হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সেপ্টেম্বরের পরও বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহ করতে পারবে না কাতারএনার্জি।
দোহা নিউজ জানিয়েছে, পাকিস্তানকেও অক্টোবর পর্যন্ত এলএনজি কার্গো বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি ক্রেতাও একই ধরনের নোটিস পেয়েছে।
ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন শুক্রবার জানিয়েছে, কাতারএনার্জি তাদের আরও পাঁচটি এলএনজি কার্গো সরবরাহ স্থগিত করার কথা জানিয়েছে। এসব কার্গো সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরুর মধ্যে ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি টার্মিনালে পৌঁছানোর কথা ছিল।
ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাতে দোহা নিউজ জানিয়েছে, কাতারএনার্জি বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজার’ বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির কারণে চুক্তির বাধ্যবাধকতা পূরণে ছাড়ের সময়সীমা সেপ্টেম্বরের পর পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
কেন সরবরাহ বন্ধ
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার কারণে কাতার থেকে এলএনজি রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৪ মার্চ কাতারএনার্জি এলএনজি কার্যক্রম স্থগিত করে এবং ‘ফোর্স মেজার’ ঘোষণা করে। এরপর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত বারবার বাড়ানো হচ্ছে।
মার্চে কাতারএনার্জির রাস লাফান স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অবকাঠামোর ক্ষতি হয়। কাতারএনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী এবং জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি বলেছিলেন, ওই হামলায় কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে।
জুলাইয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় কাতারের এলএনজি ট্যাংকার আল রেক্কায়াত হামলার শিকার হয়। কাতার ওই ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করে। হামলায় জাহাজটির বাম পাশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এরপর হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়মিত এলএনজি পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
কাতারের এলএনজি রপ্তানি কতটা কমেছে
আইসিসের তথ্যের বরাতে ইউরোনিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০৯টি।
এ পরিস্থিতিতে কাতারের গ্যাস বিক্রি থেকে আয় কমেছে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার।
কাতারের সরবরাহের ঘাটতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ অন্য কয়েকটি দেশ থেকে এলএনজি সরবরাহ বেড়েছে। নাইজেরিয়া ও মালয়েশিয়াতেও উৎপাদন বেড়েছে।
তবে এসব বিকল্প সরবরাহ কাতারের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। এশিয়ার কিছু দেশ এলএনজি ব্যবহার কমিয়ে অন্য জ্বালানিতে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ইউরোপও তাদের মজুদ থেকে গ্যাস ব্যবহার বাড়িয়েছে।
কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির গ্লোবাল রিসার্চ স্কলার আন-সোফি করবো বলেন, রাজনৈতিক সমাধান না হলে হরমুজ প্রণালির সংকট আরও দীর্ঘ হতে পারে।
তার মতে, স্বাভাবিকভাবে এলএনজি রপ্তানি কবে শুরু করা যাবে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস না থাকায় কাতারএনার্জি মাসে মাসে ‘ফোর্স মেজার’ বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশের ঝুঁকি কেন বেশি
কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এলএনজির ওপর বেশি নির্ভরশীল এবং পর্যাপ্ত বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারেনি—এমন দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
আন-সোফি করবো বিশেষভাবে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারতকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
অন্যদিকে জাপান তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত অবস্থানে আছে। কারণ দেশটি কাতার থেকে অপেক্ষাকৃত কম এলএনজি কেনে এবং তেল বা যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাসের দামের সঙ্গে যুক্ত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করে।
চীনও এখন পর্যন্ত কাতারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি সরবরাহের ঘাটতি সামাল দিতে পেরেছে। ইউরোপ মজুদ থেকে বেশি গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামলাচ্ছে। তাতে ইউরোপের মজুদও কমে যাচ্ছে।
করবোর ধারণা, আগে যে ধারণা করা হয়েছিল ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ এলএনজি বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে ফিরবে, সেই অবস্থায় ফিরতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সেপ্টেম্বরের পরও বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহ করতে পারবে না কাতারএনার্জি। দোহা নিউজ জানিয়েছে, পাকিস্তানকেও অক্টোবর পর্যন্ত এলএনজি কার্গো বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি ক্রেতাও একই ধরনের নোটিস পেয়েছে। ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন শুক্রবার জানিয়েছে, কাতারএনার্জি তাদের আরও পাঁচটি এলএনজি কার্গো সরবরাহ স্থগিত করার কথা জানিয়েছে। এসব কার্গো সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরুর মধ্যে ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি টার্মিনালে পৌঁছানোর কথা ছিল। ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাতে দোহা নিউজ জানিয়েছে, কাতারএনার্জি বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজার’ বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির কারণে চুক্তির বাধ্যবাধকতা পূরণে ছাড়ের সময়সীমা সেপ্টেম্বরের পর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। কেন সরবরাহ বন্ধ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার কারণে কাতার থেকে এলএনজি রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৪ মার্চ কাতারএনার্জি এলএনজি কার্যক্রম স্থগিত করে এবং ‘ফোর্স মেজার’ ঘোষণা করে। এরপর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত বারবার বাড়ানো হচ্ছে। মার্চে কাতারএনার্জির রাস লাফান স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অবকাঠামোর ক্ষতি হয়। কাতারএনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী এবং জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি বলেছিলেন, ওই হামলায় কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে। জুলাইয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় কাতারের এলএনজি ট্যাংকার আল রেক্কায়াত হামলার শিকার হয়। কাতার ওই ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করে। হামলায় জাহাজটির বাম পাশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়মিত এলএনজি পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। কাতারের এলএনজি রপ্তানি কতটা কমেছে আইসিসের তথ্যের বরাতে ইউরোনিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০৯টি। এ পরিস্থিতিতে কাতারের গ্যাস বিক্রি থেকে আয় কমেছে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার। কাতারের সরবরাহের ঘাটতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ অন্য কয়েকটি দেশ থেকে এলএনজি সরবরাহ বেড়েছে। নাইজেরিয়া ও মালয়েশিয়াতেও উৎপাদন বেড়েছে। তবে এসব বিকল্প সরবরাহ কাতারের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। এশিয়ার কিছু দেশ এলএনজি ব্যবহার কমিয়ে অন্য জ্বালানিতে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ইউরোপও তাদের মজুদ থেকে গ্যাস ব্যবহার বাড়িয়েছে। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির গ্লোবাল রিসার্চ স্কলার আন-সোফি করবো বলেন, রাজনৈতিক সমাধান না হলে হরমুজ প্রণালির সংকট আরও দীর্ঘ হতে পারে। তার মতে, স্বাভাবিকভাবে এলএনজি রপ্তানি কবে শুরু করা যাবে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস না থাকায় কাতারএনার্জি মাসে মাসে ‘ফোর্স মেজার’ বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশের ঝুঁকি কেন বেশি কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এলএনজির ওপর বেশি নির্ভরশীল এবং পর্যাপ্ত বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারেনি—এমন দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। আন-সোফি করবো বিশেষভাবে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারতকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে জাপান তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত অবস্থানে আছে। কারণ দেশটি কাতার থেকে অপেক্ষাকৃত কম এলএনজি কেনে এবং তেল বা যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাসের দামের সঙ্গে যুক্ত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করে। চীনও এখন পর্যন্ত কাতারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি সরবরাহের ঘাটতি সামাল দিতে পেরেছে। ইউরোপ মজুদ থেকে বেশি গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামলাচ্ছে। তাতে ইউরোপের মজুদও কমে যাচ্ছে। করবোর ধারণা, আগে যে ধারণা করা হয়েছিল ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ এলএনজি বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে ফিরবে, সেই অবস্থায় ফিরতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের রুট সম্প্রসারণ ও আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকার ভবিষ্যতে বিমান ভাড়া আরও কমানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছে। রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। মন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীদের জন্য বিমান প্রথমদিকে প্রায় ২ লাখ টাকা ভাড়া নিত। পরে অন্তর্বর্তী সরকার তা কমিয়ে প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা করে। তিনি বলেন, ‘গত হজে আমরা বিমান ভাড়া সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা হিসাব করেছিলাম। এ বছর ডায়নামিক প্রাইসিংয়ের মাধ্যমে তা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে।’ ভবিষ্যতে বিমান ভাড়া আরও কমানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিমানের উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন রুট পুনরায় চালু বা পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের রুটগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে আয় বাড়বে। সে ক্ষেত্রে আমরা বিমান ভাড়া আরও কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করব।’ বিমান টিকিটের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্যান্য এয়ারলাইন্সের প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘অন্যান্য এয়ারলাইন্স যেভাবে পরিচালিত হয়, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করব।’ অস্বাভাবিকভাবে বেশি অভ্যন্তরীণ বিমান ভাড়া, বিশেষ করে উড্ডয়নের কাছাকাছি সময়ে টিকিট কিনলে ভাড়া বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানের (রাজশাহী-১) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে প্রকৃত বিমান ভাড়া প্রায় ৬ হাজার ৪০০ টাকা, ১২ হাজার টাকা নয়। তিনি বলেন, এর সঙ্গে যাত্রীদের প্রায় ১৫ শতাংশ কর ও অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জ পরিশোধ করতে হয়। মন্ত্রী জানান, ফ্লাইট ছাড়ার শেষ সময়ে টিকিটের মূল্য কারসাজি বা কালোবাজারি ঠেকাতে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যে যাত্রীরা যাতে টিকিট কিনতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি সংসদে বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, ইনশাআল্লাহ, আপনাদের কখনো বেশি দামে এই টিকিট কিনতে হবে না। নির্ধারিত মূল্যেই টিকিট কিনতে পারবেন।’ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আর্থিক সক্ষমতা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য বিমান ভ্রমণ আরও সাশ্রয়ী করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী।
বাংলাদেশে এই প্রথম মাতৃগর্ভে থাকা যমজ শিশুর ত্রুটিপূর্ণ রক্তসঞ্চালন বন্ধ করার জটিল ও সংবেধনশীল অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই পদ্ধতির নাম রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন (আরএফএ)। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) অবস এন্ড গাইনি বিভাগের ফিটোমেটারনাল মেডিসিন ইউনিটে সফল ওই অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন চীন থেকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফিটোমেটারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. তাজমিরা সুলতানা ও সহকারী অধ্যাপক মাসউদা সুলতানা। এসময় ইউনিট প্রধান অধ্যাপক তাবাসসুম গণিসহ ফ্যাকাল্টি মেম্বার ডা. ফেরদৌস আরা, ডা. আরিফা শারমিন, ডা. হাফিজা ফারজানা, ডা. ফারহানা ইসলাম, ডা. দিনা লায়লা, ডা. রুবাইয়াত সানিয়া, ডা. মিম শাহরিন ও ফেলো স্টুডেন্টরা উপস্থিত ছিলেন। সহযোগী অধ্যাপক তাজমিরা সুলতানা বলেন, পরীক্ষায় দেখা যায় পেটে থাকা যমজ সন্তানের একটি সুস্থ থাকলেও অপরটির হার্ট তৈরি হয়নি। সুস্থ বাচ্চার হার্ট দিয়ে ত্রুটিপূর্ণ বাচ্চার রক্ত সঞ্চালন হচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে সাধারণত টিআরপি (টুইন রিভার্স আরটিরিয়াল পারফিউশন) সিকুয়েন্স বা একার্ডিয়াক টুইন জটিলতা বলা হয়। এতে যমজ বাচ্চার একটির হার্ট তৈরি না হওয়ায় সুস্থ বাচ্চার হার্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে সুস্থ বাচ্চাটির মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। তাই অপারেশনের মাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ শিশুর রক্তসঞ্চালন বন্ধ করে সুস্থ শিশুটিকে নিরাপদে বাঁচিয়ে রাখার পথ সুগম করা হয়েছে। বাংলাদেশে এ ধরণের আধুনিক ও জটিল চিকিৎসা সেবা এটাই প্রথম। উল্লেখ্য, ঢামেকের ২১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ফিটোমেটারনাল মেডিসিন ইউনিটে রেগুলার বেসিস-এ বিভিন্ন প্রসিডিউর হয়ে থাকে। যেমন গর্ভথলি থেকে পানি, গর্ভফুল থেকে টিস্যু নিয়ে জেনেটিক পরীক্ষা দেয়া। এসব প্রসিডিউর এর এডভ্যান্স পদ্ধতি হলো আরএফএ। সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের জটিল চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় জটিল রোগের ক্ষেত্রে সাধারণ রোগীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।