প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ বাংলাদেশের পলি, পানি ও পরিবেশগত সংকট সমাধানের পরিবর্তে আরও গভীর করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার ভূতত্ত্ব ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও পানি বিশেষজ্ঞ ড. মো. খালেকুজ্জামান। দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক খায়রুল হাসান জাহিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি পদ্মা ব্যারাজের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।
নিচে সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
দ্য ডেইলি স্টার: প্রস্তাবিত ‘পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্পটিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
মো. খালেকুজ্জামান: মূল প্রশ্নে আসার আগে, প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটির নাম প্রসঙ্গে আমার কিছু বলা প্রয়োজন। প্রকল্পটির মূল নাম ছিল ‘গঙ্গা ব্যারাজ’ এবং সেটিই বেশি উপযুক্ত। কারণ, বাংলাদেশে প্রবেশের পর দৌলতদিয়া পর্যন্ত নদীটি ‘গঙ্গা’ নামেই পরিচিত। এটিকে ‘পদ্মা ব্যারাজ’ বলা হলে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি আমরা উপেক্ষা করছি।
বঙ্গীয় ব-দ্বীপ বা বেঙ্গল ডেল্টা হলো বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম একটি ব-দ্বীপ। নদীবাহিত পলি জমার মাধ্যমে ব-দ্বীপ গঠিত হয়। একটি ব-দ্বীপের টিকে থাকা, এর ভূখণ্ড ধরে রাখা এবং সমুদ্রের দিকে বিস্তৃত হতে থাকায় উপকূলীয় এলাকায় পলি জমা হওয়া অত্যন্ত জরুরি। পলি জমা কমে গেলে বদ্বীপ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে, বিশেষত যখন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমাগত বাড়ছে। সেই বিবেচনায় পলি সঞ্চয়ের কোনো বিকল্প নেই।
১৯৬০-এর দশকে বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলো দিয়ে বছরে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২০০ কোটি টন পলি আসত। বর্তমানে এই পরিমাণ ১০০ কোটিরও নিচে নেমে এসেছে। কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, এটি ৬০ থেকে ৭০ কোটি টনের মধ্যে। এর প্রধান কারণ উজানের হস্তক্ষেপ। গঙ্গা-যমুনা নদী অববাহিকার মাত্র প্রায় ৮ শতাংশ বাংলাদেশের ভেতরে, বাকি ৯২ শতাংশ রয়েছে ভারত, নেপাল, চীন ও ভুটানে। ফারাক্কার উজানে গঙ্গা অববাহিকায় অন্তত ৩৪টি বড় স্থাপনা রয়েছে। ছোট-বড় সব ধরনের হস্তক্ষেপ মিলিয়ে এ সংখ্যা প্রায় ৩০০ বলে ধারণা করা হয়।
১৯৭৫ সালে ফারাক্কা ব্যারাজ চালু হওয়ার পর থেকে, গঙ্গা নদী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশকারী পলির একটি বিশাল অংশ উজানেই আটকে যাচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, এই পলির এক-তৃতীয়াংশ থেকে প্রায় অর্ধেক এখন ফারাক্কার পেছনে জমা হয়ে থাকছে। রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মার ওপর আরেকটি ব্যারাজ নির্মাণ করা হলে, বর্ষাকালে এখনো বাংলাদেশে প্রবেশ করা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পলিও সেখানে আটকে যেতে পারে।
বর্তমানে গঙ্গা প্রতিবছর আনুমানিক ৪০ থেকে ৬০ কোটি টন পলি বাংলাদেশে নিয়ে আসে। এর বড় অংশ মেঘনা নদীপ্রণালির মধ্য দিয়ে মোহনার দিকে প্রবাহিত হয়। কিছু অংশ উপকূলীয় প্লাবনভূমিতে জমা হয়, আর বাকিটা সাগরে চলে যায়। আরেকটি ব্যারাজ নির্মাণ করা হলে ভাটির দিকে পলির সরবরাহ আরও কমে যাবে এবং অধিকাংশ পলি উজান ও ব্যারাজের আশপাশেই জমা হতে থাকবে।
ফারাক্কার অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। স্যান্ডর্প ও কল্যাণ রুদ্রের গবেষণায় দেখা গেছে, ফারাক্কা বছরে গড়ে ৩০ থেকে ৬০ কোটি টন পলি আটকে রাখে। এর ফলে উজানে ব্যাপক পলি জমা হয়েছে, নদীর পানি বহনক্ষমতা কমেছে এবং জলাবদ্ধতা, বন্যা ও ভাঙন বেড়েছে। ভারতের মালদায় প্রায় ৪০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যায়। অন্যদিকে ভাটির দিকে মুর্শিদাবাদে পানির সংকট প্রায়ই দেখা দেয়। আবার হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি ছাড়লে ভাঙন তীব্র হয়। প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার জমি বিলীন হয়েছে এবং প্রায় ৫০ হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এগুলো হয়তো ভারতের সমস্যা বলে মনে হতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের জন্যও তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ভারতের বহু বিজ্ঞানী, পানি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদরা মনে করেন, ফারাক্কা ছিল মৌলিকভাবে একটি ভুল সিদ্ধান্ত। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে এর কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবাদে ব্যারাজটি অপসারণের দাবিতেও আন্দোলন হয়েছে। একই নদী ব্যবস্থায় বাংলাদেশ আরেকটি ব্যারাজ নির্মাণের কথা ভাবার আগে সেই অভিজ্ঞতাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
ডেইলি স্টার: উজান থেকে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ২০২৬ সালে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য ‘পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্প কতটা বাস্তবসম্মত?
মো. খালেকুজ্জামান: ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, এটি একটি অত্যন্ত অপরিণত এবং অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে আলোচনা করার আগে আমাদের আরও মৌলিক একটি বিষয় মোকাবিলা করা প্রয়োজন। ফারাক্কা ব্যারাজের কারণে বাংলাদেশ শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি পায় না। চুক্তি সইয়েরর পরও আমরা ধারাবাহিকভাবে আমাদের ন্যায্য হিস্যা পাইনি। ১৯৯৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ২০ বছরের তথ্য নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়েছিল, যেখানে আমিও যুক্ত ছিলাম। আমরা দেখেছি, চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ৫২ শতাংশ সময় বাংলাদেশ তার ন্যায্য পরিমাণ পানি পায়নি। সবচেয়ে সংকটপূর্ণ সময় ১১ মার্চ থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত। এ সময়ে বাংলাদেশ প্রায় ৬৫ শতাংশ সময় তার প্রাপ্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
মূল সমস্যাটি হলো, বর্তমান চুক্তিতে কোনো 'নিশ্চয়তা বিধান' বা গ্যারান্টি ক্লজ নেই। ফারাক্কায় পানিপ্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে গেলে যে পরিমাণ পানি থাকে, তা মোটামুটি ৫০-৫০ ভিত্তিতে ভাগ করা হয়। ধরুন, প্রবাহ কমে ৫০ হাজার কিউসেকে নেমে এলো। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাবে ২৫ হাজার কিউসেক, যদিও তার পাওয়ার কথা ছিল ৩৫ হাজার কিউসেক। কারণ, প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ফারাক্কা পর্যন্তই পৌঁছায় না।
তাই জরুরি প্রশ্ন হলো, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে কী হবে? আমার মতে, পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখা উচিত। বাংলাদেশের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত গঙ্গা চুক্তিকে আরও শক্তিশালী আকারে নবায়ন করা, যেখানে একটি গ্যারান্টি ক্লজ থাকবে। ১৯৭৭ সালের চুক্তিতে এমন গ্যারান্টি ছিল, কিন্তু বর্তমান চুক্তিতে তা নেই। পরবর্তী চুক্তি আরও দৃঢ় হওয়া উচিত এবং সম্ভব হলে শুধু শুষ্ক মৌসুমের পাঁচ মাস নয়, পুরো ১২ মাসকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরন, নদীর প্রবাহ ও পানির প্রাপ্যতা বদলে যাচ্ছে। তাই আমাদের এমন একটি অববাহিকাভিত্তিক চুক্তি প্রয়োজন, যা ফারাক্কায় শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করবে।
বর্তমানে এই চুক্তি শুধু বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু নেপালও গঙ্গা অববাহিকার অংশ। যদি আমরা বৈজ্ঞানিক ভিত্তিসম্পন্ন কোনো চুক্তি চাই, তাহলে সেটি হতে হবে অববাহিকাভিত্তিক, বছরজুড়ে কার্যকর, নেপালকে অন্তর্ভুক্তকারী এবং শুষ্ক মৌসুমে ন্যূনতম পানিপ্রবাহ নিশ্চিতকারী। চুক্তিতে শুধু পানি নয়, পলির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে এবং কীভাবে সেই পলি ভাটিতে বাংলাদেশে প্রবাহিত হবে, তা স্পষ্ট করতে হবে। একইসঙ্গে, ফারাক্কার উজানে নতুন কোনো পানি প্রত্যাহারমূলক স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলে ভারতকে তা বাংলাদেশকে জানাতে হবে। বৃহত্তর গঙ্গা অববাহিকায় ইতোমধ্যে অন্তত ৩৪টি বড় স্থাপনা রয়েছে। নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা অতিরিক্ত পানি প্রত্যাহারের পরিকল্পনা হলে বাংলাদেশকে অবশ্যই অবহিত করতে হবে। কৌশলগত কারণেও বাংলাদেশের আগে দেখা উচিত, চুক্তি নবায়নের আলোচনা কোন দিকে যাচ্ছে। এরপরই কেবল আমরা অনুমান করতে পারব বাস্তবে কতটুকু পানি পাওয়া যাবে এবং তা কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, সে বিষয়ে আলোচনা করতে পারব।
ডেইলি স্টার: তিস্তা ব্যারাজের অভিজ্ঞতা প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজের জন্য কী শিক্ষা দেয়? সেচ, নৌ-চলাচল ও পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রকল্পটির দাবিগুলো কতটা বাস্তবসম্মত?
মো. খালেকুজ্জামান: তিস্তার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তা নদীতে বাংলাদেশের একটি ব্যারাজ ও সেচ প্রকল্প রয়েছে। কিন্তু ভারত থেকে পর্যাপ্ত পানি না আসায় তিস্তা অববাহিকার বিস্তীর্ণ অংশ শুকনো বালুচরে পরিণত হয়েছে। কোনো ব্যারাজ বা বাঁধ নিজে পানি সৃষ্টি করতে পারে না। পানি আসতে হবে উজান থেকে।
তিস্তা ব্যারাজ থেকে যদি আমরা শিক্ষা নিতে চাই, তাহলে প্রতিটি মৌসুমে ভারত থেকে ঠিক কতটুকু পানি আসবে এবং সেই প্রবাহের নিশ্চয়তা থাকবে কি না—এ বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে গঙ্গা বা পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ কোনো বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হবে না।
বাংলাদেশের যেসব এলাকা গঙ্গা নদীর পানির ওপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল, সেগুলোর অবস্থান মূলত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৩৭ শতাংশ এলাকা এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত এবং বর্তমানে এই অঞ্চলটি তীব্র পরিবেশগত ও পানিসম্পদ-সংক্রান্ত সংকটের সম্মুখীন। সুন্দরবন এলাকা, ‘গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প’ এলাকা এবং ভবদহের মতো জলাবদ্ধতাকবলিত অঞ্চলগুলোতে বর্তমানে লবণাক্ততার মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের উদ্বেগ বা শঙ্কাটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও যথার্থ। তবে এই সমস্যার সমাধান হিসেবে ‘পদ্মা ব্যারাজ’ নির্মাণ করাটা সঠিক বা উপযুক্ত পদক্ষেপ নয়।
দেশের মোট ভূমির প্রায় ৩৭ শতাংশ গঙ্গানির্ভর অঞ্চলগুলো মূলত বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। ওই এলাকা ইতোমধ্যে মারাত্মক চাপের মধ্যে রয়েছে। সুন্দরবন, গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) প্রকল্প এলাকা এবং ভবদহের মতো জলাবদ্ধ অঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়ছে। বাংলাদেশের উদ্বেগ একেবারেই যৌক্তিক। কিন্তু এর সমাধান হিসেবে পদ্মা ব্যারাজ সঠিক পথ নয়।
প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, ব্যারাজে ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ঘনমিটার বা প্রায় ৩ বিসিএম পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এখন এটিকে পদ্মা দিয়ে বছরে বাংলাদেশে প্রবেশ করা মোট পানিপ্রবাহের সঙ্গে তুলনা করুন, যা বছরে প্রায় ৩৫০ থেকে ৫২৫ বিসিএম। সেই তুলনায় ৩ বিসিএম পানি সংরক্ষণ অত্যন্ত সামান্য।
বড় বন্যার সময় পদ্মা দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৭৫ হাজার ঘনমিটার পানি বাংলাদেশে ঢুকতে পারে। বড় ধরনের বন্যায় মাত্র একদিনেই পদ্মা দিয়ে প্রায় ৬ বিসিএম পানি প্রবাহিত হতে পারে। অর্থাৎ, তিন মাসে ব্যারাজে যত পানি সংরক্ষণের কথা বলা হচ্ছে, তার দ্বিগুণ পানি একদিনের বন্যাতেই প্রবাহিত হতে পারে।
প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান দাবি হলো, এর মাধ্যমে ১৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া যাবে। কিন্তু আমার হিসাব অনুযায়ী, ওই পরিমাণ জমিতে সেচ দিতে ৩ বিসিএম নয়, বরং ৯ থেকে ২৬ বিসিএম পানি প্রয়োজন হবে। নিম্নতম হিসাব ধরলেও ১৯ লাখ হেক্টরে সেচ দিতে প্রায় ৯ দশমিক ৫ বিসিএম পানি লাগবে। অথচ প্রকল্পে দাবি করা হচ্ছে, ব্যারাজ থেকেই পুরো এলাকার সেচের পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
এটি বিভ্রান্তিকর দাবি। আংশিক সেচ দিলেও প্রস্তাবিত সংরক্ষণ সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি পানি প্রয়োজন হবে। আর যদি সংরক্ষিত পানির শতভাগই সেচে ব্যবহার করা হয়, তাহলে পরিবেশগত প্রবাহ, মৎস্যসম্পদ বা নৌ-চলাচলের জন্য কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ব্যারাজ নৌ-চলাচল বাড়াবে, সেচ সম্প্রসারণ করবে এবং লবণাক্ততা কমাবে। কিন্তু সংরক্ষিত সব পানি সেচে ব্যবহার করলেও ঘোষিত সেচ চাহিদা পূরণ হবে না। ফলে নৌ-চলাচল উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত পানি অবশিষ্ট থাকবে—এমন দাবির কোনো গ্রহণযোগ্য ভিত্তি নেই।
আরও গভীর সমস্যা হলো, বিদ্যমান চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ফারাক্কার ভাটিতে পদ্মা শুষ্ক মৌসুমে ইতোমধ্যেই পর্যাপ্ত পানি পায় না। আর তিস্তায় কোনো চুক্তিই নেই, সেখানে পানি প্রায় পৌঁছায়ই না। পাংশায় প্রস্তাবিত ব্যারাজের ভাটিতে গোয়ালন্দ পর্যন্ত আরও ২০ থেকে ২৩ কিলোমিটার নদীপথ রয়েছে। যদি সব পানি ব্যারাজের পেছনে আটকে রাখা হয়, তাহলে ওই অংশটি এক ধরনের ‘ডাবল ফারাক্কা’ পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে পারে।
ডেইলি স্টার: প্রকল্পে লবণাক্ততা কমানো, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, ভাঙন হ্রাস ও উন্নত নদী ব্যবস্থাপনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এসব দাবি কতটা বাস্তবসম্মত এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে পরিবেশের ওপর কী ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে?
মো. খালেকুজ্জামান: এটি সত্য যে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে লবণাক্ততা বাড়ছে। কিন্তু প্রকল্পে মাত্র প্রায় ৩ বিসিএম পরিমাণ পানি সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে লবণাক্ততা কমানোর জন্য এই পরিমাণ যথেষ্ট নয়। প্রকল্পের নথিতেই উল্লেখ আছে, সম্ভাব্য লবণাক্ততা হ্রাসের পরিমাণ হবে সীমিত।
ধরা যাক, গড়াই, মধুমতি, হিসনা, মাথাভাঙ্গা ও চন্দনার মতো নদীগুলো দিয়ে মিঠাপানির সরবরাহ বাড়ার ফলে সুন্দরবন বা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় লবণাক্ততা সামান্য কমল। তবুও মেঘনার মোহনা ও বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে (পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি এবং সম্ভবত মাদারীপুরও রয়েছে) লবণাক্ততা বেড়ে যেতে পারে। কারণ, গঙ্গা-পদ্মা ব্যবস্থা থেকে মেঘনা ও বৃহত্তর বরিশালের নদীগুলো দিয়ে যে মিঠাপানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হওয়ার কথা, তা কমে যাবে। অর্থাৎ, এক অঞ্চলে সামান্য লবণাক্ততা কমলেও অন্যত্র তা বেড়ে যেতে পারে। এটি সমস্যার সমাধান নয়, বরং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর।
প্রকল্পের নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে, মাছের উৎপাদন বাড়বে। কিন্তু ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের আগে ইলিশ মাছ এলাহাবাদ পর্যন্ত উজানে যেতে পারত। ফারাক্কা সেই চলাচল ব্যাহত করেছে। পাংশায় আরেকটি ব্যারাজ নির্মাণ করা হলে পদ্মা ও গঙ্গা হয়ে ইলিশসহ বহু প্রজাতির মাছের চলাচল আরও বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে মাছের উৎপাদন বাড়ার চেয়ে কমে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দুটি ফিশ ল্যাডার বা মাছ চলাচলের সিঁড়ি রাখা হবে। নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে ফিশ ল্যাডার কার্যকর হতে পারে। তবে এর সাফল্য অনেকটাই মাছের প্রজাতির ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশে এমন কোনো গবেষণা বা নজির নেই, যা প্রমাণ করে যে ইলিশ, রুই, কাতলা কিংবা অন্যান্য দেশীয় প্রজাতির মাছ এই সিঁড়িগুলো ব্যবহার করবে। আমাদের নদীগুলোতে দুটি ছোট ফিশ ল্যাডার কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে আমার গুরুতর সন্দেহ রয়েছে।
আরেকটি প্রতিশ্রুতি হলো, ব্যারাজ নদীভাঙন কমাবে। কিন্তু ফারাক্কার অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলে। ব্যারাজের উজানে পানি জমা হয়। বর্ষাকালে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি ভাটিতে ছেড়ে দিলে প্রবাহের তীব্রতা বেড়ে গিয়ে ভাঙন আরও বাড়তে পারে। মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রায় ৩৩ হাজার থেকে ৪০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার কৃষিজমি নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন হলো—নদীভাঙন কমবে, নাকি বাড়বে? আমাদের অভিজ্ঞতা ব্যারাজ ভাঙন কমায়, এমন দাবিকে সমর্থন করে না। বাংলাদেশের কোনো বৃহৎ নদীতে এত বড় পরিসরে এ ধরনের পরীক্ষা আগে কখনো করা হয়নি। পদ্মার মতো বিশাল একটি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যারাজের মাধ্যমে পরিবর্তন করা হলে সেটিকে বিপর্যয়ের দিকেও ঠেলে দিতে পারে।
প্রস্তাবিত ব্যারাজের উজানেও জলাবদ্ধতা বাড়তে পারে। কারণ পানি আগের মতো স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারবে না। ফারাক্কার উজানেও একই ঘটনা ঘটেছে। প্রতি বছর ফারাক্কা ব্যারাজের উজানে প্রায় ৩২ দশমিক ৮ থেকে ৬০ কোটি টন পলি জমা হয়। পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হলে এখনো বাংলাদেশে পৌঁছানো বিপুল পরিমাণ পলির বড় অংশ নতুন ব্যারাজের উজানেই জমা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা বাড়বে এবং বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
প্রকল্পে সেচ সম্প্রসারণ, নৌ-চলাচলের উন্নয়ন, লবণাক্ততা হ্রাস, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, জলাবদ্ধতা কমানো, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নদীভাঙন হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আমার দৃষ্টিতে, এসব প্রতিশ্রুতি অন্তঃসারশূন্য ও বিভ্রান্তিকর। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো পানির প্রাপ্যতা। শক্তিশালী চুক্তি ও গ্যারান্টি ধারা ছাড়া পদ্মা ব্যারাজ তিস্তা প্রকল্পের মতো আরেকটি শুকনো, উন্মুক্ত নদীখাত তৈরি করতে পারে। কোনো ব্যারাজ নিজে পানি সৃষ্টি করতে পারে না।
ডেইলি স্টার: পদ্মা ব্যারাজের মতো বিশাল প্রকল্পের পেছনে না ছুটে দীর্ঘমেয়াদে পানি ও পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কী ধরনের পানি ব্যবস্থাপনা কৌশল গ্রহণ করা উচিত?
মো. খালেকুজ্জামান: বাংলাদেশের উচিত জাতিসংঘের ‘ওয়াটারকোর্স কনভেনশনে’ যোগ দেওয়া এবং সংসদের মাধ্যমে তা অনুমোদন করা। এতে আন্তর্জাতিক নদীগুলো নিয়ে আমাদের আইনগত ও কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। ভারত, নেপাল এবং ব্রহ্মপুত্রের ক্ষেত্রে চীনের মতো অববাহিকাভুক্ত দেশগুলোকেও এতে যুক্ত হয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির কাঠামো হিসেবে এটি গ্রহণ করতে হবে। ভারত হয়তো এতে সই নাও করতে পারে। তবু বাংলাদেশের করা উচিত। এর মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলতে পারব, আমরা আন্তর্জাতিক পানি আইনের প্রচলিত নীতিমালা মেনে চলি এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রত্যাশা করি।
এর ফলে আন্তর্জাতিক সব নদীর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দাবি আরও শক্তিশালী হবে। অন্যরা তাৎক্ষণিকভাবে এতে সই না করলেও আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত হবে। এই কনভেনশনকে একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।
আর পদ্মা ব্যারাজের বিকল্প ভাবতে হলে বিষয়টিকে পুরো অববাহিকাজুড়ে বিবেচনা করতে হবে। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকার সব দেশকে সমন্বিত নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনার দিকে এগোতে হবে। উজানে যা ঘটে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে ভাটির অঞ্চলে। এ কারণেই অববাহিকাভিত্তিক সমন্বিত পানি শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।
‘পানি-কূটনীতিকে’ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভে পরিণত করতে হবে। নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সংযোগ ও ট্রানজিটের ক্ষেত্রে ভারতের কাছে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য পানি ও পলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক নদীগুলোতে আমাদের অধিকার কোনো দয়া বা অনুরোধ নয়, এগুলো আমাদের ন্যায্য অধিকার।
অভ্যন্তরীণ পর্যায়েও বাংলাদেশ নদ-নদী বিষয়ে অনেক কিছু করতে পারে। পদ্মা ব্যারাজ প্রস্তাবে মোট প্রায় ৩৮১ কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে গড়াই-মধুমতি ব্যবস্থায় প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার এবং হিসনা-মাথাভাঙ্গা ব্যবস্থায় ২৪৬ কিলোমিটার। এসব উদ্যোগ গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা উচিত। পাশাপাশি উপকূলীয় নদীগুলোতেও ড্রেজিং করে পানি বহন ও ধারণক্ষমতা বাড়াতে হবে।
পরিত্যক্ত খাল, পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়া চ্যানেল এবং দখল হয়ে যাওয়া জলপথ পুনরুদ্ধার করাও জরুরি। ড্রেজিং থেকে পাওয়া পলিকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এটি নিচু উপকূলীয় ভূমি উঁচু করতে, ক্ষয়প্রাপ্ত এলাকা পুনরুদ্ধার করতে বা নির্মাণসামগ্রী তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
পদ্মা ব্যারাজের পেছনে সব পানি আটকে রাখার পরিবর্তে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ছোট শাখা ও উপনদীগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। এসব নদীর অনেকগুলো পলিতে ভরাট হয়ে গেছে, আর বহু পোল্ডারের কারণে স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। কিছু পোল্ডারকে আট মাস মেয়াদি বাঁধে রূপান্তর করা যেতে পারে, যাতে বছরের একটি অংশে পানি ও পলি প্রবেশ করতে পারে, আবার মৌসুমি সুরক্ষাও বজায় থাকে।
একই সঙ্গে নদী, খাল ও জলাভূমি পুনরুদ্ধার করতে হবে, যেন সেগুলোর প্রবাহ, পানি বহনক্ষমতা ও সংরক্ষণক্ষমতা সবই উন্নত হয়। যদি আমরা খাল, নদী ও প্লাবনভূমি পুনরুদ্ধার করি, সঠিকভাবে ড্রেজিং করি, পলিকে উৎপাদনশীলভাবে ব্যবহার করি এবং পুরো ভূদৃশ্যজুড়ে প্রাকৃতিক পানির ধারণক্ষমতা বাড়াই তাহলে অন্তর্নিহিত অনেক সমস্যারই অনেক বেশি টেকসই সমাধান সম্ভব হবে।
নেপালে অববাহিকাভিত্তিক পানি সংরক্ষণের সম্ভাবনাও নতুন করে বিবেচনা করা উচিত। কোশি অববাহিকায় যৌথ জলাধার প্রকল্পের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে ছাড়ার জন্য পানি সংরক্ষণ করা যেতে পারে, যা ভারত ও নেপালে সেচে সহায়তা করবে এবং গঙ্গায় শুষ্ক মৌসুমের প্রবাহও বাড়াবে।
পদ্মা ব্যারাজ প্রস্তাবে প্রায় ৭৬ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের কথাও বলা হয়েছে। আমি এটিকে গ্রহণযোগ্য মনে করি না। ফারাক্কা অনেক উজানে, যেখানে নদীর ঢাল অনেক বেশি, তবুও সেখানে উল্লেখযোগ্য জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়নি। তাহলে কি আমরা মাত্র ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য পুরো গঙ্গা-পদ্মা ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলব? আমার কাছে তা যৌক্তিক মনে হয় না।
বিদ্যুতেরএই ঘাটতি আরও নিরাপদভাবে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে এবং বায়ুশক্তি ব্যবহার করে পূরণ করা সম্ভব, বিশেষ করে চরাঞ্চলে। নদীগুলোকে বিচ্ছিন্ন বা প্রকল্পভিত্তিকভাবে দেখা উচিত নয়। এগুলোকে সমন্বিত উন্নয়ন ও অববাহিকাভিত্তিক পানি শাসনের বৃহত্তর কাঠামোর মধ্যে বুঝতে হবে। বাংলাদেশের উচিত অভ্যন্তরীণ নদী ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, দখল ও দূষণ রোধ করা, নৌ-চলাচল পুনরুদ্ধার করা এবং প্রাকৃতিক পানি সংরক্ষণক্ষমতা বাড়ানো। যদি আমরা বিচ্ছিন্ন মেগা-প্রকল্পের বদলে এসব বিষয় সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করি, তাহলে অনেক সমস্যারই আরও কার্যকর সমাধান সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক আসবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। শনিবার রাতে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চ শেষে সমাপনী সমাবেশে তিনি বলেন, “জনগণের যখন প্রয়োজন হবে, ডাক তখনই আসবে।” বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এতগুলো মানুষ মারা গেল। তাদের দলেরও প্রচুর লোক মারা গেছে। গুম হয়েছে। আয়নাঘরে বন্দি হয়েছে। এই মানুষগুলোর রক্ত আর জীবনের প্রতি কি আমাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই? “আফসোস, ক্ষমতায় বসেছেন ছয় মাস। বলেন যে, আমাদের সরকার শিশু সরকার। জনগণ কোনো শিশুকে ভোট দেয় নাই। প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে আপনারা ভোট নিয়েছেন। কথা দিয়েছেন। এখন সবকিছু লঙ্ঘন করছেন।” জামায়াতের আমির বলেন, “আপনারা উল্টাপাল্টা করবেন। আর বিরোধী দল বসে বসে আঙ্গুল চুষবে এটা হবে না। এখন পর্যন্ত আঙ্গুল আমাদের সোজা। প্রয়োজনে এটা বাঁকা হবে। আমাদের বাধ্য করেছেন রাজপথে আসতে। আমরাতো চাই নাই। আমরা চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদের কবর রচনা হবে এবং সংসদের ভিতরেই তার ফয়সালা হবে। “আপনারা গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করার মাধ্যমে বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষকে অপমান করেছেন। প্রতারণা করেছেন। বিরোধী দল জনগণের সাথে প্রতারণা করবে না।” গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এদিন ‘লং মার্চ’ করছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার সকালে ঢাকা থেকে শুরু হওয়া এ লং মার্চ রাতে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
বাসায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসছে—এমন অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গালিগালাজ করে ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন গাজীপুরের সিফাত আব্দুল্লাহ। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে আটক করা হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গাজীপুরের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে শুক্রবার বিকালে (৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। তার পোস্টটি যুগান্তরের পাঠকদের জন্য হুবহু দেওয়া হলো- ‘সিফাতের ভাষা ভদ্র ছিল না। এটা নিয়ে তর্ক করার কিছু নাই। কিন্তু প্রশ্নটা ভদ্রতার নয়। কারণ সিফাতকে অভদ্রতার জন্য গ্রেফতার করা হয়নি। মামলা দেওয়া হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। তাহলে গালি দেওয়া কি সন্ত্রাস? দেখলাম যারা এই গ্রেফতারের বিপক্ষে লিখছেন; তাদের কমেন্টবক্সে গালির বন্যা। সঙ্গে বলছেন যে ছেলেটা গালি দিয়েছে, তাই ধরা ঠিক হয়েছে। আয়রনি হলো, তারা নিজেরাই গালি দিয়ে সেটা বলছেন। এবং তাদের কোনো ভয় নাই। কারণ তারা জানেন গালিটা তারা কাকে দিচ্ছেন, আর কাকে দিচ্ছেন না। অর্থাৎ ক্ষমতাসীন কাউকে গালি দিলে সেটা অপরাধ, ক্ষমতায় না থাকা কাউকে দিলে সেটা গ্রহণযোগ্য। আপনারা একটা তালিকা করে দিন। কী কী লিখলে, কী কী আঁকলে, বিলের কাগজ হাতে নিয়ে কী কী বললে রাত সাড়ে আটটায় দরজায় পুলিশ আসবে না। লিখে দিন। আমরা মেনে চলব। আর যদি তালিকা দিতে অস্বস্তি হয়, ‘দ্য ডিক্টেটর’ সিনেমার আলাদিনের আচরণের মতো মনে হয়, তাহলে নিজেদের সংযত করুন। সিফাতকে অবিলম্বে মুক্তি দিন। মামলা প্রত্যাহার করুন। আর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের যে ধারাগুলো কথা বলার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায়, সেগুলো সংশোধন করুন।’
ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। শুরুতে ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদিত প্রকল্পটির ব্যয় প্রথম সংশোধনে বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। পরে দ্বিতীয় দফায় তা লাফ দিয়ে ১৬ হাজার ১৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ মূল অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে প্রকল্পটির ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। অথচ ব্যয় বাড়ানোর সময় প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ছিল ১০ শতাংশেরও কম। প্রকল্পটির ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। অভিযোগ রয়েছে, তার দায়িত্ব পালনের সময় অনৈতিক সুবিধা নিয়ে প্রকল্পটির ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়টিও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে বলে জানা গেছে। ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি থেকে ১৬ হাজার ১৪ কোটি ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপের শুরুতে অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। পরবর্তীকালে প্রথম সংশোধনে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। এরপর দ্বিতীয় দফায় ব্যয় আরও বাড়িয়ে দাঁড় করানো হয় ১৬ হাজার ১৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রকল্পের মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় এখন অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। সাধারণত প্রকল্পের কাজ শেষের দিকে ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা দেখা গেলেও সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ব্যয় বাড়ার সময় কাজের অগ্রগতি ছিল খুবই কম। প্রকল্পটির অগ্রগতি ছিল ১০ শতাংশেরও নিচে। একই ধরনের আরেক প্রকল্পে ব্যয় কম সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি আরও প্রশ্নের মুখে পড়ে একই ধরনের গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা করলে। প্রায় ১০ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ের গন্ধর্বপুর প্রকল্পে সায়েদাবাদ প্রকল্পের তুলনায় বেশি পানি শোধন ক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি এ প্রকল্পে পাইপলাইনও দীর্ঘতর। অথচ এর ব্যয় সায়েদাবাদ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত ব্যয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এ কারণে সায়েদাবাদ প্রকল্পের ব্যয় কীভাবে এতটা বাড়ল, প্রকল্পের অগ্রগতি কম থাকা অবস্থায় কেন ব্যয় বাড়ানো হলো এবং এর পেছনে কোনো অনিয়ম বা আর্থিক স্বার্থ কাজ করেছে কি না- এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। ব্যয় বৃদ্ধির সময় দায়িত্বে ছিলেন আসিফ সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। অভিযোগ রয়েছে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপদেষ্টা থাকাকালীন সময়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে প্রকল্পটির ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত নয়। প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছিল কি না, তা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করার কথা রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে আসতে পারে প্রকল্পটি অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। এরই অংশ হিসেবে ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টিও অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে বলে জানা গেছে। অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংক্রান্ত নানাবিধ দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ দুদকে এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই অভিযোগ অনুসন্ধানে একটি দল গঠন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোই যাচাইয়ের পরে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ফলে এখন দুদকের অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে- ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকার প্রকল্প কীভাবে ১৬ হাজার ১৪ কোটি টাকায় পৌঁছাল, কাজের অগ্রগতি ১০ শতাংশের নিচে থাকা অবস্থায় ব্যয় বাড়ানোর যৌক্তিকতা কী ছিল এবং এই ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে কোনো অনিয়ম বা আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সম্পর্ক ছিল কি না।