সর্বশেষ

ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা বললেন বাঙলা কলেজের শিক্ষক শাকিল

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গত ১৩ আগস্ট সামাজিকমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, পেশায় শিক্ষক এক বাবা তার ছেলের পা ধরে আছেন এবং ছেলে তাকে নিজের সামনে সিজদা করতে বলছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর মিরপুরের বাঙলা কলেজের শিক্ষক শাকিলকে নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

 

বিষয়টি নিয়ে তার সহকর্মীরাও বিব্রত হন। তারা শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন ওই শিক্ষক।

 

শাকিলের দাবি, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছে এবং তার বাইপোলার ডিসঅর্ডার রয়েছে। তিনি বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হবে—এমনটাই তিনি আশা করছেন।

 

শাকিল বলেন, ‘মানুষ যা মন চায় চিন্তা করুক, যা মন চায় বুঝুক। আমার তাতে সমস্যা নেই। আমি বাবা হিসেবে আমার ছেলেকে বাঁচানোর জন্য যা করা দরকার, তাই করেছি।’

 

তিনি আরও বলেন, একজন বাবা সন্তানের জন্য নিজের জীবনও দিতে পারেন। তার ছেলে অসুস্থ হওয়ায় তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে কোনো সমাধান হবে না বলে মনে করেছেন তিনি। এ কারণে ছেলেকে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করেছেন বলেও জানান শাকিল।

 

এদিকে বাঙলা কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জানান, শাকিলের ছেলে এসএসসি পর্যন্ত ভালো শিক্ষার্থী ছিল। হঠাৎ তাকে ঘিরে এমন একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তারাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

 

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইপোলার ডিসঅর্ডারের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যক্তির মেজাজ, চিন্তা ও আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির আচরণ বা ভিডিও দেখে তার মানসিক অবস্থার বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়; এ ধরনের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের সরাসরি মূল্যায়ন প্রয়োজন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা বললেন বাঙলা কলেজের শিক্ষক শাকিল

গত ১৩ আগস্ট সামাজিকমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, পেশায় শিক্ষক এক বাবা তার ছেলের পা ধরে আছেন এবং ছেলে তাকে নিজের সামনে সিজদা করতে বলছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর মিরপুরের বাঙলা কলেজের শিক্ষক শাকিলকে নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।   বিষয়টি নিয়ে তার সহকর্মীরাও বিব্রত হন। তারা শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন ওই শিক্ষক।   শাকিলের দাবি, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছে এবং তার বাইপোলার ডিসঅর্ডার রয়েছে। তিনি বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হবে—এমনটাই তিনি আশা করছেন।   শাকিল বলেন, ‘মানুষ যা মন চায় চিন্তা করুক, যা মন চায় বুঝুক। আমার তাতে সমস্যা নেই। আমি বাবা হিসেবে আমার ছেলেকে বাঁচানোর জন্য যা করা দরকার, তাই করেছি।’   তিনি আরও বলেন, একজন বাবা সন্তানের জন্য নিজের জীবনও দিতে পারেন। তার ছেলে অসুস্থ হওয়ায় তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে কোনো সমাধান হবে না বলে মনে করেছেন তিনি। এ কারণে ছেলেকে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করেছেন বলেও জানান শাকিল।   এদিকে বাঙলা কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জানান, শাকিলের ছেলে এসএসসি পর্যন্ত ভালো শিক্ষার্থী ছিল। হঠাৎ তাকে ঘিরে এমন একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তারাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।   মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইপোলার ডিসঅর্ডারের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যক্তির মেজাজ, চিন্তা ও আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির আচরণ বা ভিডিও দেখে তার মানসিক অবস্থার বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়; এ ধরনের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের সরাসরি মূল্যায়ন প্রয়োজন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শিবপুরে ঘুমন্ত বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ছেলে পলাতক

ছবি: সংগৃহীত

চায়ের ৪৫ টাকা বাকি চাওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২; হাসপাতালেও হাতাহাতি

ছবি: সংগৃহীত

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি আরও ১ হাজার ২৫২

ছবি: সংগৃহীত
ব্যক্তিগত তথ্যের অনলাইন বাজার, হাজার টাকায় মিলছে কল রেকর্ড: ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধান

কার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন, কখন কথা বলেছেন, কতক্ষণ কথা বলেছেন কিংবা কথা বলার সময় আপনি কোন এলাকায় ছিলেন—এসব তথ্য এখন অনলাইনে কিনতে পাওয়া যাচ্ছে বলে উঠে এসেছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের এক বিস্তারিত অনুসন্ধানে।   তাদের প্রতিবেদন বলছে, কোনো নির্দিষ্ট এক-দুই দিনের তথ্য নয়; তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত ডেটাও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সরবরাহ করার দাবি করছে বিক্রেতারা। আর এসব তথ্য পেতে ক্রেতাকে দিতে হচ্ছে কখনও কয়েকশ, কখনও কয়েক হাজার টাকা।   ডিসমিসল্যাব বলছে, সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য কেনাবেচাকে ঘিরে অনলাইনে একটি বাজার গড়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আর দাম পরিশোধ করা হচ্ছে বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়ের মত মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে।   শুধু কল ডিটেইল রেকর্ড বা সিডিআর নয়, এই বাজারে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্টের তথ্য, নির্দিষ্ট নম্বরে পাঠানো এসএমএসের তালিকা, নির্দিষ্ট সময়ে কোনো মোবাইল নম্বরের অবস্থান, কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন এবং মোবাইল আর্থিক সেবা হিসাবের বিবরণও বিক্রি হচ্ছে।   ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে এসব তথ্যের নির্ধারিত মূল্যতালিকাও পাওয়া গেছে। ক্রেতার কাছ থেকে অনেক ক্ষেত্রে শুধু একটি মোবাইল নম্বর অথবা এনআইডি নম্বর চাওয়া হচ্ছে। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করে তা অনেক ক্ষেত্রে সরকারি নথি বা সরকারি সংস্থার সার্ভার থেকে নেওয়া কপি হিসেবে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।   ১৭ মিনিটে এনআইডি ডিসমিসল্যাব বলছে, ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত এক মাসে একটি মাত্র শব্দ ব্যবহার করে ফেইসবুকে অনুসন্ধান চালিয়ে ৬৭৫টি পোস্ট খুঁজে পায় তারা। এর মধ্যে ৬০৫টি পোস্টে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন ছিল। বাকিগুলো ছিল আগ্রহী ক্রেতাদের পোস্ট। অনুসন্ধানে ব্যবহৃত শব্দটি ছিল ‘সাইন কপি’।   বিক্রেতাদের ভাষায় ‘সাইন কপি’তে একজন ব্যক্তির এনআইডি ও ভোটার নম্বর, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বৈবাহিক অবস্থা, পেশা, ঠিকানা, ভোটার এলাকা, ধর্ম, শারীরিক শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য এবং স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপের তথ্য থাকতে পারে।   আর ‘সার্ভার কপি’ বলতে তারা নির্বাচন কমিশনের লোগোযুক্ত এমন একটি পিডিএফকে বোঝায়, যাতে এনআইডির বিস্তারিত তথ্য থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এসব তথ্যকে সরকারি নথি বা সরকারি সংস্থার সার্ভার থেকে নেওয়া কপি হিসেবেও উপস্থাপন করা হচ্ছে।   এমন একটি ফেইসবুক পোস্টের সূত্র ধরে ডিসমিসল্যাবের প্রতিবেদক একটি টেলিগ্রাম গ্রুপের সন্ধান পান। ‘Voter List’ নামের ওই গ্রুপে ‘Shibat Zubar’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে মোবাইল নম্বর দিয়ে এনআইডি পাওয়ার বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছিল।   একজন গ্রাহকের সম্মতি নিয়ে ডিসমিসল্যাব ওই ব্যক্তির মোবাইল নম্বর দিয়ে ৫০০ টাকা অগ্রিম পাঠায়। ১৭ মিনিটের মধ্যে ‘Shibat Zubar’ একটি এনআইডির পিডিএফ পাঠায়।   পরে গ্রাহকের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা হলে নাম, ছবি, জন্মতারিখসহ সব তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। এমনকি দুই মাস আগে সংশোধন করা ওই ব্যক্তির মায়ের নামও নথিতে হালনাগাদ ছিল। একই পদ্ধতিতে আরেকটি নম্বর দিয়ে করা পরীক্ষাতেও সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।   ওই গ্রুপের ‘Help BD’ নামের অ্যাডমিনের বিজ্ঞাপনে শুধু এনআইডি নয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, মোবাইলের অবস্থান, কল ডিটেইল রেকর্ড, এসএমএসের তালিকা, আইএমইআই নম্বর, টিআইএন সনদ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, পাসপোর্টের কপি এবং ভূমি উন্নয়ন করের রসিদের কথাও বলা হয়।   ২৫ জুন ওই অ্যডমিনের সঙ্গে ক্রেতা সেজে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। মোবাইল নম্বর বা ভোটার নম্বর দিয়ে কী তথ্য পাওয়া যায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার একটি ওয়েবসাইট আছে, সেখান থেকে ‘সার্ভার কপি’ বের করে পিডিএফ দেওয়া যাবে।   পরে ১৫০ টাকা পাঠিয়ে একটি ভোটার নম্বর ও জন্মতারিখ দেওয়া হলে তিনি একটি এনআইডির পিডিএফ পাঠান। যাচাই করে দেখা যায়, তথ্য সঠিক। আরেকজন পরিচিতের সম্মতি নিয়ে তার মোবাইল নম্বরের ‘সাইন কপি’ চাওয়া হলে ২৫০ টাকার বিনিময়ে সেটিও অল্প সময়ের মধ্যে পাওয়া যায়।   আড়াই ঘণ্টায় তিন মাসের কল রেকর্ড এরপর একই অ্যাডমিনের কাছে একটি গ্রামীণফোন নম্বরের তিন মাসের কল ডিটেইল রেকর্ড চায় ডিসমিসল্যাব। ১ হাজার ৫০ টাকা পাঠানোর আড়াই ঘণ্টার মধ্যে ফাইলটি পাওয়া যায়।   ফাইলে থাকা সর্বশেষ ২০টি যোগাযোগের নম্বর, কলের সময় ও কলের ধরন ওই গ্রাহকের প্রকৃত কল হিস্ট্রির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। প্রতিটি তথ্যই মিলে যায়।   CDR-এ একজন ব্যক্তি কার সঙ্গে কথা বলেছেন, কখন কথা বলেছেন, কতক্ষণ কথা বলেছেন এবং কলটি করেছেন নাকি গ্রহণ করেছেন—এসব তথ্য থাকে। কলের সময় ফোনটি টুজি নাকি ফোরজি নেটওয়ার্কে ছিল, সেটাও জানা যায়।   এ ছাড়া এতে ফোনের আইএমইআই এবং সিমের আন্তর্জাতিক মোবাইল সাবস্ক্রাইবার পরিচিতি বা আইএমএসআই নম্বর থাকে। ফলে একটি নির্দিষ্ট সিম কোন হ্যান্ডসেটে ব্যবহার করা হয়েছে, তা শনাক্ত করা সম্ভব।   ফাইলে কোনো কল বা এসএমএসের সময় সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরটি কোন মোবাইল টাওয়ার বা নেটওয়ার্ক সেল এলাকায় ছিল, সেই তথ্যও থাকে। দীর্ঘ সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করলে একজন ব্যক্তির চলাচলের ধরনও অনুমান করা সম্ভব।   ১৬ মিনিটে মোবাইলের অবস্থান ডিসমিসল্যাব বলছে, ফেইসবুক পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপ বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির ১০টি সক্রিয় ওয়েবসাইটের সন্ধান পেয়েছে তারা।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় সব ওয়েবসাইটের নকশা ও পরিচালন পদ্ধতি একই রকম। সাইটগুলোর ড্যাশবোর্ডে এনআইডি, জন্মনিবন্ধন, টিআইএন সনদ, সিডিআর ও মোবাইলের অবস্থানসহ বিভিন্ন তথ্যের দাম দেওয়া ছিল। অন্তত একটি ওয়েবসাইট ২০২৫ সালে নিবন্ধিত হয়।   ওই ওয়েবসাইটগুলোর একটির মালিককে ওপেন সোর্স অনুসন্ধানের মাধ্যমে শনাক্ত করে ডিসমিসল্যাব। চাঁদপুরে থাকা ওই ব্যক্তি মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করেন।   তার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একটি গ্রামীণফোন নম্বরের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে অর্থ পরিশোধের ১৬ মিনিটের মধ্যে নম্বরটির সর্বশেষ সক্রিয় থাকার সময়, মোবাইল টাওয়ারভিত্তিক অবস্থান, একটি ঠিকানা এবং গুগল ম্যাপের লিংক দেওয়া হয়।   তবে তথ্যের উৎস সম্পর্কে ওই বিক্রেতাদের দেওয়া সব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি ডিসমিসল্যাব।   এক মাসেই ছয়শর বেশি বিজ্ঞাপন একটি মাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং একটি মাত্র ‘সাইন কপি’ শব্দ ব্যবহার করে পাওয়া পোস্টেই বাজারটির বড় একটি চিত্র উঠে এসেছে ডিসমিসল্যাবের প্রতিবেদনে।   এক মাসে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির ছয়শর বেশি বিজ্ঞাপন পাওয়ার পাশাপাশি এসব পোস্টে যোগাযোগের জন্য অন্তত ১১২টি আলাদা মোবাইল নম্বর ব্যবহার হতে দেখা যায়। একটি গ্রামীণফোন নম্বরই ৭৫টি পোস্টে ছিল।   ১০টি ওয়েবসাইটে তথ্য বিক্রির অর্থ নেওয়ার জন্য ১০টি আলাদা মোবাইল আর্থিক সেবা নম্বরও পাওয়া যায়।   এ ছাড়া ৩৬টি সক্রিয় ফেইসবুক গ্রুপে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন বারবার দেখা গেছে। এসব গ্রুপের অনেকগুলোর নামেই এনআইডি, সাইন কপি বা জন্মনিবন্ধন সেবার উল্লেখ ছিল।   সাতটি গ্রুপে অন্তত পাঁচবার করে এমন পোস্ট পাওয়া যায়। ওই সাত গ্রুপেই মোট ১১৪টি প্রচারমূলক পোস্ট শনাক্ত করেছে ডিসমিসল্যাব।   তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি প্ল্যাটফর্মে একটি মাত্র কিওয়ার্ড ব্যবহার করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে, ফলে বাজারটির প্রকৃত পরিসর আরও বড় হতে পারে।   এই বাজারে একাধিক স্তরের বিক্রেতা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা বিজ্ঞাপন দেন, তাদের অনেকেই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন। ক্রেতার কাছ থেকে অর্ডার পাওয়ার পর তারা বিকাশ, নগদ, রকেট বা উপায়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে টাকা জমা দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি দামে তা বিক্রি করেন।   ফলে ওয়েবসাইটে দেওয়া দাম এবং সরাসরি বিক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া দামের মধ্যে পার্থক্য থাকে।   চাঁদপুরের ওই ওয়েবসাইট মালিক ডিসমিসল্যাবকে বলেছেন, তিনি ৮০০ টাকায় মোবাইল গ্রাহকের কল তালিকা কিনে ৯০০ টাকায় বিক্রি করেন। ১ হাজার টাকায় যে কোনো বিকাশ নম্বর খোলার সময় ব্যবহৃত পরিচয়পত্র এবং ৪ হাজার ৫০০ টাকায় ওই বিকাশ হিসাবের বিবরণ দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।   তথ্য কীভাবে পাওয়া যায় জানতে চাইলে ওই বিক্রেতা দাবি করেন, তিনি আরেকটি গ্রুপ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং ওই গ্রুপ মূলত একটি এপিআই ব্যবহার করে সরকারি সার্ভারের নিরাপত্তা পাশ কাটিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে।   তিনি দাবি করেন, একটি পুলিশ ডেটাবেজ থেকে এনআইডি ও জন্মতারিখ দিয়ে বিস্তারিত তথ্য খোঁজা যায় এবং সেখান থেকে এপিআই তৈরি করে তথ্য বিক্রি করা হচ্ছে।   তবে এসব দাবির প্রযুক্তিগত সত্যতা এবং তিনি যাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার কথা বলেছেন, তাদের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি ডিসমিসল্যাব।   কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ, তবু বন্ধ হয়নি বিক্রি ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফেইসবুকে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির পোস্ট রয়েছে ২০২৩ সাল থেকেই। ২০২৫ সালের মার্চে একই ধরনের সেবা বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া একটি ইউটিউব ভিডিওও পাওয়া গেছে।   একটি মোবাইল অপারেটর অনেক আগেই তথ্য বিক্রির বিষয়ে প্রমাণসহ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছিল। কিন্তু এরপরও এসব তথ্য বিক্রির কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।   কল ডিটেইল রেকর্ড ও গ্রাহকের মৌলিক অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য মোবাইল অপারেটরদের কাছে সংরক্ষিত থাকে।   এ বিষয়ে ডিসমিসল্যাবের প্রশ্নে গ্রামীণফোন লিখিত বক্তব্যে বলেছে, গ্রাহকের তথ্য ও ডেটা সুরক্ষাকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। প্রচলিত আইন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা এবং অনুমোদিত মানদণ্ড অনুযায়ী কেবল অনুমোদিত ব্যক্তিদের কাছেই গ্রাহকের তথ্য দেওয়া হয়।   রবি বলেছে, সিডিআর, সিম নিবন্ধন ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য আইন অনুযায়ী অনুমোদিত সরকারি সংস্থাগুলোকে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দেওয়া হয়। গ্রাহকের তথ্য অন্য কোথাও যাওয়ার ‘সুযোগ নেই’।   একটি মোবাইল অপারেটরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ডিসমিসল্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অপারেটরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিস্টেমে বিটিআরসি, এনটিএমসি ও পুলিশ সদর দপ্তরসহ ১০টির বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার প্রবেশাধিকার রয়েছে। এ প্রবেশাধিকারের মাধ্যমে গ্রাহকের বিস্তারিত কল রেকর্ড এবং সিম নিবন্ধনের সময় দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্য দেখা ও পর্যবেক্ষণ করা যায়।   ওই কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অপারেটর নিজস্বভাবে তদন্ত করে দেখেছে, কিছু তথ্য একটি সরকারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার এপিআই ব্যবহার করে বাইরে যাচ্ছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর ওই সংস্থার একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। বিটিআরসিকেও বিষয়টি একাধিকবার জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।   তদন্তে সরকারি ব্যবস্থার প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশ্ন বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক কর্নেল মো. কামরুল হাসান মামুন ডিসমিসল্যাবকে বলেন, প্রায় দুই মাস আগে এ বিষয়ে কাজ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছিল।   কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। পরে মন্ত্রণালয় বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। কিছু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকেও বিষয়টি জানানো হয়। আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   একটি সংবাদ প্রতিবেদনের বরাতে ডিসমিসল্যাব জানিয়েছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে এনটিএমসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছিল। ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল, ৭৮৯টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রুপে নাগরিকদের এনআইডি ও কল রেকর্ড বিক্রি হচ্ছে।   ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তে অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটের একজন পুলিশ সুপার এবং র‌্যাব-৬-এর একজন সহকারী পুলিশ সুপারের লগইন তথ্য ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি উঠে আসে। সাইবার অপরাধ শাখার একজন কনস্টেবল অর্থের বিনিময়ে সংবেদনশীল কল রেকর্ড বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন বলেও সেখানে বলা হয়।   তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির ডিসমিসল্যাবকে বলেন, এ ধরনের ‘রিয়েল টাইম’ তথ্য কেবল তখনই পাওয়া সম্ভব, যখন সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কর্মীরা এতে যুক্ত থাকেন অথবা কোনো তৃতীয় পক্ষ তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থার নিরাপত্তা পাশ কাটিয়ে প্রবেশাধিকার পায়। দুই ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায় রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।   তার মতে, সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে কি না, তা নজরদারি করা জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।   সুমন বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কোনো কর্মী হয়ত বুঝতেই পারেন না যে এসব তথ্য গোপনীয় এবং তা ফাঁস করা অন্য ব্যক্তির গোপনীয়তা লঙ্ঘন করতে পারে। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে এমন মৌলিক সচেতনতা রয়েছে কি না, তাও প্রশ্নের বিষয়।   ডিসমিসল্যাব বলছে, এ বিষয়ে কথা বলার জন্য জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক মো. তাইবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল তারা। তিনি প্রথমে সাক্ষাৎকারে সম্মতি দিলেও পরে দেখা করতে পারেননি। তার সম্মতিতে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানো হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।   এনআইডি, কল রেকর্ড ও অবস্থান ফাঁস হলে ঝুঁকি কী একজন ব্যক্তির এনআইডি, কল রেকর্ড বা অবস্থানের তথ্য অন্যের হাতে চলে গেলে এর ঝুঁকি শুধু ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না।   সুমন আহমেদ সাবির বলেন, বাংলাদেশে এনআইডি একটি পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কারও এনআইডির সব তথ্য অন্যের হাতে গেলে তার নামে ভুয়া হিসাব খোলা, অন্য পরিচয়ে প্রতারণা করা কিংবা সম্পূর্ণ মিথ্যা পরিচয় তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।   তার ভাষায়, ডিজিটাল যুগে সবার জন্যই বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।   সুমন বলেন, কারও নামে ভুয়া বা অবৈধ আর্থিক লেনদেন করা হলে সেই ব্যক্তি বিপদে পড়তে পারেন। অতিরিক্ত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে ভবিষ্যতে বৈধ হিসাব থেকেও অর্থ সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।   ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি ব্যক্তি ও পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন হতে পারে। ডিসমিসল্যাব এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইলেক্ট্রনিক প্রাইভেসি ইনফরমেশন সেন্টারের একটি প্রকাশনার কথা লিখেছে।   বাংলাদেশের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা ব্যক্তিগত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা যাবে না। কারও অধিকার লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার সুযোগও রয়েছে।   তথ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য প্রশাসনিক জরিমানার বিধান রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এই জরিমানা ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।   জবাব চাওয়া হয়েছিল নির্বাচন কমিশন ও এনটিএমসির কাছে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিষয়ে মন্তব্য জানতে ডিসমিসল্যাব নির্বাচন কমিশন, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ, এনটিএমসি এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে।   নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মোমিন সরকার তাদের বলেন, এ বিষয়ে বক্তব্য পেতে কমিশনে লিখিত আবেদন করতে হবে।   জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এইচ এম আনোয়ার পাশাকে পাঠানো প্রশ্নের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। এনটিএমসির একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। সংস্থাটির অতিরিক্ত পরিচালকের কাছেও পরে ই-মেইলে সাক্ষাৎকারের অনুরোধ পাঠানো হয়, তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সেখান থেকেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্যাডেল রিকশা বন্ধ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালু করতে আইনি নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ সংকটে সেপ্টেম্বরের পরও বাংলাদেশে এলএনজি দিতে পারবে না কাতার

ছবি: সংগৃহীত

নবম পে স্কেল অনুমোদন, সর্বোচ্চ বেতন বাড়ছে ১৪২ শতাংশ

বাংলাবান্ধা সীমান্তের সৌন্দর্যে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত

উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় তিন দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে পঞ্চগড়ের সীমান্ত এলাকা বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্ট পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।   সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।   এসময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন সহধর্মিণী ডিয়ান ডাও, মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশের ডেপুটি চিফ অব মিশন মেগান বোল্ডিনসহ দূতাবাসের প্রতিনিধিরা।   সফরের অংশ হিসেবে তারা যান দেশের সর্বউত্তরের স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্টে। এসময় সীমান্ত এলাকার নান্দনিক পরিবেশ ও চারপাশের সবুজ প্রকৃতি দেখে মুগ্ধ হন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রী। পরে বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্টে কিছু সময় অবস্থান করে নির্মল পরিবেশ উপভোগ করেন তারা। এসময় সীমান্তের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি স্মৃতি ধরে রাখতে ছবিও তোলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার সহধর্মিণী।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হজ নিবন্ধনে সাড়া কম, এবারও অপূর্ণ থাকতে পারে বাংলাদেশের কোটা

ছবি: সংগৃহীত

বিমান ভাড়া আরও কমানোর পরিকল্পনা সরকারের

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষিকা রনজিলা পারভীন হত্যা মামলায় মূল সন্দেহভাজনসহ দুজন গ্রেপ্তার

0 Comments