সারাদেশ

সেতু কর্তৃপক্ষের ১১৭তম বোর্ড সভা: গবেষণায় সিবিআরটি গঠনের অনুমোদন

মারিয়া রহমান জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১১৭তম বোর্ড সভা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা দেড়টায় সেতু ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ বোর্ডের চেয়ারম্যান শেখ রবিউল আলম। সভায় বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত এবং জুম অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত থেকে বিভিন্ন প্রস্তাবনার ওপর মতামত প্রদান করেন।

 

 

সভার সূচনায় সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বোর্ডের আলোচ্যসূচি ও পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

 

সভায় আলোচনা ও পর্যালোচনার পর নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়:

 

১. পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যে যমুনা সেতু সাইটে নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (NWPGCL)-কে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য ১২০ একর জমি ইজারা প্রদানের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই জমিতে ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

 

২. ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অধিকার সুসংহত করতে পুনর্বাসন ভিলেজে ফ্ল্যাট বরাদ্দের বিদ্যমান পুনর্বাসন নীতিমালা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

৩. বর্তমান সরকারের সবুজ কর্মসংস্থানের উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কার্যপরিধিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয় এবং এ বিষয়ে মাস্টারপ্ল্যান করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

৪. উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল পরিচালনাসংক্রান্ত চুক্তি পুনঃবহালের প্রস্তাব গৃহীত হয়।

 

৫. বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীনে বৃহত্তর স্থাপনা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন, গবেষণার জন্য সেন্টার ফর ব্রিজ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (CBRT) স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

৬. ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট বিধিমালা, ২০১০’র আওতায় কল্যাণমূলক সুবিধার ধরণ স্পষ্টীকরণে ‘বার্ষিক বৃত্তি প্রদান’র পরিবর্তে ‘বার্ষিক শিক্ষা অনুদান সহায়তা’ শব্দটি প্রতিস্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

 

সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই ও পরিবেশ বান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বোর্ডের গৃহীত সব সিদ্ধান্তের দ্রুত ও স্বচ্ছ বাস্তবায়ন সুনিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
জাবিতে ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর অভিযোগে পাবিপ্রবি নেতা আটক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর অভিযোগে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।   রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট চত্বর থেকে জাবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে আটক করেন।   সাইফুল ইসলাম পাবিপ্রবির ফাইন্যান্স বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। চলতি বছরের ৩১ জুলাই ঘোষিত পাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে তাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট চত্বরে মায়ের সঙ্গে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।   জাবি শাখা ছাত্রদল সূত্রের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য শারমিন আক্তার সাথীর একটি ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন সাইফুল। এ বিষয়ে কথা বলতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী তার দোকানে যান। সেখানে অভিযোগ অস্বীকার করলে তার মুঠোফোন পরীক্ষা করা হয়।   ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দাবি করেন, সাইফুলের মুঠোফোনের গ্যালারিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে তার একটি ছবি পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গ্যালারি, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের কথোপকথন পর্যালোচনা করে জাহাঙ্গীরনগর ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। জাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান সোহেল এবং কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক মো. সোহেল রানার সঙ্গেও তার যোগাযোগের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।   তাদের আরও দাবি, কোরবানির ঈদের সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টার লাগানোর বিষয়ে সোহেল রানার সঙ্গে সাইফুলের কথোপকথন হয়েছিল। এ ছাড়া ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার লাগানোর ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোর আশপাশে তাকে দেখা গেছে।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রদলের এক নেতা জানান, পোস্টার লাগানোর স্থানগুলোর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে সাইফুলের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ফুটেজের ছবি এবং তার বর্তমান চেহারা মিলিয়ে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টার লাগানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইফুল ইসলাম। তার ভাষ্য, তিনি নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টার লাগিয়েছেন, তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের কোনো কাজ করেননি। পাবিপ্রবিতে পোস্টার লাগানোর বিষয়ে তিনি জানান, সাভার থেকে পোস্টার ছাপিয়ে গাড়িতে পাবনায় পাঠাতেন এবং সেখানে সংগঠনের অন্য সদস্যরা সেগুলো লাগাতেন।   এদিকে খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে সাইফুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সহকারী প্রক্টর আব্দুস সাত্তার জয় বলেন, সাইফুল নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কার্যক্রম পরিচালনার কথা স্বীকার করেছেন। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কার্যক্রম চালানোর কথা অস্বীকার করেছেন। তার মুঠোফোনে পাওয়া ছবি ও কথোপকথনের ভিত্তিতে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করবে।   জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে আটক করে মুঠোফোন পরীক্ষা করেন। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কার্যক্রমের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে কোনো ধরনের খারাপ আচরণ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।   আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া সাইফুলের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় বৃদ্ধাকে অচেতন করে ১০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট, গ্রেপ্তার ৬

ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ওপর হামলা, গুরুতর আহত

ছবি: সংগৃহীত

মেয়ের জন্য খাবার কিনতে বেরিয়ে গুলিবিদ্ধ শিক্ষা অফিসের হিসাবরক্ষক

ছবি: সংগৃহীত
উখিয়ায় বিএনপি নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে চার স্থানে মহাসড়ক অবরোধ

কক্সবাজারের উখিয়ায় পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব নুরুল আমিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের অন্তত চারটি স্থানে অবরোধ করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।   রোববার (৮ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, একদল দুর্বৃত্ত নুরুল আমিনের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। হামলার নেতৃত্বে থাইংখালী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলমগীর ছিলেন বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ। হামলায় ১০ থেকে ১২ জন অংশ নেন বলেও দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্যাম্পে আশ্রিত কয়েকজন রোহিঙ্গার সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।   আহত নুরুল আমিনকে প্রথমে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।   পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রেজা জানান, নুরুল আমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকেরা ‘ও’ নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।   উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত। তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।   এদিকে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের পালংখালী স্টেশন, থাইংখালী ও উখিয়া সদরসহ অন্তত চারটি স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাত ১০টা পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।   উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় একজন বিএনপি নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। পাশাপাশি মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শেরপুরে ভাতিজাদের হামলায় প্রাণ গেল চাচার

ছবি: সংগৃহীত

তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, ঠিকাদারের মোটরসাইকেল নিয়ে গেলেন বিএনপি নেতা

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে সিআইডি কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ

ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ে সার ডিলারশিপ নিয়ে বিতর্ক, দলীয়করণের অভিযোগ

​কৃষিপ্রধান অঞ্চল ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নজিরবিহীন স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক দলীয়করণ ও পারিবারিক সিন্ডিকেটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সদ্য নিয়োগ পাওয়া ৩১ জন সারের ডিলারের মধ্যে ২৮ জনই সরাসরি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দলের পদধারী নেতাদের পাশাপাশি ডিলারদের স্ত্রী, ভাই ও সন্তানরাও এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবসা করে আসা অভিজ্ঞ ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করায় স্থানীয় কৃষক সমাজ ও ব্যবসায়ী মহলে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ​ ​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখার গত ৪ নভেম্বরের একটি চিঠির মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও জেলার ৪টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভায় নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন, রানীশংকৈল উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৮টি, হরিপুর উপজেলার ৪টি এবং পীরগঞ্জ উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ মোট ১১টি ইউনিয়নে এই ৩১ জন ডিলার নিয়োগ পান। ​তবে নির্বাচন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা এবং নবগঠিত দুটি উপজেলায় ডিলার নিয়োগের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে। একচ্ছত্র প্রাধান্য পেলেন প্রভাবশালীরা অনুসন্ধানে জানা যায়, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিরাই প্রাধান্য পেয়েছেন। এর মধ্যে ৯ জন সরাসরি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। ​ মহিলা দল নেত্রী:  হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের ডিলার হয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদিকা নাজমা পারভীন। ডিলারশিপ পাওয়ার পরপরই তিনি কাঠালডাঙ্গী বাজারের চৌরঙ্গী সড়কে দোকান কিনে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন। ​অন্যান্য পদধারী নেতা:  হরিপুর উপজেলার সাবেক বিএনপি সভাপতি করিমুল হক, ছাত্রদলের সাবেক দুই নেতা এবং তাঁতী ও ওলামা দলের একজন করে নেতা এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। ​পারিবারিক ও আত্মীয়করণের সিন্ডিকেট তালিকায় ৯ জন বিএনপি নেতার স্ত্রী, ৪ জন সন্তান, ২ জন ভাই, ১ জন নিকটাত্মীয় এবং ৩ জন স্থানীয় সংসদ সদস্যের ঘনিষ্টজন ডিলারশিপ পেয়েছেন। ​ নিয়মবহির্ভূতভাবে হরিপুর উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের ছেলে মশিউর রহমানও ডিলারশিপ পেয়েছেন। অথচ কৃষি মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী একই পরিবারের একাধিক সদস্য ডিলারশিপ পাওয়ার সুযোগ নেই। উল্লেখ্য, আবু তাহেরের ছোট ভাই ও মেসার্স লুৎফর রহমানের প্রোপাইটর আব্দুর বশির বহু আগে থেকেই সার ডিলার হিসেবে বহাল আছেন। এ বিষয়ে আবু তাহের দাবি করেছেন, তার ছোট ভাই ও ছেলে আলাদা সংসার ও মৌজায় বসবাস করায় নীতিমালা মেনেই আবেদন করা হয়েছে। ​এদিকে, বাকি ডিলারদের মধ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওয়ার্ড পর্যায়ে নানা পদপদবিতে থাকা ব্যক্তিরাও রয়েছেন। এই তালিকায় রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই এমন ব্যক্তির সংখ্যা মাত্র দুজন। ​কৃষক ও ব্যবসায়ী মহলে তীব্র ক্ষোভ ​অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে এমন রাজনৈতিক ও পারিবারিক বলয়ের ব্যক্তিদের ডিলার করায় কৃষিব্যবস্থা ধ্বংসের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষক নেতারা। ​ জাতীয় কৃষক সমিতির নেতা মোহাম্মদ জুয়েল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কৃষিপ্রধান এই দেশে ফসল উৎপাদন সচল রাখতে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি। কিন্তু ডিলার নিয়োগে দলীয়করণের ফলে একদিকে কৃষিব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে, অন্যদিকে সার সরবরাহের ক্ষেত্রে একধরনের শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠবে।” ​অভিযোগের বিষয়ে সাফাই গেয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী দাবি করেন, “দীর্ঘদিন দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এখন তাদের অনেকে ব্যবসায় মনোনিবেশ করছেন এবং সে কারণেই আবেদন করেছেন। ডিলার নিয়োগে দলের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব ছিল না।” সংশ্লিষ্ট ডিলাররাও রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি অস্বীকার করে সঠিক নিয়মে বৈধ কাগজপত্রে ডিলারশিপ পাওয়ার দাবি করেছেন। ​ অন্যদিকে, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম বলেন, “যারা ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাননি, তারা এখন নানা কথা বলছেন। সারের ডিলার নিয়োগ ইউএনও ও কমিটির মাধ্যমে হয়েছে, অনিয়ম হলে সেটা তাদের দায়। এখানে আমার কোনো ভূমিকা নেই।” ​জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক জানান, “ডিলারদের আবেদন উপজেলা কমিটি যাচাই-বাছাই করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শক্রমে নীতিমালার আলোকেই কমিটি সুপারিশ করেছে এবং মন্ত্রণালয় তা অনুমোদন করেছে। এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।” ​তবে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার মিছিল, গ্রেপ্তার ৫

ছবি: সংগৃহীত

এবার পরীমনিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান গাইবান্ধার সাংবাদিকদের

ছবি: সংগৃহীত

১৬ দফা দাবিতে এপেক্স ফুটওয়্যারের শ্রমিকদের কর্মবিরতি, দুই দিনের ছুটি ঘোষণা

0 Comments