প্রবাসী

১৬১ দেশ পেরিয়ে পিরামিডের দেশে কাজী আসমা

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বুকে লাল-সবুজের পতাকা আর হাতে একটি সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে বিশ্বজুড়ে ডানা মেলে উড়ে চলেছেন বাংলাদেশের সুপরিচিত ভ্রমণকন্যা কাজী আসমা আজমেরী।

 

এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৬১টি দেশের সীমানা পেরিয়ে, নানা সংস্কৃতি ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি সম্প্রতি পা রেখেছিলেন ইতিহাস আর প্রাচীন সভ্যতার দেশ মিশরে। কিন্তু নীল নদ আর পিরামিডের দেশে প্রবেশের এই গল্পটি অন্যসব দেশের মতো সহজ ছিল না; এটি হয়ে উঠেছিল দীর্ঘ অপেক্ষা, গভীর জিজ্ঞাসা আর তীব্র অনিশ্চয়তায় ভরা এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

 

ভ্রমণের ধারাবাহিকতায় আসমা আজমেরী আলজেরিয়া থেকে বিমানে পৌঁছান কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বিমানবন্দরে নেমেই নিয়মানুযায়ী ব্যাংক বুথ থেকে অন-অ্যারাইভাল স্টিকার ভিসাও সংগ্রহ করেন। কিন্তু মূল জটিলতা তৈরি হয় ইমিগ্রেশন ডেস্কে। কর্তব্যরত কর্মকর্তার হাতে বাংলাদেশি পাসপোর্টটি যাওয়া মাত্রই তার চোখেমুখে ফুটে ওঠে অতিরিক্ত সতর্কতার ছাপ। পাসপোর্টটি জমা রেখে আসমাকে অপেক্ষা করতে বলে পাঠিয়ে দেওয়া হয় উচ্চপর্যায়ের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য।

 

শুরু হয় এক অন্তহীন প্রতীক্ষা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়, কিন্তু ইমিগ্রেশনের সেই রুদ্ধদ্বার কক্ষ থেকে কোনো বার্তা আসে না। একজন প্রকৃত পর্যটকের জন্য এই ধরনের পরিস্থিতি কতটা মানসিক চাপের, তা কেবল একজন ট্রাভেলারই বোঝেন।

 

পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন না দেখে আসমা আজমেরী নিজেই উদ্যোগী হন। তিনি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের মুখোমুখি হয়ে নিজের ভ্রমণের আসল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন। তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, কোনো অবৈধ কাজের জন্য নয়, বরং কেবলই একজন প্রকৃত পর্যটক এবং বিশ্বভ্রমণকারী হিসেবে তিনি মিশরের ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখতে এসেছেন।

 

আসমা আজমেরী বলেন, আমার বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলেও আমার কাছে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের অত্যন্ত শক্তিশালী ও বৈধ ভিসা। তারপরও শুধু বাংলাদেশি পাসপোর্টের কারণে আমাকে সেখানে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

 

নিজের সততা ও পর্যটক পরিচয় প্রমাণ করতে তিনি একে একে তার পূর্ববর্তী ১৬০টি দেশ ভ্রমণের ইতিহাস, ব্যাংকের স্টেটমেন্ট এবং আকর্ষণীয় সব নথিপত্র প্রদর্শন করেন। তিনি কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ জানান, অন্তত দুই দিনের জন্য হলেও যেন তাকে কায়রো শহরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

 

দীর্ঘ সাত ঘণ্টার এক রুদ্ধশ্বাস আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণের পর অবশেষে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ তার নথিপত্রের সত্যতা স্বীকার করে এবং তাকে নীল নদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়।

 

মিশরের মাটিতে পা রাখতে পারলেও আসমা আজমেরীর এই অভিজ্ঞতা এক বড় প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। কায়রো বিমানবন্দরে এটি এখন আর কোনো একক ঘটনা নয়; বৈধ ভিসা ও বিদেশি রেসিডেন্স কার্ড থাকার পরও অসংখ্য বাংলাদেশি প্রতিদিন সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছেন। ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী থেকে শুরু করে পরিবারসহ ঘুরতে যাওয়া মানুষও এই অতিরিক্ত কড়াকড়ির শিকার হচ্ছেন।

 

জানা যায়, কিছু অসাধু চক্রের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে আজ বাংলাদেশের এই সবুজ পাসপোর্টের ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া স্কলারশিপ লেটার তৈরি, অবৈধ ডলার লেনদেন এবং মিশরকে ট্রানজিট বানিয়ে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধের খেসারত দিতে হচ্ছে আসমা আজমেরীর মতো প্রকৃত দেশপ্রেমিক ভ্রমণকারীদের।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
পর্তুগালে এনসিপি নেতার ওপর হামলা, ডিম নিক্ষেপের অভিযোগ

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ডিম নিক্ষেপের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।   শনিবার (২৩ মে) ভোরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পার্কে অবস্থানকালে কয়েকজন যুবক আকতার হোসেনের ওপর ডিম নিক্ষেপ করেন। পরে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে তিনি দৌড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।   হামলার শিকার মো. আকতার হোসেন সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিলেট জেলার আহ্বায়ক। বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল ৯টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হামলার অভিযোগ করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, পর্তুগালে এনসিপির দায়িত্বশীলদের সঙ্গে তার মিটিং ছিল। মিটিং শেষ হওয়ার পরই তাকে পিছন থেকে অতর্কিতভাবে হামলা করা হয়।   পর্তুগালপ্রবাসীদের কয়েকজন জানান, গত সপ্তাহে ব্যক্তিগত সফরে তিনি পর্তুগালে যান। লিসবনের একটি পার্কে অবস্থানকালে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়।   ঘটনার বিষয়ে জানতে আকতার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।   এদিকে এনসিপি সিলেট জেলা শাখার আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের বরাতে সংগঠনটির ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিতে দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত এনসিপির নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ, সুসংগঠিত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।   এনসিপি সিলেট মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাদেক মো. খাইরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভিডিওটি তিনি দেখেছেন এবং পর্তুগালে অবস্থানরত কিছু ছাত্রলীগ কর্মী অতর্কিতভাবে আকতার হোসেনের ওপর হামলা করেছে বলে দাবি করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৪, ২০২৬
নিহত শিক্ষার্থী মোস্তাক আহমেদ সাগর। ছবি : সংগৃহীত

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ভারতে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

ছবি: সংগৃহীত

১৬১ দেশ পেরিয়ে পিরামিডের দেশে কাজী আসমা

ছবি: সংগৃহীত

শুরু হলো ৩৫তম নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা

ছবি: সংগৃহীত
বাহরাইনে ঈদের আমেজ, পশুর হাটে প্রবাসীদের ভিড়

ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে বাহরাইনের পশুর হাটগুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। মরুর তপ্ত আবহাওয়ার মাঝেও ব্যস্ত নগরজীবনের সব ক্লান্তি ভুলে ঈদের আমেজ এখন তুঙ্গে।   বিশেষ করে হামেলা, জিদাফস ও মানামাসহ বিভিন্ন এলাকার কোরবানির পশুর বাজারগুলোতে দেখা যাচ্ছে প্রবাসীদের সরব উপস্থিতি। বাংলাদেশিদের ভিড়ে এ হাটগুলো যেন ক্ষণিকের জন্য বিদেশের মাটি নয়, বরং দেশের কোনো চিরচেনা হাটের রূপ পাচ্ছে।   সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিটি হাটেই এখন সাজ সাজ রব। পশু পছন্দ করা, দামাদামি আর শেষমেশ দর মিললে কিনে ঘরে ফেরার এক ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। স্থানীয় বাহরাইনিদের পাশাপাশি এ বাজারগুলোর সবচেয়ে বড় ক্রেতা এখন বাংলাদেশি প্রবাসীরাই।   কেউ হয়তো দেশে থাকা পরিবার-পরিজনের জন্য রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, আবার কেউ পরবাসের এই মাটিতেই বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মীদের সঙ্গে মিলে কোরবানির আয়োজন করছেন।   বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এবার বাহরাইনের স্থানীয় খামারে পালিত পশুর চেয়েও সৌদি আরব, ওমান ও সোমালিয়া থেকে আমদানি করা গরু, দুম্বা ও ছাগলের কদর অনেক বেশি। বিশেষ করে সোমালিয়ান ছাগল আর নধরকান্তি আরবি দুম্বা কিনতে ক্রেতাদের বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।   তবে বাজারে পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও সাধারণ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে অতিরিক্ত দাম। ব্যবসায়ীরা সাফ জানাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা আর পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পশুর দামে। গত বছরের তুলনায় এবারের দাম বেশ চড়া।   বাহরাইনের ব্যবসায়ী প্রবাসী আল আমীন এ দামের পার্থক্যটা বুঝিয়ে বললেন বেশ পরিষ্কারভাবেই। তিনি জানান, গত বছর যে মাঝারি মানের গরু ৪৫০ দিনারে কেনা সম্ভব হতো, এবার সেই গরু কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৬৫০ দিনার। সোমালিয়ান ছাগলের ক্ষেত্রেও চিত্রটা একই। গত বছর যেগুলো ৬০ থেকে ৭০ দিনারে বিক্রি হয়েছে, এবার সেগুলোর দাম হাঁকানো হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ দিনার বা তারও বেশি।   দামের এই ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে আল আমীন বলেন, দাম বাড়লে কী হবে, কোরবানি তো আর থেমে নেই। কারণ এটা তো শুধু একটা আনুষ্ঠানিকতা নয়, এর সঙ্গে মিশে আছে আমাদের ধর্মীয় আবেগ আর ত্যাগের মহিমা।   হামেলা হাটে এসেছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী এলাকার মো. হেলাল, পেশায় তিনি বাহরাইন ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য। তিনি বললেন তার অনুভূতির কথা, একসময় দেশে থাকতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে হাটে যেতাম, সেই দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ে। প্রবাসে সেই অভাবটা তো আর পূরণ হওয়ার নয়। তবুও আলহামদুলিল্লাহ, প্রবাসীদের সঙ্গে মিলে এখানে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার চেষ্টা করি।   একই হাটে দেখা মিলল কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জিকুর সঙ্গে। তিনি রাজধানী মোরগান সাপ্লাই কোম্পানিতে কর্মরত। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে হাটে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, তার ইচ্ছে একটা ভালো দেখে দুম্বা কেনা। দরদামে মিলে গেলে আজই কিনে ফিরবেন।   চট্টগ্রামের আনোয়ারার আরেক বাসিন্দা জালাল উদ্দিন, কাজ করেন আরাদ এলাকার হামিদ আব্বাস টায়ার শপে। তিনি এসেছেন পুরো দোকানের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে। জালালের ভাষায়, “আমরা সবাই মিলে গরু, ভেড়া বা দুম্বা- যেটা ভালো লাগবে সেটাই নেব। প্রবাসের মাটিতে এত বড় হাট দেখে দেশের কথা খুব মনে পড়ে যাচ্ছে।   নবাবগঞ্জ-দোহারের ফয়সাল খান, যিনি এলএমআর ফ্লেক্সি ভিসায় স্প্রে পেইন্টার হিসেবে বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করেন, তিনি জানালেন তার প্রস্তুতির কথা। চারজন বন্ধু মিলে একটি খাসি নেওয়ার জন্য হাটে এসেছেন তারা। প্রবাসের ব্যস্ততার মাঝেও এমন হাটে ঘুরতে পেরে তিনি বেশ আনন্দিত।   আবার কুমিল্লার শরিফুল ইসলামের কাছে এই হাট যেন একাকীত্ব দূর করার দাওয়াই। তিনি বলেন, “ঈদের সময় পরিবার ছাড়া থাকাটা খুব কষ্টের। কিন্তু যখন বন্ধুদের নিয়ে হাটে আসি, তখন মনে হয় দেশের কোনো গ্রামবাংলার হাটেই আছি। সবাই একসঙ্গে হলে প্রবাস জীবনের কষ্টটা অনেকটাই ভুলে থাকা যায়।   ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেক প্রবাসীই এবার একা কোরবানি না দিয়ে কয়েকজনে মিলে ‘ভাগে’ কোরবানি দিচ্ছেন। এতে যেমন খরচের চাপ কমছে, তেমনি নিজেদের মধ্যে হৃদ্যতাও বাড়ছে। কেবল কেনাবেচাই নয়, পশু কেনার ফাঁকে ফাঁকে চলছে ঈদের দিনের রান্নাবান্না, নামাজের সময়সূচি আর বন্ধুদের আড্ডার পরিকল্পনা। ফলে এই পশুর হাটগুলো এখন আর শুধু ব্যবসার কেন্দ্র নেই, তা হয়ে উঠেছে প্রবাসীদের এক মিলনমেলা।   কঠোর পরিশ্রম আর যান্ত্রিক জীবনের মাঝেও ঈদুল আজহা যেন প্রবাসীদের মনে বইয়ে দিচ্ছে প্রশান্তির হাওয়া। বাহরাইনের পশুর হাটে বাংলাদেশিদের এ উপচে পড়া ভিড় যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, দূরত্ব যতই হোক না কেন, বাঙালির শেকড়ের টান আর উৎসবের আনন্দ কোনো সীমানাই মানে না।   বাস্তবতার রুক্ষতা আর বাড়তি খরচের দুশ্চিন্তা ছাপিয়ে প্রবাসীরা ঠিকই খুঁজে নিচ্ছেন ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত আনন্দের উপলক্ষ্য।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নামাজ শেষে আর ঘরে ফেরা হলো না প্রবাসী ইব্রাহীমের

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয়ান বাংলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে বাংলাদেশের অনারারি কনস্যুলেট উদ্বোধন

ছবি: সংগৃহীত
সৌদির ফ্লাইটে নতুন নিয়ম, সাথে রাখা যাবে না যেসব জিনিস

সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অফ সিভিল এভিয়েশন দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালিত সকল এয়ারলাইন্সের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে এবং উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এই নতুন নিয়মকানুন প্রবর্তন করা হয়েছে। ২২ মে প্রকাশিত এই নির্দেশনার ফলে ফ্লাইটে পাওয়ার ব্যাংক এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার ও বহনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।   নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময় যাত্রী বা কেবিন ক্রুরা কোনোভাবেই পাওয়ার ব্যাংক রিচার্জ করতে পারবেন না। এছাড়া, পাওয়ার ব্যাংক শুধুমাত্র হ্যান্ড লাগেজ বা হাতের ব্যাগে করে বিমানের কেবিনে বহন করা যাবে; চেক-ইন ব্যাগেজ বা মূল লাগেজে এটি দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ফ্লাইটে ভ্রমণের সময় একজন যাত্রী তার সাথে সর্বোচ্চ দুটি পোর্টেবল চার্জার বা পাওয়ার ব্যাংক বহন করতে পারবেন বলে কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।   বাধ্যতামূলক এই নিয়মগুলোর পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের জন্য কিছু বাড়তি সতর্কতাও প্রস্তাব করেছে। অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমান চলাকালীন সময়ে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করে মোবাইল বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস চার্জ করা থেকে বিরত থাকার জন্য যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত আকাশপথে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে এবং যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতেই সৌদি কর্তৃপক্ষ এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আক্তারুজ্জামান মে ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

১ আগস্ট থেকে ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফ্লাইট চালু করছে রিয়াদ এয়ার

ছবি: সংগৃহীত

বাংলায় সতর্কবার্তা: ভিজিট ভিসায় হজ নয়, কঠোর অবস্থানে সৌদি

সুরুজ কাজী। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে গিয়ে মাদারীপুরের যুবক নিহত

0 Comments