জাতীয়

বাংলাদেশে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও পরিবেশ সুরক্ষায় নাগরিক সমাজকে শক্তিশালী করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে নতুন উদ্যোগের উদ্বোধন

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে Welthungerhilfe (WHH) আজ ঢাকার হোটেল লেকশোর গ্র্যান্ডে আয়োজিত একটি জাতীয় পর্যায়ের কর্মশালার মাধ্যমে "Empowering Civil Society for Climate Justice and Environment Protection" প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায়ের নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলো (Civil Society Organizations - CSOs)-কে শক্তিশালী করে জলবায়ু ন্যায়বিচার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

 

Welthungerhilfe-এর নেতৃত্বে এবং Educo, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন উত্তরণ-এর সহযোগিতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পের মাধ্যমে তৃণমূল সংগঠনগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, অ্যাডভোকেসি দক্ষতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতামূলক নেটওয়ার্ক জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় নেতৃত্বাধীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক জলবায়ু কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় কাজ করা হবে।

 

উদ্বোধনী কর্মশালায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, তরুণ নেতৃত্ব, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় সংলাপ পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করাই ছিল আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

 

উদ্বোধনী অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন Welthungerhilfe Bangladesh-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর Jonas Wiahl এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম পরে Welthungerhilfe Bangladesh-এর Head of Project আফসারী বেগম প্রকল্পের সার্বিক পরিচিতি তুলে ধরেন। এছাড়া Educo Bangladesh-এর Head of Programme তাজিন হোসেন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত "Insights from Communities" পর্বে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতা মতামত উপস্থাপন করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের Edwin Koekkoek, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মোহাম্মদ জাকারিয়া, পরিবেশ, বন জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ সাফিউল্লাহ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের রেজওয়ানুর রহমান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মো. মনিরুল ইসলাম

 

প্রধান অতিথির বক্তব্য

পরিবেশ, বন জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন,

"আমাদের আরও বেশি ফলাফলের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তাদের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য আমি তাদের প্রশংসা করি। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ফলাফলমুখী একজন নেতা, যিনি জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। দেশের মানুষ দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবেএমন যেকোনো উদ্যোগে আমরা সহযোগিতা করব।"

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধির বক্তব্য

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের Edwin Koekkoek বলেন,

"জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানবাধিকার উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নাগরিক অংশগ্রহণ জোরদারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আজ এই প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি যে, জলবায়ু কার্যক্রম যেন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়তা করেসেই লক্ষ্যে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।"

 

Welthungerhilfe Bangladesh-এর কান্ট্রি ডিরেক্টরের বক্তব্য

Jonas Wiahl বলেন,

"একসঙ্গে কাজ করে, একে অপরের কাছ থেকে শিখে এবং সম্মিলিত শক্তি গড়ে তুলে আমরা দীর্ঘস্থায়ী রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনতে পারব বিষয়ে আমরা নিশ্চিত। প্রকল্পের সাফল্য শুধু কার্যক্রমের মাধ্যমে নয়, বরং অংশীদারিত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং আমরা একসঙ্গে যে ইতিবাচক পরিবর্তন অর্জন করব, তার মাধ্যমেও পরিমাপ করা হবে।"

 

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালকের বক্তব্য

শাহীন আনাম বলেন,

"এই প্রকল্পের লক্ষ্য কোনো একক দাতা, অংশীদার বা অন্য কোনো পক্ষের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়। এর জন্য নাগরিক সমাজ, স্থানীয় সরকার এবং নাগরিকদের সংগঠনগুলোর মধ্যে উচ্চমাত্রার সহযোগিতা প্রয়োজন।"

শাহীন আনামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের একটি প্যানেল আলোচনায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, পরিবেশগত সুশাসন জোরদার, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচকরা অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই জলবায়ু সমাধান নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ, উন্নয়ন সহযোগী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

প্রকল্পের আওতায় Financial Support to Third Parties (FSTP)-এর মাধ্যমে সরাসরি ১৮টি তৃণমূল নাগরিক সমাজ সংগঠনকে সহায়তা প্রদান করা হবে। নির্বাচিত সংগঠনগুলোর মধ্যে নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংগঠন, দলিত সংগঠন এবং যুব সংগঠন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্কিং দক্ষতা, প্রমাণভিত্তিক তথ্য উৎপাদন এবং জলবায়ু-সম্পর্কিত মানবাধিকার বিষয়ক পর্যবেক্ষণ মনিটরিং সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে, যাতে তারা নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া পরিবেশগত সুশাসনে আরও কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।

 

অনুষ্ঠানের বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু একটি পরিবেশগত সংকট নয়; এটি ন্যায়বিচার, সমতা এবং মানবাধিকারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তারা উল্লেখ করেন, স্থানীয় সংগঠন সম্মুখসারির জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়ন করা জরুরি, যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাবভোগী মানুষ তাদের জীবনে প্রভাব ফেলে এমন নীতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন।

 

এই প্রকল্প বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অব্যাহত প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। বাস্তবায়নকারী অংশীদাররাও প্রকল্পটির মূল নীতিমালা হিসেবে স্থানীয়করণ (Localization), লিঙ্গ সমতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক নেতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

নির্বাচনী এজেন্টের ব্যাংক হিসাব দাখিল বাধ্যতামূলক করল ইসি

নির্বাচনী ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য দাখিলের ক্ষেত্রে প্রার্থীর পাশাপাশি প্রার্থীর নিয়োজিত নির্বাচনী এজেন্টের ব্যাংক হিসাব নম্বর অন্তর্ভুক্ত করার বিধান করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ সংশোধন করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন গতকাল বুধবার জারি করা হয়েছে।    এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৯৪-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধন করা হয়েছে।   সংশোধিত বিধানের ফলে মনোনয়নপত্রের ফরম-১-এ নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে প্রার্থী অথবা প্রার্থীর নিয়োজিত নির্বাচনী এজেন্টের হিসাব নম্বর উল্লেখের বিধান যুক্ত হয়েছে।   নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর সংশোধনের পাশাপাশি প্রার্থীর হলফনামা সংক্রান্ত বিধানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালায় প্রার্থীর হলফনামার সংযুক্তি-১-এর ক্রমিক ৩(খ)-এর বিশেষ দ্রষ্টব্য অংশে পরিবর্তন আনা হয়েছে।    আগে যে তথ্য ‘সংযুক্ত করিতে হইবে’ বলা হয়েছিল, সংশোধনের পর তা ‘দাখিল ঐচ্ছিক মর্মে বিবেচিত হইবে’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এ ছাড়া হলফনামার সংযুক্তি-১-এর ক্রমিক ৩(গ)-এ ‘অভিযুক্ত’ শব্দটির ব্যাখ্যাও যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত বলতে সেই আসামিকে বোঝাবে, যার বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক অভিযোগ (charge) গঠিত হয়েছে।   হলফনামার আরেকটি ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়করসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার বিষয়টি ঐচ্ছিক করা হয়েছে।    সংশোধিত বিধিমালায় ক্রমিক ১০-এর বিশেষ দ্রষ্টব্যে বলা হয়েছে, ছকের ক্রমিক ২, ৩ ও ৪-এ উল্লিখিত যথাক্রমে স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়করসংক্রান্ত তথ্য প্রদান ঐচ্ছিক হিসেবে বিবেচিত হবে।   নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রতীকের তালিকাতেও নতুন করে বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে।    সংশোধিত বিধি ৯-এর উপ-বিধি (১) অনুযায়ী, বিধির অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে অনুচ্ছেদ ২০-এর দফা (১)-এর অধীন স্থগিত প্রতীক ব্যতীত তালিকাভুক্ত প্রতীকগুলোর মধ্য থেকে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে যে কোনো একটি প্রতীক বরাদ্দ করা যাবে।   গেজেটে মোট ১২০টি নির্বাচনী প্রতীকের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকার ৬৫ নম্বর প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’ স্থগিত উল্লেখ করা হয়েছে।    সংশোধিত বিধানে স্থগিত প্রতীক বাদ দিয়ে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অংকের প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয়ের সিংহভাগই ঋণ নির্ভর

আগামী মাসে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যাবে জাতীয় গ্রিডে: রুশ রাষ্ট্রদূত

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস ওআইসির

নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি

নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮ সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত বিধিমালায় আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীক স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ ও রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের জন্য ১২০টি প্রতীক সংরক্ষণ করা হয়েছে। একক প্রার্থী থাকা আসনে ভোটারদের মতামত জানানোর সুযোগ দিতে যুক্ত করা হয়েছে ‘না’ প্রতীক।   বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২-এর আর্টিকেল ৯৪-এ দেয়া ক্ষমতাবলে এ অধিকতর সংশোধনী প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।   প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিধিমালার বিধি-৯ এর উপবিধি (১) প্রতিস্থাপন করে নতুন প্রতীক তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ২০-এর দফা (১) অনুযায়ী, স্থগিত প্রতীক বাদ দিয়ে সংরক্ষিত তালিকা থেকে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।   সংরক্ষিত ১২০টি প্রতীকের মধ্যে রয়েছে—আনারস, আপেল, আম, আলমিরা, ঈগল, উট, গরুর গাড়ি, গাভী, গামছা, গোলাপ ফুল, ঘণ্টা, ঘুড়ি, ট্রাক, ট্রাক্টর, ডাব, ড্রেসিং টেবিল, ঢেঁকি, তারা, ফুলের মালা, বই, বক, বটগাছ, সাইকেল, বাঘ, রকেট, রিকশা, রেল ইঞ্জিন, লাঙল, লিচু, শাপলা কলি, উদীয়মান সূর্য, একতারা, কবুতর, কম্পিউটার, কলম, কলস, কলার ছড়ি, কাঁচি, কাঁঠাল, কাপ-পিরিচ, কাস্তে, কুঁড়ে ঘর, কুড়াল, কুমির, কুলা, কেটলি, কোদাল, খেজুর গাছ, ঘোড়া, চশমা, চাকা, চাবি, চিংড়ি, চিরুনি, চেয়ার, ছড়ি, ছাতা, জগ, জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেবিল ল্যাম্প, টেলিফোন, টেলিভিশন, তালা, থালা, দাঁড়িপাল্লা, দালান, দেওয়াল ঘড়ি, দোতলা বাস, দোয়াত কলম, দোলনা, ধানের শীষ, নোঙ্গর, নৌকা (স্থগিত), পাগড়ি, পানির ট্যাপ, পালকি, প্রজাপতি, ফুলের ঝুড়ি, ফুটবল, ফুলকপি, বালতি, বেবী টেক্সি, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব, মই, মগ, ময়ূর, মশাল, মাইক, মাছ, মাথাল, মিনার, মোটরগাড়ি (কার), মোটরসাইকেল, মোড়া, মোবাইল ফোন, মোমবাতি, মোরগ, সিংহ, সিঁড়ি, সূর্যমুখী ফুল, সেলাই মেশিন, সোনালি আঁশ, সোফা, হরিণ, হাঁস, হাত (পাঞ্জা), হাতঘড়ি, হাতপাখা, হাতি, হাতুড়ি, হারিকেন, হুক্কা, হেলিকপ্টার, হ্যান্ডশেক ও ‘না’ প্রতীক।   এছাড়া প্রজ্ঞাপনে মনোনয়নপত্র ও হলফনামা দাখিলের বিধিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। তফসিল-১ এর ফরম-১ এর তৃতীয় অংশে নির্বাচনি ব্যয়ের জন্য ব্যাংক হিসাব নম্বরের পাশাপাশি প্রার্থী অথবা তার নির্বাচনি এজেন্টের হিসাব নম্বর যুক্ত করার শর্ত রাখা হয়েছে।   হলফনামার সংযুক্তি-১ এর ৩(খ) অংশে বিশেষ দ্রষ্টব্যের ‘সংযুক্ত করিতে হইবে’ বাক্যটি পরিবর্তন করে ‘দাখিল ঐচ্ছিক মর্মে বিবেচিত হইবে’ করা হয়েছে।   এছাড়া ৩(গ) অংশে নতুন দ্রষ্টব্য যুক্ত করে বলা হয়েছে, ‘অভিযুক্ত’ বলতে এমন আসামিকে বোঝাবে, যার বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ বা চার্জ গঠন করেছে।   প্রজ্ঞাপনের ১০ নম্বর ক্রমিকের নতুন দ্রষ্টব্য অনুযায়ী, প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং নির্ভরশীলদের আয়করসংক্রান্ত তথ্য দাখিল করাও ঐচ্ছিক হিসেবে গণ্য হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চলচ্চিত্র খাতের উন্নয়নে নেওয়া হচ্ছে তিন মেয়াদি পরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত

পোশাকশিল্পের সংকট নিরসনে জামায়াত আমিরের সঙ্গে বিজিএমইএ নেতাদের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড, আগস্টেই প্রবৃদ্ধি ২৫.৬৫ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত
সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনছে সরকার

জ্বালানি নিরাপত্তা নির্বিঘ্ন রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুমোদিত পরিমাণের অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জিটুজি পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে প্রায় ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।    বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ে জিটুজি প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত পরিমাণের বাইরে আরও ৬ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে গ্যাস অয়েল ও জেট ফুয়েল থাকবে।   জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জন্য জিটুজি পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল আমদানির যে পরিমাণ আগে অনুমোদিত হয়েছিল, তার অতিরিক্ত ১০ শতাংশ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আরেকটি বড় প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।   জিটুজি চুক্তির আওতায় চীনের ইউনিপেক, ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি ও চীনের পেট্রোচায়না থেকে তেল আমদানি করা হবে। এ জন্য মোট চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানিও অব্যাহত রয়েছে।    বুধবারের বৈঠকে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১০ নভেম্বর একটি অতিরিক্ত এলএনজি কার্গো কেনার দরপ্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়নে ৩ প্রতিষ্ঠানকে দেড় হাজার কোটি টাকা দেবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

ব্যাটারিচালিত তিন-চাকার যান বন্ধ নয়, আসছে নীতিমালার আওতায়: প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বেসামরিক বিমান খাতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব সরকারের: বিমানমন্ত্রী

0 Comments