সারাদেশ

১০২ জাতের আম এক বাগানে

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীতে একটি আম বাগানে চাষ হয়েছে প্রায় ১০২ জাতের আম। গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে বিভিন্ন প্রজাতির আম। ফেনী নদীর তীরবর্তী মুহুরী সেচ প্রকল্প এলাকায় ৬৫ একর জমির খামারে চাষ হয়েছে এসব আম।

 

সোনাগাজী সোয়াস এগ্রো কমপ্লেক্সে নামে এ খামারে ৬ হাজার গাছের এই আমের বাগান।

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. সোলায়মান এ খামারের মালিক। তিনি বলেন, বিদেশে না গিয়ে আম চাষ করেও দেশের যুবকরা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। শুধু আমের মৌসুমে নয়, ১২ মাসই আম পাওয়া যায় এ বাগানে। আম কিনতে প্রতিদিন জেলা শহর ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষরা ছুটে আসেন এ বাগানে।

কৃষি বিপ্লবের এ সাফল্য কেবল উদ্যোক্তার জীবন বদলায়নি, দেখিয়েছে নতুন প্রজন্মের সামনে স্বাবলম্বী হওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, নওগাঁসহ দেশের সব অঞ্চলের আম রয়েছে এ বাগানে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভারত, ভুটান, চীনসহ বিদেশি বাহারি নানা স্বাদের আমও রয়েছে এখানে। সব মিলিয়ে ১০২ জাতের আম মিলছে এই আম বাগানে।

মো. সোলায়মান ১৯৮৬ সালে সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অবসরে যান। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আম, মৎস্য চাষ, গবাদিপশু পালন, মধু, সরিষা উৎপাদন ও নার্সারি তৈরির বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরে ১৯৯২ সালে তিন লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে পারিবারিক জমিতে খামার প্রতিষ্ঠা করেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরে এসে কৃষিতে শ্রম ও মেধা দিয়ে তিনি সফল হয়েছেন।

নিজে শ্রমিকদের সঙ্গে বাগান ও খামার পরিচর্যার কাজ করেন বলে বৃদ্ধ বয়সেও সুস্থ, সবল আছেন। কৃষিতে সময় দিলে কৃষি ভালো ফল দেয় এমনটাই দাবি তার।

চলতি মৌসুমে এ বাগান থেকে ৯০-১০০ টন আম উৎপাদন হবে বলে তিনি জানান। সাধারণ জাতের আমগুলো প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়। ব্যানানাসহ কয়েকটি জাতের আম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ১৫০ টাকায়।

খামারের মালিক মেজর (অব.) সোলায়মান বলেন, এসব আম বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে হয় না। খামারে এসেই ক্রেতারা কিনে নিয়ে যান। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কিছু ক্রেতা রয়েছেন যারা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আম সংগ্রহ করেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার পরে ঠিকানায় পৌঁছে যায় অর্ডার করা আম।

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা জানান, বাগানে কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন না। কেবল আমের মুকুল আসার দুই মাস আগে একবার কীটনাশক ছিটানো হয়। আর সারা বছর ব্যবহার করেন জৈবসার। বাগানে স্থায়ী কর্মচারীর সংখ্যা ২৫ জন। আর দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে আছেন আরও ১০ জন। তারাই বাগান পরিচর্যা করেন, ফল তোলেন এবং বিপণন করেন।

তিনি জানান, এ খামারটির শুরু করেছিলেন মাত্র ৬ একর জমিতে। বাড়তে বাড়তে এখন সেটি ৬৫ একরের সমন্বিত খামার।

চট্টগ্রামের মীরসরাই থেকে আসা ক্রেতা বেলাল হোসেন বলেন, এ খামারের আমগুলো পোকা ও ফরমালিনমুক্ত। তাই আমার সন্তানদের খাওয়াতে কিনতে এসেছি।

খামার ম্যানেজার সাবেক সেনা সদস্য হেলাল হোসেন বলেন, সম্পূর্ণ জৈবিক পদ্ধতিতে চাষকৃত আম বাজারজাত করা হচ্ছে। ফরমালিনমুক্ত আমগুলো খামারেই প্রচুর বিক্রি হচ্ছে।

খামার কর্মচারী মো. নাহিদ বলেন, এ খামারে প্রতিদিন ৮০-১০০ কেজি আম বিক্রি হচ্ছে। খামার থেকেই ক্রেতারা আম সংগ্রহ করছেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হানিফ বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় এ খামারে জৈবিক ও ব্যাগিং পদ্ধতিসহ না প্রক্রিয়ায় আম উৎপাদন করা হয়েছে। আগামীতে এ খামারের আম বিদেশে রপ্তানি করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফেনীর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আতিক উল্যাহ বলেন, সোয়াস এগ্রোতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগ দুটি প্রদর্শনী প্লটে ভাগ করা হয়েছে। এবারের মৌসুমে ১শ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ খামার থেকে উৎপাদিত আম বিদেশে রপ্তানির প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোরে গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।বুধবার (২৯ জুলাই) যশোরের ধুমধুমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চেক পোস্ট বসিয়ে ধুমধুমপুর এলাকা থেকে ডেভিডকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  তাকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

মারিয়া রহমান জুলাই ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জে বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি

ছবি: সংগৃহীত

পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞ: শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল

ছবি: সংগৃহীত

ছোট খাবারের দোকানও আসবে নিবন্ধনের আওতায়, কার্যকর হবে কীভাবে?

সংগৃহীত ছবি
ভারত থেকে আনা নিম্নমানের চালের খালাসে ব্রেক

ভারত থেকে আমদানি করা নিম্নমানের ও পচা চালের একটি চালান খালাস আটকে দিয়েছে খাদ্য বিভাগ। আমদানি করা সাড়ে ১১ হাজার মেট্রিক টন চালের মধ্যে কিছু চাল ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন সেন্ট্রাল স্টোরেজ ডিপো (সিএসডি) ও লোকাল স্টোরেজ ডিপোতে (এলএসডি) সরবরাহ করা হয়েছে।   জাহাজে থাকা আরও ৮ হাজার টন চাল নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এ নিয়ে চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগে এখন তোলপাড় চলছে।   অভিযোগ রয়েছে, শিপিং এজেন্টসহ দুর্নীতিবাজ একটি চক্র কৌশলে এসব নিম্নমানের এবং পচা চাল আমদানি করার পর সরকারকে গছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। এ অনিয়মের পেছনে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ‘মাফিয়া চক্র’ জড়িত। এসব সিদ্ধ চাল সরবরাহ করেছে ভারতীয় ‘অ্যাগ্রো কর্পস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। আর লোকাল শিপিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছে সেভেন সী’স শিপিং লাইন নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও খাদ্য বিভাগে একচেটিয়া ব্যবসা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   নিম্নমানের চাল আনার বিষয় ধরা পড়ার পর খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তা কোনোরকমে গছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে শিপিং লাইন মালিকপক্ষ; কিন্তু খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। কর্মকর্তারা কোনো অবস্থাতে নিম্নমানের চাল গ্রহণ করা হবে না বলে শিপিং এজেন্টকে সাফ  জানিয়ে দিয়েছে।   গম আমদানি কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তৎকালীন সচিব ইসমাইল হোসেনকেও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় অন্তর্বর্তী সরকার; কিন্তু বেশি দামে নিম্নমানের গম আমদানির হোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।   অভিযোগ রয়েছে, সাধন চন্দ্র খাদ্যমন্ত্রী থাকাকালে রাশিয়া থেকে একের পর এক নিম্নমানের, এমনকি চোরাই গমের চালানও বেশি দামে আমদানি করেছিল চক্রটি সেই। চক্রটি এখনও বহাল তবিয়তে আছে।   সংশ্লিষ্টরা জানান, জিটুজি (সরকার টু সরকার) চুক্তির আওতায় গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাড়ে ১১ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল নিয়ে ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙরে পৌঁছে। পরের দিন ভারত থেকে আমদানি করা এই চালের চালান থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসকের একজন প্রতিনিধি ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাব পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষায় এসব চাল ‘খাবার উপযোগী’ উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিলের পর খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় চাল খালাস।   বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিন চাল খালাস চলে। এসব চাল ঢাকার তেজগাঁও সিএসডি, চট্টগ্রামের হালিশহর সিএসডি ও দেওয়ানহাট সিএসডিতে পাঠানো হয়। ঢাকার তেজগাঁও সিএসডিতে ২ হাজার মেট্রিক টন, হালিশহর সিএসডিতে কয়েকশ মেট্রিক টন ও দেওয়ান হাট সিএসডিতে কয়েকশ মেট্রিক টন পাঠানো হয়।   এছাড়া জয়দেবপুর এলএসডিতেও কয়েকশ টন চাল পাঠানো হয়েছে। গত শনিবার ঢাকার তেজগাঁও ও চট্টগ্রামের হালিশহর সিএসডির কর্মকর্তারা এসব চাল গ্রহণ করতে গিয়ে দেখেন-আমদানিকৃত এসব চাল অত্যন্ত নিম্নমানের, পুরোনো ও অনেকটা খাবার অনুপযোগী। তারা বিষয়টি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও খাদ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে অবহিত করেন। পাশাপাশি পরিবহণ ঠিকাদারও চাল নিম্নমানের হওয়ায় পরিবহণ বন্ধ রাখেন।   রোববার থেকে আবার চাল খালাস শুরু হয়। নিম্নমানের চাল পাওয়ায় সোমবার থেকে আবারও চাল খালাস বন্ধ রেখেছে পরিবহণ ঠিকাদাররা। সোমবার পর্যন্ত ৩ হাজার টনের মতো চাল খালাস করা হয়েছে। জাহাজটিতে আরও সাড়ে ৮ হাজার মেট্রিক চাল রয়েছে।   খালাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ জাহাজে কয়েকটি হ্যাজ রয়েছে। পাশাপাশি কয়েক ব্লকে সিদ্ধ চাল আনা হয়েছে। কয়েকটি লেয়ারে বা স্তরে নিম্নমানের চালগুলো এমনভাবে কৌশলে আনা হয়েছে- যাতে নমুনা সংগ্রহের সময় ধরা না পড়ে। যার কারণে নমুনা সংগ্রহের সময় নিম্নমানের চাল থাকার বিষয়টি ধরা পড়েনি। নিম্নমানের চালগুলো বিভিন্ন ব্লকের ঠিক মাঝখানে রেখে জাহাজটি লোড করা হয়েছে। যাতে নমুনা সংগ্রহের সময় তা নজরে না আসে।   আশরাফ নামে একজন ঠিকাদার জানান, বন্দরে খালাসকৃত সিদ্ধ চালের জাহাজের চলমান কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। চালের মান অতি নিম্নমানের হওয়ায় এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তারা। বর্তমানে সিএমএস (চলাচল ও সংরক্ষণ কর্মকর্তা) সরেজমিনে বন্দরে উপস্থিত হয়ে জাহাজের পণ্য পরিদর্শন করছেন। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা আসা পর্যন্ত আপাতত জাহাজ থেকে চাল খালাসের কাজ বন্ধ থাকবে বলে জানান তিনি।   সেভেন সী’স শিপিং লাইনের কর্ণধার আলী আকবর যুগান্তরকে বলেন, আমদানি করা এই চাল খারাপ না, তবে একটু লালচে। তবে তিনি পচা ও নিম্নমানের চাল থাকার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেন।   বিভাগীয় পরিবহণ ঠিকাদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন যুগান্তরকে বলেন, খারাপ চাল আনার কারণে তেজগাঁও, হালিশহর, দেওয়ান হাট সিএসডি ও জয়দেবপুর এলএসডিতে চাল পরিবহণ বন্ধ করে দিয়েছি। জাহাজ এখন অলসভাবে দাঁড়িয়ে আছে। এসব খারাপ চাল আনার জন্য শিপিং এজেন্টই দায়ী।   চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিএম ফারুক হোসেন পাটওয়ারী মঙ্গলবার সকালে যুগান্তরকে জানান, আপনারা জানেন স্যাম্পল সংগ্রহ করার পর চাল খালাস হয়ে থাকে। জাহাজ এমভি এইচটি পাইওনিয়ার আনা চাল নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। এ কারণে আমরা খালাস বন্ধ রেখেছি। জাহাজে আমাদের টিম (খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা) গিয়ে কাজ করছে। আমাদের সোজা কথা বিধিবর্হিভূত কোনো চাল গ্রহণ করব না।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জয়পুরহাটে মাদক মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

৭ মাসের সন্তান কোলে নিয়ে আদালতে শিশু জুঁই। ছবি: সংগৃহীত

১৩ বছর বয়সেই মা, কোলে ৭ মাসের সন্তান

ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীর দেওয়া লিভারে বেঁচে উঠলেন স্বামী, কেমন কাটছে তাদের জীবন

ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীতে টিসিবির পণ্য কিনতে গিয়ে দেয়াল ধসে নিহত ২

রাজধানীর মিরপুরে টিসিবির পণ্য নিতে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ওপর একটি দেয়াল ধসে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ জন।   মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পেছনের দেয়াল ধসে এ ঘটনা ঘটে। মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে টিসিবির পণ্য নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেকে। হঠাৎই তাদের ওপর কলেজের পুরোনো দেয়াল ধসে পড়ে। এতে নিচে চাপা পড়েন অনেকেে আহত হন। পরে তাদের মধ্যে ৮ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।   মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, দুপুর দেড়টার দিকে হঠাৎ মিরপুর কলেজের দেয়াল ধসে পড়লে ৮ জন আহত হয়।   ওসি জানান, সেখানে প্রতিদিনই টিসিবির পণ্য বিক্রি হয়। কিছুটা কম দামে নিত্যপণ্য নিতে মানুষ ভিড় করে এখানে। তখন অনেক মানুষ পণ্য সংগ্রহের পেছনে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। হঠাৎ করেই প্রাচীরটি লাইনে দাঁড়ানো লোকজনের ওপর ধসে পড়ে। এতে কয়েকজন দেয়ালচাপা পড়েন। লোকজন ভাঙা দেয়াল সরিয়ে আহতদের উদ্ধার করে।   ওসি হাফিজু আরও বলেন, আটজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এসময় নাসিমা বেগম নামে এক নারীকে পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে ঢাকা মেডিকেলে এক পুরুষকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সেখানে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন আরেক নারী। বাকিরা চিকিৎসাধীন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৮, ২০২৬
যশোরে জামায়াত এমপি গোলাম রসুলের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। ছবি: সংগৃহীত

যশোরে জামায়াত এমপি গোলাম রসুলের বাড়ি ঘেরাও

ছবি : সংগৃহীত

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ৭৩০

ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের শিক্ষিকার গান নিয়ে বিতর্ক, ‘গান গাওয়া অন্যায় নয়’ বললেন প্রতিমন্ত্রী

0 Comments