জাতীয়

এবারের নির্বাচন দেশ গঠনের নির্বাচন : তারেক রহমান

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের এই নির্বাচনটাকে দেশ গঠনের নির্বাচন হিসেবে চিন্তা করতে হবে। দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখে নির্বাচন। এই নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের মানুষ আবারো ভোট দেবেন। ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। কিন্তু শুধু ভোট দিলেই চলবে না। আমাদের এই নির্বাচনটাকে দেশ গঠনের নির্বাচন হিসেবে চিন্তা করতে হবে। দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে। এই দেশ যদি আমরা গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে আমরা কোথায় যাব? আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আমাদের প্রথম ঠিকানা বাংলাদেশ, শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ।’

আজ শনিবার দুপুরে নীলফামারী শহরের বড় মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এ কথা বলেন। এ সময় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বেকার সমস্যা দূরীকরণে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তারেক রহমান। 

তিনি জানান, নীলফামারীতে ইপিজেড আছে। এ ইপিজেডকে আরো বড় করা হবে। আরো কলকারখানা গড়ে তোলা হবে। এলাকায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে; হয় তারা বিদেশে যাবেন অথবা দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করবেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘আগামী দিনে রাজনীতি হবে দেশ পুনর্গঠনের রাজনীতি, রাষ্ট্র গঠনের রাজনীতি। আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সকলকে সাথে নিয়ে দেশ গঠন করতে চাই। সকলকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। মানুষকে আমরা বিবেচনা করবো তার মেধা, তার যোগ্যতা দিয়ে। তার বর্ণ দিয়ে নয়, তার ধর্ম দিয়ে নয়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বহু বছর ধরে আমরা আন্দোলন করেছি। আজ সেই অধিকার ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। এখন আমাদের মূল কাজ হলো দেশকে পুনর্গঠন করা। আমাদের টার্গেট দেশের কোটি তরুণদের তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা, সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষের ন্যূনতম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। দেশের মানুষ, বিশেষ করে মা-বোনেরা যাতে নির্বিঘ্নে রাস্তায় চলাফেরা করতে পারে, নিরাপদে ব্যবসা বাণিজ্য করতে পাওে, সেই পরিবেশ আমাদেরকেই তৈরি করতে হবে।’

মানুষের ভোটাধিকারের আন্দোলন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের ভোটের অধিকারকে ডাকাতি করে নিয়ে গিয়েছিল এক দল। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করার জন্য বিএনপিসহ বহু দলের নেতাকর্মী, বহু সাধারণ মানুষ ওই স্বৈরাচারের সময় জীবন দিয়েছে। অত্যাচার নির্যাতনে শিকার হয়েছে, মামলা-মোকাদ্দমার শিকার হয়েছে। কতগুলো নিরীহ মানুষকে রাতের অন্ধকারে মেরে ফেলা হয়েছে, এই নীলফামারী হচ্ছে তার সাক্ষী।’

এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে গুরত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান দরকার। এই এলাকার ইপিজেডটাকে (উত্তরা ইপিজেড) আরো বড় করতে চাই। এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে আরো কলকারখানা তৈরি করতে চাই। ছেলেমেয়েদের  ট্রেনিংয়ের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করতে চাই। যেখানে এলাকার ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন বিষয়ে ট্রেনিং গ্রহণ করবে এবং দক্ষ শ্রমিকে তারা পরিণত হবে। এতে করে তারা নিজেরা কিছু করতে পারবে এবং বিদেশে চাকরির ব্যবস্থা করতে পারবে’।

ঘরে ঘরে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়া জরুরি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘১২ তারিখে ধানের শীষ জয়যুক্ত হলে আমরা এই দেশের মা-বোন এবং গৃহিণীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে চাই। আমরা প্রত্যেকটি নারীর কাছে যেই ধর্মের হোক সে যদি বাংলাদেশের একজন মা হয়ে থাকে , বাংলাদেশের একজন গৃহিণী হয়ে থাকে, আমরা তার কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রত্যেকটি খেটে খাওয়া পরিবারের মা প্রতি মাসে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পাবে।’

কৃষকদের জন্য পরিকল্পনার ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই এলাকার বহু মানুষ কৃষির সাথে জড়িত। এই কৃষকরা যদি ভালো থাকে, বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে। কৃষকরা যাতে ভালো থাকে, তারা যাতে সহজে কৃষিজাত দ্রব্য, বীজ, সার প্রয়োজন মতো পেতে পারে, সেজন্য আমরা কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যার মাধ্যমে সহজে কৃষি ঋণ পেতে পারবে। যার মাধ্যমে সে সহজে কীটনাশক ওষুধ, বীজ, সার সহজে পাবে। শুধু তাই নয়, ১২ তারিখে বিএনপি সরকার গঠন করলে সারা বাংলাদেশে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করবো।’ এসময় তিনি মসজিদের ইমাম এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ বিএনপি সরকার গঠন করলে সরকারের অন্যতম কাজ হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। যাতে করে এই এলাকা আবার সবুজ শস্য-শ্যামলা হয়ে উঠতে পারে, খাল-বিল যাতে পানিতে ভরে যায়। এলাকার মানুষের যেন পানির কষ্ট না হয়। সেজন্য বিএনপি সরকার গঠনের সাথে সাথে দ্রুততার সাথে আমরা তিস্তা মহা পরিকল্পনার কাজ শুরু করতে চাই।’

এসময় তিনি নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজের উন্নয়ন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়ন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা জানান।

নির্বাচনে একটি দল বিভ্রান্তি ছড়াছে উল্লেখ কওে তারেক রহমান বলেন, ‘একটি দলকে আমরা খেয়াল করছি সমাজের বিভিন্ন মানুষকে তারা ভয় দেখাচ্ছে, বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে তারা। আমি তাদের উদ্দেশ্যে পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই— বাংলাদেশের কোনো ভোটারকে যারা ভয় দেখাবে, যারা তাদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, কারো সাথে অন্যায় হলে আমরা সেই অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

দেশের মালিক জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ গঠনের যে পরিকল্পনার কথা আপনাদের সামনে বললাম, সেগুলো তখনই বাস্তবায়ন সম্ভব, যখন এই মাঠ ভরা লোক, এই শহর ভরা লোক, এই সমগ্র জেলার মানুষ আমাদেরকে সমর্থন দেবে। আমি ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে এসেছি। আপনারা যদি ধানের শীষকে জয়যুক্ত করে সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে যে পরিকল্পনার কথা আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি, সেই পরিকল্পনা আমরা ইনশাল্লাহ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।

প্রতিপক্ষের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আজকে এখানে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সম্পর্কে অনেক কথাই বলতে পারতাম। কিন্তু, ওইসব কথা বলে কি জনগণের উপকার হতো? মানুষ জানতে চায় যে, কোন রাজনৈতিক দল তাদের জন্য কী করবে। দেশ গঠনে কী কাজ করবে,  মানুষের জীবনযাত্রা পরিবর্তনের জন্য কী কাজ করবে? আজ বিএনপি একমাত্র দল, যারা পরিষ্কারভাবে দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে যে, বিএনপি মা-বোন, কৃষক, তরুণ, যুবকদের জন্য কী করবে। ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা, দেশের মানুষের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পর্কে কী করবে, সকল পরিকল্পনা বিএনপি জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় আপনাদের সঙ্গে নিয়ে খাল খননের কাজ শুরু করতে চাই। আসুন আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি— যাতে আল্লাহ আমাদেরকে যে সকল পরিকল্পনা আমরা এলাকার জন্য, দেশের জন্য, মানুষের জন্য গ্রহণ করেছি, সে সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি যেন আমাদেরকে সুযোগ দেন।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মো. মিজানুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম, নীলফামারী-২ (সদর) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী, নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ আলী, নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহেল পারভেজ, মোস্তফা হক প্রধান, রিয়াজুল ইসলাম, সদস্য আবু মোহাম্মদ সোয়েম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলমগীর সরকার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম, ভগিনীপতি মো. রফিকুল ইসলাম। পরে নীলফামারীর চারটি আসনে বিএনপির তিন প্রার্থী ও শরিক দলের এক প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।

এর আগে তারেক রহমান দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে শহরের বড় মাঠ মিনি স্টেডিয়ামে নামেন। দুপুর ২টার দিকে তিনি জনসভাস্থলে আসেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। দুপুর ২টা ৭ মিনিটে  তারেক রহমান বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। ২১ মিনিট বক্তব্য রাখেন তিনি। এরপর দুপুর ২টা ৪০ মিনিট তিনি হেলিকপ্টারে করে দিনাজপুর জেলার বিরামপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

বুড়িগঙ্গা নদীতে নির্মিত বসিলা ব্রিজ। ছবি: সংগ্রহীত
এক সপ্তাহে নদী থেকে উদ্ধার ১৭ মরদেহ, আতঙ্ক এলাকাজুড়ে

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদী থেকে গত ৭ দিনে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। এ সময় তিনটি হত্যা মামলাসহ মোট ৯৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে নৌ পুলিশ। নৌ পুলিশ জানায়, গত সাত দিন দেশের বিভিন্ন নদীতে অভিযানে ২ কোটি ৩১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৭৫ মিটার অবৈধ জাল, ২ হাজার ৮৯৬ কেজি মাছ, ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ বাগদা চিংড়ি রেণু, ৪৯০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয় এবং নদী থেকে ১৭৯টি ঝোপঝাড় ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া নৌ পুলিশের এই অভিযানে বৈধ কাগজপত্র না পাওয়ায় ১০৪টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে নৌ-আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযানকালে ২টি ড্রেজার জব্দ করা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, সাত দিনব্যাপী এই অভিযানে ৩০২ জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৬৩টি মৎস্য আইন, ১৩টি বেপরোয়া গতি আইন, ১টি বালুমহাল এবং ১টি মাদক, ১১টি অপমৃত্যু, ১টি ডাকাতি, ১টি অপহরণ, ১টি চাঁদাবাজি, ১টি বিশেষ ক্ষমতা আইন ও ৩টি হত্যা মামলাসহ মোট ৯৬টি মামলা দায়ের এবং ১৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২২, ২০২৬
মন্ত্রিসভার বৈঠক। ছবি : সংগৃহীত

জাপানের সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত

ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে ঢাকা ও আশপাশের জেলায় বিজিবি মোতায়েন

ছবি: সংগৃহীত

ড. ইউনূসের সময় নিয়োগ পাওয়া ভিসিদের পদত্যাগ ও পুনর্বিন্যাস: কারা কোথায় আছেন

ছবি: সংগৃহীত
জাপানের সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা

বাংলাদেশ ও সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর’ বিষয়ক চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে ‘ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স’-এর ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিতে স্বাক্ষরের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।   বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার অষ্টম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।   বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাপানের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তি অনুমোদন করা হয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত বিষয় প্রকাশ করা হয়নি।   অন্যদিকে, সাতটি বৃহৎ বিড়াল প্রজাতির সুরক্ষায় গঠিত বৈশ্বিক জোট ‘ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স’-এর ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।   ২০২৩ সালের এপ্রিলে গঠিত এই জোটে বাঘ, সিংহ, চিতাবাঘ, তুষার চিতাবাঘ, পুমা, জাগুয়ার ও চিতা সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে জাতিসংঘের ২৪টি সদস্য রাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ এতে যুক্ত রয়েছে।   পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের সুন্দরবন-এর অন্যতম প্রধান আবাসস্থল হওয়ায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে এই জোটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চুক্তির আওতায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং অবৈধ শিকার ও বন্যপ্রাণী বাণিজ্য প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।   এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনের জন্য বৈশ্বিক চুক্তি’ বাস্তবায়নে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের খসড়া জাতীয় কর্মপরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।   মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, ২০১৮ সালে জাতিসংঘে গৃহীত এই বৈশ্বিক চুক্তিতে বাংলাদেশসহ ১৬৪টি দেশ যুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ২০২০ সালে বাংলাদেশকে এ চুক্তির ‘চ্যাম্পিয়ন দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।   বৈঠকে আরও জানানো হয়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সাতটি মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

আক্তারুজ্জামান মে ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সরকারে নতুন ‘এস আলম’ তৈরির প্রতিযোগিতা চলছে: নাহিদ ইসলাম

ছবি : সংগৃহীত

আসছে ‘বেসরকারি সার্ভিস রুলস’; চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর

রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী। ছবি : সংগৃহীত

রামিসার পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক ও থেরাপিস্ট নেবে মালদ্বীপ, ওষুধ আমদানির আগ্রহ

মালদ্বীপের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি সংখ্যক চিকিৎসক, থেরাপিস্ট, নার্স এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালদ্বীপ সরকার। একই সাথে দেশটি বাংলাদেশ থেকে সরকারি পর্যায়ে সরাসরি উচ্চমানের ওষুধ আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গিলা আলীর সাথে মালেতে অবস্থিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে এই আগ্রহের কথা জানানো হয়। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মালদ্বীপের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গিলা আলী জানান, তার দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বর্তমানে থেরাপিস্টসহ বিশেষায়িত স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবা সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৫০ জন থেরাপিস্ট প্রয়োজন। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘মালদ্বীপ সরকার বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি চিকিৎসক ও থেরাপিস্ট নিয়োগ করতে অত্যন্ত আগ্রহী।’ হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম এ বিষয়ে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বাংলাদেশি থেরাপিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়টি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে দাপ্তরিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই একদল দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী মালদ্বীপে যোগ দেবেন। সাক্ষাৎকালে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের অভূতপূর্ব অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে বাংলাদেশ থেকে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) ভিত্তিতে সরাসরি মানসম্মত ওষুধ আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের আন্তর্জাতিক মান ও উৎপাদন সক্ষমতা সরেজমিনে যাচাই করতে মালদ্বীপের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে বলেও মন্ত্রী বৈঠকে জানান। সাক্ষাৎ পরবর্তী আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান স্বাস্থ্য সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবায়ন ও আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী গিলা আলী মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশে মেডিকেল ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়ায় ধন্যবাদ জানান। এই দিকে লক্ষ্য রেখে, হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম অবহিত করেন যেÑবাংলাদেশ সরকার বর্তমানে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক কোটার অধীনে মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য ৭টি পূর্ণ অর্থায়িত শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে। তিনি মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের সাশ্রয়ী ও আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। বৈঠকে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের আর্থ-সামাজিক অবদানের প্রশংসা করেন। একই সাথে অবৈধ বা কাগজপত্রহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে আইসিইউ (আইসিইউ) সেবাসহ অন্যান্য ব্যয়বহুল জরুরি মানবিক চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করেন। উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে কৌশলগত স্বাস্থ্য সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মালদ্বীপস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ও ওষুধ আমদানির বিষয়টি নিবিড়ভাবে সমন্বয় করবে বলে জানানো হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২১, ২০২৬
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ফেরাতে চায় সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

রামিসা হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

0 Comments