বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সামর্থ্যকে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
তাদের ভাষ্য, আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের মতো দেশে লেখাপড়ার জন্য কেউ কেউ পূর্ণ শিক্ষাবৃত্তি (ফুল স্কলারশিপ) পাওয়ার চেষ্টায় আছেন; গন্তব্য বদলানোর ভাবনাও আছে কারো কারো।
শনিবার ঢাকায় বিদেশে উচ্চশিক্ষাসংক্রান্ত এক মেলায় এসে নিজেদের নানা অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা শোনান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’ হোটেলে ‘আইডিপি স্টাডি ওয়ার্ল্ড রোডশো’ নামে এ আয়োজন করা হয়।
মেলায় এসেছিলেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মুকিত হাসান, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে চান।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া তুলনামূলক ব্যয়বহুল। কয়েকটি ইউনিভার্সিটিতে খোঁজ নিয়ে জানলাম, ৬০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে, যা আমার পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই স্কলারশিপের আশায় আছি। পাশাপাশি কম খরচে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া সম্ভব, সেগুলোর ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি।”
মুকিত বলেন, তার পরিবারের পক্ষে ৩০-৩৫ লাখ টাকার মতো ব্যবস্থা করা সম্ভব। কিন্তু সেজন্যও জমিজমা বিক্রি করতে হতে পারে।
বাজেট কম থাকলে পরামর্শকরাও গুরুত্ব দেন না মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বাজেট কম হলে স্টুডেন্ট কাউন্সিলররা ঠিকমতো কথাও বলতে চান না। তারা আগে বাজেট জিজ্ঞেস করে নেন, তারপর সেই অনুযায়ী সময় দেন।”
ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল আলিম রাজ যুক্তরাজ্যে পড়তে চান।
তিনি বলেন, “স্কলারশিপ আমার অবশ্যই লাগবে। নিজস্ব সঞ্চয় আর পরিবার থেকে নিয়ে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা আমার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব। কিন্তু প্রকৃত খরচ এর চেয়ে অনেক বেশি।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্নাতকোত্তরের এক শিক্ষার্থীও এসেছেন প্রদর্শনীতে, যিনি যেতে চান কানাডায়।
তিনি বলেন, “ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ না পেলে আমার জন্য দেশের বাইরে পড়তে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। এর মধ্যে আমার পছন্দের সঙ্গে যায়, এমন কোর্স নেই বললেই চলে।
“আমার ইচ্ছা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস বিষয়ে মাস্টার্স করা। এখানে এসে মনে হচ্ছে, সবকিছু নিয়ে আমাকে আরও ভালোভাবে ঘাঁটাঘাঁটি করতে হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সনেট সরকারও নিজে খোঁজখবর করার ওপর জোর দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, “আমি তাড়াহুড়ো করতে চাচ্ছি না। পুরোপুরি রিসার্চ করে শিক্ষাবৃত্তির দিকে আগাব। কিন্তু শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার শর্ত বা যোগ্যতার ব্যাপারে তেমন ধারণা নেই। তাই প্রফেশনাল কারও সাহায্য নিতে চাচ্ছি। মূলত লেদার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো বিষয়ে মাস্টার্স করতে চাই।”
আর্থিক চাপ ও ভিসা জটিলতার কারণে গন্তব্যও বদলাচ্ছেন অনেকে। এদের একজন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইমুর ওয়াজিদ, যিনি কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকোত্তর করতে যুক্তরাজ্যে যেতে চান।
তিনি বলেন, “আমি মূলত অস্ট্রেলিয়া নিয়ে আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে অনেক সময় লাগে। যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে বিষয়টি তুলনামূলক সহজ মনে হচ্ছে।
“আর খরচ তো একটা বড় বিষয়। অস্ট্রেলিয়ার জন্য শুনলাম ব্যাংকে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা দেখাতে হবে। আমার পরিবারের পক্ষে এটা সম্ভব নয়।”
তুলনামূলক কম খরচে মালয়েশিয়ায় পড়ার পথ খুঁজছেন আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আম্মার বিন আনিস।
তিনি বলেন, “ওখানে ফাউন্ডেশন কোর্স করে তারপর আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম করার সুযোগ পাব। বাজেটটাও তুলনামূলক কম লাগবে, ১৫ লাখের মধ্যে সব হয়ে যাবে হয়তো। পরে সেখান থেকে ইউরোপে মুভ করার সুযোগও থাকবে।”
লেখাপড়া শেষ হওয়ার আগেই উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কেউ কেউ।
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নবম সেমিস্টারের ছাত্র ইমতিয়াজ আজিম বলেন, “আমার স্নাতক শেষ হতে এখনও এক বছরের বেশি সময় লাগবে। এমএসসি করতে বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা যেহেতু আছে, আগেভাগেই খোঁজখবর করতে চলে এলাম। সেই অনুযায়ী আর্থিক ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়ার ব্যাপার তো একটা আছে।”
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী নুসরাত আহমেদ যুক্তরাজ্যে পড়তে চান। তিনি বলেন, “আর্থিক বিষয়ে এখনই তেমন কিছু ভাবছি না। তবে স্কলারশিপ তো সবাই চায়, আমিও অবশ্যই সেই চেষ্টা করব।”
সন্তানের ভবিষ্যৎ, নিরাপত্তা ও খরচের হিসাব মেলাতে প্রদর্শনীতে এসেছেন অভিভাবকরাও। আনিসুর রহমান নামে একজন বলেন, “আমার মেয়ে দেশের বাইরে ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে আগ্রহী। অনলাইনে আমরা ঘাঁটাঘাঁটি করেছি, কিন্তু প্রপার গাইডলাইন পাচ্ছি না।
“কোন দেশ বেশি নিরাপদ হবে, ভালো ইউনিভার্সিটি কোনটা, কোন লোকেশনে গেলে ভালো হবে, কোর্স বা স্কলারশিপ পাওয়ার শর্ত কী—এসব জানতেই আসা। সবশেষে বাজেটও একটা বড় বিষয়।”
আয়োজক প্রতিষ্ঠান আইডিপি বলছে, এবারের আয়োজনে যুক্তরাজ্যের ৮টি, কানাডার ১৭টি, যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি এবং মালয়েশিয়ার ৫টিসহ মোট ৪০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ আয়োজনে শিক্ষার্থীরা সরাসরি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের স্টলগুলোতে ভিড় ছিল বেশি।
রোডশোতে শুধু তথ্য নেওয়াই নয়, পাসপোর্ট ও একাডেমিক কাগজপত্র নিয়ে এসে সরাসরি আবেদনের পরামর্শও নিয়েছেন অনেকে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কলেজগুলোতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত নিয়মিত শিক্ষার্থীদের কলেজ পরিবর্তন বা ছাড়পত্রের (টিসি) মাধ্যমে ভর্তির আবেদনের শেষ সময় আগামী ২৯ অক্টোবর। নির্ধারিত জিপিএ, আসন শূন্য থাকা এবং সংশ্লিষ্ট দুই কলেজের প্রধানের সম্মতি সাপেক্ষে বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। গত ৬ সেপ্টেম্বর এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বোর্ডের এক নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানে আসন শূন্য থাকা, নির্ধারিত জিপিএ এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সম্মতিক্রমে শিক্ষার্থীরা বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কলেজ পরিবর্তনের জন্য আবেদন করতে পারবে। ছাড়পত্রের (টিসি) মাধ্যমে এক কলেজ থেকে অন্য কলেজে ভর্তির অনুমতি এবং আন্তঃবোর্ডের ছাড়পত্রের মাধ্যমে ভর্তির অনুমতির জন্য অনলাইনে আবেদন করার শেষ সময় আগামী ২৯ অক্টোবর। শিক্ষার্থীর আবেদনের ভিত্তিতে বর্তমান কলেজের ইনস্টিটিউট প্যানেল থেকে আবেদন দাখিল করতে হবে এবং ভর্তিচ্ছু কলেজ তা ‘একসেপ্ট’ করবে। আবেদন বোর্ড থেকে অনুমোদিত হলে ইনস্টিটিউট প্যানেলে অনুমতিপত্র পাওয়া যাবে। ছাড়পত্র প্রদানের অনুমতি পাওয়ার পর বর্তমান কলেজ থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ করে ১৫ দিনের মধ্যে ভর্তির সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ছাড়পত্র দেয়ার সময় কলেজে সংরক্ষিত একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট শিক্ষার্থীকে ফেরত দিতে হবে এবং ভর্তি গ্রহণকারী কলেজ তা অধ্যক্ষের নিজ হেফাজতে সংরক্ষণ করবে। ছাড়পত্র প্রদানকারী কলেজ যে মাস পর্যন্ত ছাড়পত্র দেবে সেই মাস পর্যন্ত বেতনাদি গ্রহণ করবে এবং নতুন ভর্তি গ্রহণকারী কলেজ আগের কলেজে যে পর্যন্ত বেতন পরিশোধ আছে তার পরবর্তী মাস থেকে বেতনাদি গ্রহণ করবে। আবেদন ফরম বোর্ডের ওয়েবসাইটের ‘ডাউনলোড’ মেনুতে পাওয়া যাবে এবং সেখানে বিস্তারিত নির্দেশাবলি দেওয়া আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র বা আন্তঃবোর্ডের ছাড়পত্রের মাধ্যমে ভর্তির অনুমতির জন্য আবেদন সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিক্ষাসহ সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গেই থাকুন। ভিডিয়োগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিয়োগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নে কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি—এই পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে ‘ফ্রম দ্য ফিল্ড টু রিফর্ম: অ্যাডভান্সিং প্রাইমারি এডুকেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্র একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। একটি ক্ষেত্রকে উপেক্ষা করে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনার আলোকে প্রতিটি শিশুর শিক্ষার সুযোগ, শিক্ষার মানোন্নয়ন, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ের ৩ হাজারের বেশি অংশীজনের মতামত পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ জানান, ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর লক্ষ্যে শিখনফলভিত্তিক ও শিশুবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে বাংলা, গণিত ও ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধি, খেলনাভিত্তিক শিক্ষা, ডিজিটাল কনটেন্ট ও ব্যবহারিক শিখন কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সমন্বিত ‘শিক্ষক নীতিমালা’ প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানান তিনি। মনিটরিং ব্যবস্থার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তদারকি আরও কার্যকর করতে ১১ ধাপের বিদ্যালয় পরিদর্শন পদ্ধতি ও ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙনপ্রবণ ও পাহাড়ি অঞ্চলসহ ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় শিশুবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের ওপর জোর দেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ঝরে পড়া রোধে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের মর্যাদা, বেতন-ভাতা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। শিক্ষাখাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে এবং প্রথম অর্থবছরেই এ খাতে ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। এতে আরও বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. মোক্তার আলী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া ও বীথিকা বিনতে হোসাইন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী। জাতীয় সংলাপে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাগুলোতে সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অধিভুক্ত ও অধীন পরিচালিত সব ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় যেকোনো ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোর গভর্নিং বডি বা অ্যাডহক কমিটির সভাপতি এবং অধ্যক্ষদের কাছে নির্দেশনাটি পাঠানো হয়েছে। নিয়োগ বন্ধের কারণ জানানো হয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনায় নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এ সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোকে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে।