পৃথিবীর রাজনৈতিক মানচিত্রকে আমরা প্রায়ই স্থায়ী বলে মনে করি। কিন্তু ইতিহাস বলছে, কোনো রাষ্ট্রই চিরস্থায়ী নয়। একসময় বিশ্বের বৃহত্তম শক্তি ছিল রোমান সাম্রাজ্য, পরে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুগোস্লাভিয়ার মতো রাষ্ট্রও ভেঙে গেছে সময়ের স্রোতে।
বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন, জাতিগত বিভাজন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বহু দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ ও গবেষণাভিত্তিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আগামী কয়েক দশকের মধ্যে বিশ্বের কিছু দেশ হয়তো পুরোপুরি বিলীন হয়ে যেতে পারে, আবার কিছু রাষ্ট্র বর্তমান সীমানা হারিয়ে নতুন রূপ নিতে পারে।
মালদ্বীপ
জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শিকারদের মধ্যে অন্যতম মালদ্বীপ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে খুব কম উচ্চতায় অবস্থিত দেশটির বহু দ্বীপ ইতোমধ্যেই সাগরের ক্রমবর্ধমান জলস্তরের হুমকির মুখে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিদেশে জমি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে নাগরিকদের পুনর্বাসন করা যায়। যদি কোনো রাষ্ট্র পুরোপুরি সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যায়, তবে আন্তর্জাতিক আইনে তার সার্বভৌম অস্তিত্ব কীভাবে নির্ধারিত হবে—মালদ্বীপ হয়তো সেই প্রশ্নের প্রথম বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
বেলজিয়াম
ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র বেলজিয়ামের অভ্যন্তরেই রয়েছে গভীর ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বিভাজন। ডাচভাষী ফ্ল্যান্ডার্স এবং ফরাসিভাষী ওয়ালোনিয়া অঞ্চল রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অনেকটাই পৃথক। রাজধানী ব্রাসেলস দুই অঞ্চলের মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা করলেও বিচ্ছিন্নতার প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে দেশটির বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কিরিবাতি
প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কিরিবাতি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। সমুদ্রের পানি বাড়ায় নিচু প্রবাল দ্বীপগুলো ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে এবং লবণাক্ত পানি সুপেয় জলের উৎস নষ্ট করছে। সম্ভাব্য বিপর্যয়ের কথা বিবেচনা করে সরকার ফিজিতে প্রায় ৬ হাজার একর জমি কিনে রেখেছে, যাতে প্রয়োজনে নাগরিকদের সেখানে স্থানান্তর করা যায়।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
১৯৯৫ সালের ডেটন চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত বসনিয়ায় একটি জটিল ক্ষমতা কাঠামো গড়ে ওঠে। দেশটিতে তিনটি প্রধান জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী তিনজন প্রেসিডেন্ট রয়েছেন। তবে সার্ব অধ্যুষিত ‘রেপুব্লিকা সর্পস্কা’র বিচ্ছিন্নতাবাদী অবস্থান এবং ক্রোয়াটদের স্বায়ত্তশাসনের দাবি দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
উত্তর কোরিয়া
দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্যেও টিকে আছে উত্তর কোরিয়া। তবে খাদ্য সংকট, অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং বাইরের তথ্যপ্রবাহের বিস্তার দেশটির কঠোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। কিম রাজবংশের শাসনের অবসান ঘটলে ক্ষমতার শূন্যতা কিংবা দুই কোরিয়ার পুনরেকত্রীকরণের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার বর্তমান রাষ্ট্রীয় কাঠামো বিলীন হতে পারে।
ইয়েমেন
বহু বছরের গৃহযুদ্ধ ইয়েমেনকে কার্যত কয়েকটি অংশে বিভক্ত করেছে। উত্তর-পশ্চিমে হুথি বিদ্রোহী, দক্ষিণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এবং বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব বিদ্যমান। একসময় পৃথক উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেন হিসেবে পরিচিত দেশটি আবারও সেই পথে ফিরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
টুভালু
প্রশান্ত মহাসাগরের আরেক দ্বীপরাষ্ট্র টুভালু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। জোয়ারের পানিতে গ্রামের ভেতর জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে এবং সুপেয় পানির সংকট বাড়ছে। ফলে অনেক নাগরিক ইতোমধ্যেই বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। ভবিষ্যতে দেশের চেয়ে বিদেশে টুভালুর নাগরিক বেশি হয়ে গেলে রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের প্রশ্নও সামনে আসতে পারে।
লিবিয়া
২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত। বর্তমানে দেশটিতে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসন কার্যকর রয়েছে। বিপুল তেলসম্পদ থাকা সত্ত্বেও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বিভাজন দেশটির স্থায়ী ভাঙনের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
যুক্তরাজ্য
ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যের ভেতরে নতুন করে বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার দাবি জোরদার হয়েছে, কারণ অধিকাংশ স্কটিশ নাগরিক ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। অন্যদিকে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে জনমিতিক পরিবর্তন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের বর্তমান কাঠামো পরিবর্তিত হতে পারে।
সোমালিয়া
তিন দশকের বেশি সময় ধরে সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ সীমিত। রাজধানী মোগাদিশুর বাইরে সরকারের প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল। ১৯৯১ সাল থেকে সোমালিল্যান্ড নিজস্ব প্রশাসন, মুদ্রা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কার্যত স্বাধীন রাষ্ট্রের মতো পরিচালিত হলেও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। এ অবস্থার স্থায়ী সমাধান না হলে বিভক্তি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
স্পেন
স্পেনে কাতালোনিয়া ও বাস্ক অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদ দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। ২০১৭ সালের কাতালোনিয়া সংকট দেখিয়ে দিয়েছে যে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মধ্যেও বিচ্ছিন্নতার আকাঙ্ক্ষা কতটা প্রবল হতে পারে। কাতালোনিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয় স্বাধীনতার দাবিকে এখনো জীবিত রেখেছে।
ইরাক
ঔপনিবেশিক আমলে নির্ধারিত সীমানার কারণে ইরাকে জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজন দীর্ঘদিনের। কুর্দিস্তান অঞ্চল বর্তমানে ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাও সেখানে প্রবল। পাশাপাশি শিয়া ও সুন্নি রাজনৈতিক বিভাজন দেশটির ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
হাইতি
রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সশস্ত্র গ্যাংদের সহিংসতায় হাইতির রাষ্ট্রীয় কাঠামো মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। রাজধানীর বড় অংশই এখন অপরাধী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। আন্তর্জাতিক সহায়তা সত্ত্বেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সাইপ্রাস
১৯৭৪ সাল থেকে সাইপ্রাস কার্যত দুটি অংশে বিভক্ত। একদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রিপাবলিক অব সাইপ্রাস, অন্যদিকে কেবল তুরস্কের স্বীকৃত নর্দার্ন সাইপ্রাস। কয়েক দশকের আলোচনার পরও পুনরেকত্রীকরণ সম্ভব হয়নি। ফলে আনুষ্ঠানিক বিভাজনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মলদোভা
পূর্ব ইউরোপের ছোট রাষ্ট্র মলদোভা দীর্ঘদিন ধরে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। ১৯৯২ সাল থেকে ত্রান্সনিস্ত্রিয়া অঞ্চল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর সঙ্গে গাগাউজিয়া অঞ্চলের রুশপন্থী অবস্থান এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব দেশটির ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে মলদোভা হয় রোমানিয়ার সঙ্গে একীভূত হতে পারে, নয়তো আরও গভীর বিভাজনের মুখোমুখি হতে পারে।
বিশ্বের রাজনৈতিক মানচিত্র কখনোই স্থির নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সংকট, জাতিগত দ্বন্দ্ব এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আগামী কয়েক দশকে বহু দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। এসব দেশের কেউ হয়তো বর্তমান রূপে টিকে থাকবে, কেউ বদলে যাবে, আবার কেউ হয়তো ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেবে-যেমনটি একসময় হয়েছিল বিশ্বের বহু শক্তিশালী রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পদোন্নতি না পেয়ে’ চাকরি ছাড়ার আবেদন করেছেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান (ডিআইজি) আলি আকবর খান। এক দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পদোন্নতির তালিকায় তালিকায় নিজের নাম না দেখে আকবর খান ক্ষুব্ধ হন। এর পরই তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর চাকরি ছাড়ার আবেদন করেন।” সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার পাঁচজন ডিআইজিকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা হলেন—সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মুশফেকুর রহমান, এনএসআইয়ের পরিচালক মোশাররফ হোছাইন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মনিরুজ্জামান, র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। সিআইডির ডিআইজি (অর্গানাইজ ক্রাইম) আলি আকবর খান গত ১ জুন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পান। চাকরি ছাড়ার আবেদনে তিনি লিখেছেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকার পুলিশের ‘সর্বপ্রথম সদস্য’ হিসেবে আকবর খানকে ২০০৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ওএসডি করে এবং ২০২২ সালের ৭ এপ্রিল চাকরিচ্যুত করে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়। “অদ্য ০৪.০৬.২০২৬ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে যারা পদোন্নতি পেয়েছেন সে তালিকায় আমার নাম না থাকায় আমি নিশ্চিত যে আমার জানা-অজানা কোন অযোগ্যতার কারণে আমি সর্বশেষ বৈষম্যের শিকার হলাম। এমতাবস্থায়, নিজের অযোগ্যতা নিয়ে সরকারের বোঝা হওয়ার পরিবর্তে আমি সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এর ৪৪ ধারা মতে আগামী ০২.০৭.২০২৬ খ্রি. তারিখ চাকরি হতে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণে ইচ্ছুক।” পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এ এ এম হুমায়ুন কবীর আবেদনপত্রটি গ্রহণ করে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তর আবেদনটি গ্রহণ করলে পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য সেটি মন্ত্রণালয় পাঠানো হতে পারে। যোগাযোগ করা হলে আলি আকবর খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিষয়টা আমার ব্যক্তিগত। আর যেহেতু আমি এখনো সার্ভিসে আছি; আমি এর বেশি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” ২০০৬ সালে চট্টগ্রামে একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের সময় সাংবাদিক পিটিয়ে আলোচনায় আসেন তৎকালীন সিএমপির উপ-কমিশনার আলি আকবর খান। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তাকে কাজের বাইরে রাখা হয়। ৫ অগাস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি চাকরি ফিরে পান।
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্ততর্কের শুনানি । এদিন যুক্ততর্কের শুনানি শেষ হলে জানা যাবে আলোচিত এ মামলার রায়ে তারিখ। এদিন বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার এ মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজের দায় স্বীকার করে ক্ষমা চায় ঘাতক সোহেল রানা। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন নিজেকে বাঁচাতে নির্দোষ দাবি করেন। এর আগে মঙ্গলবার টানা ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তারসহ সাক্ষীদের জবানবন্দিতে ঘটনার লোমহর্ষক তথ্য উঠে আসে। এ মামলায় গত ১ জুন ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এসময় তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গুম করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। এর আগে গত ২৪ মে রানা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। ওইদিনই অভিযোগপত্র আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হলে সোহেল রানা দম্পতি কৌশলে আট বছরের শিশু রামিসাকে তাদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। এরপর রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ পর হত্যা করে সোহেল। পরে লাশ গুম করার জন্য গলা কেটে মস্তক আলাদা করে সে। এ ঘটনায় মামলা করেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর জাতিসংঘে দেওয়া প্রথম বক্তব্যে বৈশ্বিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে ছয়টি কর্মস্তম্ভভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের আস্থা ও সমর্থনের কারণেই তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। তিনি এই দায়িত্বকে বিনয় ও শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করছেন বলে উল্লেখ করেন। ড. খলিলুর রহমান এ সময় তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি প্রচারণা চলাকালে সহযোগিতা করা দেশের জনগণ, তার টিম এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকৌরিসের প্রশংসা করে বলেন, তিনি একটি গঠনমূলক ও দৃষ্টান্তমূলক প্রচারণা পরিচালনা করেছেন, যা ভবিষ্যতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি অনুসরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে। বক্তব্যে নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘ তার নবম দশকে প্রবেশ করতে যাচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন সংস্থাটির প্রতি বৈশ্বিক আস্থা বিভিন্ন দিক থেকে পরীক্ষার মুখোমুখি। যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে, উন্নয়ন অর্জনগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও পশ্চাদপসরণ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ এবং জাতিসংঘের আর্থিক সংকট সংস্থাটির কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি। শান্তি ও নিরাপত্তা খাতে নিজের অগ্রাধিকার তুলে ধরে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অভিজ্ঞতা ও অবদান থেকে তিনি অনুপ্রেরণা নেবেন। সাইপ্রাস থেকে সুদান পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন, সংঘাত প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সমাধান, শান্তি প্রতিষ্ঠা জোরদার এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি সমন্বিত শান্তিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার পক্ষে তিনি কাজ করবেন। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের বিষয়ে খলিলুর রহামান বলেন, ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি ও অর্জনের মধ্যে এখনও বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। ২০২৭ সালের এসডিজি সম্মেলনকে সামনে রেখে পিছিয়ে থাকা লক্ষ্যগুলো অর্জনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এ ছাড়া এসডিজি অর্থায়নের ঘাটতি পূরণ, ঋণের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার এবং নারী ও কন্যাশিশুদের পূর্ণ ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন ইউএনজিএর নবনির্বাচিত সভাপতি। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য গৃহীত দোহা কর্মসূচিসহ উন্নয়ন-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তিনি বিশেষ নজর দেবেন।