আন্তর্জাতিক

ইসরায়েল শান্ত হলেও নতুন উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

মারিয়া রহমান জুন ১০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা শুরু হয়েছে। হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দায়ী করে কয়েকটি ইরানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

 

সাম্প্রতিক সংঘাতের শুরু হয় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে। ইরান জানায়, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলার জবাব হিসেবে তারা ইসরায়েলের কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এর জবাবে ইসরায়েল ইরানের তেহরান, ইসফাহান ও তাবরিজসহ বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালায়।

 

তবে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ হামলা বন্ধের ঘোষণা দেয়। ইরান জানায়, তারা তাদের সামরিক অভিযান শেষ করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও সাময়িকভাবে হামলা স্থগিতের কথা জানান, যদিও ভবিষ্যতে নতুন হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের পেছনে শুধু সামরিক প্রতিশোধ নয়, বরং চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইরানের জব্দকৃত সম্পদ নিয়ে আলোচনা চলছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে এবং শিগগিরই একটি সমঝোতার সম্ভাবনাও রয়েছে।

 

ইরানি বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের সাম্প্রতিক হামলার উদ্দেশ্য ছিল নতুন বার্তা দেওয়া। লেবাননে তাদের মিত্রদের ওপর হামলা হলে ইরান সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

 

এদিকে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীও আবার সক্রিয় হয়েছে। তারা ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পাশাপাশি লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে।

 

পর্যবেক্ষকদের মতে, আপাতত যুদ্ধ থেমে গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও খুবই নাজুক। পারমাণবিক আলোচনা, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং বিভিন্ন মিত্র গোষ্ঠীর ভূমিকার ওপর নির্ভর করবে এই শান্তি কতদিন স্থায়ী হবে।

তথ্যসূত্র : শাফাক নিউজ

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
বাংলাদেশ-পাকিস্তান থেকে যাওয়া সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব নিয়ে শুভেন্দুর বড় ঘোষণা

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে সময়সীমা ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ-র আওতায় সমস্ত যোগ্য আবেদন নিষ্পত্তি করে নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বর্তমানে প্রায় আড়াই লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নদিয়ার আরংঘাটায় একটি কালীপুজোর মণ্ডপ উদ্বোধন করতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। কোনও যোগ্য আবেদনকারী যাতে বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুভেন্দুর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বহু আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নথি যাচাই ও শুনানির প্রক্রিয়া শেষ করে নাগরিকত্ব প্রদানের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় তার সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মহকুমাশাসকদের তত্ত্বাবধানে আবেদনকারীদের নথি যাচাই এবং শুনানি হবে। প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আগে ১ নভেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনেও একই সময়সীমার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তার দাবি ছিল, রাজ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মতুয়া-সহ বিভিন্ন উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে নাগরিকত্বের প্রশ্নটি দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। বিশেষত নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ইস্যুর সামাজিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব যথেষ্ট। ফলে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তির ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।তবে আবেদন জমা পড়লেই নাগরিকত্ব নিশ্চিত নয়। সিএএ-র নির্ধারিত শর্ত পূরণ এবং নথি যাচাইয়ের পরেই যোগ্য আবেদনকারীরা নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাবেন।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৭, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: এপি

আমি না থাকলে ইসরায়েল বলে কিছু থাকত না: ট্রাম্প

পূর্ব লাদাখের ন্যোমা বিমানঘাঁটিতে ১৩ হাজার ৬২৯ ফুট উচ্চতায় আইএল-৭৬এমডি ভারী পরিবহন বিমান সফলভাবে অবতরণ করে। ছবি: এক্স

সবচেয়ে উঁচুতে বিমান অবতরণ করিয়ে বিশ্ব রেকর্ডের দাবি ভারতের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানে কি ফের হামলা চালাবেন ট্রাম্প, বাড়ছে জল্পনা?

ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে সহায়তার অভিযোগ, কানাডার ৮ প্রতিষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ইরানের ওপর জারি করা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনে সহায়তা এবং অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগে কানাডাভিত্তিক আটটি অর্থ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট। এই পদক্ষেপের ফলে সংস্থাগুলো মার্কিন ডলারভিত্তিক বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি যেকোনো মার্কিন নাগরিক বা সংস্থার সঙ্গে তাদের সব ধরনের লেনদেন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানায়, কানাডার ওন্টারিও ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় অবস্থিত এই আটটি প্রতিষ্ঠান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানের বিভিন্ন সংস্থাকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে আসছিল। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— মিলিয়ন এক্সচেঞ্জ (ডাইভার্স ট্রেড ইনক), ১৩৮০০৭৯ বিসি লিমিটেড, টপ পিসি টেকনিশিয়ান ইনক, এনআইএ নেশনস কারেন্সি লিমিটেড, ফারাহ এক্সচেঞ্জ (২৩৯৭৬৩৯ ওন্টারিও লিমিটেড), সিসিসি ইনক, বি গ্যালাক্সি ইনক এবং দরবেশ এক্সচেঞ্জ।   নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়ে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানি শাসন ব্যবস্থা বা তাদের সহযোগীদের অবৈধ আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কানাডাকে কোনো নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে দেওয়া হবে না। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ইরানের এসব অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক পাওয়া গেলে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট তা খুঁজে বের করে ধ্বংস করবে।   এর পাশাপাশি ক্রিপ্টো লেনদেনের ওপরও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের ফাইনান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (ফিনসেন) ভার্চুয়াল মুদ্রা বিনিময় প্ল্যাটফর্ম ‘এমইএক্সসি গ্লোবাল’ -কে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। সেশেলসে নিবন্ধিত এই প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইরান, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মতো নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশের হয়ে অন্তত ১,৬০০ কোটি (১৬ বিলিয়ন) ডলারের অনৈতিক ক্রিপ্টো লেনদেনে সহায়তা করেছে। ফিনসেনের এই আদেশের ফলে মার্কিন কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এমইএক্সসি গ্লোবালের কোনো লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে পারবে না।   সূত্র: রয়টার্স

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ থামাতে বৈঠকে বসছেন ইউক্রেন-রাশিয়ার নেতারা

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, কঠিন পরীক্ষায় প্রেসিডেন্ট হারজগ

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসনে বড় ধাক্কা, পদত্যাগ করলেন তিন কর্মকর্তা

যুদ্ধের শুরুর তুলনায় ইরানের সামরিক বাহিনী এখন ‘আরও শক্তিশালী’: সেনাবাহিনীর মুখপাত্র

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার সময়ের তুলনায় ইরানের সামরিক বাহিনী এখন আরও শক্তিশালী ও অধিক উদ্দীপিত বলে দাবি করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র।    শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের অভিজ্ঞতা অর্জনের ফলে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী এখন আগের চেয়ে বেশি সতর্ক ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।’   তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের শুরুর সময়ের তুলনায় বর্তমানে তাদের মনোবল, অঙ্গীকার ও আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি।   আকরামিনিয়া দাবি করেন, সরাসরি সংঘাতের অভিজ্ঞতা ইরানের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা ও প্রস্তুতি আরও বাড়িয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৭, ২০২৬

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির তথ্য পেতে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

তারেক রহমানের জায়গায় শেখ হাসিনার নাম, স্বয়ংক্রিয় অনুবাদের ভুলে অস্বস্তিতে জাপানি মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের ৭ শর্ত

0 Comments