সারাদেশ

চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে চুক্তির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবার ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) তৃতীয় দিন ৮ ঘণ্টা কর্মবিরতি চলাকালে নতুন কর্মসূচির ডাক দেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। তারা বলছেন, সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক স্থাপনা বিদেশিদের (ডিপি ওয়ার্ল্ডের) হাতে তুলে দিয়ে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে। দেশের স্বার্থ রক্ষায় যখন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে নেমেছে তখন তাদের সঙ্গে আলোচনার পরিবর্তে কর্মচারীদের বদলিসহ নানা হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।

 

প্রতিহিংসামূলক ও স্বৈরাচারী এই আচরণে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও দানা বাঁধছে। শনি ও রোববার দুই দফায় চট্টগ্রাম বন্দরের ১৬ জন কর্মচারীকে পানগাঁও ও কমলাপুর আইসিডিতে বদলি করা হয়েছিল। সোমবার মন্ত্রণালয়ের নতুন এক আদেশে তাদের মধ্যে ১৫ জনকে বদলি করে মোংলা ও পায়রা বন্দরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

 

শ্রমিক নেতারা বলছেন, মোংলা ও পায়রা বন্দর আলাদা প্রতিষ্ঠান। সাধারণত চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মচারীদের এই দুই বন্দরে পাঠানোর সুযোগ নেই। তবে যেখানেই বদলি করা হোক, এ পর্যন্ত কোনো কর্মচারী নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। নতুন কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার সংকল্প করেছেন তারা।

 

তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকার ও আদালতের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের এ ধরনের আন্দোলনে যাওয়া ঠিক হয়নি। এতে ‘মহলবিশেষের ইন্ধন’ রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

 

এদিকে টানা তিন দিনের কর্মবিরতি তথা ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। কোনো ধরনের কনটেইনার হ্যান্ডলিং না হওয়ায় বিভিন্ন ইয়ার্ডে সৃষ্টি হয়েছে কনটেইনারের জট। কেবল রোজার পণ্যসহ জরুরি পণ্য নিয়ে বন্দরের বহির্নোঙ্গরে ভাসছে ৩৫টি মাদার ভেসেল। লাইটার থেকেও পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না।

 

একইভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের আওতাধীন যেসব বেসরকারি ডিপো বা অফডক রয়েছে, সেসব অফডকেও অপারেশনাল কার্যক্রমে মারাত্মক ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। কর্মচারীদের নতুন করে ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি কর্মসূচি ঘোষণার কারণে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তারা বলছেন, আমদানি-রপ্তানির বেশির ভাগ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়। দেশের অর্থনীতির প্রাণ চট্টগ্রাম বন্দর যে কোনো মূল্যে সচল রাখতে হবে। সেটা আলোচনার ভিত্তিতে হোক কিংবা অন্য যেকোনো উপায়ে হোক। টানা তিন দিনের কর্মবিরতির কারণে যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে তা টাকার অঙ্কে হিসাব করা কঠিন।

 

সোমবার সকালে দাবি আদায়ে কালোপতাকা মিছিল করেছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। বন্দরের দেয়ালে দেয়ালে সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে কালো হরফে লেখা ‘কর্মবিরতি চলছে’ স্টিকার। স্কপের সমাবেশ থেকে বন্দর চেয়ারম্যান ও বিডা চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি করা হয়। কর্মচারীদের কর্মবিরতি বা ধর্মঘটের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিও।

 

সকালে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আগ্রাবাদ চৌমুহনি থেকে কালোপতাকা মিছিল বের হয়। ‘এনসিটি ইজারা দেওয়ার দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তির প্রক্রিয়া বন্ধ করো’ শীর্ষক কালোপতাকা ও ব্যানার নিয়ে মিছিলটি বারিক বিল্ডিং মোড়ে গেলে আটকে দেয় পুলিশ। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ বন্দর ভবন চত্বরে দুপুর ১টার দিকে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে। পাশপাশি সড়ক অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

 

কর্মবিরতি চলাকালে দেখা গেছে, সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের কোনো ইয়ার্ডে অপারেশনাল বা প্রশাসনিক কোনো কার্যক্রম হয়নি। শ্রমিক-কর্মচারীরা অফিসে উপস্থিত হলেও কাজ করা থেকে বিরত থাকেন। বন্দরের ভেতরে-বাইরে ছিল না ট্রাক-লরির চলাচল।

 

চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ও বন্দরের নৌ বিভাগের ইঞ্জিন ড্রাইভার (১ম শ্রেণী) মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এনসিটি বিদেশিদের না দেওয়ার জন্য এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। কিন্তু সরকার তাদের দাবির প্রতি কোনো তোয়াক্কা না করে চুক্তির প্রক্রিয়া অস্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আছে আর মাত্র ৯ দিন। এরপরও এনসিটি দিয়ে দেওয়ার নেপথ্যে তাদের কী স্বার্থ লুকিয়ে আছে তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা এতে অত্যক্ষ ক্ষুব্ধ। এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসাবেই সবাই স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে আন্দোলনে নেমেছেন। তিনি বলেন, বন্দর তথা সরকার শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার পরিবর্তে অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দেখাচ্ছে। কিন্তু শ্রমিকরা এতে ভীত নয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৭ হাজার কনটেইনার জমেছিল। রোববার কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছিল এক হাজার ৬৮৪ টিইইইউএস কনটেইনার। সোমবার এক হাজার ৫৮৭ টিইইইউএস কনটেইনার ডেলিভারি হওয়ার কথা ছিল। ৮ ঘণ্টা কর্মবিরতির পর যে সময়টা ছিল, সেই সময়ে এই ডেলিভারি হয়েছে। তবে স্বাভাবিক সময়ে এর দ্বিগুণ বা তারও বেশি ডেলিভারি হয়।

 

অফডক নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোটস অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা) সচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, বন্দরে কর্মবিরতির ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে অফডকেও। অফডকে কনটেইনারের জট লেগে যাচ্ছে। রপ্তানি কনটেইনার পাঠাতে না পারায় পোশাক শিল্পের বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের উচিত যে কোনো মূল্যে বন্দর সচল করা। না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে তা সামাল দেওয়া আমদানিকারক, ব্যবসায়ী ও সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
জামায়াত কর্মীর বাড়িতে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলা, আহত ৬

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীর বাড়িতে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়া গ্রামে জামায়াত কর্মী তাজুল ইসলামের বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় তাজুল ইসলামসহ ৬ জন আহত হয়েছেন।   তাজুল ইসলাম জানান, তার ছেলে কবির হোসেন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সোমবার সকাল ১১টার দিকে পাশ্ববর্তী সোনারগাঁ উপজেলার বারদী ইউনিয়নের মান্দারপাড়া গ্রামের হাবু মেম্বার এবং তার ভাই নুরা পাগলার নেতৃত্বে প্রায় ৩০–৪০ জন লোক ট্রাকযোগে এসে বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় লাঠি-সোঠা, রাম-দাসসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। বাড়ির ছাদে অবস্থান নিলে হামলাকারীরা ছাদে উঠে তাজুলকে কুপিয়ে জখম করে। বাড়ির নারী-পুরুষদের মারধরসহ আসবাপত্র ভাঙচুর করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করা হয়। হামলায় পরিবারের ছানাউল্লাহ, মুসা, ফারুক, কবিরসহ ৬ জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তারা ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলে যায়।   হামলার প্রতিবাদে সোমবার বিকালে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামী। সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক ইলিয়াছ মোল্লা বলেন, উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আনোয়ার হোসেনের নির্দেশে হত্যার উদ্দেশ্যে তাজুল ইসলামের বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। বিএনপির এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অন্তরায়। ইতিপূর্বে আরও বেশ কয়েকবার তারা সংসদ সদস্য প্রার্থীসহ নেতা-কর্মীদের বাড়ি ঘরে আক্রমণ করেছে। তবে প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতের দক্ষিণের আমির মাওলানা হাদিউল ইসলাম ও সাবেক আমির মোতাহার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।   হামলার প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াত ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা। তাদের দাবি, লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও সহকারী রিটানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।   আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। সেই অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। বিচারিক কমিটি তদন্ত করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   আড়াইহাজার থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে আমরা পুলিশ পাঠিয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক

সাইফুল ইসলাম রনি

ঢামেকে চিকিৎসাধীন অগ্নিদগ্ধ জাবি শিক্ষার্থী রনির মৃত্যু

চট্টগ্রামে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডা. শফিকুর রহমান।

’২৪ না হলে ’২৬ পাওয়া যেত না : জামায়াত আমির

ছবি : সংগৃহীত
৬৫০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করবে সরকার

প্রতি বছরের মতো এবারও রোজায় সুলভমূল্যে মাংস, দুধ ও ডিম বিক্রি করবে সরকার। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬৫০ ও প্রক্রিয়াজাত মুরগির মাংস ২৫০, প্রতি লিটার দুধ ৮০ এবং প্রতিটি ডিম আট টাকা করে বিক্রি হবে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে রমজান কেন্দ্রিক ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি সংক্রান্ত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি সভায় গত বছরের চেয়ে এবছর পণ্য বিক্রির স্থান বৃদ্ধির নির্দেশ দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এবার ৪৮টি স্থানে এসব পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান বলেন, ‘বরাবরের মতো এবছরও ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা হবে। আমরা চাই রমজান মাসে রোজাদারদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে। এজন্য আমরা কাজ করছি। তিনি জানান, এরই মধ্যে এসব পণ্য সরবরাহকারী অংশীজনদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা গত বছরের চেয়ে এবছর বেশি জায়গায় পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করবেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

খুলনায় তারেক রহমানের সমাবেশে উপচে পড়া ভিড়

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনী আবহে খুলনা-যশোরে যাচ্ছেন তারেক রহমান

ছবি : সংগৃহীত

সকাল থেকে যেসব এলাকায় ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

ফজলুল করিম সাঈদী। সংগৃহীত ছবি
আওয়ামী লীগ নেতা সাঈদী ফের কারাগারে

চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুল করিম সাঈদী একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ নিয়ে ’২৪-এর ৫ আগস্ট পরবর্তী দ্বিতীয়বার জেলবন্দি হলেন তিনি। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাঈদী কক্সবাজারের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তার বিরুদ্ধে হওয়া একটি জিআর মামলায়। এ সময় আদালতের বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফজলুল করিম সাঈদীর আইনগত কৌঁসুলি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী গোলাম ফারুক খান কাইছার। তিনি বলেন, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদীর বিরুদ্ধে রুজু হওয়া একটি জিআর মামলায় দীর্ঘদিন জেল খাটার পর আদালত কর্তৃক জামিনে ছিলেন। তবে শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি ওই মামলার পরবর্তী দুই ধার্য তারিখে অনুপস্থিত ছিলেন। এই অবস্থায় আদালত তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে। আইনগত কৌঁসুলি গোলাম ফারুক খান কাইছার জানান, সর্বশেষ রবিবার তিনি আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সূত্র জানায়, ২০২৪-এর ২১ ডিসেম্বর প্রাইভেট কারে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে ফেনীর মহিপাল এলাকায় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন ফজলুল করিম সাঈদী। পরে তাকে চকরিয়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হলে শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। সাঈদী আওয়ামী লীগের সময়ে পরপর দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
নওগাঁয় নির্বাচনী জনসভা।

বিএনপি শুধু বাংলাদেশের : বাবুল

ছবি : সংগৃহীত

গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণ জানালো তিতাস

ছবি : সংগৃহীত

দেশে ভূমিকম্প অনুভূত

0 Comments