জীবিকার তাগিদে মাত্র ১১ বছর বয়সেই বিত্তবান ব্যক্তির বাড়িতে গৃহকর্মী হিসাবে পাঠানো হয়েছিল শিশু ময়নাকে (ছদ্মনাম)। সামান্য ভাত ও নিরাপদ জীবনের আশায় পাঠানো সেই শিশু দিনের পর দিন পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খুন্তি গরম করে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে, ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, যার ফলে হাত ও পায়ের হাড় ফেটে গেছে। গলা, হাত ও পায়ের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় নির্যাতনের কালচে দাগ। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর গ্রেফতার করা হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রভাবশালী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীকে। সোমবার তাদের আদালতে তোলা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, শফিকুর রহমানের নিজস্ব সন্তান থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতির টাকা দিয়ে তাদের বিদেশে পাঠানো হলেও ১১ বছরের শিশুটি অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়।
পুলিশ জানায়, রোববার রাতে উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোমের মিয়া জানান, আসামিদের কারাগারে রাখা আবশ্যক। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করে বলেন, শফিকুর রহমান একজন সরকারি কর্মকর্তা, তিনি বা তার স্ত্রী কোনোভাবে জড়িত নন। শিশুটিকে পরিবারের কাছে সুস্থ অবস্থায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের তরফে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, পেটের দায়ে শিশুটিকে পরিবারের পক্ষ থেকে কাজে দেওয়া হয়েছিল। ওই বাড়িতে যাওয়ার পর থেকে তাকে নিয়মিত নির্যাতন করা হয়েছে। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর না করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে শিশুটির বাবা, হোটেল কর্মচারী গোলাম মোস্তফা এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী জানায়, শিশুটি দরকার। আলোচনার পর ২০২৫ সালের জুনে ময়নাকে ওই বাড়িতে কাজের জন্য দেওয়া হয়। শর্ত ছিল, মেয়ের সব খরচ ও ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেবে গৃহকর্তা। ২ নভেম্বর শেষবার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় দেখা যায়। এরপর থেকে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করা যায়নি। ৩১ জানুয়ারি বিথী ফোন করে জানায়, ময়না অসুস্থ, তাকে নিতে হবে। সন্ধ্যায় মেয়েকে দেখার সময় গোলাম মোস্তফা পান, ময়নাকে গুরুতর জখম অবস্থায়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার সময় ময়নাকে মারধরের পাশাপাশি গরম বস্তু দিয়ে দগ্ধ করার কথা স্বীকার করানো হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
তথ্য ও সম্প্রচার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বের বিষয়ে আপসহীন হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই আর দলীয় লেজুড়বৃত্তি করা যাবে না। আজ ঢাকায় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে জুলাই রেভ্যুলশনারি জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স ‘আয়োজিত গণমাধ্যম উৎসব ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। এসময় আসন্ন গণভোট ও নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সহযোগিতার জন্য একটি হটলাইন নম্বর (০৯৬৪৪১১১৪৪৪) উদ্বোধন করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের এই আয়োজনে গণমাধ্যম কমিশন এবং সম্প্রচার অধ্যাদেশ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, 'গত ৫৪ বছরেও একটি গণমাধ্যম কমিশন এবং সম্প্রচার অধ্যাদেশ করা যায়নি। এটা হতাশাজনক।' তিনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করছি সরকার, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সকলের মতামতের ভিত্তিতে এ দুটি অধ্যাদেশ জারি করে যেতে। সময় স্বল্পতার কারণে যদি সম্ভব না হয়, অন্তত চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করে দিতে। জনমতের জন্য খসড়া দুটো মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের মতামতকে ভিত্তি ধরে এটা করা হয়েছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা জানান, সাংবাদিকদের মধ্যে মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হতে হবে বস্তুনিষ্ঠতা। আজকের অনুষ্ঠানের মূল আবেদন হলো—শুধু স্বৈরাচার না, স্বৈরাচারী ব্যবস্থা যেন আর কখনো ফিরতে না আসে সেদিকে লক্ষ্য রাখা। হুমকি-ধমকির ভাষা পরিহার করতে হবে এবং পেশাদারিত্ব দিয়ে নিজেদেরকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে। সংবিধানে যে মত প্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং সংগঠন করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, তা অন্তরে ধারণ করতে হবে। অনুষ্ঠানে শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়-র মা সামসি আরা জামান বলেন, সাংবাদিকদের সম্মানজনক জীবিকা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ফ্যাসিবাদ তাদেরকে ব্যবহার করতে না পারে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ফ্যাসিবাদমুক্ত সমাজ চাই-এর আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন শিশির। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মাহবুব আলম।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত দেড় মাসে দেশে ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং প্রার্থীর ওপর সরাসরি হামলার ঘটনা ঘটেছে ১৫টি। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন ঘিরে মোট ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভীতি প্রদর্শন বা আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা ১৬টি, প্রার্থীর ওপর হামলা ১৫টি এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পাঁচটি। এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ৮৯টি, অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা তিনটি, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা নয়টি এবং প্রচার কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা ২৯টি। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অফিস ও প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ২০টি। পাশাপাশি অবরোধ ও বিক্ষোভের ঘটনা ১৭টি, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা একটি এবং অন্যান্য ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৭০টি। বিজ্ঞপ্তিতে বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সংঘটিত সহিংসতার পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক মাসে (২১ ডিসেম্বর ২০২৩ থেকে ১০ জানুয়ারি ২০২৪) ৫৩৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ৪৬০ জন আহত এবং ছয়জন নিহত হন। তখন ভাঙচুরের ঘটনা ছিল ১০২টি, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ১১৮টি এবং ককটেল, পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ছিল ৩০টি। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ২২ দিনে ৪১৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন ৭৮০ জন এবং নিহত হন ২২ জন। সে সময় ভাঙচুরের ঘটনা ছিল ২৩৪টি, অগ্নিসংযোগ ১৫৫টি এবং ককটেল ও পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটে ১৪৩টি। এ ছাড়া ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১২ দিনে ৫৩০টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ওই সময় আহত হন ৩১৫ জন এবং নিহত হন ১১৫ জন। তবে তখন ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে করা দুটি পৃথক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে ২ বছর এবং শেখ রেহানার সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীকে পৃথকভাবে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম পৃথক এই দুই মামলার রায় ঘোষণা করেন। এছাড়া সব আসামিকে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে একজনের ১ বছর এবং বাকিদের ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ৫ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (অব.) (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরবর্তী সময়ে যুক্ত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। শুধু রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে পৃথক দুই মামলায় ১ বছর করে মোট ২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুই মামলায় শেখ হাসিনা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও কারাগারে থাকা খুরশীদ আলমকে ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ৬ মাস করে মোট ১২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুই মামলাতেই শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার আরেক মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ মোট ১৪ জন আসামি রয়েছেন। আজমিনার বিরুদ্ধে করা মামলায় অতিরিক্ত ৩ জন এবং রাদওয়ানের বিরুদ্ধে করা মামলায় আরও ৩ জন আসামি রয়েছেন। এর আগে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে রাজউকের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির চারটি পৃথক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এক মামলায় শেখ রেহানাকে ৭ বছর এবং টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে ২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত ১৩ ও ১৮ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এই দুই মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শহরে বাড়ি, ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তা গোপন করেন। এর ফলে প্লট বরাদ্দে আইন, বিধি ও নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভাবিত করেন। যোগসাজশের মাধ্যমে নিজেদের ও অন্যদের লাভবান করার উদ্দেশ্যে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রোডে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়।