সারাদেশ

জামায়াত কর্মীর বাড়িতে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলা, আহত ৬

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীর বাড়িতে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়া গ্রামে জামায়াত কর্মী তাজুল ইসলামের বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় তাজুল ইসলামসহ ৬ জন আহত হয়েছেন।

 

তাজুল ইসলাম জানান, তার ছেলে কবির হোসেন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সোমবার সকাল ১১টার দিকে পাশ্ববর্তী সোনারগাঁ উপজেলার বারদী ইউনিয়নের মান্দারপাড়া গ্রামের হাবু মেম্বার এবং তার ভাই নুরা পাগলার নেতৃত্বে প্রায় ৩০–৪০ জন লোক ট্রাকযোগে এসে বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় লাঠি-সোঠা, রাম-দাসসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। বাড়ির ছাদে অবস্থান নিলে হামলাকারীরা ছাদে উঠে তাজুলকে কুপিয়ে জখম করে। বাড়ির নারী-পুরুষদের মারধরসহ আসবাপত্র ভাঙচুর করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করা হয়। হামলায় পরিবারের ছানাউল্লাহ, মুসা, ফারুক, কবিরসহ ৬ জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তারা ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলে যায়।

 

হামলার প্রতিবাদে সোমবার বিকালে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামী। সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক ইলিয়াছ মোল্লা বলেন, উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আনোয়ার হোসেনের নির্দেশে হত্যার উদ্দেশ্যে তাজুল ইসলামের বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। বিএনপির এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অন্তরায়। ইতিপূর্বে আরও বেশ কয়েকবার তারা সংসদ সদস্য প্রার্থীসহ নেতা-কর্মীদের বাড়ি ঘরে আক্রমণ করেছে। তবে প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতের দক্ষিণের আমির মাওলানা হাদিউল ইসলাম ও সাবেক আমির মোতাহার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

 

হামলার প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াত ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা। তাদের দাবি, লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও সহকারী রিটানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

 

আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। সেই অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। বিচারিক কমিটি তদন্ত করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আড়াইহাজার থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে আমরা পুলিশ পাঠিয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার মিছিল, গ্রেপ্তার ৫

রাজবাড়ীর পাংশায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার নেতৃত্বে মিছিলের পর পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মেঘনা গ্রামের রাস্তায় মিছিলটি বের হয়। এতে ৫০-৬০ জন নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিলের নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁর সঙ্গে মাকেও দেখা গেছে।  মিছিলের একাধিক ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নানা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ ঘটনায় আজ রোববার সকালে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পাংশা থানা পুলিশ। তারা হলেন– উপজেলার বাগমারা গ্রামের সাইফুল প্রামাণিক, ইরান প্রামাণিক, মেঘনা (উত্তরপাড়া) গ্রামের নয়ন মোল্লা, বাগমারা গ্রামের রাব্বি হোসেন ও সুহান শেখ সোহান।  ভিডিওতে দেখা গেছে, নজরুল ইসলাম ও তাঁর মা মিছিলটিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পেছনে ব্যানার হাতে এগিয়ে যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। তারা নানা স্লোগান দেন। একই দিন সন্ধ্যার পর নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পেজে মিছিলের কিছু ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন। এতে তিনি লেখেন, ‘এই জনপথ আমার নিজস্ব গ্রামের রাস্তা! বাম পাশে আমার মা, তাঁর বাম পাশে আমার বাড়ি। এই পাংশা আমাদের, এই রাজবাড়ী আমাদের। এখানে বড় হয়েছি! এই আলো-বাতাসের কাছে অনেক ঋণ আছে। তাই এই ঘর থেকেই মুক্তির আন্দোলন শুরু করছি! এখানকার পথচলা ঢাকার রাজপথে বিপ্লবের জন্ম দিবে।’ পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মেঘনা গ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনাটি তারা তদন্ত করেছেন। এতে জড়িত পাঁচজনকে শনাক্ত করে রোববার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। পরে তাদের রাজবাড়ীর আদালতে সোপর্দ করা হয়।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এবার পরীমনিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান গাইবান্ধার সাংবাদিকদের

ছবি: সংগৃহীত

১৬ দফা দাবিতে এপেক্স ফুটওয়্যারের শ্রমিকদের কর্মবিরতি, দুই দিনের ছুটি ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

পরিবেশ সুরক্ষার মাধ্যমে মাতারবাড়ীকে উন্নত অর্থনৈতিক হাব করা হবে: মুখ্য সচিব

হামলা চালিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলেন নেতাকর্মীরা, ওসিসহ আহত কয়েকজন

ঝালকাঠির নলছিটিতে মামলার আসামি ও দপদপিয়া ইউনিয়ন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সিরাজ মোল্লাকে গ্রেফতারের পর পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপ ভাঙচুর করা হয়। হামলায় নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান সোহাগসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।   রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার দপদপিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুর দেড়টার দিকে নলছিটি থানার ওসি তৌহিদুজ্জামান সোহাগের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দপদপিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি মামলার আসামি সিরাজ মোল্লাকে গ্রেফতার করে।   তার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তারা জোরপূর্বক সিরাজ মোল্লাকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ সময় পুলিশের পিকআপ ভ্যানে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর করা হয়। হামলায় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।   ঘটনার পর দপদপিয়া এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ছিনিয়ে নেওয়া আসামিকে পুনরায় গ্রেফতারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।   নলছিটি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. বেলায়েত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়া আসামিকে পুনরায় গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৮, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় পাচারের আগেই নারীসহ ৯ জনকে উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামে বিকাশ এজেন্ট কর্মকর্তাকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২

ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় নির্বাচনে আগাম প্রস্তুতি, বরিশালে প্রার্থী ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের

ছবি: সংগৃহীত
প্রাণনাশের আশঙ্কা, নিরাপত্তা চেয়ে নাইমা খন্দকারের ফেসবুক পোস্ট

কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পুত্রবধূ সমাজকর্মী নাইমা খন্দকার নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। গত শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পোস্টে পুলিশের কাছ থেকে আইনগত সহায়তা না পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। যদিও পুলিশ বলছে, এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।   নাইমা খন্দকার জে. হুদা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ও সচিব এবং জাতীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থা কুমিল্লা জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   ফেসবুক পোস্টের শুরুতে তিনি লেখেন, ‘আমার নিরাপত্তা কোথায়? একজন নারী হিসেবে আজ আমি কার কাছে বিচার চাইব?’      তিনি বলেন, ‘আজ আমি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে দাউদকান্দির সর্বস্তরের মানুষ, দেশের সচেতন নাগরিক, সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যেকোনো সময় তাকে প্রাণনাশসহ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করা হতে পারে। একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে দাউদকান্দির বেশ কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’    নাইমা লেখেন, তার শ্বশুর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন স্বামী খন্দকার মাহবুব হোসেন তুষার। তারা দেশের বাইরে থাকার এমন সুযোগে স্পর্শকাতর ও কঠিন সময়ে নিজ বাসায় সম্পূর্ণ একা থাকা অবস্থাতেই বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে তাকে নানাভাবে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখানো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর অপপ্রচার ও হয়রানি করা হচ্ছে।   পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, এসব ঘটনায় গত ২০ দিন ধরে দাউদকান্দি থানার ওসির কাছে অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাচ্ছেন না।  তিনি আরও বলেন, চলমান মানসিক চাপ ও নিরাপত্তার আশঙ্কার মধ্যেই আমাকে আইনের পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। চরম মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষার হলে আমার প্রায় জ্ঞান হারানোর উপক্রম হয়েছিল।   নাইমা খন্দকার শনিবার সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, ‘আমি একটি রাজনৈতিক পরিবারের পুত্রবধূ হয়েও যদি নিজের এলাকায় এমন হেনস্তা ও অপপ্রচারের শিকার হই, তবে সাধারণ পরিবারের মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়? আমার শ্বশুর ড. খন্দকার মোশাররফ এবং স্বামী মাহবুব হোসেন তুষার বলে আমি কোনো বাড়তি সুবিধা চাই না, কেবল একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চাই। কার ইন্ধনে ফেসবুক আইডি থেকে এমন অপপ্রচার ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তা পুলিশকে খুঁজে বের করার অনুরোধ জানিয়েছি।’    গত শনিবার সন্ধ্যায় দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. সাজেদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। নাইমা খন্দকার মৌখিকভাবে তার বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখালেখির কথা জানিয়েছেন। আমরা তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। তা ছাড়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টগুলো শনাক্ত করতে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে লিখিত অভিযোগ দিতে পরামর্শ দিয়েছি।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৮, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

সোমবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

ফাইল ছবি

সমুদ্র সৈকতে নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার

সংগৃহীত ছবি

দেশের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে ঐক্যের আহ্বান সংস্কৃতিমন্ত্রীর

0 Comments