জাতীয়

ঢাবিতে দিনব্যাপী বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ১৭, ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ১৫তম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল মিলনায়তনে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির আয়োজনে এ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. জেড এন তাহমিদা বেগমের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ স্বাগত বক্তব্য দেন। বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সচিব অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নূর ই তাজ জাহান তন্বী অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, সমাজের সর্বত্র বিজ্ঞান চর্চা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অলিম্পিয়াডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমাদের অস্তিত্বের স্বার্থেই বিজ্ঞানমনস্ক জাতি তৈরি করা প্রয়োজন। আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অলিম্পিয়াড আয়োজন করা হলো। অন্যদিন অন্য জায়গায় আয়োজনটি হবে। এভাবেই আমাদের বিজ্ঞান চর্চা চালিয়ে যেতে হবে। বিজ্ঞান চর্চাকে শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এটিকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্র্যাকটিসিং জগতের সঙ্গে সম্পর্ক উত্তরোত্তর শক্তিশালী করতে চাই। সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতি আমাদের প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে ফেলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্র্যাকটিসিং জগতের সঙ্গে একাডেমিক জগতের মেলবন্ধন শক্তিশালী করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা সম্ভব। 

উল্লেখ্য, তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক ও বিজ্ঞান শিক্ষায় উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি প্রতি বছর বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজন করে। এ বছর বাংলাদেশের ৮ টি বিভাগ থেকে ৫৪৮ জন প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ দুই গ্রুপে শিক্ষার্থীরা অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করে। দুই পর্বে ৩০ জন করে মোট ৬০ জন অংশগ্রহণকারীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। দুই গ্রুপের প্রথম ১০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি, পদক, সনদপত্র ও বিজ্ঞান বিষয়ক বই দেওয়া হয়। 

অলিম্পিয়াডে প্রথম স্থান অধিকারীকে ১০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ৬ হাজার টাকা, তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ৫ হাজার টাকা ও বাকী ৭ জনকে ৪ হাজার টাকা করে প্রাইজ মানি দেওয়া হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
তারেক রহমানের অর্থনৈতিক ভিশনে আস্থা মার্কিন ব্যবসায়ীদের: অতুল কেশপ

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে ভিশন রয়েছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সফররত মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতা ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি রাষ্ট্রদূত অতুল কেশপ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের অতুল কেশপ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এবং তার সরকারের উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমরা সত্যিই আনন্দিত। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ২৫টি কম্পানির ৫০ জন ব্যাবসায়িক নির্বাহী এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন। বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ হতে পেরে মার্কিন কম্পানিগুলো অত্যন্ত গর্বিত।’ বৈঠকের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিশন আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে শুনেছি। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার যে লক্ষ্য রয়েছে, আমরা তাতে বিশ্বাস করি। আমরা মনে করি, এই দেশের মানুষের যে মেধা ও সম্ভাবনা রয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে আমেরিকার প্রাইভেট সেক্টর বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সরবরাহের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।’ সরকারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা পেয়েছেন উল্লেখ করে অতুল কেশপ বলেন, ‘সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো ঠিক রাখার বিষয়ে সরকারের বার্তা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা এই ইতিবাচক বার্তাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের কম্পানিগুলো এবং ইউএস চেম্বার অব কমার্সের কাছে পৌঁছে দেব।’ মার্কিন কম্পানিগুলো কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে এবং আগামীতেও সরকার ও জনগণের সঙ্গে এই অংশীদারি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৩, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

‘মন্ত্রীর জুতা টানছে পুলিশ’—ভাইরাল দাবির ব্যাখ্যা দিল পুলিশ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন মির্জা ফখরুল

অবৈধ অটোরিকশার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে: জ্বালানিমন্ত্রী

ফাইল ছবি
এনআইডির বয়স সংশোধনের ক্ষমতা পেলেন মাঠ কর্মকর্তারা

অনলাইন শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) জন্মতারিখ বা বয়স সংশোধনের ক্ষমতা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার পরিপত্র জারি করেছে ইসির এনআইডি অনুবিভাগ। এতে সই করেছেন নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশনস) মো. সাইফুল ইসলাম। পরিপত্রে বলা হয়েছে, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি/মাধ্যমিক/সমমান শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিভুক্ত হিসেবে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসার ও সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন অফিসার এবং এনআইডি উইংয়ের সহকারী পরিচালক/উপ-পরিচালক/পরিচালকগণ নিষ্পত্তি করতে পারবেন। শিক্ষা সনদের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রমাণাদি/দলিলাদি গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান (এসওপি) অনুসরণ করতে হবে। উল্লেখ্য, সংশোধনের আবেদন ইলেকট্রনিকালি অনুমোদন/বাতিলের ক্ষেত্রে সিএসএসে আবশ্যিকভাবে নোট দিতে হবে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তা কর্তৃক সম্পাদিত কার্যক্রম মনিটরিং করবেন এবং দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার ন্যূনতম তিনটি আবেদন যথাযথভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে কি না তা সংযুক্ত ছকে প্রতিবেদন প্রস্তুতপূর্বক পরিচালক (অপারেশনস)-এর ইন্টারনাল অ্যাকাউন্টে পাঠাবেন। পরিপত্র আরও বলা হয়েছে, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অনুসারে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন এবং জন্মতারিখসহ নিজ নাম ও পিতা/মাতার নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তনসংক্রান্ত আবেদন মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তিযোগ্য হবে। জন্মতারিখ, নিজ নাম ও পিতা-মাতার নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একই ফিল্ডে দ্বিতীয়বার সংশোধন করা যাবে না। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৩, ২০২৬

নতুন গ্যাস পাম্প ও সংকট নিরসনের দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-স্পেন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয়চুক্তির তথ্য প্রকাশের সুপারিশ যুক্তরাষ্ট্রের

বাংলাদেশে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তির তথ্য সবার জন্য প্রকাশের সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দেশটি আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা বাড়াতে বাজেটের নথিপত্র আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি অনুযায়ী প্রস্তুত করা ও সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে  আন্তর্জাতিক মানের স্বাধীনতা দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত ‘২০২৬ ফিসক্যাল ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট: বাংলাদেশ’ শিরোনামের প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে সময়মতো বছরের শেষ আর্থিক বিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ করে আর্থিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তারা আগের সরকারের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়াতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার তাদের নির্বাহী বাজেট প্রস্তাব ও অনুমোদিত বাজেট অনলাইনে উন্মুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন না হলেও বাজেটের তথ্য সার্বিকভাবে নির্ভরযোগ্য ছিল। ঋণের বাধ্যবাধকতা-সংক্রান্ত তথ্যও সবার জন্য সহজলভ্য ছিল। এ ছাড়া বাজেট নথিপত্রে প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে অর্জিত রাজস্বসহ সরকারের পরিকল্পিত ব্যয় ও আয়ের যুক্তিসংগত ও মোটামুটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া গেছে। কিছু ঘাটতির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সরকারের নির্বাহী কার্যালয়গুলোর পরিচালন খরচের আলাদা হিসাব বাজেটে ছিল না, কিংবা বাজেট থেকে রাজস্ব ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সরকারের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি।  প্রতিবেদনে আর্থিক খাতে পূর্ণ স্বচ্ছতা ফেরাতে বাংলাদেশ সরকারের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের চুক্তি সংক্রান্ত মৌলিক তথ্য সবার সামনে আনা, অনুমোদিত বাজেটের সঙ্গে বাস্তব আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখা, প্রধান নিরীক্ষা কার্যালয়কে পর্যাপ্ত অর্থ ও প্রয়োজনীয় স্বায়ত্তশাসন দেওয়া।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৩, ২০২৬

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থীর নাম ঘোষণা আজ

১০০ মিটার তলিয়েছে পদ্মায়

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগের পর বরখাস্ত ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা

0 Comments