ জন্য অঞ্চলভেদে মাদরাসাপ্রধানদের উপস্থিতির সময়সূচিও নির্ধারণ করে দিয়েছে বোর্ড। ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাদরাসাপ্রধানদের আগামী ১৬ আগস্ট, রাজশাহী অঞ্চলের ১৭ আগস্ট এবং রংপুর অঞ্চলের প্রধানদের ১৮ আগস্ট উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের প্রধানদের ১৯ আগস্ট, খুলনা ও কুমিল্লা অঞ্চলের ২০ আগস্ট এবং বরিশাল অঞ্চলের প্রধানদের ২৩ আগস্ট লিখিত বক্তব্যসহ উপস্থিত হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শূন্য পাস ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮টি প্রতিষ্ঠানই দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে। বোর্ডটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠানে আসলে শিক্ষার্থী হাতেগোনা। কোনোটিতে একজন, কোনোটিতে তিন-চারজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এক কথায় প্রতিষ্ঠানগুলোর দুরবস্থা। তাদের শিগগির ডেকে কারণ জানতে চাওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘এ শিক্ষার্থীরা করোনাকালে পড়াশোনা না করেই প্রাথমিক পাস করেছিল। মাধ্যমিকেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দুই বছর পড়াশোনা হয়নি। ২০২৫ সালের বই পেয়েছে এপ্রিলে। এসব সংকটের মধ্যেও তাদের এ ফলাফল অনেক ভালো। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, তাদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত দেবে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।’ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান বলেন, ‘কেন এত শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান সেটি নিয়ে ভাবতে হবে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে ডেকে কারণ জানতে চাওয়া হবে। তবে তার ব্যক্তিগত মত, পরীক্ষা ও মূল্যায়নে কড়াকড়ির কারণে অনেক শিক্ষার্থী ফেল করেছে।’ এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানে একাধিকবার শূন্য পাস আছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করার ক্ষমতা আর থাকছে না বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ)। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটির কাজ হবে শুধু শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নেওয়া ও প্রত্যয়ন দেওয়া। প্রত্যয়ন পাওয়া শিক্ষকদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক স্বাক্ষরিত এ কার্যবিবরণী গত ৪ আগস্ট জারি করা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী এনটিআরসিএ যে নিয়োগ সুপারিশ করে আসছিল, তা আর করবে না। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫ অনুযায়ী এনটিআরসিএকে আগের মতো শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সালের আগে এনটিআরসিএ কেবল শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করত। ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর সক্ষমতার বাইরে গিয়ে নিয়োগ সুপারিশ করার পর বিভিন্ন জটিলতা, মামলা ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আগের ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি। সভায় জানানো হয়, সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১১৬টি বিষয়ে মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি এমপিওভুক্ত শূন্যপদের চাহিদা অনলাইনে সংগ্রহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোর যাচাই শেষে এসবের মধ্যে ৭৫ হাজার ৭৬৯টি শূন্যপদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জনকে নিয়োগের জন্য ৯ হাজার ৮৪২টি পদ সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অবশিষ্ট ৬৫ হাজার ৯২৭টি পদে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে পরবর্তী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সভায় ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ওই ৯ হাজার ৮৪২ জনকে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে নিয়োগের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পরিপত্র বা প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে জারি করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বদলির মাধ্যমে যেসব শূন্যপদ সৃষ্টি হবে, সেসব পদেও ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে বলে সভায় মত দেওয়া হয়। এদিকে, ৬৫ হাজার ৯২৭টি শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি দ্রুত প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ও এনটিআরসিএকে বলা হয়েছে। সভায় ৬ষ্ঠ ও ৭ম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ভুল চাহিদার কারণে ভুল প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ পাওয়া ১৯৯ জন প্রার্থীর বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব প্রার্থীকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত পুনঃসুপারিশ করার জন্য এনটিআরসিএকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ পরীক্ষায় অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন। সভায় জানানো হয়, এসব পদে ১১ হাজার ১৫১টি শূন্যপদের বিপরীতে ৫৩ হাজার ৬৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন। গত ১৮ এপ্রিল ঢাকার নয়টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এমসিকিউ পরীক্ষায় ৪৮ হাজার ১৫২ জন অংশ নেন। পরে ২২ এপ্রিল প্রকাশিত ফলাফলে ১৪ হাজার ৯৪২ জন উত্তীর্ণ হন। তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। বাছাই পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষায় পৃথকভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদেরই কেবল সংশ্লিষ্ট পদে প্রত্যয়ন দেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর প্রশাসনিক অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় আদেশ, পরিপত্র ও প্রজ্ঞাপন সংশোধন বা জারি করা হবে।
আসন্ন শিক্ষাবর্ষে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একাদশ শ্রেণিতে আগের মতোই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার (১০ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘পুরনো পদ্ধতি অর্থাৎ মার্ক বা জিপিএ পদ্ধতিতে একাদশে ভর্তি হবে।’ এদিকে শিক্ষকরা মনখুলে নাম্বার দেওয়ার ক্ষেত্রে খুবই কঠোর ছিলেন, আপনার কাছে কী মেসেজ ছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, মন খুলে নাম্বার দেওয়া যায় না।’ এসময় এবারের ফলাফলকে ‘সুন্দর’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনি খারাপ রেজাল্ট বলছেন কেন, রেজাল্ট তো সুন্দর হয়েছে।’ পরীক্ষায় ভালো করার কথা থাকলেও অনেক সময় শিক্ষার্থীরা আশানুরূপ ফল করতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের বোর্ডের ১৯৯৮ সালের আইন অনুযায়ী খাতা পরিদর্শনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমানে আমরা এটি পরিবর্তন করেছি। যেসব শিক্ষার্থী পুনঃপরীক্ষণের জন্য আবেদন করবেন, তাদের খাতা সম্পূর্ণভাবে পুনঃপরীক্ষা করা হবে। কোথাও কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে, সেগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উল্লেখ্য, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার পরীক্ষায় গড় পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৬২.২৫ শতাংশে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী।