জাতীয়

পেনশনের আওতায় আসতে পারেন ৫০ লাখ পোশাক শ্রমিক

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার উদ্যোগ জোরদার করতে বিজিএমইএ ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট নেতারা।


তারা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বজনীন পেনশন একটি কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা হতে পারে।


শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক আলোচনা সভায়’ এ মতামত উঠে আসে।

 
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।


অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য শেখ কামরুল হাসান। তিনি বলেন, উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও বার্ধক্যে নাগরিকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকার সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করেছে।এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।


মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকরা এই স্কিমে অংশ নিতে পারবেন এবং ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হলে নিয়মিত পেনশন সুবিধা পাবেন।

 
তিনি জানান, কোনো গ্রাহক পেনশন গ্রহণের বয়সের আগে মারা গেলে মনোনীত ব্যক্তি জমাকৃত অর্থ ও মুনাফা পাবেন। আর্থিক অসুবিধা দেখা দিলে গ্রাহক চাঁদার পরিমাণ সমন্বয়ের সুযোগও পাবেন।


তিনি আরো বলেন, সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রম আইন ২০২৬-এর সংশোধনী অনুযায়ী ১০০ জনের বেশি শ্রমিক কর্মরত এমন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের পেনশন স্কিমের আওতায় আনার বিধান রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে শ্রমিকদের জন্য পেনশন হিসাব খোলার উদ্যোগ নিতে হবে।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোশাক খাতের সব শ্রমিককে দ্রুত পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনা প্রয়োজন।

 
তিনি শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রথম দুই বছরের জন্য সরকারি প্রণোদনা এবং পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাব দেন।


বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং ধারাবাহিকভাবে তা পরিচালনা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী উদ্যোগ।


সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সম্ভাব্য মুনাফার হার শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করতে বিজিএমইএ সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে।


আলোচনা সভায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার মালিক, কর্মকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি ও খাতসংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার উত্তর দেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা।

 
বক্তারা বলেন, দেশের বৃহত্তম রপ্তানিমুখী শিল্প খাত হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে এবং শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সুরক্ষা আরো শক্তিশালী হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ফাইল ছবি
আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতিতে দেখতে চায় না জনগণ : স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) একটি দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী দল। বাংলাদেশের জনগণ তাদের আর কখনও রাজনীতি করতে দেবে না।   তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেছিল দেশের সম্পদ লুটপাট করতে। দলটির এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে লুটপাটের মাধ্যমে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের এক প্রতিমন্ত্রীর বিদেশে দুই শতাধিক বাড়ি রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।   বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।    ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।   অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তজুমদ্দিন উপজেলা শাখার পক্ষ থেকেও স্পিকারকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।   বিগত শাসনামলে নিজ নির্বাচনি এলাকায় বিভিন্ন অন্যায়-অপরাধের কথা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ২০০১ এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি পরাজিত হওয়ায় পরবর্তীতে ঢাকা থেকে এক সন্ত্রাসীকে এনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করান শেখ হাসিনা।   তিনি আরও জানান, সেই ব্যক্তি দুর্নীতির মাধ্যমে লালমোহনে ৫০০ বিঘা জমি ও ঢাকায় একাধিক বাড়ি করেছিলেন। তবে, ৫ আগস্টের পর সেসব সম্পদ রেখে সপরিবারে পালিয়ে যান।   নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে স্পিকার বলেন, তজুমদ্দিনকে পৌরসভায় রূপান্তর করা হবে। এ ছাড়া বিনোদনের জন্য মেঘনার পাড়ে একটি পার্ক নির্মাণ করা হবে। সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করে দেন তিনি।   তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। এ সময় জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।   এর আগে স্পিকার উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিনু

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই যমজ শিশুর

জনপ্রত্যাশা পূরণে দলমত-নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : খাদ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
বুড়িগঙ্গার তীরে প্রতিমা বিসর্জনে দুর্গোৎসবের বিদায়, অপেক্ষা আগামী বছরের

আসছে বছর আবার হবে’—এই প্রত্যাশা আর আবেগঘন ভালোবাসায় দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। ঢাকের বাদ্য, ভক্তদের উচ্ছ্বাস আর বিষাদমাখা পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়।   বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা ও দর্পণ বিসর্জন শেষে বিকেলে রাজধানীর বসিলা এলাকায় বুড়িগঙ্গার ঘাটে বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে আসেন ভক্তরা। ট্রাকে করে আনা প্রতিমাগুলো বিসর্জন দিতে ঘাটে জড়ো হন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ। ঢাকের তালে নাচ, গান ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।   মোহাম্মদপুরের একটি পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা বিসর্জন দিতে বসিলা ঘাটে আসেন সুদীপ্তা মজুমদার। লাল-সাদা শাড়ি পরে, গালে সিঁদুর মেখে ঢাকের তালে নাচছিলেন তিনি। দেবীকে বিদায় দেওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, পাঁচটি দিন কীভাবে কেটে গেছে, তা বুঝতেই পারেননি। দেবীকে বিদায় দিতে মন না চাইলেও আগামী বছর আবার তাঁর আগমনের আশায় বিসর্জনে অংশ নিচ্ছেন তিনি।   নিরাপত্তায় সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে বুড়িগঙ্গার বসিলা ঘাট ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দায়িত্ব পালন করে। ঘাটে বিসর্জন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।   সিঁদুর খেলায় উৎসবের শেষ আয়োজন বিসর্জনের শোভাযাত্রা শুরুর আগে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলে শেষ মুহূর্তের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। দেবীর চরণে প্রণাম, অঞ্জলি নিবেদন এবং সধবা নারীদের সিঁদুর খেলায় মুখর ছিল মণ্ডপগুলো। নারীরা দেবীর কপাল ও সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে একে অপরের গালে সিঁদুর ছুঁইয়ে শুভকামনা জানান। শিশু-কিশোরদের আবীর খেলায়ও উৎসবের পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। পাশাপাশি জ্যেষ্ঠদের আশীর্বাদ গ্রহণ করেন অনেকে।   শাস্ত্রীয় বিশ্বাসে দেবীর আগমন ও বিদায় সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন ও বিদায়—দুটিই ঘোটকে বা ঘোড়ায় হয়েছে। প্রচলিত শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় দেবীর বাহনের সঙ্গে পৃথিবীর প্রকৃতি, কৃষি ও সামগ্রিক পরিস্থিতির নানা প্রতীকী তাৎপর্য যুক্ত রয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও ভক্তদের মনে রয়ে গেছে আগামী বছর আবার দেবীর আগমনের প্রত্যাশা। তাই বিদায়ের বেদনার মধ্যেও সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে সেই চিরচেনা আহ্বান—‘আসছে বছর আবার হবে’।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তুরস্ক, পাকিস্তান, কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় ‘বদর চুক্তি’

বস্তি থেকে ‘সবুজ কলোনি’, প্রধানমন্ত্রীর নজরে বাঁশবাড়ির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

সংগৃহীত ছবি

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্নফাঁস: বিএআরসির সহকারী পরিচালক সোহাগ গ্রেপ্তার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ক্রীড়া সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমের চেতনাকে সুদৃঢ় করে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ক্রীড়া শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে সুদৃঢ় করে। একটি সুস্থ, সচেতন, কর্মক্ষম ও আত্মপ্রত্যয়ী জাতি গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম।   ‘কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আগামী ২৩-২৫ অক্টোবর এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।   প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আয়োজক, অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেট, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা, বিচারক, ক্রীড়া সংগঠক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি প্রতিযোগিতার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।   তিনি বলেন, এটি কেবল একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস।    এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রতিভার বিকাশ, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ এবং জাতীয় পর্যায়ে অ্যাথলেটিক্সের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়া এখন শুধু বিনোদন কিংবা শারীরিক সুস্থতার মাধ্যম নয়, বরং একটি পেশা হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশেও ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বর্তমান সরকার স্কুল পর্যায় থেকেই ক্রীড়া শিক্ষাকে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করেছে। শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো ক্রীড়া।   তিনি বলেন, অ্যাথলেটিক্সকে খেলাধুলার অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দৌড়, লাফ ও নিক্ষেপের মতো ইভেন্টের মধ্য দিয়ে একজন অ্যাথলেটের গতি, শক্তি, সহনশীলতা, সমন্বয় ও মানসিক দৃঢ়তার বিকাশ ঘটে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে একটি দেশের সামগ্রিক সক্ষমতা ও ক্রীড়ার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতেও অ্যাথলেটিক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।    বাংলাদেশের অ্যাথলেটিক্সের উন্নয়ন, তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগের আহবান জানান তিনি।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরাঞ্চল পর্যন্ত অসংখ্য প্রতিভাবান তরুণ-তরুণী রয়েছে, যাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের প্রতিভা বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ, আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষ কোচ, বিজ্ঞানভিত্তিক অনুশীলন, পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রয়োজন। জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের অ্যাথলেটদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়।   বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্যমণ্ডিত করতে তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রীড়া সংস্থা এবং জাতীয় ফেডারেশনগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা জরুরি।   প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।    একজন ক্রীড়াবিদ যেন খেলাধুলাকে সম্মানজনক পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।   তিনি আরও বলেন, ক্রীড়ার প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে ন্যায়সংগত প্রতিযোগিতা, শৃঙ্খলা, সততা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মধ্যে। জয়-পরাজয় প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক অংশ। একজন প্রকৃত ক্রীড়াবিদ বিজয়ের আনন্দে যেমন সংযত থাকেন, তেমনি পরাজয় থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেন।    তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সব অ্যাথলেটকে নিয়মনীতি মেনে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব নিয়ে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানান।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ সমাজ দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের মেধা, শ্রম, সাহস ও সৃজনশীলতাকে ইতিবাচক কাজে নিয়োজিত করা গেলে বাংলাদেশ আরও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। খেলাধুলা তরুণদের মাদক, হতাশা, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতিবাচক প্রবণতা থেকে দূরে রেখে সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে পারে। মাঠের অনুশীলন তাদের সময়ানুবর্তিতা, দলগত দায়িত্ববোধ, অধ্যবসায় এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলার শিক্ষা দেয়।   তিনি বলেন, অ্যাথলেটিক্সে নারী খেলোয়াড়েরা যেন পিছিয়ে না থাকেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। নারী অ্যাথলেটদের প্রতিভা বিকাশ, মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেলোয়াড়দের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।    ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো প্রতিভা যেন বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।   তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সরকার, ক্রীড়া ফেডারেশন, ক্লাব, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত সহযোগিতা অপরিহার্য। ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন, মাঠ সংরক্ষণ, প্রশিক্ষণের আধুনিকায়ন এবং ক্রীড়াবিদদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি কার্যকর ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।   প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন, প্রতিভা অন্বেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরির কার্যক্রম আরও গতিশীল করবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২১, ২০২৬
সরকারি লোগো।

প্রতিবছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি

পানিসম্পদমন্ত্রীর বক্তব্য সম্পাদনা করে অপপ্রচার : বাংলাফ্যাক্ট

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রী দ্বিগুণ, সুবিধা নেওয়ার দৌড়ে বিদেশি সংস্থাগুলো

0 Comments