প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. নিজামূল কবীর বলেছেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণস্বরূপ। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে গণমাধ্যমকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাষ্ট্রকে সঠিক পথ দেখায়।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা আজ সিলেট আঞ্চলিক তথ্য অফিসে তথ্য অধিদফতর আয়োজিত গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
নিজামূল কবীর বলেন, তথ্য অধিদফতর গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতকৃত সচেতনতামূলক বিভিন্ন কনটেন্ট, টিভিসি, থিম সং, আটটি বিভাগের আটটি আঞ্চলিক ভাষায় গানসহ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণভোট ও পোস্টাল ব্যালট সম্পর্কিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
এছাড়া গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন বিভাগে সেমিনার, কর্মশালা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করছে তথ্য অধিদফতর।
তিনি আরো বলেন, গণভোট নিয়ে তরুণরা উচ্ছ্বসিত। তরুণদের এ উচ্ছ্বাসকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি গ্রামের সাধারণ জনগণ ও নারীদের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। গণভোট কী, কেন এবং কীভাবে ভোট দিতে হবে- এসব বিষয়ে জনগণের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। তাই গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুবিধা এবং আচরণবিধি সহজভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে।
উপপ্রধান তথ্য অফিসার হাছিনা আক্তারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী, উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা নাসরীন জাহান লিপি ও মোল্লা আহমদ কুতুবুদ- দ্বীন বিভিন্ন বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন।
কর্মশালায় ইলেকট্রনিক মিডিয়া, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিকগণ তাদের মতামত ও নির্বাচন বিষয়ক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে রাজধানীর সচিবালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চমকে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূর্বঘোষণা ছাড়াই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখেন তিনি, কথা বলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এবং দেন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। 🔹 হঠাৎ প্রধানমন্ত্রীর আগমন, বিস্মিত যুগ্ম সচিব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফারজানা মান্নান তখন নিজ কক্ষে নিয়মিত কাজে ব্যস্ত। হঠাৎ তার কক্ষে প্রবেশ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। বিষয়টি সামলাতে না সামলাতেই কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে হাজির হন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। তাকে সামনে দেখে বিস্ময়ে কিছুটা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন ফারজানা মান্নান। প্রধানমন্ত্রী তার খোঁজখবর নেন এবং বলেন, “আমাদের সবাইকে মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।” কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অপচয় রোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ফারজানা মান্নান বলেন, “আমি বিস্মিত ও অভিভূত। এই মুহূর্তটি সারা জীবন মনে থাকবে, কাজের স্পৃহা আরও বাড়াবে।” 🔹 একাধিক মন্ত্রণালয়ে ঝটিকা পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের ১, ৬, ৫ ও ৩ নম্বর ভবন ঘুরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে ছিল— বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, কাজের পরিবেশ ও দাপ্তরিক কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। 🔹 বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও দায়িত্বশীলতার বার্তা পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন— অপ্রয়োজনে লাইট ও এসি ব্যবহার না করা দিনের আলো ব্যবহার বাড়ানো সরকারি সম্পদের যথাযথ সংরক্ষণ অফিসে সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করা অযথা আড্ডা পরিহার করা তিনি বলেন, “দেশকে সত্যিকারের ভালোবাসতে হলে তা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। সরকারি সম্পদ মানেই দেশের সম্পদ—এটি সবাইকে যত্নে রাখতে হবে।” 🔹 সচিবালয়ে চাঞ্চল্য, বাড়ছে কাজের গতি প্রধানমন্ত্রীর এই আকস্মিক সফরে সচিবালয়ে দিনভর আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, এতে কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বাড়বে এবং দায়িত্বহীনতার সুযোগ কমে যাবে। হঠাৎ পরিদর্শনের কারণে এখন থেকে সবাইকে আরও সতর্ক থাকতে হবে বলেও মত দিয়েছেন তারা। 🌾 ‘কৃষক কার্ড’ বাস্তবায়নে অগ্রগতি জানতে বৈঠক একই দিনে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর অগ্রগতি পর্যালোচনায় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান— ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার পরিবারের নারীদের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করা হয়েছে পর্যায়ক্রমে ৪ কোটি পরিবার এই সুবিধা পাবে আগামী মাসের মধ্যে কৃষকদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এছাড়া কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। 📌 সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শন শুধু কর্মকর্তাদের চমকেই দেয়নি, বরং প্রশাসনে শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও কর্মগতিতে নতুন বার্তা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সরাসরি তদারকি অব্যাহত থাকলে সরকারি কাজে গতি ও স্বচ্ছতা আরও বাড়বে।
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর আবারও জিরো ওয়েটিং টাইমে ফিরেছে। এতে বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষা শূন্যে নেমে এসেছে। ফলে জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম কমেছে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতি বেড়েছে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অর্জনের ফলে ব্যবসায়িক ব্যয় কমছে, সরবরাহ ব্যবস্থা আরও নির্ভরযোগ্য হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা দৃশ্যমান হচ্ছে। সমন্বিত পরিকল্পনা, নিবিড় তদারকি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে এই সাফল্য এসেছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমবার জিরো ওয়েটিং টাইম অর্জন করে চট্টগ্রাম বন্দর। এরপর অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ধারাবাহিকভাবে এ অবস্থা বজায় ছিল। তবে জানুয়ারির শেষ ভাগ থেকে ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে কর্মবিরতি ও কিছু জটিলতায় কার্যক্রমে ছন্দপতন ঘটে। পরবর্তী সময়ে পূর্ণোদ্যমে কার্যক্রম চালু হওয়ায় আবারও অপেক্ষার সময় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ঈদের ছুটির সময়ও বন্দর ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালু রাখা হয়। ঈদের আগে জাহাজের অপেক্ষার সময় ৩ থেকে ৫ দিনে উঠলেও কর্তৃপক্ষের বাড়তি নজরদারি ও সমন্বয়ের ফলে আউটার অ্যাংকরেজে অপেক্ষার সময় আবার শূন্যে নেমে আসে। এতে জাহাজ দ্রুত পণ্য ওঠানামা করে বন্দর ত্যাগ করতে পারছে। তিনি আরও বলেন, এতে শিপিং কোম্পানির সময় ও খরচ কমছে। আমদানিকারকেরা দ্রুত পণ্য পাচ্ছেন এবং রপ্তানিকারকেরা সময়মতো পণ্য পাঠাতে পারছেন। লজিস্টিকস খরচ কমায় পণ্যের বাজার মূল্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যার সুফল পাচ্ছেন ভোক্তারা। মূলত রমজান মাসের শুরু থেকেই সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ওয়েটিং টাইম শূন্যে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঈদের ছুটিতেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রোস্টার ডিউটির মাধ্যমে কার্যক্রম চালু রাখা হয়।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রতিদিন সকালে বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দপ্তরে ৪০ মিনিট অবস্থানসহ ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ অফিস কক্ষে উপস্থিত থাকা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা এবং মাঠ প্রশাসনের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে এই নির্দেশনার চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে আবশ্যিকভাবে অবস্থান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়সহ দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে এই নির্দেশনা প্রতিপালনে ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হওয়ায় নতুন করে ১১টি নির্দেশনা অনুসরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১১ দফা নির্দেশনা হলো– ১. প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে আবশ্যিকভাবে অবস্থান করতে হবে। দাপ্তরিক কর্মসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এই সময়সীমা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ২. দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। জানালা, দরজা বা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতে হবে। ৩. অফিস চলাকালে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে। ৪. এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা অবশ্যই ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখতে হবে। ৫. অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় বাতি, ফ্যান, এসি ও সকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ করতে হবে। ৬. অফিসের করিডোর, সিঁড়ি ও ওয়াশরুমের মতো স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় বাতি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ৭. অফিস সময় শেষ হওয়ার পর লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার ও এসিসহ সকল বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে। ৮. সরকারি নির্দেশনা ব্যতিরেকে সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। ৯. জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী হতে হবে। ১০. অফিস কক্ষ, করিডোর, টয়লেট, সিঁড়ি ও সিঁড়ির হাতল নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ১১. এসব নির্দেশনা প্রতিপালন ও পর্যবেক্ষণের (মনিটরিং) জন্য সকল দপ্তর, সংস্থা ও কার্যালয়ে একটি করে ‘ভিজিল্যান্স টিম’ গঠন করতে হবে।