অর্থনীতি

শুল্কের চাপে যুক্তরাষ্ট্রে কমছে বাংলাদেশি পোশাকের দাম

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

 বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাকের বাজার যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে পোশাক আমদানিতে বড় ধরনের সংকোচন দেখা দিয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ সময়ে দেশটির পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে ৪১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আমদানির পরিমাণ কমেছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। তবে আমদানি করা পোশাকের গড় একক মূল্য সামান্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ।

 

এই সংকুচিত বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান চীন ও ভারতের তুলনায় তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই পোশাক খাত। সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমেছে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। আরও উদ্বেগের বিষয়, শুধু জুলাইয়ে রফতানি কমেছে ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অর্থাৎ বছরের প্রথম সাত মাসের গড় পতনের তুলনায় জুলাইয়ে বাংলাদেশের রফতানি কমেছে আরও দ্রুত হারে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির সর্বশেষ সাত মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। দেশটির বাণিজ্য বিভাগের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ ও সংকলন করেছে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি)।

 

সংকুচিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাকের বাজার

 

ওটেক্সার তথ্য বলছে, জানুয়ারি-জুলাই ২০২৫ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ৪৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছিল। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশটির পোশাক আমদানি কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।

 

আমদানির পরিমাণের হিসাবেও বড় পতন হয়েছে। গত বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৪ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন বর্গমিটার সমতুল্য পোশাক আমদানি করেছিল।

 

চলতি বছর তা কমে হয়েছে প্রায় ১৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন বর্গমিটার সমতুল্য। অর্থাৎ পরিমাণের হিসাবে পতন হয়েছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ।

 

অন্যদিকে গড় একক আমদানি মূল্য ৩ দশমিক ১৪ ডলার থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ১৭ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে কম পরিমাণে পোশাক ঢুকলেও আমদানিকারকরা গড়ে সামান্য বেশি দামের পোশাক কিনেছেন।

 

এতে বোঝা যায়, বাজারের মূল চাপটি মূলত চাহিদা ও আমদানির পরিমাণে। সামগ্রিক বাজারে পোশাকের গড় মূল্য কিছুটা বাড়লেও আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে নতুন ক্রয়াদেশ ও ভোগের প্রবাহ আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশেও কমেছে রফতানি

 

যুক্তরাষ্ট্রের বাজার সংকুচিত হওয়ার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের ওপরও। জানুয়ারি-জুলাই ২০২৫ সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি করেছিল। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে হয়েছে ৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার।

 

অর্থাৎ সাত মাসে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমেছে প্রায় ৩২৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার বা ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

 

তবে সামগ্রিক বাজারের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের পতন তুলনামূলকভাবে কম। যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি যেখানে ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমেছে, সেখানে বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমেছে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ বাজার সংকুচিত হলেও বাংলাদেশের রফতানি পতন বাজারের সামগ্রিক পতনের চেয়ে কম।

 

কিন্তু জুলাইয়ের তথ্য পরিস্থিতিকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে। ওই মাসে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমেছে। ফলে বছরের প্রথম সাত মাসের তুলনায় জুলাইয়ে পতনের গতি বেড়েছে।

 

এ কারণে আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের ক্রয়াদেশ ও রফতানি প্রবাহ কোন দিকে যায়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

চীন-ভারতের পতন আরও বড়

 

প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন। সাত মাসে দেশটির পোশাক রফতানি কমেছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। গত বছরের ৬ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার থেকে চলতি বছর তা নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ চীনের রফতানি কমেছে প্রায় ২ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

 

ভারতের রফতানিও কমেছে ২৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ৩ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার থেকে তা নেমে এসেছে ২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে।

 

পাকিস্তানের রফতানি কমেছে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। ১ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার থেকে তা কমে হয়েছে ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার।

 

ভিয়েতনামের পতন তুলনামূলকভাবে সামান্য– ১ দশমিক ০৩ শতাংশ। দেশটির রফতানি ৯ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে হয়েছে ৯ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

 

তবে সংকুচিত বাজারেও ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। ইন্দোনেশিয়ার রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

 

অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সামগ্রিক চাহিদা কমলেও সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এখানেই বড় চ্যালেঞ্জ।

 

পরিমাণেও কমেছে বাংলাদেশের রফতানি

 

অর্থমূল্যের পাশাপাশি পোশাকের পরিমাণের হিসাবেও বাংলাদেশের রফতানি কমেছে। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানির পরিমাণ কমেছে ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গত বছরের প্রায় ১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন বর্গমিটার সমতুল্য থেকে তা কমে হয়েছে ১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন।

 

তবে এ ক্ষেত্রেও চীন ও ভারতের পতন অনেক বেশি। চীনের রফতানি পরিমাণ কমেছে ২৪ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ভারতের ২৪ দশমিক ০২ শতাংশ।

 

অন্যদিকে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া রফতানির পরিমাণ বাড়িয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পরিমাণ বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ১২ দশমিক ০৫ শতাংশ।

 

ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীন ও ভারতের কাছ থেকে যে অংশ অন্য দেশগুলোর হাতে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ লাভবান হতে পারে। কিন্তু সেই সুযোগ নিতে হলে অন্য প্রতিযোগীদেরও পেছনে ফেলতে হবে।

 

কমেছে বাংলাদেশের পোশাকের গড় দাম

 

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পোশাকের গড় একক মূল্য কমে যাওয়া। বিএভির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বাংলাদেশের পোশাকের গড় একক মূল্য ২ দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ রফতানির পরিমাণ কমার পাশাপাশি প্রতি ইউনিট পোশাক থেকেও আগের তুলনায় কম অর্থ পাওয়া গেছে।

 

প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে চীনের গড় একক মূল্য কমেছে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়ার ৬ দশমিক ১০ শতাংশ, পাকিস্তানের ৫ দশমিক ১২ শতাংশ এবং ভারতের ২ দশমিক ৩০ শতাংশ। কম্বোডিয়ার কমেছে ১ দশমিক ৪০ শতাংশ।

 

অর্থাৎ বাংলাদেশেও পোশাকের দাম কমেছে, যদিও চীনের মতো বড় পতন হয়নি।

 

শুল্কের চাপ কতটা?

 

রফতানিকারকদের মতে, বাংলাদেশের পোশাকের দাম কমার অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের চাপ। বাড়তি শুল্কের পুরো বোঝা মার্কিন ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে আলোচনার মাধ্যমে এর একটি অংশ রফতানিকারকদের বহন করতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ধরে রাখতে পণ্যের দাম কমাতে হয়েছে।

 

স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, মূলত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফের একটি অংশ বাংলাদেশের রফতানিকারকদের বহন করতে হয়েছে। ফলে পোশাকের দাম কিছুটা কমিয়ে দিতে হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ইউনিট মূল্যে।

 

রফতানিকারকদের তথ্য অনুযায়ী, কোনও কোনও ক্ষেত্রে বাড়তি শুল্কের এক-তৃতীয়াংশ, আবার কোনও ক্ষেত্রে প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত রফতানিকারকদের বহন করতে হয়েছে।

 

এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য কঠিন। কারণ একই সময়ে দেশের ভেতরে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, বিকল্প জ্বালানির বাড়তি ব্যয়, শ্রম ও অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি– সব মিলিয়ে কারখানার ব্যয় বাড়ছে। অথচ বিদেশি ক্রেতারা উল্টো কম দাম চাইছেন।

 

উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, দাম কমছে

 

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, একদিকে উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বাড়ছে, অথচ পণ্যের দাম বাড়ার পরিবর্তে কমেছে। অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসা ধরে রাখতে লোকসানেও অর্ডার নিতে বাধ্য হয়েছেন। এতে অনেক কারখানা রুগ্‌ণ হয়ে পড়েছে এবং বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 

তার মতে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। গ্যাস না থাকায় অনেক কারখানাকে বেশি দামে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন চালাতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ আরও বাড়ছে।

 

এই দুইমুখী চাপ– বাড়তি উৎপাদন ব্যয় এবং কম রফতানি মূল্য, দীর্ঘমেয়াদে পোশাকশিল্পের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

 

তবে সুযোগও দেখছেন রফতানিকারকরা

 

তবে পুরো পরিস্থিতি যে নেতিবাচক, তা নয়। রফতানিকারকদের মতে, কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের বোঝা ভাগাভাগি করার যে চাপ ছিল, তা এখন অনেকটাই কমেছে। ফলে আগের তুলনায় ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

 

শোভন ইসলাম বলেন, মার্কিন ক্রেতারা এখন আর আগের মতো ছাড় দিতে বলছেন না। ফলে আগামী দিনে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যেতে পারে। একইসঙ্গে ক্রয়াদেশও বাড়ছে বলে জানান তিনি।

 

তার প্রত্যাশা, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি আবারও বাড়তে পারে।

 

এখন নজর জুলাইয়ের পরের দিকে

 

সাত মাসের তথ্য একদিকে বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা, অন্যদিকে সুযোগও তৈরি করেছে। চীন ও ভারতের বড় পতনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সরবরাহকারী পরিবর্তনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশ সেটি কাজে লাগাতে পারে। কিন্তু ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার মতো দেশও একই সুযোগ নিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

 

ফলে বাংলাদেশের সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংকুচিত বাজারে নিজেদের অংশ ধরে রাখতে হবে, অন্যদিকে বাড়তি উৎপাদন ব্যয়ের মধ্যেও প্রতিযোগিতামূলক দাম দিতে হবে।

 

বিশেষ করে জুলাইয়ের ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ পতনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। একটি মাসের তথ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ধারণ করা না গেলেও পরবর্তী মাসগুলোতেও যদি একই ধরনের পতন অব্যাহত থাকে, তাহলে তা পোশাক রফতানির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হবে।

 

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের গড় দাম কমে যাওয়ার পেছনে শুল্কের বাড়তি চাপের পাশাপাশি বাজারের সামগ্রিক সংকোচনও কাজ করছে। শুল্কের একটি অংশ রফতানিকারকদের বহন করতে হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে পোশাকের দাম কমিয়ে দিতে হয়েছে।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যয় যখন বাড়ছে, তখন রফতানি মূল্য কমে যাওয়া উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে। তবে চীন ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের রফতানি কম কমেছে– এটি আমাদের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে উৎপাদন ব্যয় কমানো, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং উচ্চমূল্যের পোশাক রফতানিতে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

 

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা এখন আরও তীব্র হচ্ছে। তাই শুধু কম দামে পোশাক রফতানি করে বাজার ধরে রাখা নয়, মান, পণ্যের বৈচিত্র্য ও সরবরাহ সক্ষমতার দিক থেকেও বাংলাদেশকে এগিয়ে থাকতে হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
সাইবার হামলার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ

জরুরি নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণে সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।      বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।     এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করলে ‘The Service is under Maintenance’ শীর্ষক একটি বার্তা দেখা যায়।     ওই বার্তায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে সেবাটি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে শিগগিরই সেবা আবারও চালু করা হবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।     উল্লেখ্য, সম্প্রতি সাইবার হামলার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে একের পর এক ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হচ্ছে।       ইন্টারনেটের বড় একটি অংশে ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দু’টি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এমন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।     এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা দূর থেকে সিস্টেমে প্রবেশ করে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় শনাক্ত হওয়া এই ত্রুটি সংশোধনে বিশ্বজুড়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২২, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

মূল্যস্ফীতি ও তেলের দাম বৃদ্ধিতে সোনার বাজারে মন্দা

ছবি: সংগৃহীত

১ নভেম্বর থেকে খাবারের ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

সংগৃহীত ছবি

বিএসইসির ১০৩৫তম সভা: নতুন ব্রোকার লাইসেন্স অনুমোদন ও ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত
এফডিআই বাড়লেও নতুন বিদেশি বিনিয়োগে ভাটা, ৭৫ শতাংশই মুনাফার পুনর্বিনিয়োগ

দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়লেও নতুন মূলধন বিনিয়োগে গতি নেই। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে নিট এফডিআই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে আগে থেকে বাংলাদেশে ব্যবসা করা বিদেশি কোম্পানিগুলোর মুনাফা পুনর্বিনিয়োগের মাধ্যমে। বিপরীতে, নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ কমেছে এবং আন্তঃকোম্পানি ঋণের নিট প্রবাহেও বড় পতন হয়েছে।   সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ এসব তথ্য জানায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিদেশি বিনিয়োগের তিনটি প্রধান উপাদান—নিট পুনর্বিনিয়োগকৃত আয়, নিট ইকুইটি মূলধন এবং নিট আন্তঃকোম্পানি ঋণের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।   ইনভেস্ট বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশে নিট এফডিআই এসেছে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ২৬ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ডলার এসেছে আগে থেকে বিনিয়োগ করা বিদেশি কোম্পানিগুলোর মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ থেকে। অর্থাৎ, মোট নিট এফডিআইয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশই এসেছে বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে।   অন্যদিকে, এ সময়ে নিট ইকুইটি বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৭৪ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম। বিদেশি কোম্পানিগুলোর আন্তঃকোম্পানি ঋণের নিট প্রবাহও ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ কমে ৮৬ লাখ ১০ হাজার ডলারে নেমে এসেছে।   পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ খাতে মোট ৩৩ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের ঋণপ্রবাহ থাকলেও আগের ঋণ পরিশোধের কারণে নিট প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।   বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় নতুন বিনিয়োগে চাপ বিদেশি বিনিয়োগের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব কারণে বিশ্বজুড়েই বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন, যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও। ইনভেস্ট বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন উইংয়ের সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যেও দেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এখনো কঠিন। তিনি আরও বলেন, আগে থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা পুনর্বিনিয়োগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এটি দেশের ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার প্রতি বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইঙ্গিত দেয়। এ ধরনের বিনিয়োগ ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।   বিনিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিনিয়োগ পরিবেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। নাহিয়ান রহমান রচি জানান, সংস্থাটির ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলোকে বাস্তব বিনিয়োগ ও বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিতে কাজ চলছে। সম্প্রতি কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ঘোষণাকেও তিনি আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেন। তবে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগের চিত্র তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এসব অঞ্চলে নিট এফডিআই এসেছে ৪ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ কম। যদিও এর আগের প্রান্তিকে এসব অঞ্চলে নিট বিনিয়োগ ছিল মাত্র ০ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ইপিজেডের বাইরের খাতে নিট এফডিআই ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ২৮০ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ কমলেও অন্যান্য খাতে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বেড়েছে।   চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে ৫০ কোটি ডলারের সম্ভাবনা অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত করাও ইনভেস্ট বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। নাহিয়ান রহমান রচি জানান, এক দশকের বেশি সময় ধরে বিলম্বিত চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের উন্নয়নকাজ এখন এগিয়ে চলছে। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও জানান, ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রকাশিত ১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদনে ইতিমধ্যে অর্জিত অগ্রগতি ও বাকি কাজের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগ, চালু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং কর্মসংস্থানে রূপান্তর করতে সংস্থাটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সামগ্রিকভাবে, নিট এফডিআইয়ের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ ও আন্তঃকোম্পানি ঋণের প্রবাহ কমে যাওয়ায় বিদেশি মূলধন আকর্ষণের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন এবং ঘোষিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন: সোনালী, জনতা ও রূপালীর এমডি পদচ্যুত

ছবি: সংগৃহীত

এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্ত চলতি মাসেই আসবে, আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

সংসারের খরচ মেটাতে ঋণী দেশের ৪৭ শতাংশ পরিবার

ছবি: সংগৃহীত
আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের সভা শেষে অনিশ্চয়তা কাটেনি, চাপে উন্নয়নশীল দেশ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা শেষ হয়েছে নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে। বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দা এড়াতে পারলেও ঋণ পরিশোধের বাড়তি ব্যয়, উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া, ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং কর্মসংস্থানের সংকট নিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর উদ্বেগ কাটেনি। সপ্তাহব্যাপী আলোচনায় এসব সমস্যার কিছু দিক উঠে এলেও কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট সমাধানের বিষয়ে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।   ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন। বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি, সরকারি ঋণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, বেসরকারি বিনিয়োগ, প্রযুক্তির পরিবর্তন এবং তরুণদের কর্মসংস্থান ছিল আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   সভায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে রাজস্ব আহরণ, বাজেট ব্যবস্থাপনা, কাঠামোগত সংস্কার ও বেসরকারি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে ঋণের উচ্চ ব্যয়, আন্তর্জাতিক সহায়তার অনিশ্চয়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে শ্রমবাজারে সম্ভাব্য পরিবর্তন মোকাবিলায় আরও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে।   ঋণ পরিশোধেই রাজস্বের বড় অংশ ব্যয় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ঋণ পরিশোধের ব্যয় ক্রমেই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ডের মুনাফার হার বেড়ে যাওয়ায় অনেক দেশের নতুন ঋণ নেওয়ার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ঋণের মোট পরিমাণ কমলেও সুদ ও অন্যান্য ব্যয়ের কারণে সরকারি অর্থের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, বাজেটের ভারসাম্যহীনতার ক্ষেত্রে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোও বড় সমস্যার উৎস। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ঋণ পরিশোধের ব্যয় এক দশক আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে সরকারি রাজস্বের প্রায় ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয়ের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। ঋণের চাপ সামলাতে গিয়ে উন্নয়ন ব্যয় কমাতে হলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।   উন্নত দেশগুলোর অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো নিজেদের বাজেটসংক্রান্ত সমস্যা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলাতে ব্যস্ত থাকায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে না বলে মনে করছেন কয়েকজন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক। আটলান্টিক কাউন্সিলের আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ লিপস্কির মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর সংকট মোকাবিলায় কার্যকর দিকনির্দেশনা তৈরির সুযোগ থাকলেও এবারের সভা সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। কলম্বিয়ার সাবেক অর্থমন্ত্রী ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাউরিসিও কার্দেনাসও ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় সুস্পষ্ট পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতায় কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি জরুরি।   ভূরাজনৈতিক সংঘাতে ব্যাহত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ভূরাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাবও সভার আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও ইউক্রেন সংঘাত জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের পরিবেশে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সদস্যদেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্যও সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ব্যাংককে আইএমএফের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে রাশিয়ার অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় প্রায় অর্ধেক প্রতিনিধি কক্ষ ছেড়ে চলে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এ ধরনের বিভাজন অব্যাহত থাকলে ঋণসংকট, দারিদ্র্য ও উন্নয়ন অর্থায়নের মতো বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে যৌথ উদ্যোগ দুর্বল হতে পারে।   প্রবৃদ্ধি কমছে, মন্দার ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বড় ধরনের জ্বালানি ধাক্কা সত্ত্বেও বিশ্ব অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় ভালোভাবে পরিস্থিতি সামলেছে। তবে মন্দা এড়ানো গেলেও উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় ধরনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দুর্বল হয়েছে। প্রতিবেদনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসার কথা বলা হয়েছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কোসে সতর্ক করেছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা দেয় না। কয়েক মাস পরপর নতুন অর্থনৈতিক ধাক্কার আশঙ্কা থাকায় দেশগুলোকে আগাম প্রস্তুতি ও ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।   উন্নয়ন সহায়তা কমায় বাড়ছে অর্থায়নের চাপ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আরেকটি বড় উদ্বেগ সরকারি উন্নয়ন সহায়তা বা ওডিএ কমে যাওয়া। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে এ ধরনের সহায়তা ২৩ শতাংশ কমেছে। সহায়তা কমে গেলে দরিদ্র দেশগুলোকে নিজেদের রাজস্ব, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং বহুপক্ষীয় ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বেসরকারি বিনিয়োগ সাধারণত তুলনামূলক লাভজনক ও কম ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বেশি যায়। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা এবং কম লাভজনক অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা উন্নয়ন অর্থায়নে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ, দাতব্য সংস্থার অর্থ এবং প্রযুক্তিকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি দরিদ্র দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন ও ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।   ৮০ কোটি তরুণের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে পারেন। বিপরীতে, তাদের জন্য সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি। অর্থাৎ সম্ভাব্য নতুন শ্রমশক্তি ও কর্মসংস্থানের মধ্যে ব্যবধান প্রায় ৮০ কোটি। এটি কোনো এক বছরের চাকরির ঘাটতি নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি শ্রমবাজার পরিস্থিতির একটি পূর্বাভাস। তবু এই হিসাব কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা তৈরির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণব্যবস্থাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা জরুরি।   বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ঋণের ব্যয়, উন্নয়ন সহায়তার অনিশ্চয়তা এবং কর্মসংস্থানের চাপ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ পরিস্থিতিতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা উন্নত করা এবং উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে শিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও সেবাখাতে বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ও কারিগরি প্রশিক্ষণ জোরদার করা প্রয়োজন। তবে ব্যাংককের সভায় বাংলাদেশকে নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ঋণ বা সহায়তা অনুমোদনের তথ্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। তাই সাধারণ নীতিগত আলোচনা এবং বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত কোনো আর্থিক সিদ্ধান্তকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।   সমাধানের অপেক্ষায় উন্নয়নশীল বিশ্ব আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি, ঋণের চাপ, উন্নয়ন সহায়তার ঘাটতি এবং কর্মসংস্থানের সংকট নিয়ে আলোচনা হলেও এসব সমস্যার সমন্বিত সমাধান এখনো স্পষ্ট নয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য শুধু বাজেট ঘাটতি কমানো বা কাঠামোগত সংস্কার যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বজায় রাখাও জরুরি। সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি আপাতত বড় ধরনের মন্দা এড়ালেও এর সুফল সব দেশ সমানভাবে পাচ্ছে না। ঋণের বোঝা কমানো, উন্নয়ন অর্থায়নের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করাই এখন আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারকদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

নতুন পে-স্কেলে কত বকেয়া পাবেন, হিসাব করবে ক্যালকুলেটর

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ১.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ জাপানের

ছবি: সংগৃহীত

পিপিআরসির গবেষণা: ৭৪ শতাংশ সেবাপ্রার্থীর অভিমত, টাকা ছাড়া কাজ হয় না

0 Comments