বিশ্ব

ঈদুল আজহার ছুটি কমাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার, শুরু বিতর্ক

মারিয়া রহমান মে ২৪, ২০২৬
শুভেন্দু অধিকারী
শুভেন্দু অধিকারী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের শুরুতে প্রকাশিত ছুটির তালিকায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিল তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তবে রাজ্যটিতে সরকার পরিবর্তনের পর সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনল নতুন বিজেপি সরকার। শনিবার জারি করা এক নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এবার ঈদুল আজহায় একদিনই সরকারি ছুটি থাকবে। আগামী ২৮ মে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক সংস্কারে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সরকারি দফতরে কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। সরকারি পরিষেবা দ্রুত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিশ্চিত করতে অপ্রয়োজনীয় ছুটি ও গাফিলতির সংস্কৃতি কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে নতুন সরকার।

এছাড়া সরকারি কর্মীদের অফিসে উপস্থিতির সময়ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ঈদুল আজহার ছুটি কমানোর সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বছরের শুরুতেই সাধারণত সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে প্রকাশিত তালিকায় ২৬ ও ২৭ মে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শনিবার অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পি কে মিশ্র নতুন নির্দেশনা জারি করে জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের ছুটির তালিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবার একদিনের ছুটি কার্যকর করা হচ্ছে।

এদিকে নতুন এই সিদ্ধান্তের পর সরকারি কর্মীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ভবিষ্যতে দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটির ক্ষেত্রেও কি কোনো কাটছাঁট হতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চললেও পশ্চিমা দেশগুলো থেকে হজে মুসল্লিদের ঢল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতা সত্ত্বেও পশ্চিমা দেশগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি এবারের হজ পালনে সৌদি আরবে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ৪৯ বছর বয়সী ফাদেল বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, যুদ্ধ চললেও তিনি হজে আসার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়াতেন না। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। তিনি বলেন, ‘আমরা নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গায় আছি।’   কোরআনের একটি আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এ কথা বলেন।  ফাদেল বলেন, ‘যুদ্ধ চলতে থাকলেও আমি হজে আসা বাতিল করতাম না।’ পশ্চিমা দেশ থেকে আসা অনেক মুসল্লির মধ্যেই একই ধরনের অনুভূতি দেখা গেছে।  যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লেও, মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় আয়োজন হজে অংশ নিতে তারা সৌদি আরবে আসছেন। এবারের হজ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। যদিও এপ্রিল থেকে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তারপরও উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে গত মাসে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের হজে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেয়।  দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও যাতায়াতে বিঘেœর কারণে এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে হজযাত্রীদের যাতায়াত ও ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে, অনেক মুসল্লির কাছে ইসলামের এই পবিত্র ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের সুযোগ যুদ্ধজনিত অস্থিরতার আশঙ্কার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সপ্তমবারের মতো হজে অংশ নিতে আসা ৪৭ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক সাইয়েদ বলেন, এখানে আসা নিয়ে তার মনে কোনো ‘দ্বিধা’ ছিল না।  যদিও তার নিজের সরকার নাগরিকদের এ অঞ্চলে ভ্রমণের বিষয়ে পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে। সাদা পোশাক পরিহিত অবস্থায় মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি এএফপিকে বলেন, যখন কেউ হজে আসার নিয়ত করে, তখন সে আল্লাহর ওপর ভরসা করেই আসে। আর সে কারণেই তিনি এখানে এসেছেন এবং আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখেন যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। হজ সামনে রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১০ লাখের বেশি মুসল্লি মক্কায় জড়ো হয়েছেন। তাদের পোশাক, ব্যাগ ও ছাতায় নিজ নিজ দেশের পরিচয়ও ফুটে উঠছে। জার্মানির নাগরিক ৬৩ বছর বয়সী ইব্রাহিম দিয়াব বলেন, ‘এ সুযোগ জীবনে একবারই আসে। তাই উপসাগরীয় অঞ্চলের অনিশ্চিত পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমি এটি হাতছাড়া করতে চাইনি।’ তবে অনেক মুসল্লি স্বীকার করেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন।  ব্রিটিশ নাগরিক ইমাদ আহমদ বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন ছিলাম।’ তিনি জানান, জর্ডানের আকাশসীমায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনায় তার সৌদি আরব যাত্রা কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়েছিল।  তবে ইমাদ বলেন, মক্কার উদ্দেশে তার যাত্রা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তার কোনো সন্দেহ ছিল না। তিনি আরও বলেন, ইনশাআল্লাহ, আমি হজ পালন করবই।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেবেন মাচাদো

ছবি : সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বিস্ফোরণের ঝুঁকিতে রাসায়নিক ট্যাংক

ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেনে ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথা নিশ্চিত করেছে রাশিয়া

ছবি: সংগৃহীত
শান্তি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনে একটি নতুন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট  ট্রাম্প।   ঘোষণায় তিনি বলেন, আঞ্চলিক সংঘাত ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে যেসব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, এখন সেগুলো পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে। তিনি এটিকে “বিশ্ব শান্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় অগ্রগতি” হিসেবে উল্লেখ করেন।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট Strait of Hormuz দিয়ে দৈনিক বিপুল পরিমাণ তেল ও তরল গ্যাস পরিবহন হয়ে থাকে। তাই এই প্রণালির পুনরায় উন্মুক্ত হওয়া আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ চেইনে স্বস্তি ফিরতে পারে এবং জ্বালানি মূল্য কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। তবে একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমঝোতা বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।   এদিকে এখনো সংশ্লিষ্ট দেশগুলো বা আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে চুক্তির বাস্তব কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে পর্যবেক্ষণ চলছে।   বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ঘোষণা যদি বাস্তবে কার্যকর হয়, তাহলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ২৪, ২০২৬

ভেনেজুয়েলার আকাশে মার্কিন সামরিক মহড়া, কারাকাসে উত্তেজনা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের খসড়া চুক্তি নিয়ে আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক সরবরাহ স্থগিত, জাপানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত

মাদ্রিদের রাস্তায় জনস্রোত। ছবি: সংগৃহীত
মাদ্রিদে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে গণবিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা একের পর এক দুর্নীতি কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে এবং তার পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী মাদ্রিদে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবারের (২৩ মে) এই মার্চ ফর ডিগনিটি বা মর্যাদার পদযাত্রা নামক বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।  সমাবেশটি মূলত শান্তিপূর্ণ হলেও কিছু স্থানে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, এতে অন্তত সাতজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। স্প্যানিশ সিভিল সোসাইটি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই গণবিক্ষোভে দেশটির প্রধান বিরোধী দল পিপলস পার্টি এবং কট্টর ডানপন্থী দল ভক্স-এর শীর্ষ নেতারাও শামিল হন। আন্দোলনকারীরা এ সময় স্পেনের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি সমাজতান্ত্রিক মাফিয়ার পদত্যাগ চাই সহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে একদল আন্দোলনকারী প্রধানমন্ত্রী সানচেজের সরকারি বাসভবন মনক্লোয়া প্যালেস-এর চারপাশের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। স্প্যানিশ টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাওয়ার মূল সড়কে মুখোশধারী একদল লোককে পুলিশ বাধা দিচ্ছে। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সানচেজ সরকারের ওপর দুর্নীতির চাপ আরও ঘনীভূত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) স্পেনের একটি আদালত দেশটির সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী হোসে লুইস রদ্রিগেজ জাপাতোরোর বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং অর্থ পাচারের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগে তদন্তের ঘোষণা দেয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত জাপাতোরো অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে নিজের স্ত্রী বেগোনিয়া গোমেজের বিরুদ্ধে আদালতের দুর্নীতি তদন্ত শুরু হলে পেদ্রো সানচেজ সাময়িকভাবে পদত্যাগের কথাও বিবেচনা করেছিলেন। তবে শুরু থেকেই সানচেজ ও তার স্ত্রী সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক বিরোধীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের পরিবারকে হেয় করতে এসব ছক কষছে। গত মাসে স্পেনের একজন সরকারি প্রসিকিউটরও ডানপন্থী দলগুলোর দায়ের করা ওই মামলাটি বন্ধ করার জন্য তদন্তকারী বিচারককে অনুরোধ জানিয়েছেন। শনিবারের এই বিশাল সমাবেশে কত মানুষের সমাগম হয়েছিল তা নিয়ে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। আন্দোলনের আয়োজকদের দাবি, প্রায় ৮০,০০০ মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে, মাদ্রিদে নিযুক্ত স্পেন সরকারের প্রতিনিধির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভাকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০,০০০। সূত্র: রয়টার্স।

মারিয়া রহমান মে ২৪, ২০২৬
শুভেন্দু অধিকারী

ঈদুল আজহার ছুটি কমাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার, শুরু বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের বৈঠক আয়োজনে প্রস্তুত পাকিস্তান

কলকাতায় পশুর হাটে ছাগল। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে গরুর বাজারে ধস, দেড়গুণেরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ছাগল

0 Comments