শিক্ষা

এবার কি সময়মতো বই মিলবে শিক্ষার্থীদের?

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার রেওয়াজে যে ছেদ ঘটেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তা কি উতরাতে পারবে বিএনপি সরকার?

 

প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণির বই ছাপার দরপত্র ইতোমধ্যেই আহ্বান করা হয়েছে। তবে দরপত্র উন্মুক্ত ও চূড়ান্ত করা, মূল্যায়ন, মন্ত্রণালয়ে ও সরকারি ক্রয় কমিটির অনুমোদনের পর বই ছাপার কাজ শুরু হতে সেপ্টেম্বর গড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

যদিও বছরের অর্ধেক চললেও পাঠ্যক্রম পরিমার্জনের কাজ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আগামী বছর যে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত হতে যাচ্ছে, সেগুলোর লেখার কাজও এখনো শেষ হয়নি।

 

এমন বাস্তবতায় বই ছাপা শেষে করে বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলছেন, এবার বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছবে।

 

তার ভাষ্য, বার্ষিক পরীক্ষার সময়ই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নতুন শ্রেণির পাঠ্যবই হাতে পাবেন।

 

সরকার নভেম্বরের মধ্যেই বই ছাপার কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

 

নানা জটিলতা থাকলেও সেই এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে বই ছাপানো ও সরবরাহের তদারকি প্রতিষ্ঠান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

 

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বড়দিনের আগেই পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। এজন্য প্রচলিত সময়ে যে কাজে যতটুকু সময় প্রয়োজন হতো তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

“আশা করছি, আমরা নির্ধারিত সময়ে বই ছাপার কাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে পারব। এজন্য সব মহলের সহযোগিতা চাই।”

 

শিক্ষাক্রম পরিমার্জন চূড়ান্ত হয়নি, নতুন বই লেখাও বাকি

বিদ্যমান ২০১২ সালের পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম আরও পরিমার্জন করে আগামী বছরে শিক্ষার্থীদের নতুন বই দেওয়া হবে। আর ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম পুরোপুরি বিস্তরণের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

 

শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজ এখনো চলছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর এবং সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ইকবাল হায়দার।

 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে অধ্যাপক ইকবাল হায়দার বলেন, “আমাদের শিক্ষক্রম পরিমার্জনের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজ অনেকটা গুছিয়ে এনেছে।

 

পরিমার্জন চূড়ান্ত হলে তা জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি-এনসিসিসিতে অনুমোদনের পর তা বই ছাপার কাজ শুরু হবে।”

 

অগাস্টের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

 

নতুন শিক্ষাক্রমে নতুন চারটি বিষয় চালুর পরিকল্পনা করেছিল সরকার; তবে তা এগিয়ে এনে আগামী বছরই চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি নিয়ে দুটি বিষয় পড়তে হবে চতুর্থ শ্রেণি থেকে। আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে যুক্ত হবে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’। এ নতুন বইগুলো লেখার কাজ এখনও শেষ হয়নি।

 

এনসিটিবি সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নতুন বইগুলো লেখার কাজ করছে শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের যে কমিটি গঠন করেছে, তারা।

 

তাদের মাধ্যমে এনসিটিবি এ কাজটি করছে। বই ছাপার শুরু আগে যথাসময়ে পরিমার্জন ও নতুন বই লেখার কাজ শেষ হবে।

 

“এরপর এনসিসিসির সামনে আমরা পরিবর্তনগুলো তুলে ধরব। তাদের অনুমোদন পাওয়ার পর ছাপার কাজ শুরু হবে।”

 

মুদ্রাকররা কী বলছেন

বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পাঠ্যবইয়ের বিষয়ে এনসিটিবির যে প্রস্তুতি তাতে ঈশান কোণে মেঘ দেখছি। জুনে এসে পাঠ্যবই ছাপার দরপত্র আহ্বান করা হলেও পাঠ্যবই সংশোধন চূড়ান্ত হয়নি।

 

“এদিকে এবার লটের আকার বাড়িয়ে সংখ্যা কমানো হয়েছে। এর ফলে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পাবে না। আর সেপ্টেম্বরে আগে ছাপার কাজ শুরুর কোনো আলামত দেখছি না। অগাস্টের শুরুতে টেন্ডার মূল্যায়নের পর মন্ত্রণালয় ও ক্রয় কমিটির মূল্যায়নে সময় যাবে আরও এক মাস।

 

“এরপর চুক্তির পর প্রকাশকরা কাজ শুরু করতে আরও ২৮ দিন সময় পাবেন। সেপ্টেম্বরে একসঙ্গে সবাই কাজ শুরু করলে কাগজের সংকট হওয়ার সম্ভাবনা আছে।”

 

চলতি বছরে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপানো বইয়ের বাড়তি ফর্মার বিল বাবদ ১৮ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে ছাপাখানার। এ বিল এখনও পাননি মুদ্রাকররা। যদিও এনসিটিবি দ্রুত এ টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

 

ব্যাংক ঋণ পাওয়া নিয়ে মুদ্রাকরদের আশঙ্কা রয়েছে বলে ভাষ্য রূপালী প্রিন্টিং প্রেসের স্বত্বাধিকারী তোফায়েল খানের।

 

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ বছরের বইয়ের বাড়তি ফর্মার বিল বাবদ ১৮ কোটি টাকা এখনও পরিশোধ করেনি এনসিটিবি।

 

“এ পরিস্থিতিতে তারা নতুন করে ব্যাংক ঋণও পাবেন কি না তা নিয়েও আশঙ্কা আছে। এমন বাস্তবতায় বই ছাপার কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে কি না তা নিয়েও শঙ্কা আছে।”

 

বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, “এনসিটিবির পক্ষ থেকে আমাদের বলা হয়েছে অগাস্টের শুরুতে তারা চুক্তি সই করবেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর আমরা কাজ শুরু করতে পারব।

 

অগাস্টের শুরুতে চুক্তি হলে ১০ অগাস্টের মধ্যে আমরা ছাপা শুরু করতে পারব।”

 

বই ছাপানোর কাজ সম্পন্ন হতে কত সময় লাগতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে দোহার প্রিন্টিং প্রেসের এ স্বত্বাধিকারী বলেন, “এবার আমাদের মেশিনগুলো ঠিক আছে, নতুন মেশিনও যুক্ত হয়েছে। বই ছাপার কাজ করতে এবার তিন মাসের বেশি সময় লাগবে না।”

৩০ কোটি বই ছাপাতে ব্যয় হবে ১৯০০ কোটি টাকা

আগামী বছরের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ কোটি ২৭ লাখ বই ছাপা হবে। এজন্য ১ হাজার ৮৯৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু।

 

তিনি জানান, ১৪১টি লটে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের জন্য ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার কপি বই ছাপানো হবে। পিডিআই ও পিএলআই মিলিয়ে খরচ ধরা হয়েছে ৪৫৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

 

আর এবতেদায়ী স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি এবং মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য ৫৩৫টি লটে ছাপা হবে ২২ কোটি ৫ লাখ ৫৫ হাজার ২৫২ কপি বই। পিডিআই ও পিএলআই মিলিয়ে খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৩৮ কোটি ৮০ লাখ ৪২ হাজার ৬০১ টাকা।

 

সবস্তরে বই ছাপার দরপত্র ইতোমধ্যে আহ্বান করা হয়েছে। এনসিটিবি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দরপত্র উন্মুক্ত করার পর সেসব মূল্যায়ন হবে ৬ অগাস্ট পর্যন্ত। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদনের পর প্রকাশকদের সঙ্গে চুক্তি করবে এনসিটিবি। তারপর শুরু হবে ছাপার কাজ।

 

অগাস্টের প্রথম দিকেই বই ছাপার কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

এনসিটিবি সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু মনে করছেন, সেপ্টেম্বর নাগাদ বই ছাপানোর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

যা বলছে সরকার

নতুন বছরের পাঠ্যপুস্তক বছরের শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই ধরনের আশার কথা শুনিয়েছেন এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকুও।

 

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বই ছাপার কাজ করতে আড়াই মাস সময় প্রয়োজন। সেপ্টেম্বরে কাজ শুরু হলেও বই ছাপাতে দেরি হওয়ার কথা নয়। তবে প্রকাশকদেরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।”

 

বছর শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার প্রচেষ্টার কথা জানিয়েছেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা। তিনি পাঠ্যবইয়ের বকেয়া বিল বাবদ ১৮ কোটি টাকা দ্রুত পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

 

অধ্যাপক ফখরুল মাওলা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছি। তারা দ্রুতই ওই টাকা পরিশোধ করবেন। আমরা দ্রুতই ওই টাকা পরিশোধ করে দেব।”

 

আগামী বছরের পাঠ্যপুস্তক ছাপাতে ৮০ হাজার টন কাগজের প্রয়োজন। কাগজের সংকট যেন না হয় তা নিয়ে কাগজকলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে গেল সোমবার বৈঠক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।

 

ওই বৈঠকের পর তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই মুদ্রণের জন্য কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট ছাড়াই বাজারমূল্যে এবং সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সব কাগজ সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন দেশের পেপার মিল মালিকরা।

 

এহছানুল হক মিলন বলেন, “বিগত বছরগুলোতে শেষ সময়ে এসে প্রেস মালিকদের প্রায়ই অভিযোগ থাকত যে তারা সময়মতো কাগজ পাচ্ছেন না কিংবা বাজারে কাগজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। এই সমন্বয়হীনতা ও সিন্ডিকেট দূর করতেই এবার দেশের খ্যাতনামা পেপার মিল মালিকদের ডাকা হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছেন—বাজারে কাগজের দাম বাড়াবেন না, নির্ধারিত বাজারমূল্যেই সঠিক সময়ে কাগজ সরবরাহ করবেন।

 

“প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী, আমরা সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত বই তুলে দিতে বদ্ধপরিকর। দেশীয় মানসম্মত কাগজে যেন বই ছাপা হয়, সেটাই আমাদের আসল উদ্দেশ্য। পেপার মিল মালিকদের এই আশ্বাসের পর এবার মুদ্রণ খাতের প্রেস মালিকদের সাথেও বৈঠক করা হবে। এবার একটি আইনি ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় চুক্তি করা হবে, যেন মাঝপথে কেউ চুক্তির ব্যত্যয় ঘটানোর সুযোগ না পায়।

 

দেশের পেপার মিলগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী এই বিপুল পরিমাণ কাগজ আগামী দুই মাসের মধ্যেই সরবরাহ করা সম্ভব দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পেপার মিল মালিকরা প্রতি মাসে ন্যূনতম ৫৫ হাজার টন মানসম্মত কাগজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

 

এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেডের ডিএমডি মুস্তাফিজুর রহমান, মেঘনা পেপার মিলস লিমিটেডের জিএম ইয়ারুল ইসলাম বিদ্যুৎ, টি কে কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের জিএম মোস্তফা কামাল, বেস পেপারস লিমিটেডের জিএম জব্বার।

 

এছাড়াও যথাসময়ে বই ছাপানোর কাজ সফল করতে সরকারকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন সুইস কোয়ালিটি পেপার বিডির প্রতিনিধি শাখওয়াত হোসেন, ক্রিয়েটিভ পেপার মিলসের পরিচালক ফিরোজ আহমেদ, এথিক্যাল পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলসের মাসুদ কামাল রানা ও পারটেক্স পেপার মিলসের লুৎফর রহমান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

শিক্ষা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বিদেশে উচ্চশিক্ষার মেলা: শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের প্রধান বাধা অর্থ

বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সামর্থ্যকে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।   তাদের ভাষ্য, আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের মতো দেশে লেখাপড়ার জন্য কেউ কেউ পূর্ণ শিক্ষাবৃত্তি (ফুল স্কলারশিপ) পাওয়ার চেষ্টায় আছেন; গন্তব্য বদলানোর ভাবনাও আছে কারো কারো।   শনিবার ঢাকায় বিদেশে উচ্চশিক্ষাসংক্রান্ত এক মেলায় এসে নিজেদের নানা অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা শোনান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।   ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’ হোটেলে ‘আইডিপি স্টাডি ওয়ার্ল্ড রোডশো’ নামে এ আয়োজন করা হয়।   মেলায় এসেছিলেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মুকিত হাসান, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে চান।   তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া তুলনামূলক ব্যয়বহুল। কয়েকটি ইউনিভার্সিটিতে খোঁজ নিয়ে জানলাম, ৬০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে, যা আমার পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই স্কলারশিপের আশায় আছি। পাশাপাশি কম খরচে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া সম্ভব, সেগুলোর ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি।”   মুকিত বলেন, তার পরিবারের পক্ষে ৩০-৩৫ লাখ টাকার মতো ব্যবস্থা করা সম্ভব। কিন্তু সেজন্যও জমিজমা বিক্রি করতে হতে পারে।   বাজেট কম থাকলে পরামর্শকরাও গুরুত্ব দেন না মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বাজেট কম হলে স্টুডেন্ট কাউন্সিলররা ঠিকমতো কথাও বলতে চান না। তারা আগে বাজেট জিজ্ঞেস করে নেন, তারপর সেই অনুযায়ী সময় দেন।”   ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল আলিম রাজ যুক্তরাজ্যে পড়তে চান।   তিনি বলেন, “স্কলারশিপ আমার অবশ্যই লাগবে। নিজস্ব সঞ্চয় আর পরিবার থেকে নিয়ে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা আমার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব। কিন্তু প্রকৃত খরচ এর চেয়ে অনেক বেশি।”   রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্নাতকোত্তরের এক শিক্ষার্থীও এসেছেন প্রদর্শনীতে, যিনি যেতে চান কানাডায়।   তিনি বলেন, “ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ না পেলে আমার জন্য দেশের বাইরে পড়তে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। এর মধ্যে আমার পছন্দের সঙ্গে যায়, এমন কোর্স নেই বললেই চলে।   “আমার ইচ্ছা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস বিষয়ে মাস্টার্স করা। এখানে এসে মনে হচ্ছে, সবকিছু নিয়ে আমাকে আরও ভালোভাবে ঘাঁটাঘাঁটি করতে হবে।”   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সনেট সরকারও নিজে খোঁজখবর করার ওপর জোর দিচ্ছেন।   তিনি বলেন, “আমি তাড়াহুড়ো করতে চাচ্ছি না। পুরোপুরি রিসার্চ করে শিক্ষাবৃত্তির দিকে আগাব। কিন্তু শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার শর্ত বা যোগ্যতার ব্যাপারে তেমন ধারণা নেই। তাই প্রফেশনাল কারও সাহায্য নিতে চাচ্ছি। মূলত লেদার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো বিষয়ে মাস্টার্স করতে চাই।”   আর্থিক চাপ ও ভিসা জটিলতার কারণে গন্তব্যও বদলাচ্ছেন অনেকে। এদের একজন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইমুর ওয়াজিদ, যিনি কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকোত্তর করতে যুক্তরাজ্যে যেতে চান।   তিনি বলেন, “আমি মূলত অস্ট্রেলিয়া নিয়ে আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে অনেক সময় লাগে। যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে বিষয়টি তুলনামূলক সহজ মনে হচ্ছে।   “আর খরচ তো একটা বড় বিষয়। অস্ট্রেলিয়ার জন্য শুনলাম ব্যাংকে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা দেখাতে হবে। আমার পরিবারের পক্ষে এটা সম্ভব নয়।”   তুলনামূলক কম খরচে মালয়েশিয়ায় পড়ার পথ খুঁজছেন আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আম্মার বিন আনিস।   তিনি বলেন, “ওখানে ফাউন্ডেশন কোর্স করে তারপর আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম করার সুযোগ পাব। বাজেটটাও তুলনামূলক কম লাগবে, ১৫ লাখের মধ্যে সব হয়ে যাবে হয়তো। পরে সেখান থেকে ইউরোপে মুভ করার সুযোগও থাকবে।”   লেখাপড়া শেষ হওয়ার আগেই উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কেউ কেউ।   আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নবম সেমিস্টারের ছাত্র ইমতিয়াজ আজিম বলেন, “আমার স্নাতক শেষ হতে এখনও এক বছরের বেশি সময় লাগবে। এমএসসি করতে বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা যেহেতু আছে, আগেভাগেই খোঁজখবর করতে চলে এলাম। সেই অনুযায়ী আর্থিক ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়ার ব্যাপার তো একটা আছে।”   একই বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী নুসরাত আহমেদ যুক্তরাজ্যে পড়তে চান। তিনি বলেন, “আর্থিক বিষয়ে এখনই তেমন কিছু ভাবছি না। তবে স্কলারশিপ তো সবাই চায়, আমিও অবশ্যই সেই চেষ্টা করব।”   সন্তানের ভবিষ্যৎ, নিরাপত্তা ও খরচের হিসাব মেলাতে প্রদর্শনীতে এসেছেন অভিভাবকরাও। আনিসুর রহমান নামে একজন বলেন, “আমার মেয়ে দেশের বাইরে ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে আগ্রহী। অনলাইনে আমরা ঘাঁটাঘাঁটি করেছি, কিন্তু প্রপার গাইডলাইন পাচ্ছি না।   “কোন দেশ বেশি নিরাপদ হবে, ভালো ইউনিভার্সিটি কোনটা, কোন লোকেশনে গেলে ভালো হবে, কোর্স বা স্কলারশিপ পাওয়ার শর্ত কী—এসব জানতেই আসা। সবশেষে বাজেটও একটা বড় বিষয়।”   আয়োজক প্রতিষ্ঠান আইডিপি বলছে, এবারের আয়োজনে যুক্তরাজ্যের ৮টি, কানাডার ১৭টি, যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি এবং মালয়েশিয়ার ৫টিসহ মোট ৪০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।   সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ আয়োজনে শিক্ষার্থীরা সরাসরি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের স্টলগুলোতে ভিড় ছিল বেশি।   রোডশোতে শুধু তথ্য নেওয়াই নয়, পাসপোর্ট ও একাডেমিক কাগজপত্র নিয়ে এসে সরাসরি আবেদনের পরামর্শও নিয়েছেন অনেকে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

একাদশে ভর্তিতে মূল মার্কশিট আটকে রাখা যাবে না, লঙ্ঘনে কঠোর ব্যবস্থা

ছবি: সংগৃহীত

শ্রমবাজার উপযোগী কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

কিছু সময় দিন, প্রজন্মকে সবাই মিলে বদলে দেব : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের সুবিধা নিশ্চিতে ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে: ববি হাজ্জাজ

দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ভিত্তিক দুর্গম ভাতা প্রদানের বিষয়ে নতুন নীতিমালায় ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বুধবার (২৬ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহীদ সাটু হলে আয়োজিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ বিষয়ক প্রকল্পের ওপর প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   প্রতিমন্ত্রী জানান, দুর্গম অঞ্চলে কর্মরত শিক্ষকদের নানা প্রতিকূলতা বিবেচনা করে দুর্গম ভাতা চালুর এই পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নদী ভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে যেসব বিদ্যালয় বারবার স্থান পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকে, সেসব এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামোর (মডুলার বিল্ডিং) মডেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন মডেল পর্যালোচনা করে তা সরকারি ব্যবস্থায় প্রয়োগের উদ্যোগ নেয়া হবে।   বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিরসন ও প্রশাসনিক সংস্কার প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে প্রশিক্ষণ নিতে না হয় এবং এর ফলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সংকট তৈরি না হয়। পাশাপাশি মূল্যায়নভিত্তিক পদোন্নতি, নতুন বদলি নীতি এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণ, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোতে নাইটগার্ড ও এমএলএসএসসহ প্রয়োজনীয় জনবল দেয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।   স্কুল ফিডিং কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে বাংলাদেশেও মায়েদের সম্পৃক্ততায় শিশুদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাজার থেকে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে মায়েদের মাধ্যমে রান্না ও সরবরাহের সম্ভাব্য মডেলগুলো পাইলট প্রকল্পে পরীক্ষা করা হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক সময়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেয়া। মাদারস কমিটির কার্যকর নজরদারির ফলে অনিয়ম কমেছে উল্লেখ করে তিনি মায়েদের আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।   প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জোর দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রধান দুটি লক্ষ্য—কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না এবং সবাইকে মানসম্মত শিক্ষা দিতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি; প্রাথমিক শিক্ষার এই পাঁচটি ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করাই হবে পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি।   চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে উক্ত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশীদ এবং ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন। অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

প্রাথমিকের ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির বড় সুখবর

শুরু হচ্ছে মিড-ডে মিলের পাইলট প্রকল্প: প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

আম্মারের বিরুদ্ধে প্রায় ৪ লাখ টাকার হিসাব অসঙ্গতি: রাবি শিবির সভাপতি

ছবি: সংগৃহীত
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে হিসাববিজ্ঞান পাঠদান পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রস্তাব

উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে একাদশ শ্রেণি থেকেই হিসাববিজ্ঞান প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র একসঙ্গে পাঠদানের সরকারি নির্দেশনা পরিবর্তনের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনকারী দাবি করেছেন, হিসাববিজ্ঞান একটি প্রক্রিয়াভিত্তিক বিষয় হওয়ায় প্রথম পত্রের বিষয়বস্তু যথাযথভাবে আয়ত্ত করার আগে দ্বিতীয় পত্র পাঠদান শিক্ষার্থীদের জন্য জটিল হয়ে পড়ে।   এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক বরাবর মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) লিখিত আবেদন করেছেন ৩৪তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তা ও ঢাকা উদ্যান সরকারি কলেজের প্রভাষক (হিসাববিজ্ঞান) মো. আব্দুর রাজ্জাক। বর্তমানে তিনি মাউশিতে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে উচ্চ মাধ্যমিক, অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে হিসাববিজ্ঞান পড়ানোর অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন, উচ্চ মাধ্যমিকের হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্রের ১০টি অধ্যায় ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন না করে দ্বিতীয় পত্রের বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের পক্ষে যথাযথভাবে অনুধাবন করা কঠিন। অথচ বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথম বর্ষ থেকেই দুই পত্র একসঙ্গে পাঠদান করা হচ্ছে।   তার মতে, এতে পাঠদানের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। আবেদনে এর প্রভাব এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও পড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে।  সেখানে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। আবেদনে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের বাস্তব সমস্যার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন পাঁচ শিক্ষক পাঁচটি পৃথক অধ্যায় পড়ালে শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে একাধিক অধ্যায় অনুসরণ করতে হয়। ফলে একটি অধ্যায়ের সঙ্গে আরেকটির সম্পর্ক বুঝতে এবং ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি নিতে তাদের সমস্যা হয়। আবার কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি কিংবা কোনো কারণে নির্ধারিত ক্লাস বাতিল হলে ওই শিক্ষকের পরবর্তী ক্লাস পেতে প্রায় ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হয়। এতে পাঠের ধারাবাহিকতা আরও ব্যাহত হয়। অন্যদিকে পাঁচ শিক্ষক একই অধ্যায় পর্যায়ক্রমে পড়ালে তাদের পাঠদানের পদ্ধতি ও উপস্থাপনার ভিন্নতার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ অবস্থায় প্রথম বর্ষে শুধু হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র এবং দ্বিতীয় বর্ষে শুধু দ্বিতীয় পত্র পাঠদানের নির্দেশনা জারির প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ দুই শিক্ষকের সমন্বিত ও পরিকল্পিত পাঠদানের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হিসাববিজ্ঞান মূলত অঙ্ক ও অনুশীলননির্ভর বিষয়। শ্রেণিকক্ষে অঙ্ক করার সময় শিক্ষার্থীদের বইয়ের পাশাপাশি খাতা, কলম, পেন্সিল, রুলার, ইরেজারসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করতে হয়। এর মধ্যে পাঁচ শিক্ষক যদি পাঁচটি ভিন্ন বই অনুসরণ করে পাঠদান করেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, একই বিষয়ের একাধিক বই কেনার সামর্থ্য অধিকাংশ শিক্ষার্থীর নেই। ফলে শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন বই অনুসরণ করে পাঠদান করা হলে শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবেও চাপে পড়ে। এ কারণে শ্রেণিকক্ষে অননুমোদিত বই অনুসরণ করে পাঠদান বন্ধ করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক অনুমোদিত বই অনুসরণ নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।   কোচিংনির্ভরতা কমাতে বদলির প্রস্তাব হিসাববিজ্ঞান তুলনামূলক কঠিন বিষয় হওয়ায় শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত পাঠদান নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কোনো কোনো শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে কম পড়িয়ে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব কোচিং বা প্রাইভেট পড়ায় নিতে উৎসাহিত করেন। এ ধরনের প্রবণতা বন্ধে নিয়মিত শিক্ষক বদলির ব্যবস্থা কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, হিসাববিজ্ঞানের অনেক শিক্ষক একই কলেজে ১০, ১৫ এমনকি ২০ বছর ধরে কর্মরত আছেন। দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে থাকার কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে কোচিং বা প্রাইভেট পড়াকেন্দ্রিক নির্ভরতা তৈরি হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত বদলি, শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান এবং অনুমোদিত বই অনুসরণের বিষয়গুলো নিশ্চিত করা গেলে কোচিংনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণের পরিবেশও উন্নত করা সম্ভব। সব মিলিয়ে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের প্রক্রিয়াভিত্তিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে পাঠদান পদ্ধতি পুনর্বিন্যাস, প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র পৃথক বর্ষে পাঠদান, প্রতি শ্রেণিতে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষকের সমন্বিত পাঠদান, এনসিটিবি অনুমোদিত বই অনুসরণ এবং নিয়মিত শিক্ষক বদলির ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির দাবি জানিয়েছেন মো. আব্দুর রাজ্জাক।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৫, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

মেয়েদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশের সব মাদ্রাসায় বিশেষ কর্মসূচির নির্দেশ

ফাইল ছবি

দুই মাস পিছিয়ে ১৪ মার্চ থেকে এসএসসি পরীক্ষা

0 Comments