জাতীয়

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: নাগরিকদের চলাচলে কানাডার নতুন নির্দেশনা

মারিয়া রহমান আগস্ট ১২, ২০২৬
বাংলাদেশ ও কানাডার জাতীয় পতাকা
বাংলাদেশ ও কানাডার জাতীয় পতাকা

নিজ দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে কানাডা সরকার। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি বিবেচনায় সম্প্রতি কানাডা সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভ্রমণ সতর্কবার্তায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।


একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই তিন জেলায় যেকোনো ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে কানাডা।


কানাডা সরকারের ভ্রমণ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে বাংলাদেশে সহিংসতার ঘটনায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও যেকোনো সময় সহিংস বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।


ঢাকার বিভিন্ন এলাকাতেও ভ্রমণকারীদের বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয়, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মতিঝিল, নয়াপল্টন, পুরানা পল্টন, শাহবাগ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা ও কারওয়ান বাজার।


পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রমণ পুরোপুরি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে কানাডা সরকার জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে রাজনৈতিক সহিংসতা, জাতিগত সংঘাত, অপহরণ এবং মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের ঝুঁকি রয়েছে। তবে কেউ সেখানে যেতে চাইলে অন্তত ১০ দিন আগে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


এ ছাড়া নারী ভ্রমণকারীদের একা ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। রাতে গণপরিবহন ব্যবহার না করার পাশাপাশি ঢাকা শহরের বাইরে ভ্রমণ থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।


ভ্রমণ নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, ধর্মীয় উৎসব ও জনসমাগমসহ বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি এখনো রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ ধর্মঘট ও অবরোধ চলাকালে বাংলাদেশে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে কানাডা সরকার।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
ট্রাইব্যুনালে কাদের-হারুনের ফোনালাপ: ‘যা করেছি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-আইজিপির নির্দেশেই’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সে সময় ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো দেশে। তখন শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি ভণ্ডুল করার তৎপরতায় হেফাজতেও নেওয়া হয় প্রধান সমন্বয়কদের। তবে তাদের খাবার খাওয়ানোর একটি ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় নানা আলোচনা। সেই ছবি প্রকাশ করা নিয়ে তৎকালীন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদের প্রতি ক্ষোভ ঝাড়েন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ডিবির হারুন আর কাদেরের সেই কথোপকথনের একটি ফোনালাপ বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। এদিন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক সম্পন্ন করবে রাষ্ট্রপক্ষ। প্রসিকিউশন জানায়, ষষ্ঠ দিনের মতো আজ এ মামলায় সমাপনী বক্তব্য উপস্থাপন করবেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এরপরই নিজেদের যুক্তি তুলে ধরবেন পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা। ওবায়দুল কাদের ও হারুন অর রশীদের কথোপকথনটি পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো— কাদের : হ্যালো? হারুন : হ্যালো। স্যার আসসালামু আলাইকুম, স্যার। কাদের : ইয়া হারুন কি তুমি এত... নেত্রীও তো বিরক্ত হইছে। হারুন : স্যার, নেত্রীরে... কাদের : আমি তো তোমারে প্রতিদিন বলতেছিলাম তুমি ভালো করতেছো। হারুন : স্যার, স্যার, আমি... আমি... কাদের : ভালো করতে করতে আবার খাওয়াই ওই ছবি কেন তুললা। হারুন : না না এ খাওয়ার ডিসিশনটা কে দিয়েছে স্যার? আমার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আমার এসবির চিফ এরা দিছে খাওয়ার নেওয়ার জন্য। খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত তো আমি নেই নাই। কাদের : না না, উনি তো বলছে যে তোমাকে ছবি তুলে বাইরে পাঠাইতে বলছে? হারুন : স্যার, জি স্যার। ছবি তোলা প্লাস হইলো যে বিবৃতিটা প্রকাশ করা... কাদের : ছবিটা নিজের কাছে রাইখা দিতা, এইটা তো... হারুন: না না, উনারা তো বলছে প্রকাশ করার জন্য, স্যার। মনির স্যার—এসবি চিফ স্যারে জিজ্ঞাসা করেন, স্যার। মনির স্যার বলছে কিনা। কাদের : কিন্তু প্রধান... প্রধানমন্ত্রী তো যখন এগুলো বলতেছিলেন হারুন : জি স্যার। কাদের : তখন তো হোম মিনিস্টারও ওখানে ছিল। হারুন : স্যার, অহন যদি উনারা শেল্টার না দেয় আমারে... অহন হোম মিনিস্টার, প্রধানমন্ত্রী বলতেছে হোম মিনিস্টার কোনো নির্দেশ দেয় নাই, হোম মিনিস্টার অহন আমারে বদলি করছে... কাদের : উনি তো ডিফেন্ড করছে ওরে। হারুন : হ্যাঁ? কাদের : উল্টো তো তুমি দোষারোপ হচ্ছো। হারুন : স্যার, হোম মিনিস্টার বলছে, পিএম... পিএম নাকি বলছে... কাদের : আর ওদেরকে কী করলা? হারুন : কোনটা? কাদের : ওই ছয়জন? হারুন : ছয়জন তো স্যার... এটা স্যার... স্যার, প্রতিদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় মিটিং হয়, প্রতিদিন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় মিটিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখান থেকে যা নির্দেশ দেয়, সেটাই আমি করি। যা নির্দেশ দেয়, সেটাই আমি করি। একজন ডিবি প্রধান কি করবে স্যার? কাদের : আমি বলছি যে, ওই তুমি যাদেরকে ওখানে হেফাজতে রাখছো হারুন : জি? কাদের : তাদের সেইফ কী? হারুন : স্যার, এটা তো... এটা তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার ওইহানের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত যা দেয়, তাই করি। একা ডিবিপ্রধান কত... কতটুকু করবে না তো... করবে না তো স্যার। কাদের : তো এরা ওখানেই আছে? হারুন : অইখানেই আছে, স্যার। উনারা যা বলবে, সেটাই হবে, স্যার। কাদের : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী না... সেটা তো... হারুন : স্যার, এখন... এখন, স্যার, এখন আমি যেটা বলি, স্যার। এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমারে কমিশনাররে বলে দিছে আমার বদলি করা লাগে। তা আমি... আমার বদলি করে দিচ্ছে, স্যার। আমার অপরাধটা কী, স্যার? আমার অপরাধ কী, স্যার? কাদের : না, অয় তো নেত্রী যে নির্দেশ দিছে, সেখানে তো ‘হি ওয়াজ নট ডিফেন্ডিং ইউ’। হারুন : হুম। কাদের : সে তো এমনভাবে দেখা দিছে যে তুমি নিজেও... হারুন : স্যার, এরা এত বড় একটা... কাদের : এসব ছবি তো তুমি নিজেই করো। হারুন : জি? কাদের : নিজে নিজে করো। হারুন : আমি... স্যার, আমরা যা করছি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপির নির্দেশে করছি। এর বাইরে একবিন্দু করি নাই। আপনি এর প্রমাণ নিয়েন। কাদের : কিন্তু তারা তো এইটা এখন স্বীকার করে না। হারুন : না, স্বীকার করে না... স্বীকার কেন করবে না? আপনি জিজ্ঞাসাবাদ করেন, যে স্বীকার করে কিনা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কাদের : আচ্ছা, দেখি। দেখি আমি হোম মিনিস্টারের সাথে কথা বলি। হারুন : স্যার, এটা যদি অহন স্যার না করেন, তাহলে কিন্তু অর্ডার অহন করে দিবে, স্যার। তা আমি... আমি নাই স্যার, ডিবিতে নাই স্যার। অর্ডার করে দিবে। কাদের : ঠিক আছে। এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আ. লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও কানাডার জাতীয় পতাকা

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: নাগরিকদের চলাচলে কানাডার নতুন নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে আদালতের সামনে বোমা বিস্ফোরণ

জুলাইয়ে ২০২ কোটি টাকার বেশি চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি

  সীমান্ত এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গত জুলাই মাসে ২০২ কোটি ৬৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৪ দশমিক ২৫৪ কেজি স্বর্ণ, ২১৬টি হীরার নাকফুল, ৭ দশমিক ৯৩০ কেজি রূপা, ১৩ হাজার ৬৩টি শাড়ি, ২ হাজার ৭১০টি থ্রি-পিস, শার্টের কাপড়, কম্বল ও বেডকভার, ৮ হাজার ৮৮৬টি তৈরি পোশাক, ২ হাজার ৪১৬ মিটার কাপড়, ১৫ হাজার ৫২৭টি কৃত্রিম গহনা এবং ৩ লাখ ২ হাজার ৩৯৪টি প্রসাধনসামগ্রী।     এছাড়া ৮ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫৬টি আতশবাজি, ১ হাজার ৭৫১ ঘনফুট কাঠ, ২ লাখ ২১ হাজার ৯০ কেজি কয়লা, ৬ হাজার ৪৪৬ কেজি চা পাতা, ৬২৪টি মোবাইল ফোন, ৪ হাজার ৩৬০টি মোবাইল ডিসপ্লে এবং ৩৬ হাজার ১৭০টি মোবাইল ফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়েছে।    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযানে ২০ হাজার চিকিৎসা সরঞ্জাম, ৭১ হাজার ৪০০টি রেজর ব্লেড, ৩ হাজার ৭০০ জোড়া চশমা, ৪৭ হাজার ৭৭৬ কেজি জিরা, ৪২ হাজার ৯৩১ কেজি রসুন, ১৩ হাজার ৩২৯ কেজি চিনি, ১২ হাজার ৪৮৬ কেজি সার, ১৭ হাজার ৪৭৯ কেজি কারেন্ট জাল, ৩৬৭ লিটার ভোজ্যতেল-ডিজেল-অকটেন-পেট্রোল-মবিল, ১ হাজার ৮১৮ প্যাকেট কীটনাশক, ৬ লাখ ৯৪ হাজার ১৭টি ওষুধ, ১ দশমিক ০৭০ কেজি সাপের বিষ এবং ৯টি পাথর জব্দ করা হয়েছে।     চোরাচালানে ব্যবহৃত ১২টি ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, ৮টি পিকআপ, ৩টি প্রাইভেটকার, ৬টি ট্রলি, ৫৫টি সিএনজিচালিত যান-ইজিবাইক-অটোরিকশা, ৫৯টি মোটরসাইকেল, ৪৭টি সাইকেল-ভ্যান এবং ১২৭টি নৌযানও জব্দ করেছে বিজিবি।    অভিযানকালে ৯টি দেশীয়-বিদেশি পিস্তল, একটি রাইফেল, ৫টি ম্যাগাজিন, ৬০ রাউন্ড গুলি এবং অন্যান্য ৭টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।    জুলাই মাসে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যও জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২১ লাখ ১০ হাজার ২৫৮টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ২ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, ৭১ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ২৪৩ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৫২৬ বোতল বিদেশি মদ, ১ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৫ লিটার দেশীয় মদ, ৭৫৪ ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৮০৬ কেজি গাঁজা, ২ লাখ ৫৮ হাজার ৩৮৬টি মাদকদ্রব্যের ট্যাবলেট-ইনজেকশন, বিভিন্ন ধরনের ১৬ হাজার ৫৮০ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ এবং ১৮ হাজার ৬৮২টি বিভিন্ন ধরনের ওষুধ-ট্যাবলেট।    এছাড়া ১ লাখ ১৯ হাজার ১৪১ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।    অভিযানে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯১ জন সন্দেহভাজন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়।    এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের সময় ৩১ বাংলাদেশি, ৩ ভারতীয় এবং ৮১ মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করা হয়েছে।    আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১২, ২০২৬
আরাফাত রহমান কোকো

আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন আজ

কাজী নজরুলকে স্থায়ীভাবে জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ করেছেন জিয়াউর রহমান: জাবি উপাচার্য

নতুন প্রজন্মের লিংকে হফম্যান বুশ (এলএইচবি) কোচ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে আসছে ভারতের আধুনিক এলএইচবি কোচ

ছবি : সংগৃহীত
তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ে নাকাল জনজীবন

তীব্র গরমে সারা দেশের লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে। ঢাকার বাইরে কোথাও বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে। কোথাও একবার গেলে কয়েক ঘণ্টায়ও আসছে না। তীব্র গরমে মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে।    বিতরণ কোম্পানির সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গড়ে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে।   দেশজুড়ে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কিছু এলাকায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না।   লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে তীব্র গরমের সঙ্গে বেড়েছে লোডশেডিং। দিন-রাত মিলিয়ে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা বিদুৎ ছাড়া থাকতে হচ্ছে দাগনভূঞার গ্রাহকদের। মাদারীপুরে চাহিদার বিপরীতে কম বিদ্যুৎ সরবরাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বাসিন্দারা।    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অসহনীয় লোডশেডিং। দিনে-রাতে দফায় দফায় বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। একদিকে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, অন্যদিকে রাতে লোডশেডিংয়ের ফলে অনেকেই না ঘুমিয়ে রাত পার করছেন।    উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই লোডশেডিংয়ের তীব্রতা বাড়ে, যা চলে ভোর পর্যন্ত। উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের ইশোরকোল গ্রামের দিনমজুর আজগার আলী আক্ষেপ করে বলেন, সারা রাত বিদ্যুৎ থাকে না, গরমে একফোঁটাও ঘুমাতে পারি না। শরীর এত দুর্বল লাগে যে সকালে কাজে যাওয়া সম্ভব হয় না। একদিন কাজ না করলে ঘরে চাল ওঠে না, পরিবার নিয়ে এখন কী করব বুঝতে পারছি না।    একই ভোগান্তির কথা জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। কাকিনা বাজারের ব্যবসায়ী মমিনুর রহমান লিটন বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য একপ্রকার বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ফ্রিজে রাখা আইসক্রিম, কোমল পানীয়সহ পচনশীল পণ্য নষ্ট হয়ে চরম লোকসানে পড়ছি।    এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। মোমবাতি বা কুপির আলোতে তীব্র গরমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।    কাকিনা মহিমা রঞ্জন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু শাহাদত সিয়াম বলেন, সামনে তাদের টেস্ট পরীক্ষা; কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে প্রস্তুতি নিতে চরম সমস্যা হচ্ছে। কালীগঞ্জ নেসকো পিএলসির (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম জানান, কালীগঞ্জে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৬ মেগাওয়াট, অথচ তার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট।   ফেনীর দাগনভূঞায় বেপরোয়া লোডশেডিংয়ে গ্রামের কোথাও সরকারি শিডিউল মানা হচ্ছে না। গ্রাহকরা অতিষ্ঠ হয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিস বা উপকেন্দ্রে অথবা অভিযোগ অফিসগুলোতে ফোন করলে কেউ রিসিভও করছে না। প্রতিদিন সমিতির আওতাধীন দাগনভূঞা এলাকায় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও কোথাও ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টাও লোডশেডিং হচ্ছে। অতিমাত্রার লোডশেডিংয়ের ফলে ক্ষুদ্র শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।     আরইবির ফেনী সমিতি বলছে, তারা প্রতিদিন চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। এ কারণে তারা সরকারি শিডিউল মানতে পারছেন না। সাধারণ সময়েও সমিতিগুলো গড়ে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা লোডশেডিং করে থাকে। এখন বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে গিয়ে সেটি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা করতে হচ্ছে। গরম বাড়লে এ লোডশেডিং আরও ১-২ ঘণ্টা বেড়ে যায়।   চাহিদা তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মাদারীপুরবাসী। শহর থেকে গ্রাম কোনো জায়গায়ই যেন রেহাই নেই। দিন-রাত মিলিয়ে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা।   এদিকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানার উৎপাদনও নেমে গেছে অর্ধেকে। শ্রমিক-কর্মচারীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে জানা নেই বিদ্যুৎ বিভাগের।    রংয়ের ছোঁয়া প্রেসের মালিক রুবেল মাতুব্বর বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় প্রেসের কোনো কাজই করতে পারছি না। কাস্টমার এতে বিরক্ত হচ্ছে। আর্থিকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।   বিদ্যুৎ বিভাগ অফিস সূত্র জানিয়েছে, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহকের ১৭ মেগাওয়াটের বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ১১ মেগাওয়াট।   অপরদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪ লাখ ২৩ হাজার গ্রাহকের ১০৬ মেগাওয়াটের বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৫২ মেগাওয়াট। ১৪টি সাবস্টেশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিবেচনা করে লোডশেডিং ভাগ করছে কর্তৃপক্ষ।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১২, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

জুলাই যোদ্ধাদের হোটেল ও বিমানের টিকিটে বিশেষ ছাড়

ফাইল ছবি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যেভাবে হবে ভোটগ্রহণ

ছবি : সংগৃহীত

আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, কেউ ‘আদিবাসী’ নই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0 Comments