বিশ্ব

আন্তর্জাতিক ‘চাপে পড়ে’ বিদেশি বাহিনীকে উদ্ধার কাজের অনুমতি দিলো নেপাল

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় চলমান উদ্ধার কাজে বিদেশি বাহিনীর অংশগ্রহণের প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে দেশটির সরকার। কাঠমান্ডু জানিয়েছে নেপালের কিছু বিশেষ এলাকায় বিদেশি উদ্ধারকারী টিম ও বিশেষজ্ঞদের কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে।

 

গত ২৬ আগস্ট বুধবার ভোতিকোশি এবং তার শাখানদী লেহন্দে নদীর একটি ব্যারিয়ার হ্রদ (তুষার,পাথর বা অন্যান্য প্রাকৃতিক বাধার কারণে পানির প্রবাহ আটকে যে নদীতে জলাধার তৈরি হয়) ভেঙে পড়ায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয় নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাসুয়া এবং সীমান্তের অপর পাশে তিব্বতের গিরং জেলায়। লাখ লাখ ঘনমিটার পানি এবং তার সঙ্গে আসা টনকে টন কাদা, পাথর, জঞ্জালে ঢেকে যায় দুই দেশের দু’জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা।

 

কাঠমান্ডু ও বেইজিংয়ের হিসেব অনুযায়ী, আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বানের জেরে শুধু নেপালে নিখোঁজ হয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন এবং চীনের তিব্বতে নিখোঁজ হয়েছেন ৫৫৮ জন। পানিতে ভেসে গিয়ে কিংবা বানের সঙ্গে আসা কাদা-পাথর-জঞ্জালের তলায় চাপা পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন তারা। এই নিখোঁজদের মধ্যে নেপালি ও তিব্বতিদের পাশরপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৩৫টি দেশের প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক আছেন।

 

আকস্মিক বন্যার পর উদ্ধারকাজে নেপালি উদ্ধারকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে চেয়ে কাঠমান্ডুকে প্রস্তাব দিয়েছিল ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ, কিন্তু কাঠমান্ডু সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে বলেছিল, অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার জন্য যথেষ্ট দক্ষতা নেপালের উদ্ধারকারী বাহিনীর রয়েছে এবং এক্ষেত্রে বিদেশি কোনো উদ্ধারকারী দলের সহযোগিতার প্রয়োজন নেই।

 

গতকাল শুক্রবার দুপুরে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী সাংবাদিকদের এ প্রসঙ্গে বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে সহযোগিতার প্রস্তাব খুবই স্বাভাবিক। তবে আমাদের উদ্ধারকারী বাহিনী দক্ষতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। এই মুহূর্তে আমাদের বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সহযোগিতার প্রয়োজন নেই।”

 

তবে লোক বাহাদুর ছেত্রী এই বক্তব্য দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কাঠমান্ডু পোস্টকে বলেন যে সরকার তাদের আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে এবং নেপালের কিছু বিশেষ জায়গায় বিদেশি উদ্ধারকারী দল ও বিশেষজ্ঞদের কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে।

 

কাঠমান্ডু পোস্টকে তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অন্তত অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল এবং কিছু বিশেষজ্ঞকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য আমরা ব্যাপক চাপ পেয়েছি, কারণ বন্যায় তাদের নাগরিকরাও নিখোঁজ হয়েছেন।”

 

“আমরা নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমিত সংখ্যক বিশেষজ্ঞকে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছি।”

 

সূত্র : কাঠামান্ডু পোস্ট

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
জর্ডানে গির্জায় বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬ জন

জর্ডানে একটি গির্জায় অন্তষ্ট্যিক্রিয়া চলার সময় বন্দুকধারীদের গুলিতে ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন। শুক্রবার কারাক গভর্নরেটের হামুদ গ্রামের গির্জায় এ হামলায় আরও ২৮ জন আহত হয়েছে।   খবরে বলা হয়েছে, বন্দুকধারীরা একটি গাড়িতে করে এসে গির্জায় প্রবেশ করে এবং পালিয়ে যাওয়ার আগে গুলি চালায়। সরকারের মুখপাত্র আল-মোমানি মোহাম্মদ একে জঘন্য হামলা বলে বর্ণনা করেছেন।   জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেছেন, কর্তৃপক্ষ কারাককে নিশানা করে চালানো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেবে। ডজন ডজন লোক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য গির্জার ভেতরে ছিল। তখন গোলাগুলি শুরু হয়। জর্ডানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-মামলাকা কে এমনটাই জানিয়েছেন শোকাহতদের একজন খালেদ বুরকান।   তিনি বলেন, রাইফেল এবং পিস্তল নিয়ে দুই হামলাকারী বেশ কয়েক মিনিট ধরে শোকার্তদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বিবিসি-র যাচাই করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তিন বন্দুকধারী রাস্তা থেকে গির্জার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। হামলাকারীদের মধ্যে দুই জনকে গির্জার প্রাঙ্গণে একটি গাড়ির প্রবেশদ্বারের দিকে যেতে দেখা যায়, এরপর তারা অল্প সময়ের জন্য পিছিয়ে গিয়ে তৃতীয় একজনকে নিয়ে ফিরে আসে। তিনজনের সবার হাতেই হাতবন্দুক ছিল বলে মনে হয়েছে।   হামলার পরের আলাদা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে যে, চরম গোলমালের মধ্যে মাটিতে কিছু মৃত আর আহত মানুষ পড়ে আছে। হামলার দায় এখন পর্যন্ত কেউ স্বীকার করেনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এই ঘটনার বিষয়ে শিগগিরই একটি সংবাদ ব্রিফিং দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, এবং সরকারের মুখপাত্র আল-মোমানি জানিয়েছেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা পরিষদের একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন, সেখানে সব মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।   এক্স - এ এক পোস্টে রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে লিখেছেন, কাপুরুষোচিত বা আকস্মিক কোনও হামলা জর্ডানের মানুষের ঐক্য ও মেলবন্ধনকে ভাঙতে পারবে না। তারা ঐক্যবদ্ধভাবে এ ধরনের যে কোনও অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেবে।   মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জর্ডানের কারাক-এ একটি বড় খ্রিস্টান সম্প্রদায় রয়েছে। এ ধরনের হামলার ঘটনা জর্ডানে বিরল। তবে অতীতে এই দেশে প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ট্রাম্প-পুতিন চুক্তির পর নিউইয়র্কের পথে রাশিয়ার ডিজেলবাহী জাহাজ

রয়টার্স ছবি

কোস্টগার্ড ও মিলিশিয়া দিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন: তাইওয়ান

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

গাজাবাসীদের অন্য দেশে পাঠাতে সরাসরি উদ্যোগ নিচ্ছেন নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত
সীমান্ত ইস্যুতে উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার

সীমান্তে বাড়তে থাকা উত্তেজনা প্রশমনে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।   সিউল শুক্রবার জানিয়েছে, তারা যোগাযোগের চ্যানেলগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা করতে পিয়ংইয়ংকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সীমান্তে সামরিক তৎপরতা বাড়ার কারণে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।   দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতির উপমন্ত্রী কিম হং-চোয়েল বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্য হবে স্থলভিত্তিক সামরিক সীমারেখার সঠিক অবস্থান যৌথভাবে নিশ্চিত করা, সামরিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো পুনরায় চালুর উপায় নিয়ে আলোচনা করা এবং সীমান্ত এলাকায় যে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ প্রতিরোধ করা   কিম হং চোয়েল জানান, সুনির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান নিয়ে পানমুনজমে আলোচনা হতে পারে। পানমুনজম হল উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে অবস্থিত কোরীয় যুদ্ধে যুদ্ধবিরতি হওয়া এক প্রতীকী গ্রাম, যেখানে দুই দেশের সেনারা একে অপরের মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে আছে।   তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডের অংশ্রহণে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার দ্বার খোলা রেখেছে এবং উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আশা করছে।   উত্তর কোরিয়া আলোচনায় বসতে রাজি হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। কারণ, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি খুবই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং গত কয়েক বছরে তাদের সঙ্গে সব ধরনের কথাবার্তা ও যৌথ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন।   ওদিকে, পিয়ংইয়ং সীমান্তের কাছাকাছি তাদের সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে এবং তা অব্যাহত রেখেছে। উত্তর কোরিয়ার নেতার ক্ষমতাধর বোন কিম ইয়ো জং বুধবার ঘোষণা করেছেন, নতুন সামরিক ইউনিটগুলোকে সীমান্তের কাছে গোলাবর্ষণের অবস্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত এবং সামরিকভাবে সজ্জিত সীমান্তে মাইন, কাঁটাতারের বেড়া, বিশেষ রাস্তা ও ট্যাংক আটকানোর দেয়াল তৈরি করে সেটির নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।   গত মাসে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যবর্তী বাফার জোন বা (ডিএমজেড)এর পশ্চিম অংশে সামরিক সীমারেখার কাছে বিস্ফোরণে তিনজন দক্ষিণ কোরীয় সেনা আহত হওয়ার পর থেকে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।   দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে যে, এই পরিস্থিতি যদি কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে এভাবে চলতে দেওয়া হয়, তাহলে পরবর্তীতে আর কী কী ঘটতে পারে তা অনুমান করা কঠিন।   দক্ষিণের প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, গত বছর আলোচনার জন্য পাঠানো একটি প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।   দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মায়ুং উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এর জবাবে উত্তর কোরিয়ার নেতার বোন কিম ইয়ো-জং এই আলোচনা প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে একে ‘চূড়ান্ত নাটকবাজি’ আখ্যা দিয়েছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি : রয়টার্স।

চীনের শেয়ারবাজারে ধস: সিএসআই ৩০০ এখন ‘বিয়ার মার্কেটে’

রয়টার্স ছবি

ইতালীয় নাগরিকদের জন্য সৌদি ভ্রমণে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি

ছবি : রয়টার্স।

ফ্রান্সে বিক্ষোভ ও সহিংসতার আশঙ্কায় দেশজুড়ে কড়া নিরাপত্তা

ছবি: সংগৃহীত
ইতালির দক্ষিণ উপকূলে পরপর ১২টি ভূমিকম্প, জারি সুনামি সতর্কতা

ইতালির দক্ষিণ উপকূলে একের পর এক অন্তত ১২টি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। আর এর পরপরই এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আকস্মিক এই দুর্যোগের মুখে লোকজনকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং জরুরি ভিত্তিতে সেখানকার সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।     ইতালির জাতীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়,শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সিসিলি অঞ্চলের তিরেনিয়ান সাগরে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.০। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে মেসিনা ও পালেরমো এলাকায়। এছাড়া বাকি ১১টি কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.০-এর উপরে।     ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সিসিলির সিভিল প্রোটেকশন প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে অরেঞ্জ বা কমলা রঙের ‘সুনামি সতর্কতা’ জারি করে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পালেরমো ও মেসিনা অঞ্চলের সব স্কুল খালি করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি ট্রাপানির একটি আদালত থেকেও বিচারক ও কর্মকর্তাদের দ্রুত বের করে আনা হয়। হঠাৎ এমন দুর্যোগে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।     এর আগে গত বছরও ইতালির নেপলস শহরে গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যাতে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে নতুন করে একের পর এক এই ভূকম্পন ও সুনামির পূর্বাভাসে পুরো ইতালীয় উপকূলে এখন চরম সতর্ক অবস্থা বিরাজ করছে।   সূত্র: দ্য সান

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: রয়টার্স।

জর্দানের কারাকে গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ৭ ও আহত ১০

‘প্রজন্মের ক্ষোভ’: ইউরোপজুড়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে সোচ্চার তরুণরা

যুদ্ধবিরতি নয়, ইউক্রেনের সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনায় রাজি রাশিয়া: পুতিন

0 Comments