সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালার গভীরে অবস্থিত শীতল যুদ্ধের সময়কার একটি পরিত্যক্ত পারমাণবিক বাংকার এখন বিশ্ব অর্থনীতির নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন স্থাপনায় বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান ‘টেদার হোল্ডিংস’ প্রতি সপ্তাহে গড়ে এক থেকে দুই টন স্বর্ণ জমা করছে।
বর্তমানে টেদারের হাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণমজুত রয়েছে, যা অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভকেও ছাড়িয়ে গেছে। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৭০ টনের বেশি স্বর্ণ কিনেছে এবং বর্তমানে মোট ১৪০ টন স্বর্ণ সংরক্ষিত রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম রেকর্ড আউন্সপ্রতি ৫,২০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পেছনে এই বিশাল বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
টেদারের প্রধান নির্বাহী পাওলো আরদোইনো এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে তাদের লভ্যাংশ স্বর্ণ কেনায় বিনিয়োগ করছে এবং অচিরেই তারা বিশ্বের অন্যতম বড় ‘স্বর্ণের কেন্দ্রীয় ব্যাংক’ হিসেবে পরিচিত হবে। তিনি আরও পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মার্কিন ডলারের বিকল্প হিসেবে অনেক শক্তিশালী দেশ স্বর্ণ-নির্ভর মুদ্রা ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকবে।
টেদারের এই সিদ্ধান্ত মূলত সরকারি ঋণের ওপর ক্রমবর্ধমান অবিশ্বাসের প্রতিফলন। প্রতিষ্ঠানটি পেশাদারিত্ব এবং গোপনীয়তার ক্ষেত্রে এতটাই কঠোর যে, তারা বিশ্ববিখ্যাত ব্যাংক এইচএসবিসির জ্যেষ্ঠ স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের নিয়োগ দিয়েছে। তাদের বিশাল স্বর্ণভাণ্ডার সুইজারল্যান্ডের একটি সুরক্ষিত আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকারে স্টিলের পুরু দরজার আড়ালে সংরক্ষিত রয়েছে, যা আরদোইনো রসিকতার ছলে ‘জেমস বন্ডের আস্তানা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে টেদারের এই ‘গোল্ডেন ফোর্ট্রেস’ বা স্বর্ণের দুর্গ বিশ্ব অর্থনীতির প্রচলিত মেরুকরণকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ভৌত স্বর্ণের সম্মিলিত এই উদ্যোগ আগামী দিনের বৈশ্বিক মুদ্রা বাজারে একটি নতুন মোড় সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: দ্য টাইমস্ অব ইন্ডিয়া
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ঈগল’ ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি সম্মাননাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানোর পর জেলেনস্কি এই পদক্ষেপ নেন। ২০২৩ সালে তৎকালীন পোলিশ প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা ইউক্রেনীয় নেতা জেলেনস্কিকে দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননায় ভূষিত করেছিলেন। তবে সম্প্রতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের বিতর্কিত ইউক্রেনীয় ইনসার্জেন্ট আর্মি (ইউপিএ)-এর নামে একটি সামরিক ইউনিটের নামকরণকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ইউক্রেনের অনেকের কাছে ইউপিএ স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হলেও পোল্যান্ডের দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভলহিনিয়া অঞ্চলে হাজারো জাতিগত পোলিশ নাগরিক হত্যার সঙ্গে গোষ্ঠীটির সংশ্লিষ্টতা ছিল। এই প্রেক্ষাপটে পোল্যান্ডের পক্ষ থেকে জেলেনস্কির রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি জানান, অতীতের সংবেদনশীল ও বেদনাদায়ক ইতিহাস নিয়ে বিরোধ এড়িয়ে দুই দেশের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ অব্যাহত রাখতে ইউক্রেন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতি পোল্যান্ডের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কিয়েভ কৃতজ্ঞ। জেলেনস্কির প্রতি সংহতি জানিয়ে ইউক্রেনের আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা পোল্যান্ডের দেওয়া রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক উত্তেজনা দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা চাপ সৃষ্টি করেছে, তবুও পোলিশ প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি স্পষ্ট করেছেন যে, ইউক্রেনের প্রতি পোল্যান্ডের সামরিক ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে শুরু থেকেই পোল্যান্ড ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। দেশটি লাখো ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কেন্দ্রীয় করিডর হিসেবেও কাজ করছে।
কাতারের বৃহত্তম গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র রাস লাফান শিল্পাঞ্চলের একটি গ্যাস স্থাপনায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন ভারতীয় ও পাকিস্তানি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬৬ জন। রোববার রাতে রাস লাফান শিল্পাঞ্চলের বারাজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে এ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটি কোনো হামলা বা নাশকতার ঘটনা নয় বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন। বিস্ফোরণের শব্দ রাজধানী দোহা পর্যন্ত শোনা গেছে। তবে এ ঘটনায় কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিতে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রাস লাফান শিল্পাঞ্চল দোহা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্রগুলোর একটি। এখান থেকে কাতারের বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানি শোধনাগার এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। উল্লেখ্য, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে বন্ধ থাকা এই গ্যাস স্থাপনাটি মাত্র দুই দিন আগে আবার চালু করা হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে এই দুর্ঘটনাকে কাতারের জ্বালানি খাতের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে কাতার কর্তৃপক্ষ। সূত্র: এবিসি নিউজ
জাতিসংঘে গতকাল শুক্রবার এক গণশুনানিতে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিবেশ বজায় থাকেনি। এদিন কূটনৈতিক সৌজন্য ভুলে গিয়ে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের শিশু ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি তুমুল বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। গতকাল ছিল ‘সংঘাতে যৌন সহিংসতা নির্মূলবিষয়ক আন্তর্জাতিক দিবস’। এ উপলক্ষে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে এক গণশুনানির আয়োজন করা হয়। গণশুনানির এক পর্যায়ে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমীলা প্যাটেনের পদত্যাগ দাবি করেন। প্যাটেন সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। সেখানে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলকে কালোতালিকাভুক্ত করা হয়। ড্যাননের অভিযোগ, প্যাটেন পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে ইঙ্গিত করে ড্যানন বলেন, ‘ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর ব্যাপারে মহাসচিবের যে একধরনের ঝোঁক রয়েছে, আপনি (প্যাটেন) সেটার কাছে নতি স্বীকার করেছেন।’ জাতিসংঘের আরেক কর্মকর্তা ভ্যানেসা ফ্রেজার তখন পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে শুরু করেন। তিনিও জাতিসংঘ মহাসচিবের শিশু ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক প্রতিনিধি এবং ইসরায়েলকে কালোতালিকাভুক্ত করা পৃথক একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। ড্যানি ড্যাননকে ‘ব্যক্তিগত আক্রমণ’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান ফ্রেজার। তিনি বলেন, তাঁর কাছে ‘যাচাই করা তথ্য–প্রমাণ’ আছে। এর জবাবে ড্যানন বলেন, ফ্রেজারের চুপ থাকা উচিত। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি সদস্যরাষ্ট্র, আর আপনি জাতিসংঘের কর্মী। এখন আপনি চুপ থাকবেন। আপনি চুপ থাকবেন... আপনি এবং আপনার লজ্জাজনক প্রতিবেদনও।’ একসময় জাতিসংঘে মাল্টার দূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন ফ্রেজার। তিনি সম্প্রতি মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। সেখানে সতর্ক করে বলা হয় যে শিশুদের বিরুদ্ধে অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোকে বৈশ্বিক কালোতালিকায় যুক্ত করা হতে পারে। প্রতিবেদনটিতে গুতেরেস ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ‘উদ্বেগজনকভাবে’ বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেসের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার অঙ্গীকার করেছে। ১০ বছর দায়িত্ব পালনের পর এ বছরের শেষ নাগাদ তিনি পদ ছাড়ছেন। দুটি প্রতিবেদনেই ইসরায়েলের চিরশত্রু হিসেবে বিবেচিত সংগঠন হামাসকেও কালোতালিকাভুক্ত করা হয়েছে।