বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রদায়িকতা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, হিন্দু-মুসলমানকে ভাগ করলে দেশের উন্নয়ন থেমে যাবে এবং জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সমন্বয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ফখরুল বলেন, “দেশে যদি ধর্ম বা সম্প্রদায়ের নামে বিভাজন তৈরি করা হয়, তাহলে রাজনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি থেমে যাবে। আমাদের অবশ্যই সবাইকে একত্রিতভাবে কাজ করতে হবে। সমাজের প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে, আর কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি অন্যায় হোক না।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রদায়িক বিভাজন রোধ করা দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই সম্প্রদায়িক মনোভাব থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। ফখরুলের মতে, দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির জন্য সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের উচিত জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করা।
এছাড়া ফখরুল দেশের জনগণকে সতর্ক করেছেন যে, কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক কাজে ধর্ম বা সম্প্রদায়কে বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে তা দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। তিনি জনগণ ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন দেশের উন্নয়ন ও শান্তি বজায় রাখার জন্য সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকে।
ফখরুলের এই বক্তব্য আসে এমন সময়ে যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সম্প্রদায়িক সংবেদনশীলতা এবং সামাজিক উত্তাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তার মতে, দেশের অগ্রগতির মূল ভিত্তি হলো জনগণের মধ্যে সৌহার্দ্য, সমঝোতা এবং জাতীয় ঐক্য।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারতে এমন অনেক মহিলা আছেন যারা শূন্য থেকে শুরু করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের জোরে (Success Story)। তাদের কাহিনী মানুষকে অনুপ্রেরণা যোগায়, বড় কিছু করার সাহস দেয়। এমনই একটি গল্প হল শশী সোনির। তিনি ১৯৭১ সালে মাত্র ১০,০০০ টাকা পুঁজি নিয়ে ‘দীপ ট্রান্সপোর্ট’ (Deep Transport) প্রতিষ্ঠা করে তার ব্যবসায়িক জীবনের সূচনা করেন। সফলভাবে এই ব্যবসাটি চালানোর কয়েক বছর পর তিনি মুম্বাইয়ে ‘দীপ মন্দির সিনেমা’ (Deep Mandir Cinema) নামের প্রেক্ষাগৃহটি চালু করে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। ধীরে ধীরে একাধিক ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করেন শশী সোনি। আজ তিনি কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের মালিক। আসুন তার সাফল্যের কাহিনীটি (Success Story of Shashi Soni) জেনে নেওয়া যাক। সামান্য পুঁজি দিয়ে ব্যবসার শুরু মাত্র ১০,০০০ টাকা দিয়ে দীপ ট্রান্সপোর্ট প্রতিষ্ঠা করার পর ব্যবসা ভালই চলছিল। তবে শশী সোনি অন্য ক্ষেত্রে ব্যবসা প্রসার করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ১৯৭৫ সালে মুম্বাইয়ের মুলুন্দ এলাকায় তৈরি করেন ‘দীপ মন্দির সিনেমা’। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত চলচ্চিত্র শিল্পে শশীর ব্যবসা বেশ সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠে। তবে এরপর থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে শুরু করে। তখন শশী মহীশূরে অক্সিজেন প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি গ্যাস উৎপাদন কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। ধীরে ধীরে তিনি প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রেও তার কাজ প্রসারিত করতে থাকেন। ২০০৫ সালে শশী ‘ইজমো লিমিটেড’ (IZMO Ltd) নামে একটি সফটওয়্যার কোম্পানি শুরু করেন, যেটিকে ‘ইজমো’ ব্র্যান্ড নামে পরিচালনা করা হত। মহীশূর-ভিত্তিক এই কোম্পানিটি সারা বিশ্বে উচ্চ প্রযুক্তির অটোমোটিভ এবং ই-রিটেইলিং সার্ভিস অফার করে থাকে। বর্তমানে শশী সোনি এই সংস্থার চেয়ারপার্সন পদে দায়িত্বপালন করছেন। ২০২৪ সালে তার নেটওয়ার্থ ছিল ৫০০ মিলিয়ন ডলার, যা বর্তমানে প্রায় ৪,৭০০ হাজার কোটি টাকার সমতুল্য। তবে শুধু সফল ব্যবসায়ীই নয়, সমাজসেবী হিসেবেও শশী সোনি অনেক উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির সাথে জড়িত। তিনি ‘দীপ জনসেবা সমিতি’র বানিয়েছেন, যা কর্মসংস্থান থেকে পেনশন প্রকল্প, নারী শিক্ষা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ফান্ডিং জোগাড় করে। ব্যবসা এবং সমাজকল্যাণ – উভয় ক্ষেত্রেই নিজেকে সসম্মানে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ভারত সরকারের তরফে শশী সোনিকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। ১৯৯০ সালে তিনি ভারতীয় শিল্পে তার উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ‘ওম্যান অফ দ্য ইয়ার’ পুরস্কারও লাভ করেন। বর্তমানে শশী সোনি ‘অল ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্যাস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (AIIGMA)-এর কমিটিরও একজন সদস্য। এছাড়াও তিনি ‘ডিরেক্টরেট অফ টেকনিক্যাল ডেভেলপমেন্ট’-এরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন রয়েছেন।
শেয়ারবাজার সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. সাব্বির ফয়েজ। বিচারক আফিয়া বেগমের স্থলে যোগদান করবেন তিনি। রোববার (২১ জুন) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (প্রশাসন-১) মো. মাসুম বিল্লাহ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বিচারক বদলির এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। সাব্বির ফয়েজ শেয়ারবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনালের ষষ্ঠ বিচারক। এর আগে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। আদালতের সূত্র বলছে, আগামী ২৪ জুন থেকে রাজধানীর পুরানা পল্টনে হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন ভবনে শেয়ারবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন নতুন বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ। তিন বছরের জন্য এ আদালতে বিচার কাজ পরিচালনার জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। এদিকে আফিয়া বেগমকে বদলি করে মানিকগঞ্জ পারিবারিক আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে শেয়ারবাজার ধসের পর পৃথক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ২১ জুন এ ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। এ বিশেষ ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন মো. হুমায়ুন কবির। তারপর ধারাবাহিকভাবে বিচারক হিসেবে মো. আকবর আলী শেখ, রৌশন জাহান, এ কে এম শহিদুল ইসলাম ও আফিয়া বেগমকে নিয়োগ দেয় সরকার।
ঋণনির্ভরতা কমিয়ে অর্থের বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বাজেট ২০২৬ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক নানা ধরনের অর্থনৈতিক সহায়তা কমে গেছে, এমন সময় চ্যালেঞ্জিং বাজেট দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, বাজেট পারফেক্ট হয়েছে বলছি না। যেদিকেই হাত দিই, শুধু বকেয়া। এমন সময় দেড় মাসের মধ্যে বাজেট দিতে হয়েছে। অথচ প্রস্তুতি নিতেই অন্তত ৬ মাস দরকার। ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে আমির খসরু বলেন, ফ্যামিলি কার্ড সঠিকভাবে বিতরণ করা হবে। শ্রমিকের বেতন তো আর সরকার দেয় না। কিন্তু ফ্যামিলি কার্ড কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে।