অন্যান্য

এআই প্রযুক্তিতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নতুন সাফল্যের দাবি ডিএনসিসির

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ০৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর সড়কে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা ব্যবহার করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা বেড়েছে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

 

শুক্রবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সচেতনতামূলক সমাবেশে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

 

ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা এআই ক্যামেরা প্রকল্পটি আশাব্যঞ্জক সাফল্য অর্জন করেছে। এ কারণে ভবিষ্যতে রাজধানীর আরও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

তিনি বলেন, “পাইলট প্রকল্পটি মোটামুটি সফল হয়েছে। আমরা এর কার্যকারিতা বিবেচনা করে পরবর্তী পর্যায়ে আরও বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব।”

 

পরিবেশ সংরক্ষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “শুধু সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। পরিবেশ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা ধাপে ধাপে জনসচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে চাই।”

 

তিনি আরও বলেন, “শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আমরা সবাই মিলে কাজ করব। আজকের পর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা সম্পূর্ণভাবে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকবে। কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

ডিএনসিসির এই উদ্যোগ রাজধানীতে সড়ক শৃঙ্খলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে টানাটানির সুযোগ দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির

ইসলামী ব্যাংক দখল নিয়ন্ত্রণের পাঁয়তারা জনগণ মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেছেন, সরকার ইসলামী ব্যাংককে সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ইসলামী ব্যাংক উদ্ধারের জন্য বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে প্রস্তুত। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে টানাটানির সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।   বুধবার রাতে রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা-১৫ আসনের নেতাকর্মীদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩৪ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। আবারও ফ্যাসিবাদী কায়দায় ব্যাংক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। ইসলামী ব্যাংকের ক্ষতি হলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।   সরকারকে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেছেন, দেশ এভাবে চলতে পারে না। একদল পালিয়ে গেছে পাশের দেশে। বাকি দল যাবে কোথায়— এমন প্রশ্ন তোলেন। বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের স্বার্থে জামায়াত শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবে। গৃহপালিত বিরোধী দল হবে না।    জামায়াত আমির বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে অনেক মানুষ এবার ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেনি। বিশেষ করে ইরান, লেবানন ও গাজাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণ কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ঈদ কাটিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি খাতে সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং এর ফলে দেশের মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। শফিকুর রহমান বলেন, দেশে সংকট কৃত্রিম হলে দ্রুত সমাধান করতে হবে। আর যদি প্রাকৃতিক বা বৈশ্বিক কারণে হয়ে থাকে, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সংসদ সঠিকভাবে কার্যকর হলে দেশের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বিদ্যুত, জ্বালানি দাম বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেছেন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলনে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। গ্যাসের দাম ৭০০ টাকা বাড়িয়ে পরে ৫০ টাকা কমানো জাতির সঙ্গে তামাশা। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জীবনযাত্রা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জনগণের স্বার্থে জামায়াত শিগগিরই আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে। কাফরুল পশ্চিম থানা সেক্রেটারি এস এম রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহানগর নেতারা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হাদির সঙ্গে ফয়সালের পরিচয় কীভাবে, প্রশ্ন তুললেন আব্দুল কাদের

ছবি : সংগৃহীত

বৃষ্টির সময় মুমিনের করণীয় ৫ আমল

ছবি: সংগৃহীত

‘আমি তারেক রহমানের সঙ্গে কেন রাজনীতি করতে পারব না?’—প্রশ্ন রাশেদের

গুগল কেন ৬৪ মিলিয়ন মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করছে

মশা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাণী। ডেঙ্গু, জিকা, পীতজ্বর ও চিকুনগুনিয়ার মতো ভয়ংকর সব রোগে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ এই মশা। এর উপদ্রব থেকে বাঁচতে আমরা কত কিছুই না করি! কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবেছেন, মশা মারার জন্য পরিবেশে যদি আরও কোটি কোটি মশা ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে কেমন হবে? শুনতে ডিস্টোপিয়ান গল্পের মতো মনে হলেও বাস্তবে ঠিক এমনটাই ঘটতে যাচ্ছে। প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল বা এর মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের লাইফ সায়েন্সেস বিভাগ ভ্যারিলি মশা দমনে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। ‘ডিবাগ’ নামে প্রকল্পটির অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই বিশাল মশাবাহিনীকে বিজ্ঞানীরা বলছেন গুড বাগস বা ভালো মশা। ইতিমধ্যে তাঁরা এই কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার কাছে একটি পরীক্ষামূলক অনুমোদনের আবেদনও জমা দিয়েছেন। মশা দিয়ে মশা মারার অভিনব কৌশল গুগলের এই পরিকল্পনার মূলে আছে স্টেরাইল ইনসেক্ট টেকনিক বা এসআইটি নামে একটি জৈবিক পদ্ধতি, যা কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাদের প্রধান লক্ষ্য, এডিস ইজিপ্টি প্রজাতির মশা নির্মূল করা। এই মশা বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গু, জিকা ও চিকুনগুনিয়া ছড়ানোর জন্য দায়ী। কীভাবে কাজ করবে এই মশা গবেষকেরা গবেষণাগারে কোটি কোটি পুরুষ মশা বড় করছেন এবং সেসবের শরীরে ‘ওলবাকিয়া’ নামের একধরনের প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করিয়ে দিচ্ছেন। এই ব্যাকটেরিয়া মশাগুলোকে সফল প্রজননে অক্ষম করে দেয়। প্রকৃতিতে থাকা সাধারণ স্ত্রী মশাগুলোর শরীরে এই ব্যাকটেরিয়া থাকে না। তাই প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া এই ব্যাকটেরিয়াযুক্ত পুরুষ মশাগুলো যখন বুনো স্ত্রী মশাগুলোর সঙ্গে মিলিত হবে, তখন স্ত্রী মশা ডিম পাড়লেও বায়োলজিক্যাল অমিলের কারণে সেই ডিম থেকে আর কোনো মশার জন্ম হবে না। এভাবেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ওই অঞ্চলে নির্দিষ্ট প্রজাতির রোগবাহী মশার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে আসবে। এ প্রকল্পের আওতায় ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডায় দুই বছর ধরে প্রতি রাজ্যে বছরে ১ কোটি ৬০ লাখ করে মশা ছাড়ার প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এমনিতেই মশার যন্ত্রণায় টেকা দায়, তার ওপর এত কোটি কোটি মশা ছাড়লে মানুষের অবস্থা কী হবে! আদতে ভয়ের কিছুই নেই। কারণ, পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না এবং রোগও ছড়ায় না; তারা কেবল ফুলের মধু খেয়ে বেঁচে থাকে। ডিম পাড়ার পুষ্টির জন্য কেবল স্ত্রী মশাই মানুষের রক্ত পান করে। তাই পরিবেশে কোটি কোটি পুরুষ মশা ছাড়লেও মানুষের মশার কামড় খাওয়ার হার একবিন্দুও বাড়বে না। মশা মারতে কেন প্রযুক্তির ব্যবহার মশা দমনের এই পদ্ধতি নতুন না হলেও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এত বিশাল পরিসরে কাজটি করা। কোটি কোটি মশা বড় করা এবং সেখান থেকে নিখুঁতভাবে শুধু পুরুষ মশা আলাদা করা মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এখানেই গুগল তার প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব কাজে লাগিয়েছে। গুগল বা ভ্যারিলি এই প্রকল্পের জন্য আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, কম্পিউটার ভিশন, স্বয়ংক্রিয় সেন্সর এবং রোবোটিকসের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এসব স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব দ্রুত ও নির্ভুলভাবে কোটি কোটি পুরুষ মশাকে স্ত্রী মশা থেকে আলাদা করা এবং সঠিক জায়গায় নির্দিষ্ট পরিমাণে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সিঙ্গাপুরের অভাবনীয় সাফল্য গুগলের এই ডিবাগ প্রজেক্টটি ইতিমধ্যে সিঙ্গাপুরে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। সিঙ্গাপুরের জাতীয় পরিবেশ সংস্থার সঙ্গে প্রজেক্ট ওলবাকিয়ার অধীনে তারা সেখানে প্রতি সপ্তাহে ১ কোটির বেশি পুরুষ মশা ছেড়েছিল। এর ফলে মাত্র ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যেই সিঙ্গাপুরে এডিস ইজিপ্টি মশার সংখ্যা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কমে যায় এবং ডেঙ্গুর প্রকোপ ৭০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পায়। কীটনাশক নয় কেন মশা মারার জন্য কীটনাশক বা রাসায়নিক পদার্থ ছিটানো পরিবেশের জন্য বিষাক্ত হতে পারে এবং দীর্ঘ মেয়াদে এর কার্যকারিতাও কমে যায়। এ ছাড়া দিনের পর দিন একই কীটনাশক ব্যবহার করার ফলে অনেক মশাই এখন সেসবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে গুগলের এই ‘ভালো মশা’ পদ্ধতিটি অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের একটি চমৎকার বৈজ্ঞানিক বিকল্প। বিজ্ঞানীদের মতে, মশার সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে যদি তাদেরই প্রজাতির আরেকটু পরিবর্তিত মশাকে কাজে লাগানো যায়, তবে তা মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়েই আসবে। কে জানে, হয়তো অদূর ভবিষ্যতে রোগবাহী মশা নির্মূলে গুগলের এই মশাবাহিনীই আমাদের প্রধান রক্ষাকর্তা হয়ে উঠবে!

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

এআই প্রযুক্তিতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নতুন সাফল্যের দাবি ডিএনসিসির

ছবি: সংগৃহীত

দোয়া যেভাবে বদলে দেয় মানুষের জীবন

কোন বয়স থেকে রেড মিটে লাগাম টানা ভালো

ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ

আজ (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’। ১৯৭২ সালে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মানব পরিবেশবিষয়ক সম্মেলনে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে বৈশ্বিক উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি হয়। এর ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘ ৫ জুনকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং ১৯৭৩ সাল থেকে দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে দিবসটি উদযাপিত হয়। পরিবেশ বিষয়ে জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি হিসেবে এটি পরিচিত। দিবসটি উপলক্ষে পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা আলোচনা সভা, র‍্যালি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক প্রচারণার আয়োজন করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও পৃথক কর্মসূচি পালন করছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, নদীভাঙন, বন্যা, খরা ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশের পরিবেশ, কৃষি ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ, বায়ুদূষণ এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ পরিবেশগত সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। তাদের মতে, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগই একটি নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ এবং উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, জলবায়ু ও পরিবেশের সংকট মোকাবিলা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। সরকারি-বেসরকারি খাত, গবেষক, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও জনসচেতনতার মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

মারিয়া রহমান জুন ০৫, ২০২৬
যাহের আলভী ও স্ত্রী আফরা ইভনাথ ইকরা। ছবি : সংগৃহীত

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন অভিনেতা আলভীর মা

ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবিতে এনসিপির বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে মাঠে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি

0 Comments