সর্বশেষ

বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা ও অগ্নিসংযোগে অস্থিতিশীল দেশ

Unknown ডিসেম্বর ২১, ২০২৫

ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের একটি ঝড় বইছে। বিক্ষুব্ধ জনতা বিভিন্ন স্থানে ওসমান হাদি ইস্যু সামনে রেখে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালাচ্ছে। আবার কেউ কেউ দাবি করছেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা চালাচ্ছে।


গত শনিবার ভোরে কুষ্টিয়া সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে। নিরাপত্তারক্ষী রাজ্জাক জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি দোতলায় অবস্থান করছিলেন। ধোঁয়া ও আগুনের গন্ধে নিচে নেমে আগুন দেখতে পান। সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মাহবুবুর রহমান এবং সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবু দাউদ জানিয়েছেন, কিছু নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, স্টোররুমের পেছনের খোলা জানালা দিয়ে আগুন লাগানো হয়েছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, দুর্বৃত্তরা নির্বাচনী অফিসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, তবে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।


এছাড়া শুক্রবার রাতেই লক্ষ্মীপুরে বিএনপির এক নেতার ঘরে তালা দিয়ে বাইরে থেকে আগুন ধরানো হয়, যার ফলে এক শিশু নিহত হয়েছেন এবং আরও দুজন দগ্ধ হয়েছেন। একই রাতে দিনাজপুরে সাবেক নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ চার আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। মাগুরায় বিটিভি মহাপরিচালক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের বাড়িতেও দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের সাবেক এমপি ও মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের গ্রামের বাড়িতেও হামলা ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়েছে।


জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সভাপতিত্বে রাজধানীর গুলশানে হাওলাদার টাওয়ারে জরুরি প্রেসিডিয়াম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বলা হয়, দেশকে অস্থিতিশীল করে জাতীয় নির্বাচন বানচালের জন্য একটি স্বার্থান্বেষী মহল ধারাবাহিকভাবে সহিংসতা ও নাশকতা চালাচ্ছে। বৈঠকে উপস্থিতরা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া ছাড়াও এই ধারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। রাজনৈতিক নেতাদের বাসভবন, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম কার্যালয় ও কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলার ঘটনায় এক সুপরিকল্পিত চক্রান্তের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
পুলিশ জানায়, হামলার ঘটনাগুলো তদন্তাধীন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
সফল উদ্যোক্তাদের জন্য মহানবী (সা.)–এর ১০টি মূল্যবান উপদেশ

সাফল্যের একটি বড় অংশজুড়ে থাকে অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও স্বনির্ভরতা। আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে মুনাফার জন্য অনৈতিক পথ অবলম্বন করাকে অনেকে ‘স্মার্টনেস’ মনে করেন। কিন্তু নবীজি (সা.) শিখিয়েছেন সততা ও বিশ্বস্ততাই হলো ব্যবসার আসল মূলধন।   একজন সফল উদ্যোক্তা বা কর্মজীবী হওয়ার জন্য তাঁর জীবন থেকে ১০টি বৈপ্লবিক সূত্র তুলে ধরা হলো:   ১. সততাই শ্রেষ্ঠ মূলধন ব্যবসার সাফল্যের জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া সাময়িক লাভ দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা ধ্বংস ডেকে আনে। নবীজি (সা.) সত্যবাদী ব্যবসায়ীদের পরকালে উচ্চ মর্যাদার সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “সত্যবাদী ও আমানতদার (বিশ্বস্ত) ব্যবসায়ী কেয়ামতের দিন নবীগণ, সত্যবাদীগণ এবং শহীদদের সঙ্গী হবেন।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১২০৯)   ২. ভেজাল ও প্রতারণা বর্জন পণ্যের ত্রুটি গোপন করা বা ওজনে কম দেওয়া শুধু নৈতিক অপরাধ নয়, বরং এটি ব্যবসায়িক বরকত নষ্ট করে দেয়। একবার রাসুল (সা.) এক খাদ্য বিক্রেতার শস্যের স্তূপে হাত ঢুকিয়ে দেখলেন ভেতরে ভেজা। তিনি বললেন, “যে প্রতারণা করে, সে আমার দলভুক্ত নয়।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০২)   ৩. সহজলভ্যতা ও সহমর্মিতা বেচাকেনার ক্ষেত্রে কঠোর হওয়া বা গ্রাহককে ঠকানো নয়, বরং উদার ও নমনীয় হওয়া বরকতের চাবিকাঠি। রাসুল (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন, যে ক্রয়-বিক্রয়ের সময় এবং পাওনা দাবির সময় নমনীয় থাকে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০৭৬)   ৪. শ্রমিকের অধিকার ও মজুরি একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভর করে তার কর্মীদের সন্তুষ্টির ওপর। নবীজি (সা.) শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই পারিশ্রমিক পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, “শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করো তার গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৪৪৩)   ৫. অতিরিক্ত শপথ না করা পণ্যের গুণাগুণ বর্ণনা করতে গিয়ে কসম বা শপথ করা ব্যবসার সুনাম নষ্ট করে এবং গ্রাহকের আস্থা কমিয়ে দেয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, “বেচাকেনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কসম করা থেকে বিরত থাকো; এটি পণ্য বিক্রি বাড়ালেও বরকত মিটিয়ে দেয়।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬০৭)   ৬. মজুদদারি ও কৃত্রিম সংকট তৈরি মুনাফার লোভে পণ্য জমা রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করাকে নবীজি (সা.) কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, “পণ্য মজুদকারী ব্যক্তি অত্যন্ত অপরাধী।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬০৫)   ৭. ঋণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা পেশাদার জীবনে লেনদেনের স্বচ্ছতা অপরিহার্য। ঋণ পরিশোধের সদিচ্ছা এবং সময়মতো তা ফেরত দেওয়া সফল ব্যক্তিত্বের পরিচয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠ, যে পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩০৫)   ৮. সুদের ভয়াবহতা থেকে দূরে থাকা আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক ভারসাম্যের জন্য সুদবিহীন অর্থনীতির ওপর জোর দিয়েছেন নবীজি (সা.)। তিনি সুদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী, এর লেখক এবং এর সাক্ষী—সকলের ওপর অভিশাপ দিয়েছেন।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৯৮)   ৯. অলসতা ত্যাগ ও স্বাবলম্বিতা কারো ওপর বোঝা না হয়ে নিজ হাতে উপার্জন করাকে নবীজি (সা.) ইবাদত হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি বলেছেন, “নিজ হাতের উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ খাদ্য আর কেউ কখনো খায়নি।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৬১)   ১০. ব্যয়ের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ উপার্জনের পাশাপাশি ব্যয়ের ক্ষেত্রে মিতব্যয়িতা আর্থিক সমৃদ্ধির অন্যতম সূত্র। অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, “আর তোমরা অপচয় করো না; নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।” (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৭) রাসুল (সা.)-এর এই অর্থনৈতিক দর্শন শুধু ব্যক্তিগত সমৃদ্ধি নয়, বরং একটি সুষম ও ইনসাফপূর্ণ অর্থব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ দেখায়। সততা, কঠোর পরিশ্রম এবং অন্যের অধিকারের প্রতি সচেতনতাই হলো প্রকৃত ও স্থায়ী সাফল্যের ভিত্তি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের ১৫ বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করেছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

আবার নাগরিকত্ব ছাড়ার আবেদন করেছেন এস আলম

ছবি: সংগৃহীত

ভিসি পরিবর্তন নিয়ে ছাত্রশিবিরের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ ছাত্রদলের

ছবি: সংগৃহীত
সড়ক প্রকল্পের অর্থে ভবনবিলাস

বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছিল টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত মহাসড়ক সম্প্রসারণের জন্য। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে এই প্রকল্পে যুক্ত করা হয় গবেষণাগার উন্নয়নের নামে ভবন নির্মাণসহ নানা বিলাসী উপকরণ। যেমন মাল্টিপারপাস হল, সেমিনার হল, কনফারেন্স হল, লাউঞ্জ, দেড় শতাধিক পাঁচ তারকা হোটেলের সমমানের থাকার কক্ষ। আরও যোগ হয়েছে সুইমিংপুল, জিমনেসিয়াম, ইনডোর গেমস সরঞ্জাম বিলিয়ার্ড, স্নুকার, কার্ড রুম ইত্যাদি।   সবই করা হচ্ছে বড় বড় গাছ কেটে, পুকুর ভরাট করে। বর্তমান সরকার সারা দেশে বৃক্ষরোপণে জোর দিয়েছে। অথচ সরকারেরই একটি সংস্থা গাছ কেটে বিলাসী ভবন তৈরি করছে।   প্রকল্পটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের। প্রকল্পটির নাম সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২। আর বিলাসী ভবনগুলোর নির্মাণকাজ চলছে মিরপুরের পাইকপাড়ায় সড়ক গবেষণাগার এলাকায়। জায়গাটি মূল সড়ক থেকে ভেতরে, গাছগাছালিতে ঘেরা। এখানে নতুন ভবন নির্মাণ করতে ভাঙা হয়েছে পুরোনো স্থাপত্যশৈলীর ভবন। এগুলোর নকশা করেছিলেন স্থপতি মাজহারুল ইসলাম।   প্রকল্পে বিলাসী উপকরণ যোগ হওয়ার সঙ্গে বেড়েছে ব্যয়ও। শুরুতে এসব ভবন ও কিছু যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই) নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। শুরুতে তারা কাজটি পেয়েছিল ২৩২ কোটি টাকায়। তিন দফা ব্যয় বাড়িয়ে এখন ৩৩৫ কোটি টাকায় ঠেকেছে।   সওজের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, ঠিকাদার সওজের প্রাক্কলনের চেয়ে সাড়ে ১৩ শতাংশ ছাড়ে (লেস) মূল্য প্রস্তাব করে কাজটি পান। অনেক উপকরণের (আইটেম) মূল্য কম দেখিয়ে কাজটি বাগিয়ে নেন। কিন্তু পরে যেসব আইটেমের মূল্য কম দেখানো হয়েছিল, এর বেশির ভাগই বাদ দেওয়া হয়। আর নতুন নতুন পণ্য ও কাজ যোগ করা হয়, যেগুলোর মূল্য বেশি। মূলত বাড়তি লাভের জন্যই এই কারসাজি করেছেন ঠিকাদার। কর্তৃপক্ষও তা অনুমোদন করেছে। সব মিলিয়ে ঠিকাদার কাজ নেওয়ার পর কৌশল করে প্রায় ৪৫ শতাংশ ব্যয় বাড়িয়েছেন, যা খুবই অস্বাভাবিক।   ঢাকার তেজগাঁওয়ে হাতিরঝিলের পাশেই ২০২৩ সালের শেষের দিকে সওজের নতুন প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়। আধুনিক নকশা এবং দৃষ্টিনন্দন এই ভবন যে কারও নজর কাড়বে। এর পাশেই আরেকটি গোলাকার দৃষ্টিনন্দন ভবন তৈরি করা হয় একই সময়। এটির একাংশ ব্যবহার করে সওজ, অন্য অংশ ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। দুটি ভবনই ১৩ তলাবিশিষ্ট।   এই প্রধান কার্যালয়ে ৭০০ আসনবিশিষ্ট মিলনায়তনসহ বিভিন্ন আকারের সম্মেলনকক্ষ, বড় মসজিদ, পাবলিক প্লাজা, পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া, ডে কেয়ার সেন্টার, ২০০ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে। সব মিলিয়ে দুটি ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৩৫ কোটি টাকা। দুটি ভবনে এক হাজারের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারীর কক্ষ ও বসার জায়গা রয়েছে। অন্যদিকে সওজের গবেষণাগারে সাকল্যে লোকবল আছে ৫০ জনের মতো। তারপরও খরচ করা হচ্ছে দুই ভবনের সমান টাকা।   দৃষ্টিনন্দন ভবন থাকা সত্ত্বেও নতুন করে বিলাসী ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, সড়ক ভবনে সেমিনার হলসহ অন্যান্য সুবিধা থাকার পরও নতুন করে একই ধরনের বিলাসী স্থাপনা করার যৌক্তিকতা নেই। প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর এটা একটা কৌশল।   সওজ সূত্র জানায়, সাসেক-২ প্রকল্পে মোট ব্যয় শুরুতে ছিল ১১ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা। তিন দফা বাড়িয়ে তা ১৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটার চার লেন সড়ক নির্মাণে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২০০ কোটি টাকার বেশি।   প্রকল্পের অধীন ভবন নির্মাণ, যানবাহন ক্রয়সহ বিভিন্ন প্যাকেজে একাধিকবার কাজ পরিবর্তন ও ব্যয় বাড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কম দামের আইটেম বাদ দিয়ে বেশি দামের আইটেম যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   সওজ সূত্র ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বারবার ভেরিয়েশন ও ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে স্বাধীন তদন্ত হওয়া উচিত, না হলে ঋণের টাকায় প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়তেই থাকবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

নিরাপদ ঈদযাত্রায় কঠোর গতিনিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের বিশ্রামে জোর বিশেষজ্ঞদের

ডা. নাসিরকে দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক

ছবি: পিআইডি

বাংলাদেশ থেকে ৪ সেক্টরে কর্মী নিতে আগ্রহী কাতার

ছবি : সংগৃহীত
বিমানের কাছে ১০ উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব এয়ারবাসের

বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার বড় চুক্তির পরও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ১০টি এয়ারক্রাফট বিক্রির নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এ চুক্তির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা (১ ডলার = ১২২.৭৩ টাকা হিসেবে)।   এর আগে এয়ারবাসও বিমানের কাছে উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে তখন সে প্রস্তাব গ্রহণ না করে বোয়িং থেকে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সর্বশেষ আবারও ১০টি উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে এয়ারবাস।   নতুন প্রস্তাবে এয়ারবাস ছয়টি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং চারটি এ৩২১-নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ সরবরাহের কথা জানিয়েছে। এ৩৫০-৯০০ মডেলে ২৮০টি আসন এবং এ৩২১-নিও মডেলে ২১৫টি আসন রয়েছে বলে জানা গেছে।   সম্প্রতি এয়ারবাসের একটি প্রতিনিধি দল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে এবং বিমানের টেকনো-ফিন্যান্স কমিটিতে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়। বৈঠকে মিক্সড ফ্লিট পরিচালনার সুবিধা নিয়েও আলোচনা হয়।   এর আগে ২০২৪ সালে এয়ারবাস ১৪টি উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল, যার মধ্যে ১০টি কেনার প্রাথমিক সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তির অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।   বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এয়ারবাসের প্রস্তাব বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, আর্থিক সুবিধা এবং পরিচালনাগত বিষয় বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বোয়িং ও এয়ারবাস উভয় ধরনের উড়োজাহাজ থাকলে রুটভেদে পরিচালন ব্যয় কমানো এবং ফ্লিট ব্যবস্থাপনায় নমনীয়তা বাড়ানো সম্ভব।   বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০৩৪–৩৫ অর্থবছর নাগাদ বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলা যায়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীতে জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে ৯৯ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে লন্ডনে কামিল ইদ্রিসের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

ফারাক্কা চুক্তি নিয়ে ভারতকে কড়া বার্তা বিএনপি মহাসচিবের

0 Comments