সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালার গভীরে অবস্থিত শীতল যুদ্ধের সময়কার একটি পরিত্যক্ত পারমাণবিক বাংকার এখন বিশ্ব অর্থনীতির নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন স্থাপনায় বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান ‘টেদার হোল্ডিংস’ প্রতি সপ্তাহে গড়ে এক থেকে দুই টন স্বর্ণ জমা করছে।
বর্তমানে টেদারের হাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণমজুত রয়েছে, যা অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভকেও ছাড়িয়ে গেছে। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৭০ টনের বেশি স্বর্ণ কিনেছে এবং বর্তমানে মোট ১৪০ টন স্বর্ণ সংরক্ষিত রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম রেকর্ড আউন্সপ্রতি ৫,২০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পেছনে এই বিশাল বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
টেদারের প্রধান নির্বাহী পাওলো আরদোইনো এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে তাদের লভ্যাংশ স্বর্ণ কেনায় বিনিয়োগ করছে এবং অচিরেই তারা বিশ্বের অন্যতম বড় ‘স্বর্ণের কেন্দ্রীয় ব্যাংক’ হিসেবে পরিচিত হবে। তিনি আরও পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মার্কিন ডলারের বিকল্প হিসেবে অনেক শক্তিশালী দেশ স্বর্ণ-নির্ভর মুদ্রা ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকবে।
টেদারের এই সিদ্ধান্ত মূলত সরকারি ঋণের ওপর ক্রমবর্ধমান অবিশ্বাসের প্রতিফলন। প্রতিষ্ঠানটি পেশাদারিত্ব এবং গোপনীয়তার ক্ষেত্রে এতটাই কঠোর যে, তারা বিশ্ববিখ্যাত ব্যাংক এইচএসবিসির জ্যেষ্ঠ স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের নিয়োগ দিয়েছে। তাদের বিশাল স্বর্ণভাণ্ডার সুইজারল্যান্ডের একটি সুরক্ষিত আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকারে স্টিলের পুরু দরজার আড়ালে সংরক্ষিত রয়েছে, যা আরদোইনো রসিকতার ছলে ‘জেমস বন্ডের আস্তানা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে টেদারের এই ‘গোল্ডেন ফোর্ট্রেস’ বা স্বর্ণের দুর্গ বিশ্ব অর্থনীতির প্রচলিত মেরুকরণকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ভৌত স্বর্ণের সম্মিলিত এই উদ্যোগ আগামী দিনের বৈশ্বিক মুদ্রা বাজারে একটি নতুন মোড় সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: দ্য টাইমস্ অব ইন্ডিয়া
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের শুরুতে দৃঢ় অবস্থান নিলেও এখন তিনি এমন এক পরিস্থিতিতে পড়েছেন, যেখান থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মূলত নিজের তৈরি দুটি জটিলতায় আটকে পড়েছেন—একটি আন্তর্জাতিক কৌশলগত সংকট, অন্যটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ। হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব এবং তেহরানের অনমনীয় অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে কাঙ্ক্ষিত সামরিক সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ করছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও চাপ বাড়ছে। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৩০ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে, জ্বালানির দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি সাড়ে চার ডলারের বেশি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাবও তীব্র হচ্ছে। ফলে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়ছে। এই অচলাবস্থার মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন বারবার শান্তি আলোচনা নিয়ে আশাবাদী বক্তব্য দিচ্ছে এবং হঠাৎ করেই সামরিক পরিকল্পনা ঘোষণা বা বাতিল করছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের অংশগ্রহণে এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা নথি নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি ৩০ দিনের মধ্যে বাকি অমীমাংসিত বিষয় নিষ্পত্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রায় পাঁচ দশকের জটিল দ্বন্দ্ব—যার মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ও আঞ্চলিক প্রক্সি সংঘাত রয়েছে—সেগুলোর সমাধানে এমন সংক্ষিপ্ত চুক্তি কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এদিকে ইরান নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে জ্বালানি পরিবহন থেকে আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে চাইছে। তেহরান বৃহস্পতিবার পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে পারে বলে জানা গেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, চলমান আলোচনা যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার দাবি করেছিলেন, চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত এবং ইরান তার শর্ত মেনে নিয়েছে। বাস্তবে কঠোর মার্কিন অবস্থানের কারণে সেই অগ্রগতি বারবার থেমে গেছে। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, পুরো সংঘাতজুড়েই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলে অস্পষ্টতা ও হঠাৎ সিদ্ধান্তের প্রবণতা ছিল। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নতুন সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নেন। পরে ট্রাম্প ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্থগিত হয়ে যায়। কোয়িন্সি ইনস্টিটিউটের ইরান বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পারসির মতে, ট্রাম্প প্রশাসন বারবার দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় তথাকথিত ‘সিলভার বুলেট’ কৌশল নিয়েছে। কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পরও দেশটির ক্ষমতাকাঠামো দুর্বল হয়নি। বরং নতুন কট্টরপন্থিদের উত্থানে শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, ইরানের নৌ ও বিমান সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হাজার হাজার স্থলসেনা মোতায়েন না করায় সুস্পষ্ট সামরিক বিজয় শুরু থেকেই অসম্ভব ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। জার্মান মার্শাল ফান্ডের ফেলো ইয়ান লেসারের মতে, এই সংঘাত দেখিয়েছে যে শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফল অর্জন করা কতটা কঠিন। এখনও ইরানের ভেতরে শাসকদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থান দেখা যায়নি। তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরেও সম্মত হয়নি। পাশাপাশি লেবানন ও গাজায় তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম বন্ধেরও কোনও নিশ্চয়তা দেয়নি। অ্যাসপেন সিকিউরিটি ফোরামের নির্বাহী পরিচালক আঞ্জা ম্যানুয়েল বলেছেন, “এই সংঘাত এখনও শেষ হওয়ার অনেক বাকি।” তার মতে, যুদ্ধবিরতি বা সামরিক অভিযানের নাম পরিবর্তন করলেই বাস্তবতা বদলায় না। হরমুজ প্রণালি এখনও অচল, জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং মার্কিন অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়ছে। এদিকে মার্কো রুবিও আবারও দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং নৌ অবরোধের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ইরানকে চাপে ফেলতে পারবে। তবে সমালোচকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের বারবার অবস্থান বদল, অতিরিক্ত আশাবাদী বক্তব্য এবং এক পাতার সমঝোতার ওপর নির্ভরতা—এসবই কূটনৈতিক সক্ষমতা ও বাস্তব কৌশল নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। ভারতের সংবাদ সংস্থা— এএনআইয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ অভিনন্দন জানান বলে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে তিনি বিজেপি সরকারকে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানিয়েছেন। বিএনপি নেতা হেলাল বলেন, পশ্চিমবঙ্গে জয় পাওয়া সুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপিকে আমি অভিনন্দন জানাই। আমি মনে করি, এই বিজয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে আগের মতো সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়তা করবে। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগে দুই দেশের পানি সম্পদমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে দুইপক্ষ একমত হয়েছিল। মনমোহন সিংয়ের সফরেই বহু প্রতীক্ষিত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতায় তা আটকে যায়। নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি সরকার ভারতের ক্ষমতায় আসার পর তিস্তা চুক্তি নিয়ে আশার কথা শোনা গেলেও মমতার মত বদলায়নি। এখন মমতার বিদায়ে চুক্তিটি আলোর মুখ দেখবে কিনা, সেই জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে। অনেকের মতো আজিজুর বারী হেলালও মনে করেন, মমতা ব্যানার্জি তিস্তা চুক্তির ‘বাধা’ ছিলেন। তিনি বলেন, আগে আমরা দেখেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিস্তা ব্যারাজ বাস্তবায়নে বাধা ছিলেন। আমার ধারণা, এখন বাংলাদেশ সরকার ও মোদি সরকার, যেটা তারা দীর্ঘদিন ধরে করতে চাইছিল, সেই তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নে বিজেপি সহায়তা করবে। তৃণমূল কংগ্রেসের জায়গায় বিজেপি ক্ষমতায় আসায় এখন তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশের লাগোয়া রাজ্যটিতে টানা দেড় দশক ধরে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে ধসিয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে বিজেপি। ২৯৩ আসনের মধ্যে ২০৬টি আসন জিতে নিয়ে প্রথমবারের মত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি; আর মাত্র ৮১টি আসনে জিতে ভরাডুবির মুখে পড়তে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সংগ্রেসকে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলীয় অঞ্চলের বিশাল এক অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করে বর্ধিত সমুদ্রসীমা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সমুদ্রের আওতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে ইরান। মানচিত্রে লাল রেখা দিয়ে চিহ্নিত এই নতুন এলাকা কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ছাড়িয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের দীর্ঘ অংশজুড়ে বিস্তৃত। ইরানের দাবি করা ওই বর্ধিত অঞ্চলের মধ্যে আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরা ও খোরফাক্কান বন্দরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত ওই দুটি বন্দর বর্তমান সংঘাতের শুরু থেকেই আমিরাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনে এই বন্দর দুটি ব্যবহার করে আসছে দেশটি। বিশেষ করে ফুজাইরা বন্দর আমিরাতের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটির এই বন্দর আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইনের শেষ প্রান্তে অবস্থিত। পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন খনি থেকে সরাসরি বন্দরে অপরিশোধিত তেল আনা হয়। এর ফলে যুদ্ধের সময়ও বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ সচল রাখতে সক্ষম হয়েছিল আমিরাত। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যদি এই দুটি বন্দরে প্রবেশের পথ সত্যিই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলে তা কার্যত এই আরব দেশটির ওপর পূর্ণাঙ্গ নৌ-অবরোধের শামিল হবে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির পর মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের পাহারায় দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই পারাপার ঠিক কখন হয়েছে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন সুনির্দিষ্ট কিছু জানায়নি। অন্যদিকে, ইরান কোনও জাহাজ পারাপারের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠান মায়েরস্ক বলেছে, সোমবার মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ ‘অ্যালায়েন্স ফেয়ারফ্যাক্স’ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পাহারায় পারস্য উপসাগর ত্যাগ করেছে। সূত্র: রয়টার্স।