২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনগুলোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগের তদন্ত শেষে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে একটি তদন্ত কমিটি। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছে রাতের বেলায়। শুধু তাই নয়, এই তিনটি নির্বাচনকে একটি সুদূরপ্রসারী ‘মাস্টারপ্ল্যানের’ অংশ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন তদন্ত কমিটির প্রধান, হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন। রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধান তুলে ধরেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের নির্বাচনকে কাগজে-কলমে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দেখাতে একটি সুপরিকল্পিত কৌশল গ্রহণ করা হয়। তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগ একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করে এবং বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো সেই পরিকল্পনার গভীরতা বুঝতে না পেরেই নির্বাচনে অংশ নেয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে ব্যাপকভাবে ব্যালট পেপারে আগেভাগে সিল মারা হয়, যার ফলে বহু কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার শতভাগেরও বেশি দেখানো হয়।
শামীম হাসনাইন ব্রিফিংয়ে জানান, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পুলিশ প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়। প্রশাসনের ভেতরে আওয়ামী লীগকে জেতানোর জন্য এক ধরনের অসৎ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ধীরে ধীরে নির্বাচন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের হাত থেকে সরে গিয়ে প্রশাসনের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়।
২০২৪ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপিসহ বড় রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়। ডামি প্রার্থী দাঁড় করিয়ে নির্বাচনী পরিবেশকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দেখানোর চেষ্টা করা হয়। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের ভেতর থেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করানো হয়, যাতে ভোটের মাঠে দৃশ্যত প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তিনটি নির্বাচনই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কিছু নির্দিষ্ট কর্মকর্তাকে নিয়ে বিশেষ ‘নির্বাচন সেল’ গঠন করা হয়, যা মূলত প্রশাসনের ভেতর থেকেই নির্বাচন নিয়ন্ত্রণে কাজ করত। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে নির্বাচন কমিশন কার্যত প্রান্তিক ভূমিকায় চলে যায় এবং প্রশাসন হয়ে ওঠে নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তি।
সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন জানান, এই মাস্টারপ্ল্যানের সূচনা ঘটে ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরপরই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বাতিল করার পেছনে ছিল দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, যাতে ক্ষমতাসীন দল যেকোনো উপায়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হওয়ার পর যেসব নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে, সেগুলো অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গড়া এবং ক্ষমতাসীন দলের অনুগত ব্যক্তিদের দিয়ে সাজানো হয়েছিল।
২০১৪ সালের নির্বাচনকে প্রতিবেদনে ‘নন-পার্টিসিপেটরি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই নির্বাচনে বড় একটি অংশ অংশগ্রহণ না করায় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। পরবর্তী নির্বাচনে সহিংসতা, প্রচারণায় বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোট গণনায় অনিয়ম এবং বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে। এতে করে নির্বাচন আরও অনির্বাচনযোগ্য পরিবেশে রূপ নেয়।
প্রতিবেদনে বিচার বিভাগ নিয়েও গুরুতর পর্যবেক্ষণ রয়েছে। শামীম হাসনাইন জানান, ওই সময় বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় জামিন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, যা বিচার বিভাগকেও কার্যত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার এক ধরনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে তুলে ধরে।
তদন্ত কমিটির মতে, তিনটি নির্বাচন পদ্ধতিগতভাবে ভিন্ন হলেও মূল লক্ষ্য ছিল এক—ক্ষমতাসীন দলকে যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় রাখা। এই প্রতিবেদনের প্রকাশ দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ব্যাংকে জমা দিতে নেওয়ার পথে ডিএল পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শিগগিরই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ডিবি। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং একাধিক বিষয় নিয়ে কাজ চলছে। তিনি বলেন, “ঢাকা মহানগরে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ডিবি সফলভাবে উদঘাটন করেছে। এই ছিনতাইয়ের ঘটনাটিও দ্রুত উদঘাটন করা হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।” গত ৯ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উত্তরা র্যাব-১ ব্যাটালিয়নের দক্ষিণ পাশে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ব্যাংকে জমা দিতে নেওয়া নগদ অর্থ বহনকারী গাড়িটির পথরোধ করে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি হামলা চালায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে সেটি থামিয়ে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় এবং দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় ডিএল পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার করিম বাদী হয়ে উত্তরা থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে ছিনতাই হওয়া অর্থ প্রতিষ্ঠানটির বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পেট্রোল পাম্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার লেনদেন হয়। প্রতিদিনের বিক্রির অর্থ সাধারণত সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়া হতো। তবে শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় দুই দিনের অর্থ একসঙ্গে রোববার জমা দিতে নেওয়া হচ্ছিল, ফলে টাকার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি ছিল। ডিবি জানিয়েছে, ঘটনাটির পেছনে পরিকল্পিত কোনো চক্র জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বরিশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদালতের ১০ তলা ভবনের সামনে প্রধান ফটকের ঠিক ভেতরে বিকট শব্দে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। আদালত প্রাঙ্গণে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে সবাই আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে। সিএমএম আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, পুলিশ কমিশনারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দিয়ে বিস্ফোরণকারীদের শনাক্তে সহায়তা করছি। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন ইসলাম বলেন, বোম ডিসপোজাল ইউনিটের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। বিস্ফোরিত বোমার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ভারত থেকে আসছে নতুন প্রজন্মের লিংকে হফম্যান বুশ (এলএইচবি) কোচ। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) ভারতের কাপুরথালার রেল কোচ কারখানা (আরসিএফ) থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য তৈরি প্রথম রেকটি বের হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বিশেষভাবে এসব কোচ তৈরি করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, কাপুরথালার রেল কোচ কারখানা থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য তৈরি প্রথম এলএইচবি রেকটি ১২ আগস্ট বের হবে। রেকটিতে তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয্যাযান, তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ, ১২টি সাধারণ চেয়ার কোচ এবং দুটি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোচ রয়েছে। তবে ভারতীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সাধারণ চেয়ার কোচের সংখ্যা ১১টি উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে রেকটি ১৯ না ২০ কোচের—এ নিয়ে কিছুটা অসঙ্গতি রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভারত থেকে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে রেকটি বাংলাদেশে প্রবেশের পর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নেওয়া হতে পারে। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কারিগরি যাচাই শেষে কোচগুলো যাত্রীবাহী ট্রেনে যুক্ত করার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। তবে রেকটি কখন দর্শনা সীমান্তে পৌঁছাবে এবং কবে সৈয়দপুরে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি জানানো হয়নি। ২০০ কোচের চুক্তির প্রথম চালান নতুন কোচগুলো একটি বড় সরবরাহ চুক্তির অংশ। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান রাইটসের (RITES) মাধ্যমে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ কেনার চুক্তি করে। কাপুরথালার রেল কোচ কারখানায় এসব কোচ তৈরি হচ্ছে। মোট সাত ধরনের কোচ সরবরাহ করার কথা রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির অংশ হিসেবেই প্রথম রেকটি ১২ আগস্ট কারখানা থেকে বের হচ্ছে। চলতি বছরের মে মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে প্রথম ২০ কোচের একটি রেক সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাইটস। ২০০টি কোচ সরবরাহের চুক্তির মূল্য প্রায় ৯১৫ কোটি ভারতীয় রুপি। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো চালান সরবরাহ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। বাংলাদেশে এলএইচবি কোচ নতুন নয় তবে এবারের চালানকে বাংলাদেশে প্রথম এলএইচবি কোচ আসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর আগে ২০১৫-১৬ সালে ভারতীয় রেল কোচ কারখানা বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি ব্রডগেজ এলএইচবি যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করেছিল। প্রায় এক দশক পর আবারও ভারত থেকে নতুন যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ শুরু হচ্ছে। নতুন চালানের বিশেষত্ব হলো, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী কোচগুলোর নকশা ও বিভিন্ন কারিগরি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরামের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিশেষ পরিচালন পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। যেসব সুবিধা থাকছে নতুন কোচগুলোতে যাত্রীদের জন্য বেশ কিছু নতুন সুবিধা রাখা হয়েছে। কোচগুলোতে স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও পাদানি রয়েছে। আসনগুলো হেলানো যায় এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচে ফ্যানের পাশাপাশি সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা ও যাত্রী সতর্কীকরণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে আংশিক খোলা যায় এমন জানালা, শিশু পরিচর্যার জন্য আলাদা কক্ষ এবং নামাজের কক্ষ। এসব সুবিধা বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীদের প্রয়োজন বিবেচনায় যুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের বিশেষ পরিচালন পরিস্থিতির কথাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কোচ তৈরিতে। বিশেষ করে ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠার ঝুঁকি বিবেচনায় কোচের ছাদ শক্তিশালী করা হয়েছে বলে ভারতীয় রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য থেকে জানা গেছে। কোচগুলো ইউরোপীয় মান EN 15227 অনুযায়ী সংঘর্ষের ক্ষেত্রে বেশি নিরাপদ রাখার মতো করে তৈরি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়াতে কোচের মূল কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোচগুলোর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ৪১৫ ভোল্টে পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এটি ভারতীয় রেলের প্রচলিত কোচগুলোর ৭৫০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার চেয়ে আলাদা। কোন ট্রেনে চলবে, এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি প্রথম রেক বাংলাদেশে আসার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে—কোচগুলো কোন ট্রেনে যুক্ত হবে। নতুন কোনো আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হবে, নাকি পুরোনো কোনো ট্রেনের কোচ পরিবর্তন করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে আগে জানানো হয়েছিল, নতুন কোচ পাওয়ার পর বিভিন্ন রুটে নতুন রেক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ২০টি কোচ দিয়ে একটি পূর্ণ রেক তৈরি করে নতুন যাত্রীসেবা চালুর সম্ভাবনার কথাও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে কোচগুলো যাত্রী পরিবহনে যুক্ত করার আগে পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। এরপর কোন রুটে এগুলো ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ১৯ না ২০ কোচ, রয়েছে অসঙ্গতি প্রথম রেকের কোচসংখ্যা নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে অসঙ্গতি রয়েছে। দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও ফ্রি প্রেস জার্নাল ২০ কোচের রেকের কথা জানিয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, রেকটিতে ১২টি সাধারণ চেয়ার কোচ, তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয্যাযান, তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ ও দুটি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোচ রয়েছে। অন্যদিকে ইকোনমিক টাইমস, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রথম রেকটিকে ১৯ কোচের বলে উল্লেখ করেছে। এসব প্রতিবেদনে সাধারণ চেয়ার কোচের সংখ্যা ১১টি বলা হয়েছে। বাকি কোচের বিন্যাস একই—তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয্যাযান, তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ ও দুটি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোচ। ফলে বাংলাদেশে রেকটি পৌঁছানোর পর কোচের সংখ্যা ও ধরন সরাসরি যাচাই করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হবে। সংসদেও জানানো হয়েছিল ২০০ কোচ আনার কথা চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সংসদে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছিলেন, ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ আমদানি করা হবে। ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এসব কোচ বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে রাইটস বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি ব্রডগেজ এলএইচবি যাত্রীবাহী কোচ, ৩৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ ও ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করেছে। চলতি বছরের মে মাসে রাইটসের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহুল মিথাল জানিয়েছিলেন, প্রথম রেক সরবরাহের পর চলতি অর্থবছরে আরও অন্তত তিন থেকে চারটি রেক সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে। প্রথম রেক সরবরাহের পর উৎপাদনের গতিও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। রেল বহরে নতুন সম্ভাবনা বাংলাদেশ রেলওয়ের দীর্ঘদিনের অন্যতম সমস্যা পুরোনো কোচ। যাত্রীদের আরাম ও নিরাপত্তা বাড়াতে আধুনিক কোচ যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা দীর্ঘদিন ধরেই বলা হচ্ছে। সেই বিবেচনায় ভারত থেকে নতুন এলএইচবি কোচের এই চালানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন কোচ যুক্ত হলে যাত্রীদের জন্য আধুনিক সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি ট্রেনের মানও উন্নত হতে পারে। তবে শুধু নতুন কোচ আনা হলেই এর সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। কোচগুলোর সঠিক পরীক্ষা, সময়মতো চালু করা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং উপযুক্ত রুটে ব্যবহার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম রেক বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর তাই নজর থাকবে—কবে কোচগুলো যাত্রী পরিবহনে নামছে, কোন ট্রেনে যুক্ত হচ্ছে এবং ২০০ কোচের পুরো চালান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে কি না।