বিশ্ব

অনলাইনে মন্তব্যের জন্য এক ইরানি নারীর বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের আবেদন ফরাসি কৌঁসুলির

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ১৭, ২০২৬

 ফ্রান্সের এক  প্রসিকিউটর শুক্রবার অনলাইনে ‘সন্ত্রাসবাদ’ প্রচারের অভিযোগে অভিযুক্ত এক ইরানি নারীর বিরুদ্ধে এক বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছেন। মামলাটি দুই ফরাসি নাগরিকের সঙ্গে সম্ভাব্য বন্দি বিনিময়ের  সঙ্গে সম্পর্কিত।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

এই মামলার রায় আগামি ২৬ ফেব্রুয়ারি দেওয়ার কথা রয়েছে।

৩৯ বছর বয়সী ইরানি নারী মাহদিয়েহ এসফানদিয়ারিকে ফেব্রুয়ারিতে ফ্রান্সে গ্রেফতার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘সন্ত্রাসবাদ’ প্রচার ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ফরাসি কর্তৃপক্ষের মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের ওপর ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলা নিয়ে তিনি (মাহদিয়েহ) যে মন্তব্যগুলো করেছেন, সেগুলোর ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মাহদিয়েহর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ‘অ্যাক্সিস অব দ্য রেজিস্ট্যান্স’ নামে একটি চ্যানেলের জন্য টেলিগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার), টুইচ ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পোস্ট লিখেছিলেন।

প্রায় আট মাস বিচার-পূর্ব আটক থাকার পর অক্টোবরে মাহদিয়েহ জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। তার বিচার শুরু হয় মঙ্গলবার। 

ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ শুরুর অনেক আগেই এই বিচার নির্ধারিত ছিল। 

কৌঁসুলি এসফানদিয়ারির জন্য চার বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছেন, যার মধ্যে তিন বছর স্থগিত থাকবে।

তবে তিনি বলেন, তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর প্রয়োজন নেই।

ইরানি কর্তৃপক্ষ-সংশ্লিষ্ট একটি প্রকাশনা সংস্থার বই ফরাসিতে অনুবাদ করেছেন মাহদিয়েহ।

মাহদিয়েহ আদালতে বলেন, তিনি ‘অ্যাক্সিস অব দ্য রেজিস্ট্যান্স’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে ওই পোস্টগুলো তিনি লিখেননি।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস হামলা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটি সন্ত্রাসী কাজ নয়, এটি প্রতিরোধের একটি কাজ।’

-ফরাসি নাগরিকদের আটক-

এই সপ্তাহের বিচার শুরুর আগেই ইরানের কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা এসফানদিয়ারির বিনিময়ে আটক থাকা দুই ফরাসি নাগরিককে মুক্তি দিতে রাজি।

সিসিল কোলার ও জাক প্যারিস নামের ওই দুই ফরাসি নাগরিককে ২০২২ সালের মে মাসে ইরানে গ্রেফতার করা হয়। 

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তারা তিন বছরের বেশি সময় কারাভোগ করার পর নভেম্বরে মুক্তি পান। 

তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তাদের পরিবার জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।

মুক্তির পরপরই ফরাসি কূটনীতিকরা তাদের তেহরানে ফ্রান্সের দূতাবাসে আছেন এবং ফ্রান্সে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নভেম্বরে বলেন, ফ্রান্স যদি মাহদিয়েহকে মুক্তি দেয়, তবে ‘বিনিময়ের’ অংশ হিসেবে কোলার ও প্যারিসকে দেশে ফিরতে দেওয়া হবে।

ইরানে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আমিন নেজাদ বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, তিনি আশা করছেন ফরাসি এই দু’জন শিগগিরই দেশে ফিরতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘দুই রাষ্ট্রের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব তাদের প্রত্যাবর্তনই আমার কামনা।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একই ধরনের পরিস্থিতিতে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের বহু নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগেও ইরান পশ্চিমা দেশগুলোর হাতে আটক ইরানিদের বিনিময়ে পশ্চিমা নাগরিকদের মুক্তি দিয়েছে। তবে তেহরানের দাবি, বিদেশিরা আইন অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দণ্ডিত হন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলিদের বড় অংশই শঙ্কিত: যুদ্ধে ইরান লাভবান হয়েছে, দুর্বল হয়েছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা

সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তির পর ইরান আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে বলে মনে করেন অধিকাংশ ইসরায়েলি। রোববার (২১ জুন) প্রকাশিত এক জনমত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।   জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয় এবং আগাম ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ জরিপে ৩ হাজার ৬৪৪ জন অংশ নেন। জরিপটি ১৭ থেকে ২০ জুনের মধ্যে পরিচালিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পর ইসরায়েলিদের জনমতের একটি চিত্র ফুটে উঠেছে। খবর আল জাজিরার।   জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৯২ দশমিক ১ শতাংশ মনে করেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানই জয়ী হয়েছে বা বেশি সুবিধা পেয়েছে। অন্যদিকে ৮২ দশমিক ৯ শতাংশের মতে, এ পরিস্থিতির ফলে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা দুর্বল হয়েছে।   জরিপে আরও দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোটের সমর্থকদের মধ্যেও একই ধরনের মনোভাব রয়েছে। এ গোষ্ঠীর ৯৩ দশমিক ১ শতাংশ মনে করেন, যুদ্ধে ইরানই লাভবান হয়েছে।     এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির বিরোধিতাও ছিল ব্যাপক। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৩ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ চুক্তির বিরোধিতা করেছেন। বিপরীতে মাত্র ১২ দশমিক ১ শতাংশ এ চুক্তির পক্ষে মত দিয়েছেন।

মারিয়া রহমান জুন ২১, ২০২৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

ভোটের বিপর্যয়ের পর এবার বড় ধাক্কা: তৃণমূলের ৪৪০ কোটি রুপির অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ

সংগৃহীত ছবি

ইরান নয়, হরমুজে টোল নিলে যুক্তরাষ্ট্র নেবে

ছবি : সংগৃহীত

‘নিজের জনপ্রিয়তার দিকে নজর দিন’: ছবি তোলা বিতর্কে ট্রাম্পকে মেলোনির কড়া জবাব

২২ হাজার প্রবাসীর এনআইডি আবেদন বাতিল, ৪ তথ্য বাধ্যতামূলক

বিভিন্ন দেশ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেতে ২২ হাজার প্রবাসীর আবেদন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যথাযথ না হওয়ায় তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।   গতকল শনিবার (২০ জুন) এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।   প্রবাসীদের আবেদন সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিবন্ধন আবেদন পড়েছে ৮৯ হাজার ৮৯৭টি।   বায়োমেট্রিক প্রদান করেছেন ৫৩ হাজার ২২৯ জন। তদন্তের পর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে এমন আবেদনের সংখ্যা ২ হাজার ৯৭৮টি।   তদন্তের পর অনুমোদন হয়েছে ৪৭ হাজার ১৩২টি আবেদন। বাতিল হয়েছে ২২ হাজার ৩৫২টি আবেদন। সার্ভারে তথ্য আপলোডের অপেক্ষায় রয়েছে ১০ হাজার ১৪১ জনের আবেদন। আপলোড করা হয়েছে ৩৭ হাজার ১৬ জনের আবেদন।   এ ছাড়া আবেদন অনুমোদনের পর এনআইডি প্রিন্ট করা হয়েছে ২২ হাজার ১৮টি। সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে যা বিতরণ চলছে।   ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবী ও দুবাই; সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা; যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেষ্টার ও বার্মিংহাম; ইতালির রোম ও মিলান; কুয়েতের কুয়েত সিটি; কাতারের দোহা; মালয়েশিয়ার কুলালামপুর; অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি; কানাডার অটোয়া ও টরন্টো; জাপানের টোকিও; আমেরিকার নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লসঅ্যাঞ্জেলস; মালদ্বীপের মালে; ওমানের মাসকাট; দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়াসহ মোট ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে ভোটার তালিকা ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলছে।   কর্মকর্তারা বলছেন, আবেদন বাতিল হলেও অসুবিধা নেই। পুনরায় আবেদন করা যাবে।   সবচেয়ে বেশি ভোটার আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থেকে, ২৩ হাজার ৯৪০টি। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে, ১২৬টি আবেদন। সৌদি আরবে আবেদন জমা পড়েছে ৬ হাজার ৩৫২টি। যুক্তরাজ্যে ১৭ হাজার ৩০টি। ইতালিতে ৯ হাজার ৩৮টি। কুয়েতে আবেদন জমা পড়েছে ৫ হাজার ৫৭৩টি। কাতারে ৫ হাজার ৪০৬টি। মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৮৩৩টি আবেদন এসেছে। অস্ট্রেলিয়াতে আবেদন জমা পড়েছে ১ হাজার ২০৬টি। কানাডায় ৩ হাজার ২৯৮টি। জাপানে আবেদন জমা পড়েছে ৩০৯টি। যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ হাজার ৮১২টি। মালদ্বীপে ২৯৮টি ও ওমান থেকে আবেদন এসেছে ২ হাজার ২৪৬টি।   প্রবাসীদের চার তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক   বিদেশে বসে ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র (ফরম-২(ক), মেয়াদ সংবলিত বাংলাদেশি পাসপোর্ট/মেয়াদহীন পাসপোর্ট/এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যায়ন, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি বাধ্যতামূলকভাবে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কেন্দ্রে (দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট ডেস্কে) জমা দিতে হবে।   এদিকে বিশেষ ৫৬টি উপজেলা/থানার (চট্টগ্রাম অঞ্চল) নাগরিকদের জন্য ‘বিশেষ তথ্য ফরম’ পূরণ, শিক্ষা সনদ, বাবা-মার এনআইডি, মৃত হলে মৃত্যু সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স/টিআইএন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), কতিপয় দেশের ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), নিকাহনামা এবং স্বামী-স্ত্রীর এনআইডি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), নাগরিকত্ব সনদ (কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান/মেয়র/সিইও কর্তৃক), ইউটিলিটি বিলের কপি (ভোটার এলাকার ঠিকানার বিদ্যুৎ/পানি/গ্যাস বিলের কপি), ভাড়াটিয়া হলে বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র ও বাড়িওয়ালার অনাপত্তিপত্র জমা দিতে হবে।   বাধ্যতামূলক নয়, এমন তথ্যগুলো নিবন্ধন কেন্দ্রে জমা দিতে না পারলে প্রবাসী নাগরিকরা দেশে বসবাসকারী তাদের আত্মীয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে পারবেন। প্রবাসীরা সংশ্লিষ্ট দেশে বসে ভোটার হওয়ার ফরম পূরণ করলে এবং সব তথ্য সঠিক থাকলে নির্বাচন কমিশন ওই ব্যক্তির উপজেলায় তদন্ত করে সঠিকতা নিশ্চিত হয়। এরপর তথ্যের সঠিকতা পেলে সেই ব্যক্তির আবেদন অনুমোদন করে ভোটার করে নেয়। একই সঙ্গে তার এনআইডি সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২১, ২০২৬

‘সিরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে ইসরায়েল’, পরবর্তী নিশানা কে—তুরস্ক না পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

একসঙ্গে তিন যুদ্ধজাহাজ উদ্বোধন করলেন মোদি

ছবি : সংগৃহীত

ট্রাম্প কি নেতানিয়াহুকে সামলাতে পারবেন

ছবি : সংগৃহীত
তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে বছরে সাড়ে ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু

তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ফ্রান্সে প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। দেশটির স্বাস্থ্য ও জলবায়ু পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত দুটি নতুন গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। খবর ইউরো নিউজের।   গবেষণা সংস্থা অক্সফাম জানিয়েছে, তাপপ্রবাহ শুধু বয়স্ক মানুষের পানিশূন্যতার কারণ নয়, এটি হৃদরোগ, কিডনি জটিলতাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাপপ্রবাহের সময় হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে যায়। আর তীব্র গরম এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে কিডনি বিকলের ঝুঁকি প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।   এ ছাড়া সবচেয়ে গরম দিনগুলোতে নারীদের মৃত্যুহার অন্য সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয় বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ফ্রান্সের দরিদ্র ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো তাপপ্রবাহের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে এসব এলাকায় অতিরিক্ত মৃত্যুর হার ধনী এলাকার তুলনায় প্রায় ৩১ শতাংশ বেশি ছিল।   অন্যদিকে শহরের সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ এলাকার বাসিন্দারা তীব্র গরমের ঝুঁকিতে তুলনামূলকভাবে অনেক কম। গবেষকদের মতে, সবুজ পরিবেশ, উন্নত আবাসন ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতার কারণে তারা বেশি সুরক্ষিত থাকেন।   আরেকটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ফ্রান্সের প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষ গ্রীষ্মকালে নিজেদের ঘরের অতিরিক্ত গরম নিয়ে ভোগান্তিতে থাকেন। প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়িতে পর্যাপ্ত সানশেড বা গরম প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেই। ফলে গরমের সময় এসব ঘর অনেকটা ‘চুল্লি’র মতো হয়ে ওঠে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দরিদ্র মানুষ সাধারণত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাস করেন, যেখানে সবুজের পরিমাণ কম এবং ভবন নির্মাণের উপকরণও তাপ বেশি ধরে রাখে। পাশাপাশি তাদের অনেকেই বাইরে কাজ করেন, ফলে তীব্র গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।   এই পরিস্থিতিতে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারকে দ্রুত আবাসন সংস্কার, জনসাধারণের জন্য শীতল পরিবেশ তৈরির ব্যবস্থা এবং তীব্র গরম মোকাবিলায় বিশেষ জরুরি কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে গৃহহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

লিবিয়া উপকূলে ১৫ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার

ছবি : সংগৃহীত

সোমবার স্পেনের জন্য বড় পরীক্ষার দিন

মন্দিরের ছাদ ধ্বসে নিহত ৪। ছবি : সংগৃহীত

ভারতে মন্দিরের ছাদ ধস, নিহত ৪; ধ্বংসস্তূপে আটকা অন্তত ২০

0 Comments