জাতীয়

আগস্টে তফসিল, অক্টোবরে স্থানীয় নির্বাচন: ইসির প্রস্তুতি শুরু

মারিয়া রহমান জুন ১০, ২০২৬
নির্বাচন কমিশন ভবন (ফাইল ছবি)
নির্বাচন কমিশন ভবন (ফাইল ছবি)

নির্বাচন পরিচালনা এবং আচরণ বিধিমালাসহ আইন ও বিধির প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে আগামী আগস্টে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেক্ষেত্রে অক্টোবরের শুরুর দিকে ভোট কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। তবে স্থানীয় সরকারের কোন প্রতিষ্ঠান দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।


এদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে সরকারের কাছে নতুন অর্থবছরের জন্য প্রায় দুই হাজার ৯০০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ চেয়েছে ইসি। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে এই বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে বরাদ্দ হওয়া অর্থের সমান।


ইসি কর্মকর্তারা জানান, ভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা এবং আচরণ বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিবর্তনের কাজগুলো এগিয়ে নিচ্ছে ইসি। সংসদে অনুমোদিত এ সংক্রান্ত আইনের সংশোধনীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় ইসির প্রতীক সংরক্ষণ আইনও পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এসব আইন-বিধি সংশোধনীর খসড়া তৈরির কাজ প্রায় শেষ করে এনেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং জেলা পরিষদের জন্য আলাদা আলাদা আইন-বিধি প্রণয়ন করা হচ্ছে।


আইন ও বিধিমালার খসড়া প্রণয়ন শেষে চলতি জুনের মধ্যে সেগুলো সংস্থার ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। সবার মতামত নিতে ১৫ দিন উন্মুক্ত রাখা হবে এগুলো। এরপর কমিশন সভায় খসড়া অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে জুলাইয়ের মধ্যে সব বিধি ও আইনের সংস্কার শেষ করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম কেনাকাটা, মজুদ ও অন্যান্য চাহিদা পূরণ শেষে আগস্টে স্থানীয় সরকারের অন্তত একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি রয়েছে ইসির।


তবে আগে পরিকল্পনায় থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলসহ অংশীদারদের সঙ্গে সংলাপে বসছে না ইসি। সময়ের অভাব ও আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় সংলাপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সংস্থাটি। তবে সার্বিক বিষয়ে সকল অংশীজন ও নাগরিকদের পরামর্শ-সুপারিশের সুযোগ থাকবে।


বর্তমানে স্থানীয় সরকারের ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১ জেলা পরিষদ, ৪৯৫ উপজেলা পরিষদ, ৩৩০ পৌরসভা এবং ১৩ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদ নির্বাচন উপযোগী রয়েছে। তবে কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন দিয়ে ভোট কার্যক্রম শুরু হবে- সেটা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।


স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম কয়েকদিন আগে সাংবাদিকদের বলেছেন, বাজেটে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ আসার অপেক্ষায় আছে মন্ত্রণালয়। এরপর স্থানীয় সরকারের কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, সেই বিষয়ে ইসির সঙ্গে যৌথ বৈঠক করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, জুলাইয়ের মধ্যে সব ধরনের আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ শেষ হবে। আগস্টে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণের এক থেকে দেড় মাস আগে তফসিল ঘোষণা করতে হয়। সে হিসেবে আগস্টে তফসিল হলে নির্বাচন গড়াবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। তবে কোন নির্বাচন আগে হবে- সেটা নির্ভর করছে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় কী সিদ্ধান্ত আসে, তার ওপরই। তিনি বলেন, সবকিছু নির্ভর করছে বর্ষা মৌসুমের (জুন-জুলাই) পরিস্থিতির ওপর। অক্টোবর থেকে মার্চ পযন্ত ভোটের উপযুক্ত সময়। এর মধ্যে বছর শেষে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। সব বিষয় বিবেচনা করে যথাসময়েই সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।


২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার বাজেট চাহিদা ইসির
ইসির বাজেট ও অর্থ শাখার কর্মকর্তারা জানান, এবারের বাজেটে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। তবে চূড়ান্ত বাজেট বরাদ্দে কিছুটা কাটছাঁট হতে পারে। ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশের কথা রয়েছে।


ইসি বলছে, স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করতে ইসির চাহিদা রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ৩৩০ কোটি টাকা, পৌরসভার জন্য ৩০০ কোটি টাকা এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার চাহিদা রয়েছে। এই ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য চাওয়া হয়েছে ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।


এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ইসিতে বরাদ্দ আসে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। ইসি সাশ্রয় করেছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় খাতে অর্থ ব্যয় না করা তথা কৃচ্ছ্রতা সাধনের নীতি অবলম্বন করতে চায় ইসি।


ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব (বাজেট) শামসুল হক ফৌজদার বলেন, চলতি অর্থবছরের জন্য ইসি ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। তবে ইসির জন্য বরাদ্দ চূড়ান্ত অঙ্কটি বাজেট পেশের দিন জানা যাবে।


জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সংসদ নির্বাচনে বরাদ্দ করা অর্থের মধ্যে ৮০০ কোটি টাকার মতো অব্যয়িত রয়ে রয়েছে। সেখানে অপ্রয়োজনীয় কোনো খরচ করা হয়নি, কৃচ্ছ্রতাসাধনও করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও চাহিদামতো বরাদ্দ থাকবে আশা করি। সেখানেও আমরা যথাসম্ভব ব্যয় কমিয়ে নির্বাচন করার চেষ্টা করব। তবে ভোটের ব্যয়ে কখনও অর্থ সঙ্কুলানে ঝামেলা হয় না, যখন যা দরকার সরকার তা বরাদ্দ দেয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার যৌথ অঙ্গীকার

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সের্জিও গর। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং কৌশলগত অংশীদারি আরো সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।     বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকার পদ্মা গেস্ট হাউসে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।     পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত গরের প্রথম সফরকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অভিন্ন স্বার্থ ও ঘনিষ্ঠ জনসম্পর্কের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিকে আরো সুদৃঢ় করতে ঢাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।     মন্ত্রণালয় আরো জানায়, উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছে। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয় এবং রোহিঙ্গা সংকট উঠে এসেছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়া-কানাডায় চাকরির নামে প্রতারণা: ভুয়া ওয়েবসাইটসহ ডিবি’র হাতে গ্রেপ্তার ২

ছবি: সংগৃহীত

এনআইডি সংশোধন ও হারানো কার্ডে নতুন ফি নির্ধারণ ইসির

প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত

আগস্টের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর তাগিদ, বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

বন্ধ সরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, বেসরকারিকরণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং এসব কারখানা চালু করতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সরকারি শিল্পকারখানাগুলো দ্রুত চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে কার্যক্রমে গতি আনা এবং এসব শিল্পকারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে দ্রুত উৎপাদন কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া বৈঠকে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।   বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ইংরেজি ভাষাশিক্ষা ও মূল্যায়ন সেবা সম্প্রসারণে ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং এডুক্যান ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর

ছবি: সংগৃহীত

উচ্চ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় ৮৬ ডেপুটি ও ১৭৯ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ

ছবি: সংগৃহীত

সিঙ্গাপুর থেকে এলএনজি আমদানি করবে সরকার, ব্যয় প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে দীর্ঘ যানজট, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা।   বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল থেকে দিনভর মহাসড়কে যানজট দেখা যায়। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্তও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি বলে জানা গেছে।   দুই লেনেই ধীরগতির যান চলাচল: সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। একইভাবে চট্টগ্রামমুখী লেনে ক্যান্টনমেন্ট থেকে আলেখারচর বিশ্বরোড পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।   মাঝেমধ্যে কিছু যানবাহন চলাচল করলেও অল্প সময় পর আবার দীর্ঘক্ষণ থেমে থাকতে দেখা গেছে।   গর্ত মেরামতের কারণে যানজট: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বৃষ্টির কারণে মহাসড়কের একটি অংশে গর্ত তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর মেরামতকাজ চালানোর কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।   যাত্রীদের ক্ষোভ, যানজটে আটকে থাকা যাত্রীরা চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। যাত্রী মো. শোয়েব বলেন,   “মাত্র কয়েক মিনিটের পথ পার হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। এমন ভোগান্তি সত্যিই কষ্টদায়ক।”   আরেক যাত্রী আফসার হোসেন বলেন, “সংস্কারকাজের আগে মানুষকে আগাম জানানো উচিত ছিল। অনেক প্রবাসী ও জরুরি কাজে যাওয়া মানুষ সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।”   কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এ বিষয়ে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   তবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, “বৃষ্টির কারণে মহাসড়কের কিছু স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। আমরা ছোট পরিসরে সেগুলো মেরামতের কাজ করছি। যানজট সৃষ্টি হওয়ার মতো বড় ধরনের সংস্কারকাজ চলছে না।”   তবে বাস্তবে দীর্ঘ যানজটের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারী হাজারো যাত্রীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডেভিড ইমনের কাছ থেকে উদ্ধার ভারতীয় আধার কার্ড, নাম ‘আজহার খান’

ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁয় সুগন্ধি চালের বাজারে অস্থিরতা, কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা

ছবি: সংগৃহীত

‘আজ থেকে আর কোনো কথা বলবো না, চুপ থাকবো’ — নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

0 Comments