আন্তর্জাতিক

চীনের ইভি কোম্পানি বিওয়াইডি যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায়

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

এবার বিওয়াইডির পেছনে লেগেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুধু বিওয়াইডি নয়, চীনের বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠান আলিবাবা ও বাইদুকে চীনের সামরিক কার্যক্রমের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

 

ফলে চীনের এই বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কালোতালিকায় যুক্ত হলো। এর আগে চীনের প্রযুক্তি খাতের প্রাণ হিসেবে খ্যাত হুয়াওয়েকে কালোতালিকাভুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। খবর আল–জাজিরার

পেন্টাগন সোমবার এ হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক করার যে চেষ্টা চলছে, এ তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর তা আরও জটিল হয়ে উঠল বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাস এ সিদ্ধান্তকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা নিয়ে অযথা টানাটানি করছে।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদেশে কাজ করা চীনা কোম্পানিগুলো সব সময়ই সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও নিয়ম মেনে চলে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে এ ধরনের নীতি থেকে সরে এসে চীনা কোম্পানির জন্য ন্যায্য ও সমান সুযোগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে আলিবাবা জানায়, তালিকায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ভিত্তিহীন। কোম্পানিটির বক্তব্য, তারা কোনোভাবেই চীনের সামরিক খাতের অংশ নয় এবং মিলিটারি-সিভিল ফিউশন বা সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়নীতির সঙ্গে তাদের যোগ নেই।

আলিবাবা আরও জানায়, তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিওয়াইডি ও বাইদু এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।

পেন্টাগনের এ তালিকা প্রতিবছর হালনাগাদ করা হয়। সর্বশেষ তালিকায় এখন ১৮৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, গত বছরের তুলনায় যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

এ তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও তাদের নিয়ন্ত্রিত সংস্থাগুলো ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের চুক্তির জন্য বিবেচিত হবে না—এমন নিয়ম আগামী মাসের শেষ দিকে কার্যকর হওয়ার কথা।

যুক্তরাষ্ট্রের মতে, যেসব প্রতিষ্ঠান চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বা সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়নীতিতে সহায়তা করে, তাদের এ তালিকায় রাখা হয়। এ নীতির মাধ্যমে বেসামরিক গবেষণা ও সামরিক উন্নয়নের মিশেল ঘটানো হয়।

হালনাগাদ তালিকায় বলা হয়েছে, আলিবাবা, বিওয়াইডি ও বাইদু চীনের সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে সামরিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

এ সিদ্ধান্ত এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ পর্যায়ের সাম্প্রতিক বৈঠকের কিছু সময় পরই, যদিও দুই দেশ বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতের উত্তেজনা কিছুটা কমানোর চেষ্টা করছিল।

আলিবাবা, বাইদু ও বিওয়াইডি চীনের প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। যথাক্রমে ই-কমার্স, সার্চ ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর আগে টেনসেন্টকেও একই ধরনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাটের মূল প্রতিষ্ঠান এই টেনসেন্ট।

নতুন তালিকায় আরও রয়েছে শেনজেনভিত্তিক রোবোটিকস, এআই প্রতিষ্ঠান রোবোসেন্স টেকনোলজি ও হাংঝুভিত্তিক ইউনিট্রি রোবোটিকস।

বিশ্লেষকদের মতে, এমন বিস্তৃত তালিকা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এসব চীনা কোম্পানির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

তাদের মতে, বিশ্বায়নের যুগে বিশ্বের প্রতিটি দেশ পরস্পরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখন চীনের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। ফলে এ ধরনের পদক্ষেপ তেমন একটা ফলপ্রসূ হয় না।

 

হুয়াওয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে?

হুয়াওয়ে একসময় অন্যতম জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ছিল। তবে ২০১৯ সালে মার্কিন সরকার হুয়াওয়েকে এনটিটি লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করার পর হুয়াওয়ের অফিশিয়াল স্মার্টফোন ব্যবসায় বড় ধাক্কা লাগে।

এ বিধিনিষেধের কারণে গুগল হুয়াওয়েকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে হুয়াওয়ের ডিভাইসগুলো গুগল প্লে স্টোর ও বহুল ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি গুগল অ্যাপ্লিকেশনসহ গুগল মোবাইল সার্ভিসেস ব্যবহারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।

গুগলের সেবা থাকায় বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক বাজারে হুয়াওয়ে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। কেননা অ্যান্ড্রয়েড ফোনের গ্রাহকেরা গুগলের ইকোসিস্টেমের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে হুয়াওয়ে বড় ধাক্কা খেলেও ধীরে ধীরে ঘরোয়া প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে। কোম্পানিটি নিজস্ব অ্যাপগ্যালারি প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে শক্তিশালী সফটওয়্যার ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে। তার ভিত্তিতে কোম্পানিটি বাজারে ফিরে আসছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশ বৃদ্ধি

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে একাধিক হামলার ঘটনার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম একদিনেই প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে।   ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৫৭ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৮৩ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পরিবহন পথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ বেড়েছে, যার মাধ্যমে বিশ্বে ব্যবহৃত তেল ও এলএনজি সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবাহিত হয়।   বাজার পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এ জলপথে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ সংকুচিত হতে পারে এবং দাম আরও বাড়তে পারে।   তেলের দাম বাড়ার পেছনে আরও কয়েকটি কারণ কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুদ প্রত্যাশার তুলনায় বেশি কমে যাওয়া এবং ওপেক প্লাসের সম্ভাব্য উৎপাদন বৃদ্ধি বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে এশিয়ার তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়তে পারে। এতে জ্বালানির অভ্যন্তরীণ মূল্য সমন্বয়, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং সামগ্রিক আমদানি ব্যয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   সূত্র: এএফপি

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র-সৌদির একযোগে বিমান হামলা

ছবি: সংগৃহীত

হঠাৎ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে উঠল জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটি

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ওমানের প্রস্তাব নাকচ করল ইরান

ছবি: সংগৃহীত
জাপানে ভূমিকম্পে নিহত ১৩, ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষ

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে পৌঁছেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর বিবিসির।   ভূমিকম্পের পর কুমামোতো শহরের একটি শপিংমলে উদ্ধার অভিযান চলছে। ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভূমিকম্পের সময় শপিংমলের দ্বিতীয় তলা ধসে পড়ে গেছে।   এর আগে জাপানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, শপিংমল ছাড়াও একটি কারখানার চিমনি ধসে পড়ায় সেখানে কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।   মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে কিউশু দ্বীপের স্থলভাগে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের সময় একটি দোকানের ভেতরে শিশুদের কান্না এবং তাক থেকে পণ্য মেঝেতে ছিটকে পড়ে যাচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

ইরাকে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা

সংগৃহীত ছবি

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক ছিল ‘চমৎকার’ : নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের মথুরায় ৩ বছরের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মায়ের বিরুদ্ধে মামলা

ভারতের উত্তর প্রদেশের মথুরা জেলায় তিন বছর বয়সী এক শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার ছৌলি গ্রামে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, অভিযুক্ত নারীর নাম রুচি জিন্দাল (৩২)। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ জুন তিনি নিজের শিশুসন্তানকে হত্যা করেন।   পরিবারের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার পর রুচি তার স্বামী কৃষ্ণ মুরারি গুপ্তকে ফোন করে জানান, শিশু দীর্ঘ সময় কান্নাকাটি করার পর হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।   সন্তানের মৃত্যুর আগে তাকে পোলিও টিকা দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবার প্রথমে ধারণা করেছিল, হয়তো শারীরিক জটিলতার কারণেই মৃত্যু হয়েছে। সেই বিশ্বাসে শিশুটিকে দাফন করা হয়।   তবে কয়েক সপ্তাহ পর পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। স্বামী অভিযোগ করেন, তিনি তার স্ত্রীকে ফোনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে শুনেছেন, যেখানে শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে সন্দেহজনক তথ্য উঠে আসে। পরে পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে দেখতে পান, রুচির সঙ্গে এক ব্যক্তির দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।   স্থানীয় বালদেব থানার কর্মকর্তা অজয় শর্মা জানিয়েছেন, ঘটনার পর রুচি জিন্দালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।   পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট সঞ্জিব কুমার রায় বলেন, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।   ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প: শপিং মলের অংশ ধস, বহু মানুষ আটকা

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চিপ শিল্পে স্বনির্ভরতার পথে চীন

ছবি: সংগৃহীত

ভারত সীমান্তে চীনের ১১ স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোতায়ন

0 Comments