বিশ্ব

ধসের ১০ দিন পর নেপালের টানেল থেকে জীবিত উদ্ধার চীনা নাগরিক

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি : রয়টার্স
ছবি : রয়টার্স

নেপালে ভয়াবহ ধসের ১০ দিন পর একটি টানেল থেকে এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে।


নেপালি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উদ্ধার করা চীনা নাগরিকের নাম লু হাইতাও। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। নেপালি সেনাবাহিনী আরো জানিয়েছে, ত্রিশূলী নদীর ওপর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একই টানেল থেকে ওই চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়।


এর আগের দিন ওই টানেল থেকেই দুই নেপালি নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল।


গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ের একটি উপত্যকায় হিমবাহের একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে বরফ, পাথর ও কাদার স্রোত নেমে আসে। ভয়াবহ ওই ঘটনায় ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ৫ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।


উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, নদীর উজানে হিমবাহ ধসে পড়ার পর অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টানেলে প্রায় ৯০০ মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই সিন্ধু নদে ভারতের নতুন বাঁধ

পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে টানাটানির মাঝেই লাদাখে কঠোর এক পদক্ষেপ নিয়ে নিল ভারত। লেহ জেলার উপশি এলাকায় সিন্ধু নদের ওপর সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পাথর দিয়ে প্রথম একটি বিশেষ শিলা বাঁধ তৈরি করেছে ভারত।  কোনো সিমেন্ট ব্যবহার না করেই কেবল বড় বড় পাথর সাজিয়ে বানানো এই বাঁধের কারণে নদীতে পানির উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট বেড়ে গেছে। ফলে সীমান্ত লাগোয়া এই খরাপ্রবণ অঞ্চলের কৃষকদের মুখে এখন হাসির ফোয়ারা। এতদিন পাহাড়ি গভীর খাদ দিয়ে নদী বয়ে যাওয়ায় সাধারণ পাম্প দিয়ে পানি তোলা কৃষকদের জন্য ভীষণ কঠিন ছিল। বিশেষ করে বসন্তকালে যখন জমিতে বীজ বোনার আসল সময় আসত, তখন পানির চরম অভাব দেখা দিত। এতে ফসল ফলানো তো দূরের কথা, কৃষক পরিবারগুলোর জীবন চালানোই দায় হয়ে পড়েছিল। নতুন বানানো এই বাঁধটিতে এখন একসাথে প্রায় ৪ কোটি লিটার পানি আটকে রাখা যাচ্ছে। সেই পানি খালের মাধ্যমে সরাসরি চলে যাচ্ছে শুকনো ও খরাকবলিত ফসলের ক্ষেতে। তবে এই বাঁধ শুধু চাষাবাদের জন্যই নয়, দেশটির সুরক্ষার দিক থেকেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের সাথে চুক্তি সংক্রান্ত ঝামেলা শুরুর পর সীমান্তে নদীর পানিকে নিজেদের কাজে লাগানোর ওপর বেশি জোর দিচ্ছে ভারত। এই প্রকল্পটি সেই কৌশলেরই এক বড় প্রমাণ। উপশির এই সফলতা দেখে লাদাখ প্রশাসন সিন্ধু নদসহ আশেপাশের নদীগুলোতে আরও ৩৬টি এমন ছোট ছোট বাঁধ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে লেহ ও কারগিল অঞ্চলে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা খরচে এগুলো তৈরি করা হবে। উঁচু পাহাড়ি এই দুর্গম এলাকায় পানির তীব্র সংকট মেটাতে এবং সীমান্ত এলাকাকে অর্থনৈতিকভাবে শক্ত করতে এই উদ্যোগ নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি : রয়টার্স

ধসের ১০ দিন পর নেপালের টানেল থেকে জীবিত উদ্ধার চীনা নাগরিক

টাটা কেমিক্যালসকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার নির্দেশ কেনিয়ার

ইরানকে ‘বশে’ ব্যর্থ হয়ে এবার জাতিসংঘের দ্বারস্থ যুক্তরাষ্ট্রসহ ৪ দেশ

ভিজিট ভিসা নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের বি১/বি২ ভিজিটর ভিসা মূলত স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক কার্যক্রম, পর্যটন, অবকাশযাপন, চিকিৎসা এবং নির্দিষ্ট কিছু অস্থায়ী ভ্রমণ কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই ভিসায় গিয়ে কিছু নির্দিষ্ট কার্যক্রম করার অনুমতি নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বি১/বি২ ভিজিট ভিসায় কী কী কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।   বি১/বি২ ভিসাধারীদের জন্য নিষিদ্ধ কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে—   বার্থ ট্যুরিজম: নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেয়া।   যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা: কোনো মার্কিন নিয়োগকর্তা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পারিশ্রমিক নিয়ে কাজ করা।   পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ: ভিজিটর ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের বেতনভুক্ত বা পারিশ্রমিকভিত্তিক কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়া।   ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেডিটের জন্য পড়াশোনা: বি১/বি২ ভিসায় এমন কোনো শিক্ষাক্রমে ভর্তি হওয়া, যার মাধ্যমে ডিগ্রি বা একাডেমিক ক্রেডিট অর্জন করা হয়।   ভ্রমণকারীদের তাই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে বি১/বি২ ভিসার অনুমোদিত ও নিষিদ্ধ কার্যক্রম সম্পর্কে সঠিকভাবে জেনে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬

বড় পরিবর্তন আসছে বিশ্ব মানচিত্রে, তীব্র আপত্তি যুক্তরাষ্ট্রের

গুরুতর অভিযোগ তুলে ‘মিত্র দেশ’ তুরস্কের ব্যাংকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

মধ্যপ্রাচ্যে চীনের নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় সায় ইরানের

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ: জাতিসংঘ

সরবরাহ ঝুঁকি বাড়ায় আগস্টে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বেড়ে ২০২২ সালের শেষের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। চরম আবহাওয়া, কৃষিপণ্যের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা এবং কৃষ্ণসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সব মিলিয়ে খাদ্যপণ্যের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।    শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এফএওর প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্টে সংস্থাটির খাদ্য মূল্যসূচক গড়ে ১৩৩ দশমিক ৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে। জুলাইয়ের সংশোধিত ১৩০ দশমিক ৮ পয়েন্টের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ২০২২ সালের নভেম্বরের পর এটিই সূচকটির সর্বোচ্চ অবস্থান।   তবে ২০২২ সালের মার্চে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর তৈরি হওয়া রেকর্ড সর্বোচ্চ দামের তুলনায় আগস্টের সূচক এখনো প্রায় ১৭ শতাংশ কম।   এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে বাজারে ঝুঁকির প্রভাব আবারও ফিরে আসার সতর্কবার্তা পাওয়া যাচ্ছে। জলবায়ুজনিত ধাক্কা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্যিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন একসঙ্গে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।   আগস্টে এফএওর খাদ্য মূল্যসূচকের আওতাভুক্ত শস্য, ভোজ্যতেল, চিনি, মাংস ও দুগ্ধ সব কটি পণ্যের দাম বেড়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরার কারণে ভুট্টা ও চিনিবিটের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে গবাদিপশুর উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরে সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়ার আশঙ্কা এশিয়ায় পাম তেল ও চিনি উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।   আগস্টে শস্যের মূল্যসূচক এক মাসে ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২০২৪ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ।   সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন হয়েছে চিনির দামে। আগস্টে এফএওর চিনি মূল্যসূচক ১১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২০২৫ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ মধ্য-দক্ষিণ অঞ্চলে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার আবহাওয়াজনিত উদ্বেগও এতে ভূমিকা রেখেছে।   রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত সাড়ে চার বছরে চলা এ যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে কৃষ্ণসাগরে হামলা বাড়ায় রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে শস্য রপ্তানি কমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত কৃষিপণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহেও চাপ তৈরি করছে বলে জানিয়েছে এফএও।   সব মিলিয়ে জলবায়ু, যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট বিশ্ব খাদ্যবাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করেছে।   এদিকে পৃথক এক প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাসও কমিয়েছে এফএও। জুলাইয়ের পূর্বাভাসের তুলনায় উৎপাদনের হিসাব ৩৪ লাখ মেট্রিক টন কমিয়ে ২৯৮ কোটি টন করা হয়েছে।   এটি ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কম এবং ২০১৮ সালের পর এক বছরে শস্য উৎপাদনে সবচেয়ে বড় পতন হতে পারে। তবে উৎপাদনের পরিমাণ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।   ২০২৬-২৭ মৌসুম শেষে বৈশ্বিক শস্যের মজুতের পূর্বাভাসও ১ দশমিক ১ শতাংশ কমিয়ে ৯৪ কোটি ৭২ লাখ টন করা হয়েছে। এই মজুত আগের মৌসুমের তুলনায় সামান্যই বেশি হবে।   এফএও জানিয়েছে, মোটা দানার শস্যের মজুত কমার পূর্বাভাসের প্রভাব গমের মজুত বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে শস্য পরিবহনে বিঘ্নের কারণে ওই দুই দেশে গমের মজুত বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।   সূত্র : রয়টার্স

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা ‘চিকেনস নেকে’ নতুন মহাসড়ক বানাবে ভারত

ছবি: সংগৃহীত

ফকল্যান্ড নিয়ে ব্রিটেনকে কড়া বার্তা আর্জেন্টিনার

ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের সংঘর্ষে নিহত ৮১

0 Comments