শিক্ষা

অধিভুক্ত কলেজে ক্যারিয়ার সেন্টার চালুর নির্দেশ দিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ দেশের অধিভুক্ত কলেজগুলোয় শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে ক্যারিয়ার সেন্টার চালুর নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

তিনি বলেন, ক্যারিয়ার সেন্টার কেবল চাকরির প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর সঙ্গে ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের বিকাশে সহায়ক বিভিন্ন কার্যক্রমও যুক্ত করা হবে।

 

 

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে ঢাকার লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ মিলনায়তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) ও লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এমপ্লয়েবিলিটি রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ (NUERI)-এর ‘ব্রিজিং অ্যাসপিরেশন টু অ্যাচিভমেন্ট’ শীর্ষক ক্যারিয়ার সেন্টার প্রকল্পের গ্র্যাজুয়েশন উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার সম্পর্কে শুরু থেকেই সচেতন করে তোলা। ক্যারিয়ার সেন্টারের মাধ্যমে তারা নিজেদের আগ্রহ ও সক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারবে, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবে। এর মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।’

 

 

তিনি জানান, শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও কর্মমুখী করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে শুধু দেশের শ্রমবাজারে নয়, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাতেও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই নতুন নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এআই, রোবোটিকস, ডাটা সায়েন্স, হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টসহ সময়ের চাহিদাসম্পন্ন বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

তিনি বলেন, ‘এখনই যদি আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে সংস্কার করতে না পারি, তাহলে আগামী ২০ বছরেও হয়তো এই সুযোগ আসবে না। কারণ এই প্রতিষ্ঠানের যখন কেউ দায়িত্ব পায়, তাদের অনেক ধরনের এজেন্ডা থাকে। কিন্তু আমাদের কোনো ব্যক্তিগত এজেন্ডা নেই। আমাদের একটাই লক্ষ্য—জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।’

 

 

ড. আমানুল্লাহ বলেন, ‘দেশের শিক্ষা ও উন্নয়ননীতির বড় অংশ এখনো শহরকেন্দ্রিক। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিপুলসংখ্যক কলেজ মফস্বল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। এসব কলেজের শিক্ষার মান ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করেছে।’

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি, মফস্বলের কলেজগুলোর মান বাড়ানো সহজ কাজ নয়। কিন্তু চ্যালেঞ্জ আছে বলেই আমরা পিছিয়ে থাকতে চাই না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

 

 

ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, ‘ক্যারিয়ার সেন্টারগুলো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, যোগাযোগ দক্ষতা, ভাষাগত সক্ষমতা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, সমস্যা সমাধান এবং অন্যান্য সফট স্কিল অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে।’

 

 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু একটি সনদ নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করবে না; বরং বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নেও তারা আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

 

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকার রাশিয়ান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা খলেভনয়। লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সুলতানা মাহমুদা ইয়াসমীন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

 

 

 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক রাজ বিন কাসেম, উপাধ্যক্ষ ড. বিলকিস বেগম, বিওয়াইএলসির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ ও সিনিয়র ম্যানেজার হাবিবুল্লাহ তামিম, বিওয়াইএলসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন ভাইস চ্যান্সেলর।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

শিক্ষা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
অধিভুক্ত কলেজে ক্যারিয়ার সেন্টার চালুর নির্দেশ দিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ দেশের অধিভুক্ত কলেজগুলোয় শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে ক্যারিয়ার সেন্টার চালুর নির্দেশ দিয়েছেন।     তিনি বলেন, ক্যারিয়ার সেন্টার কেবল চাকরির প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর সঙ্গে ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের বিকাশে সহায়ক বিভিন্ন কার্যক্রমও যুক্ত করা হবে।     সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে ঢাকার লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ মিলনায়তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) ও লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এমপ্লয়েবিলিটি রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ (NUERI)-এর ‘ব্রিজিং অ্যাসপিরেশন টু অ্যাচিভমেন্ট’ শীর্ষক ক্যারিয়ার সেন্টার প্রকল্পের গ্র্যাজুয়েশন উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।       ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার সম্পর্কে শুরু থেকেই সচেতন করে তোলা। ক্যারিয়ার সেন্টারের মাধ্যমে তারা নিজেদের আগ্রহ ও সক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারবে, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবে। এর মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।’     তিনি জানান, শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও কর্মমুখী করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে শুধু দেশের শ্রমবাজারে নয়, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাতেও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই নতুন নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এআই, রোবোটিকস, ডাটা সায়েন্স, হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টসহ সময়ের চাহিদাসম্পন্ন বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।       তিনি বলেন, ‘এখনই যদি আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে সংস্কার করতে না পারি, তাহলে আগামী ২০ বছরেও হয়তো এই সুযোগ আসবে না। কারণ এই প্রতিষ্ঠানের যখন কেউ দায়িত্ব পায়, তাদের অনেক ধরনের এজেন্ডা থাকে। কিন্তু আমাদের কোনো ব্যক্তিগত এজেন্ডা নেই। আমাদের একটাই লক্ষ্য—জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।’     ড. আমানুল্লাহ বলেন, ‘দেশের শিক্ষা ও উন্নয়ননীতির বড় অংশ এখনো শহরকেন্দ্রিক। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিপুলসংখ্যক কলেজ মফস্বল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। এসব কলেজের শিক্ষার মান ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করেছে।’       তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি, মফস্বলের কলেজগুলোর মান বাড়ানো সহজ কাজ নয়। কিন্তু চ্যালেঞ্জ আছে বলেই আমরা পিছিয়ে থাকতে চাই না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।’     ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, ‘ক্যারিয়ার সেন্টারগুলো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, যোগাযোগ দক্ষতা, ভাষাগত সক্ষমতা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, সমস্যা সমাধান এবং অন্যান্য সফট স্কিল অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে।’     তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু একটি সনদ নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করবে না; বরং বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নেও তারা আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।     অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকার রাশিয়ান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা খলেভনয়। লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সুলতানা মাহমুদা ইয়াসমীন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।       অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক রাজ বিন কাসেম, উপাধ্যক্ষ ড. বিলকিস বেগম, বিওয়াইএলসির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ ও সিনিয়র ম্যানেজার হাবিবুল্লাহ তামিম, বিওয়াইএলসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন ভাইস চ্যান্সেলর।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ সালের আলিম পরীক্ষার প্রশ্ন হবে পরিমার্জিত আরবি বই থেকে

সংগৃহীত ছবি

এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদন ২১ আগস্ট শুরু করার পরিকল্পনা

নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে : প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

সংগৃহীত ছবি
ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর দিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

অধিভুক্ত কলেজের স্নাতক (সম্মান) কোর্সে এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৫টি বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরীক্ষার সুযোগ দিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বিশেষ বিবেচনায় এসব শিক্ষার্থীকে আরো একবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) কোর্সের যেসব শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, তারা বিশেষ সুযোগে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুরের মূল ক্যাম্পাসে একাডেমিক কাউন্সিলের ১০৩তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নাজমুল হোসাইনসহ একাডেমিক কাউন্সিলের ৪৩ জন সদস্য, সরকারি-বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় প্রধান ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া ঠেকাতে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সিজিপিএ ২.২৫-এর নিচে পাওয়া শিক্ষার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব সভায় বিবেচনা করা হয়েছে। এই উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন শেষ করার পথ আরো সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ফার্মেসি ও ল শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ

‘সমকামিতার’ অভিযোগে ঢাবির হল থেকে ২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

ছবি: সংগৃহীত

এসএসসিতে শূন্য পাস ৩১২ প্রতিষ্ঠান: শোকজ বোর্ডে, ঝুঁকিতে এমপিও সুবিধা

ছবি: সংগৃহীত
ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র, উঠছে নানা প্রশ্ন

এবার বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যম থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য ভিন্ন প্রশ্নপত্র তৈরি করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, যা উচ্চশিক্ষায় বৈষম্যকে উসকে দেবে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা।   এ সিদ্ধান্তের ফলে ইংরেজি পাঠ্যক্রমের বাজার লাভবান হবে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।   আবার ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র হলে মাদ্রাসা বা কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কেন নয়, সেই প্রশ্নও উঠেছে।   গত ২ অগাস্ট ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের সূচি প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।   সেদিন সাধারণ ভর্তি কমিটির সভার সিদ্ধান্তের বরাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ইউনিটের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্রম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।”   আলাদা প্রশ্নপত্র করার সিদ্ধান্ত হলেও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের আবেদনের যোগ্যতা কী হবে কিংবা তাদের জন্য নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দ থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো নীতিমালা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা।   জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক আবদুল করিম বলেন, “এখন পর্যন্ত শুধু আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো মিটিং হয়নি; কোনো নীতিমালাও হয়নি; আস্তে আস্তে সব হবে।”   এখন পর্যন্ত কোনো নীতিমালা না হওয়ার কথা বলেছেন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য অধ্যাপক উপমা কবির।   বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তটা আমাদের জানিয়েছে। বুধবার হয়ত আমাদের মিটিং হতে পারে। সেখানে হয়ত আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।”   নীতিমালা তৈরির আগে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে প্রশ্ন উঠতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রশ্ন তো অবশ্যই উঠবে। তবে সেটার উত্তর নিশ্চয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে থাকবে।”   কোনো নীতিমালা ছাড়া নতুন এ সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, “আমরা (বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন) সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। এটার নীতিমালা প্রণয়ন করবে ভর্তি কমিটি। আর, আমাদের বর্তমান যে নীতিমালা আছে, এটাও সেভাবে হবে।"   দুটি প্রশ্নকে কীভাবে সমমান করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, " এটা ভর্তি পরীক্ষা কমিটি ঠিক করবে। তারা বৈষম্য যেন হয়, সেভাবে প্রশ্ন তৈরি করবেন নিশ্চয়। আর এ সিদ্ধান্ত বৈষম্য দূর করার জন্যই নেওয়া হয়েছে, বৈষম্য তৈরি করার জন্য নয়।”   একটা পরীক্ষা দুটি আলাদা প্রশ্নে হলে বৈষম্য সৃষ্টি হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি এখানে কোনো বৈষম্য হবে বলে মনে করি না।"   এক্ষেত্রে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য কেন আলাদা ভর্তি পরীক্ষা হবে না জানতে চাইলে এ অধ্যাপক বলেন, "এটা তো মিটিংয়ে আলোচনায় আসেনি। যদি সামনে আলোচনায় আসে, তখন সেটা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।"   সিদ্ধান্ত নিতে নিয়মের ব্যত্যয়! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিষয়ে নতুন নিয়ম প্রণয়নের প্রধান ফোরাম হচ্ছে একাডেমিক কাউন্সিল। কিন্তু একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ছাড়াই ভর্তি কমিটির সাধারণ সভায় ২ আগস্ট এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেটাকে নিয়মের ব্যত্যয় হিসেবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যরা।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক উপ-উপাচার্য বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হলে সেটা প্রথমে একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা হবে। সেখান থেকে সেটা পাস হলে তারপর ভর্তি কমিটির সভায় সেটার পদ্ধতি নিয়ে আলাপ করবে। একাডেমিক কমিটির সুপারিশ ছাড়া এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।”   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাইনুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র বডি হচ্ছে একাডেমিক কাউন্সিল। সেখানে আলোচনা ছাড়া কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এক্ষেত্রে সাধারণ ভর্তি কমিটি, যারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা ভালো বলতে পারবে।”   এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য আবদুস সালাম বলেন, “গত ডিনস কমিটির মিটিংয়ে এ পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ আসে। পরে একাডেমিক কমিটি থেকে তা চূড়ান্ত হয়ে আসে।”   ডিনস কমিটি নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ মোতাবেক কোনো কমিটির কথা বলা নেই। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন যারা ডিনস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, কেউ নির্বাচিত নন। এ অবস্থায় তারা সুপারিশ করতে পারেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।   এ বিষয়ে অধ্যাপক আবদুস সালামের ব্যাখ্যা হলো, “ডিনস কমিটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছে। আমরা সে অনুযায়ী নিয়েছি।"   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া, পরীক্ষা ও শিক্ষার মান কেমন হবে— তা নিয়ন্ত্রণ, দেখভাল এবং এ বিষয়ে সিন্ডিকেটকে পরামর্শ দেওয়ার জন্যই একাডেমিক কাউন্সিল গঠিত হয়।   অধ্যাদেশের ৩য় খণ্ডের ২ নম্বর ধারায় সাধারণ ভর্তি কমিটির কাজের বিষয়ে বলা হয়েছে, ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করার একটা কমিটি, যা মূলত একাডেমিক কাউন্সিল দ্বারা গঠিত।   এক্ষেত্রে একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা ছাড়া এরকম নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কিনা জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য আবদুস সালাম বলেন, "এটা একাডেমিক কাউন্সিলে যাবে। সেখান থেকে পাস হয়ে আসবে।"   এক্ষেত্রে একাডেমিক কমিটিতে যাওয়ার আগে যে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেওয়া হয়েছে সেটা নিয়মের ব্যত্যয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "নিয়মের ব্যত্যয় হওয়ার আগে কিছু কিছু বিষয়, যেটা সময় ও অন্যান্য বিবেচনা করেও করা যেতে পারে, যা পরে একাডেমিক কাউন্সিলে সম্পূরক অনুমোদন নেওয়া যায়।"   যা বলছেন বিজ্ঞরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ১০ শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছে।   তাদের ভাষ্য, ভর্তি পরীক্ষায় নতুন করে কোনো নিয়ম সংযোজন বা বিয়োজন করতে হলে দুই থেকে তিন বছর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হয়; তারপর সেই নিয়ম বা নীতি যুক্ত করা যায়। নয়ত নতুন নিয়ম নানা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম তালুকদার বলেন, "এবার ভর্তি পরীক্ষায় ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের বিষয়ে আমাদের একাডেমিক কমিটিতে আলোচনা হয়েছিল। সেখানে আমরা আলাদা না করে ন্যাশনাল ও ইংরেজি মাধ্যমের পাঠ্যক্রমকে সমন্বয় করে পরীক্ষা নিতে বলেছি। তা না করলে বৈষম্য সৃষ্টি হতে পারে।   “একটা পরীক্ষা আলাদা প্রশ্নে নেওয়া হলে সেখানে সমান প্রতিযোগিতা ও প্রশ্নের মানকে সমমান করা সম্ভব হয় না। এটা আমাদের বিভাগের সর্বসম্মত সুপারিশ ছিল। তবে এ ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা একাডেমিক কাউন্সিল।”   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “একটি পরীক্ষা দুটি আলাদা প্রশ্নে নেওয়া হলে কেউ কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন। কারণ, একটা পরীক্ষার দুটি প্রশ্নপত্রে সবসময় বৈষম্যের আশঙ্কা থেকে যায়।”   এই অধ্যাপকের পরামর্শ হলো, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থী যা যা শেখে, তার ভিত্তি করে একটা ব্যাসিক প্রশ্নপত্র করতে পারে। সেটা হলে কেউ বঞ্চিত হবে না।”   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, “আমরা নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এখন পলিসির উপরেই নির্ভর করবে এ পরীক্ষা বৈষম্য সৃষ্টি করবে, নাকি সাম্য প্রতিষ্ঠা করবে।”   নতুন এ সিদ্ধান্ত শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে মনে করেন আবদুল্লাহ জামান, যিনি ইংরেজি মাধ্যমের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান— উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও গাইডেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ।   সম্প্রতি এক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, “আমি নিজেই দুটি আন্তর্জাতিক (ইংরেজি মাধ্যম) বিদ্যালয় পরিচালনা করি। বাস্তবতা হলো, ইংরেজি মাধ্যমের জন্য যদি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা সুবিধা সৃষ্টি করে, তাহলে ব্যক্তিগতভাবে সেটি আমার প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক হতে পারে। আরও বেশি অভিভাবক ইংরেজি মাধ্যমের দিকে ঝুঁকবেন, শিক্ষার্থী বাড়বে, বাজার সম্প্রসারণ হবে।   “কিন্তু দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি ব্যবসায়িক লাভের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে বড় বলে মনে করি। যে নীতি আমার প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক হলেও দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, সেই নীতিকে সমর্থন করা নৈতিকভাবে সঠিক নয়।”   তার মতে, এটি উচ্চশিক্ষায় একক একাডেমিক মানদণ্ড ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: পৃথক প্রশ্নপত্র জাতীয় শিক্ষার জন্য কী বার্তা দেবে’ শিরোনামের এ নিবন্ধে তিনি লেখেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা কোনো নির্দিষ্ট বোর্ডের পাঠ্যবই পরীক্ষা করে না। এটি প্রার্থীর বিশ্লেষণী ক্ষমতা, ধারণাগত দক্ষতা, ভাষাগত সক্ষমতা এবং উচ্চশিক্ষার উপযোগিতা যাচাই করে।   “সুতরাং প্রশ্ন হওয়া উচিত—‘কোন বোর্ডে পড়েছ?’ নয়; বরং ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা অর্জন করেছ কি না?’ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের মানদণ্ড এক হয়, তবে মূল্যায়নের মানদণ্ডও এক হওয়া উচিত।”   আবদুল্লাহ জামান মনে করেন, “আজ যদি ইংরেজি মাধ্যমের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র হয়, আগামীকাল মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডও একই দাবি করবে। তাদের যুক্তিও হবে,‘আমাদের পাঠ্যক্রম আলাদা।’ এরপর কারিগরি শিক্ষা বোর্ড একই দাবি তুলবে।”   যা বলছেন শিক্ষার্থী-অভিভাকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অবশ্যই সবাইকে সুযোগ দেয়া উচিত। তবে আলাদা প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে সেটা নিশ্চিত করবে না।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসির শিক্ষার্থী তন্ময় আহমদ বলেন, “ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ অঞ্চলের প্রান্তিক ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় এখন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে। কিন্তু কাউকে এক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া বৈষম্য। “উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সব পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এক। ইংরেজি মাধ্যমের এমন কোনো শিক্ষার্থী নেই, যারা বাংলা মিডিয়ামের প্রশ্ন উত্তর দিতে পারবে না। এক্ষেত্রে তাদের যেহেতু ভাষাগত সমস্যা আছে, সেক্ষত্রে ইংরেজি ভাষায় প্রশ্নপত্র হতে পারে।”   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ রাফী বলেন, "এক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবে পাঁচ হাজার, আরেকটায় দেড় লাখ। এখানে কীভাবে সমান প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হবে? বরং এটা হলে দেখা যাবে ইংরেজি মাধ্যম থেকে ভর্তি হবে এক হাজার; আর বাংলা মাধ্যম থেকে ৫০০। তাহলে বৈষম্য আরও উসকে দেওয়া হবে।"   উত্তরার এক এইচএসসি শিক্ষার্থীর মা সৈয়দা রেজাউন্নাহার শিফন বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের পাঠ্যক্রম থেকে লেখাপড়া করা শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ পাওয়া উচিত।   “তবে বর্তমানে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার, তাতে বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের বৈষম্যের শিকার হবেন বলে আমি মনে করি।”

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শুরু, চলবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত

ছবি: সংগৃহীত

মিরসরাইয়ের এক স্কুলে এসএসসিতে ৭ জনের মধ্যে পাস মাত্র ১

ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করার ক্ষমতা আর থাকছে না এনটিআরসিএর

0 Comments