সারাদেশ

বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে তিস্তার পানি, ঝুঁকিতে নিম্নাঞ্চল

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৪, ২০২৬
নদীর বুকে নির্মিত বাঁধ। ছবি: সংগৃহীত
নদীর বুকে নির্মিত বাঁধ। ছবি: সংগৃহীত

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় রেকর্ড করা তথ্যে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে আবারও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।

 

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে বিকেল ৬টার পর থেকে পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যা ৭টায় পানির উচ্চতা দাঁড়ায় ৫২ দশমিক ২৫ মিটারে, যা বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটারের তুলনায় ১০ সেন্টিমিটার বেশি। পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের সব ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

 

তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিমলা, জলঢাকা ও তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের নিম্নভূমিতে নতুন করে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এতে কৃষিজমি, সবজি-খেত, মাছের ঘের ও নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আবারও বন্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

 

উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, এর আগে দুই দফা বন্যার পানিতে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক পরিবার এখনো সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এরই মধ্যে আবারও নতুন করে পানি প্রবেশ করায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের।

 

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন বলেন, তিস্তার পানি বাড়তে থাকায় নদীবেষ্টিত কয়েকটি এলাকায় ইতোমধ্যে পানি প্রবেশ করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। পানি আরও বাড়লে নিচু এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে।

 

নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, দুপুরের পর থেকে তিস্তার পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

 

এর আগে গত ২৮ জুনও তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় তিস্তাপাড়ের মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

 

এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে অথবা বিদ্যমান পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর তিস্তা নদীতে বিপুল পরিমাণ পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে নদীর নাব্যতা ও পানি ধারণক্ষমতা ক্রমাগত কমে আসছে। ফলে অল্প বৃষ্টিপাত কিংবা উজানের ঢলেই নদী দ্রুত উপচে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। প্রতিবছরই বন্যা ও নদী-ভাঙনের কারণে হাজার হাজার একর আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভিটেমাটি হারিয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়ছে অসংখ্য পরিবার। জীবিকা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন তিস্তাপাড়ের হাজারো মানুষ।

 

স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের দাবি, তিস্তা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত ও কার্যকর ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত তিস্তা মহা-পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।

 

তাদের মতে, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদীর পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, বন্যা ও নদী-ভাঙনের ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে, কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে এবং তিস্তাপাড়ের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদ সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
কওমি ছাত্ররা সরে দাঁড়ালেও শিল্পকলায় অনুষ্ঠান করতে পারছে না এনসিপি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ দুঃখ প্রকাশ করায় নিজেদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে এনসিপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার পর কর্মসূচি প্রত্যাহারের কথা জানায় সংগঠনটি।   তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শিল্পকলা কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য নয়। এনসিপি সেখানে অনুষ্ঠান করতে পারবে না।   খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ শনিবার বিকেল ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির উদ্যোগে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ ক্ষমা না চাইলে এনসিপির অনুষ্ঠান প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তারা।   এ অবস্থায় শনিবার বিকেল ৩টায় এনসিপির অনুষ্ঠানস্থলে ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ডাক দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। তবে দুপুরে হাসনাত আবদুল্লাহ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে জানিয়ে সংসদে দেওয়া তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।   ব্রাহ্মণবাড়িয়া কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল খালেক বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ দুঃখ প্রকাশ করেছে। এর প্রেক্ষিতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নির্ধারিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এনসিপির কর্মসূচিতে আমাদের কোনো বাধা থাকবে না।   জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, এনসিপি শিল্পকলা একাডেমিতে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠান করবে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু  রাজনৈতিক সমাবেশ হবে, সেটা জানায়নি। সেজন্য আমরা অনুমতি ওইভাবে দিতে পারি না। কারণ শিল্পকলায় কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য নয়। তারা সেখানে অনুষ্ঠান করতে পারবে না।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পৌনে ৯ কোটি টাকায় সংস্কার, এক মাসেই ধসে গেল সড়ক

ছবি: সংগৃহীত

সড়কে দোকান বসাতে নিষেধ করায় ‘বিএনপি নেতার মারধর’, যুবদল নেতার মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ফেরার পথ তৈরি করছে জামায়াত: রাশেদ খান

ছবি: সংগৃহীত
মক্কা চুক্তি নিয়ে সবদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত : আইনমন্ত্রী

বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যাবে কি না— তা নিয়ে চলছে জল্পনা। রাজনীতির ময়দান থেকে আলাপ পৌঁছে গেছে সংসদেও। বাংলাদেশের পদক্ষেপ নিয়ে ভারতের ‘নজরদারি’ এ বিষয়কে করে তুলেছে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হবে কি না, এ বিষয়ে সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।’   আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।   প্রতিবেশী ভারত একাধিকবার জানিয়েছে, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে রাখা হচ্ছে নজর।   গতকাল শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ‘আমরা সব ঘটনার ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছি। বিশেষ করে তা যদি ভারতের নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় হয়। নিরাপত্তা সুরক্ষায় আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকি।’   সে বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘ভারত তাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কাজ করবে, আমরা আমাদের নীতি অনুযায়ী কাজ করব। ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো।’   গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘মক্কা প্যাক্টে যোগদানের প্রস্তাব এলে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে। মক্কা প্যাক্ট ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হলে এটি বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। এটা আমাদের পরিবার। এটা মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তা নিয়ে অন্যদের উদ্বেগের প্রয়োজন নেই।’   এর আগে গত সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মক্কা ডিফেন্স প্যাক্টে অংশগ্রহণের ব্যাপারে আমরা আগ্রহ প্রকাশ করেছি।   সম্প্রতি মক্কা চুক্তি সই করে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরব। মার্কিন মিত্র তিন মুসলিম দেশের এ উদ্যোগের লক্ষ্য সম্পর্কে জানানো হয়, যেকোনো ধরনের আগ্রাসন প্রতিহত করতে সম্মিলিত প্রতিরোধের সক্ষমতা জোরদার করাই এই চুক্তির উদ্দেশ্য। তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আঘাত হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।   এ দিন সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সরকার সন্তুষ্ট কি না, সেটি বিষয় না। বিষয় হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।   বিচার বিভাগের ডিজিটালাইজেশন নিয়ে সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি জানালেন, আগামী এক বছরের মধ্যে এটি বাস্তবায়নে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।   এর আগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হাসনাত আবদুল্লাহ ক্ষমা না চাইলে এনসিপির কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা

সহপাঠীদের সঙ্গে তোলা ইসরাত জাহান রিমার ছবি: সংগৃহীত

ভাড়া বাসা থেকে নারী শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের ২ হাজার ব্লক লুট, আতঙ্কে কৃষক

ছবি: সংগৃহীত
কারওয়ান বাজারে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আগুন

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে এ আগুনের ঘটনা ঘটে।   আগুন লাগার পর পানি ছিটিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।   রাত ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ফায়ার ফাইটার শিহাব সরকার বলেন, কারওয়ান বাজারে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আগুন লাগে। তেজগাঁও ফায়ার স্টেশন থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলেন।   প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানান যায়নি।   এছাড়া, আগুনে হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ফায়ার ফাইটার শিহাব সরকার।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফারুকী হত্যার এক যুগ, এখনো শুরু হয়নি বিচার

ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে ৪ খুনের বিচার দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে বিতণ্ডা

ছবি: সংগৃহীত

ছয় মাসে ৫ হামলা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় সরকারের পদক্ষেপ কী

0 Comments