আন্তর্জাতিক

জম্মু–কাশ্মিরে থানায় বিস্ফোরক ভান্ডারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ৯ জনের প্রাণহানি

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ১৫, ২০২৫

ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য জম্মু-কাশ্মিরের একটি পুলিশ স্টেশনে জব্দকৃত বিস্ফোরক ভান্ডারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রাণ হারিয়েছে কমপক্ষে ৯ জন।

 

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) মধ্যরাতে রাজ্যের শ্রীনগরের নওগাম থানা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

 

সম্প্রতি কাশ্মিরের ফরিদাবাদ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। সেগুলো থানা চত্বরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় এ বিস্ফোরণ হয়।

 

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা কর্তৃপক্ষের।

 

জব্দ করা বিস্ফোরকের মধ্যে বেশিরভাগই ছিল অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। পুলিশ ও ফরেনসিক দল সেগুলো পরীক্ষা করার সময় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

এসময় থানা চত্বরে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে স্থাপনাটির একাংশ ধসে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০০ ফুট দূরেও মরদেহের অংশ ছিটকে পড়ে।

 

তদন্তকারীরা মনে করছেন, সন্দেহভাজনরা তড়িঘড়ি করে আইইডি প্রস্তুত করায় সেটি সঠিকভাবে সক্রিয় করা হয়নি। আতঙ্কে তারা বিস্ফোরক যথাযথভাবে সেট করতে পারেননি, ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী বড় ধরনের ক্ষতি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

 

নিহতদের মরদেহ শ্রীনগরের পুলিশ কন্ট্রোল রুমে নেয়া হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে কেউ আটকে আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে উদ্ধারকাজ এখনও চলছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর সেনা সদস্যদের হামলা

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরের কিস্তওয়ারে থানার ভেতর ঢুকে পুলিশ সদস্যদের ব্যাপক মারধর করেছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনায় একজন কর্নেল, একজন মেজর ও একজন নায়েব সুবেদারসহ ৪০ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।   অভিযোগ উঠেছে, পুলিশকে মারার পাশাপাশি থানায়ও ভাঙচুর চালিয়েছেন সেনা সদস্যরা।   পুলিশ তাদের মামলায় আসামি হিসেবে ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল এন অরুণ গান্ধী, মেজর বিকাশ শর্মা এবং নায়েব সুবেদার শঙ্কর ঘুর্খেসহ অজ্ঞাত আরও ৪০ জন সেনাকে অভিযুক্ত করেছে।   তারা বলেছে, ওই সেনা সদস্যরা থানায় ঢুকে সরকারি কর্মকর্তাদেরও মারধর করেছেন।   তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা এবং সরকারি সম্পদ বিনষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে।   সেনাবাহিনী বলেছে, তারা এ ব্যাপারে পুলিশকে সহায়তা করবে।   এদিকে সেনাবাহিনীর হামলার শিকার হওয়ার মধ্যে রয়েছেন পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট বিজয় কুমার বাঘাত, স্টেশন হাউজ অফিসার অমৃত কাটোচ।   মামলায় বলা হয়েছে, স্টেশন হাউজ অফিসার অমৃত কাটোচ সেখানকার ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। ওই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করছিলেন বিভাগীয় কমিশনার। তখন সেনা সদস্যরা থানায় হামলা চালায়।   থানায় হামলার কথা জেনে অমৃত কাটোচ দ্রুত সেখানে যান। গিয়ে দেখেন পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট বিজয় কুমার বাঘাতকে মেজর বিকাশ শর্মার নেতৃত্বে মারধর করা হচ্ছে। সেনাসদস্যরা তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলেন।   কী নিয়ে হামলা? সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মিরের কিস্তওয়ারের সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন অফিসার সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি জব্দ করেন। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী ক্ষুব্ধ হয়।   সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন অফিসার তখন থানার ভেতর ছিলেন। সেনা সদস্যরা দেওয়াল টপকে থানায় ঢুকে তাকেও মারধর করেন। এছাড়া তার গাড়ি ভাঙচুর করেন।   সেনাবাহিনীর সদস্যরা লাঠি, লোহার রড এবং অস্ত্র নিয়ে থানায় ঢুকেছিলেন উল্লেখ করে পুলিশ বলেছে, তাদের উদ্দেশ্য ছিল পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা। এরজন্য লাঠি ও লোহার রড নিয়ে এসেছিলেন তারা।   সূত্র: এনডিটিভি

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানবিরোধী যুদ্ধে সহযোগিতার দায়ে ন্যাটোকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে: বাকায়ি

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি হাসপাতালে জন্ম নিলেই স্বর্ণের আংটি, ঘোষণা বিজয় থালাপতির

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম এশিয়ায় বদলে যাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ, গুরুত্ব হারাচ্ছে সুন্নি-শিয়া বিভাজন

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রো-ইসরায়েল রাজনীতিতে ধাক্কা, মামদানিপন্থি প্রার্থীদের জয়

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাম্প্রতিক ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনে ফিলিস্তিনপন্থি অবস্থান নেওয়া একাধিক প্রার্থী জয় পেয়েছেন। এতে করে দেশটির প্রো-ইসরায়েল রাজনৈতিক বলয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে পরিবর্তিত জনমতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, গত দুই বছরে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা অভিযান, একাডেমিক শাস্তি, দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের রাজনীতিকদের আক্রমণ এবং বহিষ্কার অভিযানের মুখোমুখি হয়েছেন। সেই একই এলাকার প্রতিনিধিত্ব এখন এমন এক নেতার হাতে যেতে পারে, যিনি গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের সংগঠক ছিলেন। গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কের কংগ্রেসনাল প্রাইমারিতে বড় চমক দেখান দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার। কেফিয়াহ জড়িয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো এই অভিবাসী অধিকারকর্মী প্রবীণ কংগ্রেসম্যান আদ্রিয়ানো এসপাইয়াতকে পরাজিত করে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি নিজেকে অভিবাসন ব্যবস্থায় বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোর সংগঠক এবং ‘ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার’ বিরুদ্ধে সোচ্চার কর্মী হিসেবে তুলে ধরেন।   শেভালিয়ারের পাশাপাশি মামদানির সমর্থিত আরও দুই প্রার্থীও জয় পেয়েছেন। সাবেক সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার, যিনি ইসরায়েলে সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করেন, তিনি কট্টর প্রো-ইসরায়েল রাজনীতিক ড্যান গোল্ডম্যানকে পরাজিত করেন। এছাড়া ডেমোক্র্যাটিক সমাজতান্ত্রিক আইনপ্রণেতা ক্লেয়ার ভালদেজও একটি উন্মুক্ত আসনে জয়ী হন। স্থানীয় পর্যায়েও ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের কয়েকজন প্রার্থী জয় পেয়েছেন। এর মধ্যে আবর কাওয়াস নিউইয়র্কের প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর হওয়ার পথে রয়েছেন।   অ্যাডভোকেসি গ্রুপ জিউইশ ভয়েস ফর পিস (জেভিপি) অ্যাকশনের রাজনৈতিক পরিচালক বেথ মিলার বলেন, নিউইয়র্কে গত রাত ছিল এক রাজনৈতিক ভূমিকম্প। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে নির্ভীক অবস্থান শুধু নৈতিক নয়, এটি এখন বিজয়ের পথও।   সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের সমাজবিজ্ঞান অধ্যাপক হেবা গোওয়ায়েদ বলেন, এই ফলাফল দেখিয়েছে যে মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলের সমালোচনা আর অগ্রহণযোগ্য বিষয় হিসেবে থাকছে না। তার মতে, এসব প্রার্থী ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণে জিতেছেন, তা সত্ত্বেও নয়।   যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোয় বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, নিউইয়র্কের এই ফলাফল ভবিষ্যতে দেশজুড়ে ফিলিস্তিনপন্থী রাজনীতির আরও বিস্তারের পথ খুলে দিতে পারে।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসে ইসরায়েলবিরোধী কণ্ঠ বাড়লেও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তন আসবে না। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় প্রশাসনই ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছে।   তারপরও পর্যবেক্ষকদের মতে, নিউইয়র্কের এই নির্বাচন মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতার সূচনা করেছে এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সমর্থনের নীতিতে চাপ বাড়তে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজে নতুন করিডোর চালু করল ওমান

ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ১২ দিনের জন্য ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় মধ্যস্থতার সুযোগ, কী পাচ্ছে পাকিস্তান?

ছবি: সংগৃহীত
সরকার পরিবর্তনের পর প্রথমবার ভারতীয় ট্রেন কোচ আসছে দেশে

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথমবারের মতো ভারত থেকে ট্রেনের কোচ আসছে বাংলাদেশে। আগামী মাসে এই কোচগুলো আসার কথা রয়েছে। আজ বুধবার (২৪ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস।   ইকোনোমিক টাইমসকে ভারতীয় রেলওয়ের রপ্তানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী ট্রেনের কোচ জুলাইয়ে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত আছে।   ভারত থেকে ৯১৫ কোটি রুপিতে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ কেনার চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। ২০টি কোচ সেই চুক্তির অংশ হিসেবে পাঠানো হবে।   এই কোচ কেনায় অর্থায়ন করছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)। ২০২৪ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক নিলামের মাধ্যমে ভারত এই কোচ নির্মাণের কাজ পায়।   ভারতীয় রেলওয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, “এই চুক্তির প্রথম রেক আগামী জুলাইয়ের মধ্যে প্রস্তুত হবে। বাংলাদেশের কাছে বগিগুলো হস্তান্তরে প্রস্তুতি চলছে।”   কোচগুলো তৈরি করা হচ্ছে ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালার রেল কোচ কারখানায়।   ইকোনোমিক টাইমস বলেছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের রপ্তানির ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কিন্তু নতুন ২০টি কোচ আসার মাধ্যমে বাংলাদেশে ভারতের বগি রপ্তানির বিষয়টি পুনরায় শুরু হবে।    ২০২৪ সালে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর এই প্রজেক্টের কাজ ধীরগতির হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন ভারতীয় রেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কিন্তু এখন কাজ পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চলছে।   এদিকে এই ২০০টি কোচের কাজ পাওয়ার আগে ভারত বাংলাদেশে ১২০টি ব্রডগেজ কোচ, ২৫টি ব্রগগেজ লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) এবং ১০ মিটার গজ লোকোমোটিভ পাঠিয়েছিল। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ শক্তিশালী এবং পরিবহন অবকাঠামোতে সহযোগিতার অংশ ছিল এগুলো।   সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে কোচ সরবরাহের পাশাপাশি ডিজাইন সাপোর্ট, যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ এবং এগুলো চলাচল শুরুর ক্ষেত্রে সহায়তা করবে ভারত।   সূত্র: ইকোনোমিক টাইমস

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৫, ২০২৬
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত

ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি না থাকলে ইরানের অবস্থাও গাজার মতো হতো : পেজেশকিয়ান

ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বযুদ্ধ প্রতিরোধে পারমাণবিক অস্ত্রই প্রধান ভরসা : রাশিয়া

মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মূল কারণ ইসরাইল : গালিবাফ

0 Comments