অর্থনীতি

জার্মানির আমান গ্রুপ বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও কারখানা সম্প্রসারণ করছে : সিইও মার্কাস নিকোলাউস

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

জার্মানভিত্তিক সুতা প্রস্তুতকারক আন্তর্জাতিক শিল্প প্রতিষ্ঠান আমান গ্রুপ বাংলাদেশে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও কারখানা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্কাস নিকোলাউস।

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে আমান গ্রুপের প্রতিনিধিদলের এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বিজিএমইএ’র পরিচালক মো. হাসিব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, চলতি বছরের শুরুতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিলেও বর্তমানে খাতটি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এখন বড় ধরনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা পণ্যের বহুমুখীকরণে জোর দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য শুধু রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানো নয়, বরং উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন বৃদ্ধি করা।’ 

তিনি আরও বলেন, আমান গ্রুপ বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে শুধু সুতা সরবরাহকারী হিসেবেই নয়, বরং কৌশলগত ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবেও সহযোগিতা করতে পারে।
মাহমুদ হাসান খান উল্লেখ করেন, জার্মানির অনেক স্বনামধন্য ব্র্যান্ড এখনো বাংলাদেশ থেকে পোশাক সোর্সিং করছে না। তিনি আমান গ্রুপকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সক্ষমতা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র জার্মান ব্র্যান্ডগুলোর কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

বৈঠকে মার্কাস নিকোলাউস বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এবং তারা দেশে আরো কোন কোন খাতে বিনিয়োগ করা যায় তা পর্যবেক্ষণ করছেন।

তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে বাংলাদেশের হাই-টেক টেক্সটাইল খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।’

তিনি আরও জানান, আমান গ্রুপ তাদের পণ্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের উচ্চমানের বা ‘প্রিমিয়াম সেগমেন্ট’-এর ব্র্যান্ডগুলোর চাহিদা পূরণে কাজ করতে চায়।

বৈঠকে পোশাক শিল্পের বৈশ্বিক ও স্থানীয় ঝুঁকি, বাংলাদেশের শ্রমমান, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ট্যারিফ নীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়। এছাড়া দেশের বন্দর, জ্বালানি, লজিস্টিকস ও সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পর্কেও মতবিনিময় হয়।

উল্লেখ্য, জার্মানির এই আন্তর্জাতিক সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি ‘আমান বাংলাদেশ লিমিটেড’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আমান গ্রুপের প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন চিফ কমার্শিয়াল অফিসার ক্রিস্টিন বাউয়ার, রিজিওনাল বিজনেস ডিরেক্টর সঞ্জীব গ্রেওয়াল, ডিরেক্টর গ্লোবাল অ্যাকাউন্টস মার্কাস গ্রোসেলোহম্যান, কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রোকন জামান, কমার্শিয়াল ডিরেক্টর এহসানুল হক এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর আরশাদ হাসান।

বিজিএমইএ সভাপতি আমান গ্রুপের নতুন বিনিয়োগ ও কারখানা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে সব ধরনের কৌশলগত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
টেক্সটাইল খাতকে টেকসই করতে শিল্পের দক্ষতা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন জরুরি: মুক্তাদির

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, টেক্সটাইল খাতকে টেকসই করতে শিল্পের দক্ষতা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন জরুরি। তিনি বলেন, ‘টেক্সটাইল শিল্পকে টেকসই করতে হলে শিল্পখাতকে আরও প্রতিযোগিতা সক্ষম ও আধুনিক করে গড়ে তুলতে হবে।’ আজ শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রোমোশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘কর্মসংস্থানে টেকসই উত্তরণ: টেক্সটাইল শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও পথচলা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, সরকার নতুন করে সরকারি মালিকানায় কোনো মিল স্থাপন বা পরিচালনার পরিকল্পনা করছে না। ব্যবসা পরিচালনায় ব্যক্তিই নেতৃত্ব দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার নীতিসহায়তা ও প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরিতে কাজ করবে। তিনি বিদ্যমান টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর কারিকুলাম সময়োপযোগী করা এবং প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত হালনাগাদের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়নে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এবং সক্ষম বেসরকারি মিলগুলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে শিক্ষকের ঘাটতি কমবে, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বাড়বে এবং শিক্ষার্থীরা বাস্তব শিল্প অভিজ্ঞতার সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কস্ট অব ফান্ড এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বর্তমানে টেক্সটাইল খাতের বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, ম্যানমেইড ফাইবার, নতুন পণ্য উন্নয়ন এবং ভ্যালু চেইনে আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে খাতটিকে আরও প্রতিযোগিতাসক্ষম করা হবে। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্বাসউদ্দীন শায়ক। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ব্লু প্লানেট-এর নির্বাহী পরিচালক কাজী মাসুম রাশেদ এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি শওকত আজীজ রাসেল। এছাড়া বক্তব্য দেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুস শহীদ, গোপালগঞ্জ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থী রনি গাজী এবং সিরাজগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট-এর প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. কবির। সেমিনারে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান, বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং টেক্সটাইল খাতের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মোবাইল খাতে কর সংস্কারে ২ বিলিয়ন ডলার রাজস্বের সম্ভাবনা

ছবি : সংগৃহীত

জার্মানির আমান গ্রুপ বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও কারখানা সম্প্রসারণ করছে : সিইও মার্কাস নিকোলাউস

ফাইল ছবি

‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’-এর নাম পরিবর্তন করল বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত
শিল্প ও কৃষিখাতে নতুন গতি আনতে বিশাল সহায়তা প্যাকেজ

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, নতুন বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার বৃহৎ পুনঃঅর্থায়ন ও সহায়তা তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।   তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে। আগে যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল, বর্তমানে তা ৩ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, স্টিল, সিরামিক, তথ্যপ্রযুক্তি ও উৎপাদন খাত নানা সংকটে পড়েছে।   গভর্নর জানান, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, অর্থপাচার এবং আমানতকারীদের আস্থা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে। উচ্চ সুদের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।   ঘোষিত প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে:  বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ১০ হাজার কোটি টাকা রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।   এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব ১৯ হাজার কোটি টাকার সহায়তা কর্মসূচির আওতায়: প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিটে ৫ হাজার কোটি টাকা কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতে ২ হাজার কোটি টাকা বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে ১ হাজার কোটি টাকা গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১ হাজার কোটি টাকা হিমায়িত মাছ ও রপ্তানিতে ২ হাজার কোটি টাকা পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগে ১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকা সৃজনশীল অর্থনীতিতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।   গভর্নর আরও জানান, ক্রিয়েটিভ ইকোনমির জন্য বরাদ্দ অর্থ করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে, যা ঋণ নয়।   বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশে ২৫ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। শিল্পকারখানা পুনরায় চালু হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, রপ্তানি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতেও গতি ফিরবে।   বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য বরাদ্দ তহবিল থেকে প্রায় এক লাখ মানুষের চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। বেকার যুবকদের ঋণ দেওয়া হবে কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ঋণ বিতরণ করবে আনসার-ভিডিপি ব্যাংক।   সুদের হার প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ শতাংশ সুদে অর্থ দেবে। ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ স্প্রেড রাখতে পারবে। ফলে বড় ঋণগ্রহীতারা ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। তবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে পরিচালন ব্যয় বেশি হওয়ায় সুদের হার কিছুটা বেশি হতে পারে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বন্ধ শিল্পকারখানা সচল হবে, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি ফিরে আসবে।

আক্তারুজ্জামান মে ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

কিছু ব্যাংকমালিকের বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ অর্থমন্ত্রীর

ছবি : সংগৃহীত

এক বছরে কৃষিঋণে খেলাপি বেড়েছে ২৯০ শতাংশ, নেপথ্যে কী কারণ?

ছবি : সংগৃহীত

সাধারণ রেস্তোরাঁ ও ছোট দোকানেও করের আওতায় আনার পরিকল্পনা: অর্থমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত
ঈদে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যাংকের অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) বুথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (২১ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট (পিএসডি)-২ এর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঈদের সময় গ্রাহকদের সুবিধার্থে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রাখতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এটিএম, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), কিউআর কোড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক সেবা চালু রাখা, কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান এবং পর্যাপ্ত টাকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুথে নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক অবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়মিত বুথ পরিদর্শনের কথাও বলা হয়েছে। পিওএস ও কিউআর কোড সেবাও সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হবে এবং জালিয়াতি প্রতিরোধে মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের সচেতন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের ক্ষেত্রে কার্ডভিত্তিক ‘কার্ড নট প্রেজেন্ট’ লেনদেনে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। একই সঙ্গে এমএফএস সেবায় সব ব্যাংক ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন ও এজেন্ট পর্যায়ে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ঈদের ছুটিকালে নিরাপত্তা জোরদার, গ্রাহক হয়রানি প্রতিরোধ, সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু রাখা এবং যে কোনো অঙ্কের লেনদেনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে এসএমএস এলার্টের মাধ্যমে গ্রাহককে জানানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগে আলফামার্ট, লক্ষ্য ৫ হাজার আউটলেট স্থাপন

ফাইল ছবি

মে মাসে এ পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার

সংগৃহীত ছবি

১০০ কোটি ডলার ক্রয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

0 Comments