শিক্ষা

গবেষণার উন্নয়নে ঢাবি ভূতত্ত্ব বিভাগে ১ কোটি টাকার এনডাউমেন্ট ফান্ড

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০২, ২০২৬
ছবি: ঢাবি জনসংযোগ দপ্তর
ছবি: ঢাবি জনসংযোগ দপ্তর

গবেষণার উন্নয়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে ১ কোটি টাকার একটি এনডাউমেন্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে। প্রয়াত প্রাক্তন শিক্ষার্থী মীর ময়নুল হক এবং তাঁর এমএস গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ড. জন আলফ্রেড ট্যালেন্ট-এর স্মৃতি সংরক্ষণে ‘মীর ময়নুল হক এন্ড জন ট্যালেন্ট মেমোরিয়াল এনডাউমেন্ট ফান্ড’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

 

আজ মঙ্গলবার এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রয়াত মীর ময়নুল হকের ছোট ভাই ড. মীর মুবিনুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম-এর কাছে ১ কোটি টাকার একটি চেক হস্তান্তর করেন।

 

ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এম এ লতিফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর, ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. বদরুদ্দোজা মিয়া, প্রয়াত মীর ময়নুল হকের সহোদর মীর মফিদুল হক, বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, ভূতত্ত্ব অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং দাতা পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এনডাউমেন্ট ফান্ডের মোট অর্থের ৩০ শতাংশ ব্যয়ে ভূতত্ত্ব বিভাগে ‘ময়নুল-ট্যালেন্ট গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ ল্যাবরেটরি’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। বাকি ৭০ শতাংশ অর্থের লভ্যাংশ থেকে গ্র্যাজুয়েট গবেষকদের পিএইচডি ও এমফিল গবেষণা, এমএস ফেলোশিপ, স্কলারশিপ এবং ফিল্ডওয়ার্ক-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়া হবে।

 

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এনডাউমেন্ট ফান্ড গঠনের জন্য দাতা পরিবারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ অনুদান ভূতত্ত্ব বিভাগের গবেষণা কার্যক্রমের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তিনি ড. মীর মুবিনুল হকের এই উদ্যোগকে অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে এগিয়ে আসার জন্য অ্যালামনাইদের প্রতি আহ্বান জানান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

শিক্ষা

আরও দেখুন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় : পুনঃ ভর্তির চক্রে শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের গণ্ডিকে বলা হয় জীবনের প্রাণকেন্দ্র। এর গতিবিধিই নির্ধারণ করে দেয় একজন শিক্ষার্থী কিভাবে তার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে, কিভাবে আঁকবে তার ভবিষ্যতের রূপরেখা। কিন্তু সেই চিত্রপটে সহসাই ধূসর আঁচড় ফেলতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনঃ ভর্তি। কারো জন্য এই ব্যাঘাত সাময়িক হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়ে উঠতে পারে দীর্ঘ মেয়াদের দুঃস্বপ্ন। যা পথভ্রষ্ট করতে পারে শিক্ষার্থীদের। ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত, এই পুনঃ ভর্তির খপ্পরে পড়ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগে সর্বশেষ চার শিক্ষাবর্ষে মোট ২৭৮ জন শিক্ষার্থী পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পুনঃ ভর্তি হয়েছেন। যা গড়ে প্রতি শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৭০ জন এবং শতকরা হিসেবে এটি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাতজনে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সহায়ক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে আরো বাড়তে পারে পুনঃ ভর্তির হার। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের একাডেমিক শাখা থেকে জানা যায়, সর্বশেষ চার শিক্ষাবর্ষের মধ্যে ২০২২-২৪ শিক্ষার্বর্ষের সর্বোচ্চ মোট ৯২ জন। সবচেয়ে কম হয়ে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৪৭ জন। এছাড়া ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ৫১ জন এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ৮৯ জন। এখানে তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই চার শিক্ষাবর্ষের হিসেবে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে পুনঃ ভর্তি ছিল ৫১ জন। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯২ জনে। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় এখানে প্রায় ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ পুনঃ ভর্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পুনঃ ভর্তির সংখ্যাটা কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৪৭ জন। অর্থাৎ ২০২২-২৩ সালের তুলনায় প্রায় ৪৮.৯১% হ্রাস পেয়েছে। যা কিছুটা স্বস্তির হলেও পুনরায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৯ জনে। ফলে এখানে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় প্রায় ৮৯.৩৬% বৃদ্ধি ঘটেছে। আরো জানা যায়, এরমধ্যে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে সর্বোচ্চ ১৭ জন। যেখানে লোক প্রশাসন বিভাগে পাঁচজন, প্রত্নতত্ত্বে ৫ পাঁচজন, অর্থনীতিতে চারজন, নৃবিজ্ঞানে দুইজন এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে একজন। পরবর্তীতে বিজ্ঞান অনুষদের ১৪ জনের মধ্যে গণিত বিভাগে চারজন, রসায়নে চারজন, পদার্থবিজ্ঞানে তিনজন, ফার্মেসীতে দুইজন এবং পরিসংখ্যানে একজন। এ ছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ১৩ জনের মধ্যে ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগে ছয়জন, একাউন্টিংয়ে এবং মার্কেটিংয়ে তিনজন করে, ফিনান্সে একজন। এ ছাড়া আইন অনুষদভুক্ত আইন বিভাগে একজন, প্রকৌশল অনুষদভুক্ত আইসিটি বিভাগে পাঁচজন এবং কলা ও মানবিক অনুষদভুক্ত ইংরেজি বিভাগে একজন পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পুনঃ ভর্তি হয়েছেন। পরবর্তী ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মোট ৯২ জনের মধ্যে শুধু বিজ্ঞান অনুষদেরই ৩৬ জন পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পুনঃ ভর্তি নিয়েছেন। এর মধ্যে গণিতে ১৩ জন, রসায়ন এবং পরিসংখ্যানে সাতজন, পদার্থবিজ্ঞানে ছয়জন এবং ফার্মেসীতে তিনজন করে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ২২ জনের মধ্যে লোক প্রশাসন বিভাগে সাতজন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ছয়জন, অর্থনীতিতে পাঁচজন, প্রত্নতত্ত্বে তিনজন এবং নৃবিজ্ঞানে একজন। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ১৮ জনের মধ্যে মার্কেটিংয়ে সাতজন, একাউন্টিং এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগে চারজন করে এবং ফিনান্সে তিনজন। এছাড়া কলা ও মানবিক অনুষদের সাত জনের মধ্যে বাংলায় চারজন এবং ইংরেজিতে তিনজন করে, প্রকৌশল অনুষদভুক্ত আইসিটিতে পাঁচজন এবং আইন অনুষদভুক্ত আইন বিভাগে চারজন। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মোট ৪৭ জনের মধ্যে বিজ্ঞান অনুষদের পদার্থবিজ্ঞানে সাতজন, গণিতে ছয়জন, রসায়নে তিনজন এবং পরিসংখ্যানে একজন নিয়ে মোট ১৭ জন। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১২ জনের মধ্যে অর্থনীতি এবং প্রত্নতত্ত্বে পাঁচজন করে এবং লোক প্রশাসন এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় একজন করে। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সাতজনের মধ্যে একাউন্টিং এবং মার্কেটিংয়ে দুইজন করে ব্যবস্থাপনা শিক্ষায় তিনজন। এ ছাড়া কলা ও মানবিক অনুষদের পাঁচজনের মধ্যে বাংলায় তিনজন এবং ইংরেজিতে দুজন। প্রকৌশল অনুষদের চারজনের মধ্যে সিএসইতে তিনজন এবং আইসিটিতে একজন এবং আইন অনুষদভুক্ত আইন বিভাগে একজন পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পুনঃ ভর্তি নিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মোট ৮৯ জনের মধ্যে বিজ্ঞান অনুষদের গণিত বিভাগে ১০ জন, পদার্থবিজ্ঞান ও ফার্মেসীতে নয়জন করে এবং পরিসংখ্যান ও রসায়নে ৪ জন করে মোট ৩৬ জন। এছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ২৪ জনের মধ্যে প্রত্নতত্ত্বে নয়জন, লোক প্রশাসন, নৃবিজ্ঞান ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় চারজন করে এবং অর্থনীতিতে তিনজন। এছাড়াও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ৯ জনের মধ্যে মার্কেটিংয়ে ৪ জন, ব্যবস্থাপনায় ৩ জন এবং ফিনান্সে ২ জন এবং কলা ও মানবিক অনুষদের ৮ জনের মধ্যে বাংলায় ৫ জন, ইংরেজিতে ৩ জন, আইন অনুষদভুক্ত আইন বিভাগে ৮ জন, প্রকৌশল অনুষদের ৪জনের মধ্যে আইসিটিতে ৩ জন, সিএসইতে ১ জন। এখানে ৪ শিক্ষাবর্ষের তথ্য বিশ্লেষণে আরো পাওয়া যায়, অনুষদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পুনঃ ভর্তির ঘটনা ১০৩টি ঘটেছে বিজ্ঞান অনুষদে বিজ্ঞান অনুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৫ টি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। পরবর্তী সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৭৫ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২২ জন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ৪৭ জনের মধ্যে মার্কেটিং এবং ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগে সর্বোচ্চ ১৬ জন করে। প্রকৌশল অনুষদের ১৮ জনের মধ্যে আইসিটি বিভাগে সর্বোচ্চ ১৪ জন এবং আইন অনুষদের একমাত্র বিভাগ আইনে ১৪ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুনঃ ভর্তির যাত্রা শুরু হয় সেকেন্ড টাইম প্রস্তুতি দিয়ে। প্রথম বর্ষে পুনঃ ভর্তি প্রবণতার সবচেয়ে বড় একটি কারণ এটি। ক্রমাগত উদ্বেগ বাড়াচ্ছে প্রথম বর্ষের পরিস্থিতি। অনেকেই ভালো বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ভালো বিষয়ের আশায় শুরুতে একাডেমিকের বাহিরের পড়াশোনায় মনোযোগী থাকে, ফলে পরবর্তীতে পুনঃ ভর্তি ছাড়া দ্বিতীয় কোন সুযোগ থাকে না। বিজ্ঞান অনুষদের বেশি পুনঃ ভর্তির কারণ সম্পর্কে জানা যায়, কঠিন ও সময়সাপেক্ষ সিলেবাস, ল্যাবভিত্তিক ক্লাস ও পরীক্ষার চাপ, কোর্স পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার হার বেশি, পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির প্রস্তুতির দ্বৈত চাপ, দীর্ঘ সময় পড়াশোনা, পরীক্ষা ও প্রজেক্টের চাপে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে ইত্যাদি। এছাড়া সার্বিকভাবে আরো কারণের মধ্যে রয়েছে, বিভিন্ন কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বহিষ্কার, আর্থিক অসচ্ছলতা, মানসিক অবসান, হতাশা, অসুস্থতা, ইংরেজি ভার্সনে পড়াশোনা, এক বিভাগে পড়াশোনা করে থেকে অন্য বিভাগের সাবজেক্টে ভর্তি হওয়ায় তৈরিকৃত চাপ। এছাড়া রয়েছে অ্যাকাডেমিক পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারা এবং ভাষাগত সমস্যা ইত্যাদি। এই সমস্যাটির সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এবং পুনঃ ভর্তি পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা সামলানোর জন্য প্রয়োজন হয় মানসিক উন্নতির গাইডলাইন। যা তাদেরকে সাহায্য করতে পারে হতাশা কমানোতে। কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ উল্টো অবস্থানে। এখানে শিক্ষার্থীদের মানসিক দেখভালের জন্য নেই কোন ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে শেষ কবে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে সভা-সেমিনার কিংবা কাউন্সেলিং ক্যাম্পেইন হয়েছে বলা দুষ্কর। ফলে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পাওয়ার কিছুই নেই। নাম এবং শিক্ষাবর্ষ প্রকাশ না করার শর্তে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই রিএড আমার জন্য এখনো দুঃস্বপ্ন হয়ে আছে। হুট করে জুনিয়রদের সাথে ক্লাস করতেও শুরুতে খুব অস্বস্তি লাগতো। সেকেন্ড টাইম প্রিপারেশনের জন্য এখানে ক্লাস-পরীক্ষা কিছুই করি নাই। এখন বুঝতে পারছি, তখন ভুল করেছিলাম। তখন অন্তত ক্লাসগুলো করা থাকলে ইয়ার লস খেতাম না।’ পুনঃ ভর্তি হওয়া গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা নতুন অনেককিছুই বুঝতে পারে না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যদি তাদের সঠিক গাইডলাইন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে।’ এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টি পরিকল্পনায় রেখেছি। আমরা নতুন বর্ষের শিক্ষার্থীদের সাথে ধাপে ধাপে কাজ করা পরিকল্পনা করেছি। শুরুতে তাদেরকে একটি ফর্মে প্রশ্নের মাধ্যমে তাদের মানসিক অবস্থা গুলো জানার চেষ্টা করব। তারপর ধাপে ধাপে তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী গাইডলাইন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এতে করে প্রথম বর্ষে তাদের সমস্যাগুলো সমাধানে সহায়ক হবে। আমরা পরিকল্পনা করেছি, সামনে সেগুলো বাস্তবায়ন করব ইনশাল্লাহ।’

মারিয়া রহমান জুন ০২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন হতে পারে: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: ঢাবি জনসংযোগ দপ্তর

গবেষণার উন্নয়নে ঢাবি ভূতত্ত্ব বিভাগে ১ কোটি টাকার এনডাউমেন্ট ফান্ড

ছবি: ঢাবি জনসংযোগ দপ্তর

ব্লু ইকোনমি উন্নয়নে ঢাবি ও চীনের যৌথ গবেষণা কার্যক্রমের উদ্বোধন

ছবি: সংগৃহীত
এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়ল

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ফের ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিলম্ব ফিসহ আগামী ১৫ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত আগ্রহীরা ফরম পূরণ করতে পারবেন।   সোমবার (১ জুন) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণ আগামী ১৫ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো এবং ‘সোনালী সেবার’ মাধ্যমে ফি পরিশোধের সর্বশেষ তারিখ ১৬ জুন নির্ধারণ করা হলো।   এ সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইতালিতে উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত

বৃত্তিতে এআইসহ নানা বিষয়ে পাকিস্তানে পড়াশোনার সুযোগ

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি নয়: মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের ২টি জামাত

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দু’টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।   ঢাবি’র জনসংযোগ দফতরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামি’আয় ঈদুল আযহার দু’টি জামাত হবে। প্রথম জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় এবং দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়।   বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন জ্যেষ্ঠ ইমাম খতিব হাফেজ মাওলানা নাজীর মাহমুদ এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের জ্যেষ্ঠ মোয়াজ্জিন এম এ জলিল।   এছাড়াও, ঈদের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মসজিদে সকাল ৭টায়, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল লনে সকাল ৮টায় এবং ফজলুল হক মুসলিম হল মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ঢাবিতে একাডেমিক প্রোগ্রাম চালু হচ্ছে

ছবি: সংগৃহীত

শনিবার থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫ দিনের ঈদ ছুটি

ছবি : সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষার জন্য জাপান যেতে যেসব ধাপ জানা জরুরি

0 Comments