নারী এশিয়া কাপের ১০ম আসরের ফাইনালে ভারতের চ্যালেঞ্জিং স্কোর। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান করেছে ভারত।
জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হবে শ্রীলংকাকে। কারণ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপের ফাইনালে এর আগে এত বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই।
রোববার টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে উড়ন্ত সূচনা করে ভারত। উদ্বোধনী জুটিতে স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি ভার্মা ৭৭ বলে ১২৯ রানের জুটি গড়েন। এই জুটিতেই চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ার ভীত গড়েন তারা। এরপর মাত্র ৩ রানের ব্যবধানে ফেরেন দুই ওপেনার।
২৯ বলে ৯টি চার আর দুটি ছক্কার সাহায্যে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করে ফেরেন শেফালি ভার্মা। ৩৯ বলে ৫টি চার আর তিনটি ছক্কার সাহায্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৯ রান করে ফেরেন স্মৃতি মান্ধানা।
টুর্নামেন্টের চলতি আসরে দুই গ্রুপে ৪টি করে মোট ৮টি দল অংশ নেয়। এ গ্রুপ থেকে পাকিস্তান, হংকং ও থাইল্যান্ডকে টপকে ফাইনালে উঠে যায় ভারত। আর বি গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ, আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়াকে টপকে ফাইনালে খেলছে শ্রীলংকা।
সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে যায় ভারত। আর পাকিস্তানকে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে উঠে যায় শ্রীলংকা।
টুর্নামেন্টের চলতি আসরের শুরু থেকে ফাইনালের আগ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলংকা কোনো ম্যাচে হারেনি। অপরাজিত থেকেই শিরোপার দুয়ারে দুই দল। আজ ফাইনালে কারা জিতবে তা সময়ই বলে দেবে।
২০০৪ সাল থেকে শুরু হয় নারী এশিয়া কাপ। টুর্নামেন্টের প্রথম ৬ আসরে টানা জয় পায় ভারত। তবে দুইবারের হ্যাটট্রিক জয়ী ভারতকে ২০১৮ সালে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ।
এরপর ২০২২ সালে শ্রীলংকাকে হারিয়ে সপ্তমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। সবশেষ ২০২৪ সালে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় শ্রীলংকা। এবার তারা শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নেমেছে। আর ভারত চায় অষ্টমবারের মতো শিরোপা নিশ্চিত করতে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
লেভান্তেকে হারাতে খুব বেশি বেগ পেতে হলো না বার্সেলোনার। তবে শেষ দিকে কিছুটা চাপে পড়েছিল তারা। লামিনে ইয়ামালের জোড়া গোলের সঙ্গে জাভি এসপার্ত ও করিম আদেয়েমির গোলে লেভান্তেকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা। লা লিগায় টানা পাঁচ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে শীর্ষস্থান আরো মজবুত করেছে হান্সি ফ্লিকের দল। লেভান্তের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল বার্সেলোনার কাছে। ৫ মিনিটেই রাফিনিয়ার পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এসপার্ত। ১৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইয়ামাল। রাফিনিয়ার তৈরি করে দেওয়া আক্রমণ থেকে বাঁ পায়ের শটে গোলটি করেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। বিরতির পরও বার্সেলোনার দাপট অব্যাহত থাকে। ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইয়ামাল। তিন গোলে এগিয়ে গিয়ে তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেয় বার্সা। তবে শেষ ১৫ মিনিটে ম্যাচ কিছুটা জমে ওঠে। ৭৯ মিনিটে লেভান্তের ইভান রোমেরো ব্যবধান কমান। ৮৮ মিনিটে রজার ব্রুগে গোল করলে ব্যবধান নেমে আসে ৩-২ এ। শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর শঙ্কা তৈরি হলেও তা দূর করেন আদেয়েমি। যোগ করা সময়ে গোল করে বার্সেলোনার জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এই জয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার শীর্ষে বার্সেলোনা। পাঁচ ম্যাচেই ২১ গোল করে ফেলেছে তারা।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ হিসেবে কাজ করেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। তবে কখনই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্ব পাননি তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশি কোচদের আনা হয়েছে জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলে। কিন্তু বিসিবির কোনো কোচিং প্যানেলে নেই সুজন। সাবেক এই অধিনায়ক অবশ্য জাতীয় দলকে কোচিং করাতে প্রস্তুত। যদি বোর্ড প্রয়োজন মনে করে, তাহলে জাতীয় দলকে কোচিং করাবেন সুজন। আজ গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘সেটা তো আমি বলতে পারব না। যদিও আমার ব্রেড অ্যান্ড বাটার কোচিং। বোর্ড যদি মনে করে, আমি সামর্থবান, তারা যদি অফার করে আমি অবশ্যই দায়িত্ব নেব।’ আপাতত বিসিবি তাকে যে পরামর্শকের দায়িত্ব দিয়েছে সেখানেই মনোযোগ সুজনের, ‘এখন তো একটা দায়িত্ব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট- গেম ডেভেলপমেন্টের কনসালটেন্ট। উনি হয়ত ভেবেছে, আমি এখানে অবদান রাখতে পারব। আমাকে যোগ্য মনে করার জন্য তাকে ধন্যবাদ। আমি যতটা সম্ভব অবদান রাখার চেষ্টা করব। ফাহিম এখানে চেয়ারম্যান, তার সঙ্গেও আমার কাজের অভিজ্ঞতা আছে।’ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সঙ্গে নাকি সুজনের সম্পর্ক ভালো নয়। সুজন অবশ্য এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন, ‘এটা তো মানুষ বলে। কী ঝামেলা? আমি আর সালাউদ্দিন তো এটা মনে করি না। ছোট বেলা থেকে দুজন দুজনকে ভালোভাবে চিনি, একসঙ্গে খেলেছি। এরপর দুজনই কোচিংয়ে এসেছি। ওর সঙ্গে সবসময় আমার সুসম্পর্ক। ‘সে কোচ হিসেবে নিজেকে অনেক পরিণত করেছে, অনেক বড় পরিসরে কোচিং করাচ্ছে। আমার মনে হয় না তার সঙ্গে কখনও কোনো সমস্যা ছিল। সালাউদ্দিনই এটা বলবে। আমাদের সবসময়ই কথা হয়, ফোনেও কথা হয়। কোচিংয়ে দুজন দুই দলকে কোচিং করিয়েছি। কখনও সে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, কখনও আমি। এটার জন্য তো সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কথা না। বরং সে ভালো করলে আমি খুশি হই।’
প্রথমার্ধে দারুণ আক্রমণাত্মক খেলে ৩৫ মিনিটেই তিন গোল করল রেয়াল মাদ্রিদ। তবে দ্বিতীয়ার্ধের অনেকটা সময় পর্যন্ত তারাই উপহার দিল ছন্দহীন ফুটবল। দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করে দলকে বাঁচালেন তিবো কোর্তোয়া। শেষ দিকে আরেকটি গোল করে অবশ্য বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ল জুজে মরিনিয়োর দল। সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে শনিবার লা লিগার ম্যাচে রায়ো ভাইয়েকানোকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে প্রতিযোগিতাটির সফলতম দলটি। ছন্দে থাকা কিলিয়ান এমবাপে করেন জোড়া গোল। একটি অ্যাসিস্টও করেন তিনি। রেয়ালের অন্য দুই গোলদাতা আলভারো কারেরাস ও জুড বেলিংহ্যাম। ভাইয়েকানোর একমাত্র গোলটি করেন সের্হিও কামেয়ো। এবারের লা লিগায় প্রথম তিন ম্যাচে জয়ের পর, রেয়াল বেতিসের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে যায় রেয়াল। পরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারায় তারা। এবার ঘরোয়া লিগে জয়ে ফিরল মাদ্রিদের দলটি। পাঁচ ম্যাচে চার জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় দুই নম্বরে উঠেছে রেয়াল মাদ্রিদ। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে শীর্ষে বার্সেলোনা, গত দুইবারের লিগ চ্যাম্পিয়নরা একটি ম্যাচ কম খেলেছে। সপ্তম মিনিটে প্রথম ভাইয়েকানোর রক্ষণে ভীতি ছড়াতে পারে রেয়াল মাদ্রিদ। দারুণ নৈপুণ্যে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপে, প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জে পড়ে গেলে পেনাল্টির আবেদন জানান তিনি, তবে রেফারির সাড়া মেলেনি। ত্রয়োদশ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়া আলভারো কারেরাস ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে দেরি করেননি রেফারি। ঠাণ্ডা মাথার স্পট-কিকে দলকে এগিয়ে নেন এমবাপে। এর তিন মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে রেয়াল। একটু আগে পেনাল্টি আদায় করে নেওয়া কারেরাস এবার নাম লেখান স্কোরশিটে। বক্সে এমবাপের সঙ্গে দারুণভাবে বল দেওয়া-নেওয়া করে জাল খুঁজে নেন তিনি। রেয়ালের প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের মধ্যে ব্যবধান ছিল দুই মিনিট ৫৫ সেকেন্ড। ২৪তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ভিনিসিউস জুনিয়রের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান ভাইয়েকানো গোলরক্ষক। বল তখনও বিপদমুক্ত হয়নি, ছুটে যান এমবাপে, তবে বলটি গোললাইন থেকে দূরে ঠেলে দেন গোলরক্ষক। প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রেখে ৩৫তম মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করে রেয়াল। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে চমৎকার পাস দেন ভিনিসিউস, আর প্রথম স্পর্শে ডান পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন বেলিংহ্যাম। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে এমবাপের জোরাল শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও, পোস্টে লাগে বল। একটু পর ৩০ গজ দূর থেকে ভাইয়েকানোর পেদ্রো দিয়াসের বুলেট গতি শট ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন কোর্তোয়া। দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে দুর্ভাগ্যের ফেরে গোল পায়নি ভাইয়েকানো। বক্সের বাইরে থেকে দিয়াসের শট পোস্টে লাগে। পরক্ষণে বক্সের বাইরে থেকেই আদ্রিয়া পেদ্রোসের শট অল্পের জন্য বাইরে দিয়ে যায়। ৫১তম মিনিটে জাল আর অক্ষত রাখতে পারেনি রেয়াল। রক্ষণের দুর্বলতায় গোলটি হজম করে তারা। আন্টোনিও রুডিগার পাস দেন ভিনিসিউসের উদ্দেশে, কিন্তু এই ব্রাজিলিয়ান তারকার পেছন থেকে ছুটে গিয়ে পায়ের টোকায় বল বক্সে বাড়ান ভাইয়েকানোর এক খেলোয়াড়, আর জালে পাঠান কামেয়ো। এই অর্ধে ভালো খেলতে পারছিল না রেয়াল, বরং তাদের রক্ষণে বারবার ভীতি ছড়াতে থাকে ভাইয়েকানো। ৫৫তম মিনিটে ফ্লোরিয়ানের নিচু শট ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। ১০ মিনিট পর আরেকটি দুর্দান্ত সেভ করেন রেয়ালের বেলজিয়ান গোলরক্ষক। বক্সের বাইরে থেকে জর্জির শট রুখে দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে দলের ছন্দহীন খেলা দেখে তখন দুয়ো দিতে থাকে রেয়ালের সমর্থকদের একটা অংশ। ৭২তম মিনিটে ইয়ান ডিওমান্ডেকে তুলে আর্দা গুল্যারকে নামান মরিনিয়ো। তাতে রেয়ালের খেলায়ও প্রাণ ফেরে আবার। ৭৮তম মিনিটে গুল্যারের ক্রসে কাছ থেকে রুডিগারের হেড দারুণ নৈপুণ্যে বল বাইরে পাঠান ভাইয়েকানো গোলরক্ষক। দুই মিনিট পর গুল্যারের শটও ঠেকিয়ে দেন তিনি। ৮৩তম মিনিটে রুখে দেন এমবাপের আরেকটি ভলি। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপে। গুল্যারের পাস বক্সে পেয়ে নিচু শটে জালে পাঠান ফরাসি তারকা। এবারের লা লিগায় এমবাপের গোল হলো ছয়টি, আর মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ছয় ম্যাচে সাতটি।